-
টুইন আর্থ
পঞ্চম পর্বলি একটু ধাতস্থ হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিয়ে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল / আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম ডিসিশন নিয়েছে / পৃথিবীর মানুষের শরীরের ভেতরের গঠন প্রণালী কে আরো ভালোভাবে জানার জন্য তোমার শরীরের ভেতরের সমস্ত অঙ্গ পরীক্ষা করা হবে / তোমরা এবং আমরা একই প্রজাতির মানুষ তারপরও তোমাদের এবং আমাদের Deoxyribonucleic Acid (DNA) তে কিছু পার্থক্য আছে / কেন এই পার্থক্য ? এইসব তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য তোমাকে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হবে / তুমি তো জানো আমাদের এখানে সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত / এটাকে বদলানোর কোন ক্ষমতা এখানকার কোন মানুষের নেই / আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি / আমি আমার নিজস্ব স্পেশাল সিকিউরিটি পাস ব্যবহার করে আমাদের অ্যারোনটিক্যাল স্পেস সেন্টারের একটি মহাকাশযান কে ওড়ার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি / গত দুইদিন যাবত ওই মহাকাশযানের কম্পিউটার সিস্টেমের ডাটা ইনপুট দিয়েছে / ওটার রুট ম্যাপ ডিজাইন করেছি / ওটা তোমাকে নিয়ে তোমাদের একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের অরবিট পর্যন্ত তোমাকে পৌঁছে দেবে / সেখান থেকে একটি ল্যান্ডারের মাধ্যমে তুমি চাঁদে ল্যান্ড করবে / এখন চাঁদে তোমাদের পৃথিবীর National Aeronautics and Space Administration (NASA) এর একটি বেজ স্টেশন আছে / ওটা একটা রিচারস সেন্টার / ওই বেজ সেশন থেকে পৃথিবীতে নিয়মিত ফ্লাইট চালু আছে / তুমি সেই স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে গেলে সেখান থেকে সহজেই তোমার প্রিয় পৃথিবী নামক গ্রহটিতে ফিরে যেতে পারবে / কিন্তু লি তুমি কেন এসব করবে ? এতে তোমার বিপদ হতে পারে / আমি জানি আমার এই কাজের জন্য আমার একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড / দৃঢ় কিন্তু ঠান্ডা শান্ত কন্ঠে বলল লি / কিন্তু আমি আমার এই মৃত্যুর জন্য মোটেই চিন্তিত নই / আজকে তোমার এই বিপদের দিনে আমার ভালোবাসা তোমাকে আগলে রাখবে / তোমার জীবনের কোন ক্ষতি হতে আমি দেবো না / এ জীবনে হয়তো তোমার আমার বিচ্ছেদ হয়ে যাবে / কিন্তু আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে / মৃত্যুর পরের জীবনে আমি তোমার অপেক্ষায় ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকবো /
এখন মনোযোগ দিয়ে কিছু কথা শোন / তোমার এই যাত্রা পথটি মোটেও আনন্দ ভ্রমণের মত কিছু নয় / পথটি নিরেট অন্ধকার / তোমার এই দীর্ঘ পথের সময় কমানোর জন্য আমরা আমাদের এই সৌরজগতের একটি ব্ল্যাক হোল কে ব্যবহার করব / ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে তোমাদের বিজ্ঞানীদের কিছু ভুল ধারণা আছে / তোমরা মনে করো এটা খুব ভয়ঙ্কর কিছু একটা / এর ভিতর কোন জীবের অস্তিত্ব আলাদাভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয় / আসলে ব্যাপারটা ঠিক সে রকম নয় / ব্ল্যাক হোল এর ভেতর সময়ের কোন অস্তিত্ব নেই / এখানে আলোর গতিবেগ শূন্যে / যেখানে আলোর কোন মুভমেন্ট নেই বুঝতেই পারছ সেখানে কোন কিছুই দেখা সম্ভব না / সবকিছুই কাল , নিরেট শক্ত জমাট বাঁধা অন্ধকার / আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে এই ধরনের পরিবেশ সহ্য করা সম্ভব না / তবে এতে তোমার ভয়ের কিছু নেই / তোমার সমস্ত যাত্রাপথেই তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে / তোমার সমস্ত শারীরিক ক্রিয়া প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে / বেঁচে থাকার জন্য তোমার শরীরে বাইরে থেকে এক ধরনের বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হবে / যা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে কিন্তু শরীরের ভেতর তেমন কোন বর্জের সৃষ্টি হবে না / কাজেই তুমি এই যাত্রাপথে কোন কিছুই টের পাবে না / আজকের রাতের শেষে ভোর 5 টা 50 মিনিটে তোমার যাত্রা শুরু হবে / সুতরাং এখানে আজকের রাত টাই তোমার শেষ রাত / তুমি ফিরে যাবে তোমার প্রিয় জনদের কাছে / কিন্তু আমার প্রিয়মানুষ টি চিরতরে হারিয়ে যাবে আমার বুকের ভেতর থেকে / লি তার দুই হাত দিয়ে আমাকে আবার আঁকড়ে ধরল , আমার বুকে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো / আমি লি কে বললাম আমার যা হয় হোক আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না / লি হঠাৎ করে আমাকে ছেড়ে দিয়ে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল / হাসল , পাগলের মতন আমাকে চুমু খেতে লাগলো / তারপর বলল তা হয় না , তোমার জন্য আরিয়া আয়েশা রাভিদ ওরা অপেক্ষা করছে / তুমি ওদেরকে আমার কথা বলবে / বলবে শুধু ওদের জন্য আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে সেক্রিফাইস করেছি / ওদের ভালোবাসার কাছে আমি হেরে গেছি /
ঘুমের মধ্যেই মনে হচ্ছে অনেক দূর থেকে একটা যান্ত্রিক শব্দ কানে ভেসে আসছে আপনি ঘুম থেকে উঠুন , আপনি ঘুম থেকে উঠুন / আপনার ওঠার সময় হয়েছে / আমার মনে হল কোন গভীর খাদের তলদেশ থেকে কথা গুলো ভেসে আসছে / আস্তে আস্তে আমি চোখ দুটো মেলে তাকালাম / প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না / আমি আবার আমার চোখ দুটি বন্ধ করে ফেললাম /কিছুক্ষণ আমি আমার চোখ দুটো বন্ধ করে রাখলাম / স্বপ্নের মতন অনেক কিছু হিবিজিবি আমার মনে হতে থাকলো / গভীর খাদ , অন্ধকার সুরঙ্গ পথে আমি ভেসে যাচ্ছি / সে পথের যেন কোন শেষ নেই / বন্যার পানির তীব্র স্রোতের মধ্যে আমি যেন একটা খড়কুটার মতো ভেসে যাচ্ছি / আমি আস্তে আস্তে আবারো চোখ মেলে তাকালাম / ধীরে ধীরে আমার সবকিছু মনে হতে থাকলো / লি এর কথা মনে হল / বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেল / কেমন আছে এখন লি ? আবার সেই যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম আমি / আমরা এখন চাঁদের কক্ষপথে চাঁদের উপগ্রহ হয়ে ঘুরছি / আমরা পৃথিবী নামক গ্রহে র যে বেজ স্টেশনটা এখানে আছে তা আমরা ট্রেস করতে পেরেছি / আমাদের ল্যান্ডারের ল্যান্ডিং করা র স্থান টি ও নির্ধারণ করে ফেলেছি / পৃথিবীর সময় অনুযায়ী আমরা প্রতি 320 মিনিটে চাঁদকে একবার প্রদক্ষিণ করছে আমাদের এই রকেট টি / আর তিন ঘন্টা 20 মিনিট পর আমাদের লেন্ডার আলাদা হয়ে চাঁদে নামার প্রক্রিয়া শুরু করবে এর মধ্যেই আপনাকে সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে স্পেস স্যুট পরিধান করে ল্যান্ডারের ভেতরের নির্দিষ্ট আসনে আসন গ্রহণ করতে হবে / আপনি উঠুন এবং আমাদের পরবর্তী কার্যক্রমে সহায়তা করুন / পরবর্তী বেশ কিছু সময় আমি যন্ত্রের মত সমস্ত প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করলাম এবং ল্যান্ডারের একটি ক্যাপসুলের মধ্যে আসন গ্রহণ করলাম / বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি মৃদু ঝাকি অনুভব করলাম এবং ক্যাপসুল টি কিছুটা কাঁপতে শুরু করল / আস্তে আস্তে এই কম্পন বৃদ্ধি পেতে থাকলো / কম্পন একসময় এত বেশি বৃদ্ধি পেল যে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম /
