Profile Photo

Muhaiminul HoqueOffline

  • Muhaiminul-Hoque
  • Profile picture of Muhaiminul Hoque

    Muhaiminul Hoque

    3 years, 7 months ago

    সৌদি আরব কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে?

    গত ৫ অক্টোবর তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও রাশিয়া মিলে উল্লেখযোগ্য পরিমানে তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারনে যখন সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তখন ওপেক প্লাসের এই ঘোষণায় পশ্চিমা দেশগুলো খুব চিন্তিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন সৌদি আরবের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তেমন কোন সাড়া পায় নাই। অবশেষে তিনি সৌদি আরবকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এক মাসের জন্য পেছানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু সৌদি আরব তার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। বিপরীতে বাইডেন সৌদি আরবে তিন দশক ধরে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকান্ড, অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে সৌদি আরবের যোগদানের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন কারনে সৌদি-মার্কিন সম্পর্কের টানপোড়নে অনেকে মনে করছেন যে, সৌদি আরবের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আসলেই কি তাই? সৌদি আরব কি তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে?
    বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সার্বিক সহায়তা ও তত্বাবধায়নে তৎকালীন উসমানীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে জন্ম নেওয়া সৌদি আরব দীর্ঘদিন বৃটিশ প্রভাব বলয়েই ছিল। ১৯৭৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সাথে পেট্রো-ডলারের চুক্তি করে, যেখানে মার্কিন ডলার ছাড়া অন্য কোন মুদ্রায় তেল রপ্তানি করবে না বলে ঘোষনা দেয় সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সারা বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে এবং উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরব দেশগুলোতে সেনা মোতায়েন শুরু করে। বর্তমানে সৌদি আরবের ভূমিতে কয়েকটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলোতে বিশাল সংখ্যক মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। সৌদি আরবের দুই লক্ষাধিক সৈন্যের নিজস্ব সামরিক বাহিনী বলেতে যা আছে, সেটাও কার্যত মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই। তাদের বাজেট সৌদি সরকার বহন করলেও অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষন, সৈন্যদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ সবকিছুর ঠিকাদার মার্কিনীরা। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক রাষ্ট্র, যার সিংহভাগের যোগানদাতা লকহেড মার্টিনের মতো মার্কিন যুদ্ধশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাসীন সৌদি রাজপরিবারের সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা, জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, এমনকি প্রধান শহরগুলোর জরুরি পরিষেবা সরবরাহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ মার্কিনীদের হাতে। সৌদি আরবের পুতুল শাসকগোষ্ঠীর আসলে কোন ক্ষমতাই নাই মার্কিন প্রভাব বলয়ের বাইরে গিয়ে নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

    প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই সম্ভাব্য সকল উপায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করা রিপাবলিকানরা সৌদি আরবের সাথে যোগাযোগ করে তাদের তেল উত্তোলন হ্রাস করতে বলেছে, যাতে বিশ্ববাজারে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের সংকট আরো প্রকট হয়। এতে তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে চাপে পড়বে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং রিপাবলিকানরা নির্বাচনে এগিয়ে থাকবে। এই চ্যালেন্জ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন তেলের মজুদ থেকে সাময়িকভাবে তেল ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন, যাতে বাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং ডেমোক্র্যাটরা আশানুরূপ ফলাফল পেতে পারে। এতে আবার রিপাবলিকান জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগসাযশে সৌদি রাজপরিবার বাইডেনকে এই কাজ করা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে। এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান খেলায় ব্যবহৃত দাবার ঘুঁটি ছাড়া আর কিছুই না। মার্কিন প্রভাব মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন উচ্চাকাঙ্খা সৌদি রাজপরিবারের নাই।

    4
    4 Comments

Friends

Profile Photo
Raftak Ruman
@noor-mohammad-nasim
Profile Photo
Drako Shajib
@drako
Profile Photo
Md Ashfak Sayed
@ashfak
Profile Photo
Meghla-Debnath
@meghla-debnath
Profile Photo
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah
Profile Photo
Marzana-Ahmed
@marzana-ahmed
Profile Photo
Md.Mubtashim Fuad
@md-mubtashim
Skip to toolbar