চোখ দুটো খুলেই উস্কোখুস্কো লাল চুল ওয়ালা গোলগাল একটি মুখ দেখতে পেলাম আমি / উদ্বিগ্ন দৃষ্টি নিয়ে চেয়ারে বসে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি / আমি চোখ দুটো খোলার সাথে সাথেই তার মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল / আমি মেয়েটিকে দেখেই প্রশ্ন করলাম কে আপনি আপনি কি পৃথিবীর কেউ ? আমার কথা শুনে মেয়েটি প্রায় চেয়ারটা উল্টিয়ে পড়ে যাচ্ছিল /মেয়েটি কোনভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলো কে আপনি কোথা থেকে এসেছেন আপনি ? আমি মেয়েটাকে বললাম ভয় পাবেন না / আগে বলুন আপনি কি পৃথিবীর কেউ ? আমি এই পৃথিবীরই মানুষ / আমাকে ভিনগ্রহের এলিয়েন ধরে নিয়ে গিয়েছিল পৃথিবী থেকে / আমি সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি / সে অনেক কথা / আমি একটু পানি খাব / মেয়েটি এক বোতল পানি এনে আমার হাতে দিলো / আমি পানি খেয়ে একটু সুস্থির হয়ে আদ্যপ্রান্ত বর্ণনা করলাম / মেয়েটিঃ সব শুনে আমাকে বলল একটু অপেক্ষা করুন / আমরা আপনাকে সম্ভাব্য জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়া মধ্যে আছি / এটা আপনার জীবনের নিরাপত্তা এবং আমাদের পৃথিবীর সমস্ত মানুষের নিরাপত্তা জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় / আমি বললাম এখান থেকে কি পৃথিবীতে কথা বলা সম্ভব ? আমি আমার ছেলেদের সাথে কথা বলতে চাই / প্লিজ আপনি আমাকে ব্যবস্থা করে দিন / আপনি ব্যস্ত হবেন না খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আমরা যোগাযোগ করব এবং আপনি তাদের সাথে কথাতো বলতে পারবেন / এমনকি আপনার প্রিয় মানুষগুলোর ছবি ও দেখতে পারবেন / আমি বললাম ওরা অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে থাকে / তবে আপনাকে আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে / হঠাৎ করেই ক্রিং ক্রিং সেই পুরনো আমলের টেলিফোনের রিংটোনের মত শব্দ হতে থাকল / স্যান্ডেলিনা কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন কলটি করেছেন স্বয়ং নাসা এর মহাপরিচালক মর্গান বে / স্যান্ডেলিনা ব্যস্ত হয়ে একটা ছোট্ট লাল বোতাম টিপে বলল ইয়েস স্যার , ফোনে ভেসে এলো নাসার মহাপরিচালকের কন্ঠ , কেমন আছো তুমি স্যান্ডেলিনা ? স্যার আমি ভালো আছি / আমাদের মহাশূন্য থেকে আগত অতিথি কেমন আছেন ? স্যার অতিথি ফিজিক্যালি ভালো আছেন / তার প্রেসার হার্টবিট সবকিছু নর্মাল আছে , কিন্তু স্যার যে অতিথি মহাশূন্য থেকে আমাদের এখানে এসেছেন তিনি বলছেন তিনি পৃথিবীর ই মানুষ / তাকে এলিয়েনরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল আমাদের পৃথিবী থেকে এবং এখন তিনি সেখান থেকে পালিয়ে এখানে এসেছেন / তার রুটিন চেকআপ কি শেষ হয়েছে ? আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই / স্যান্ডেলিনা আবার বলল ইয়েস স্যার , আপনি কথা বলুন / জন বলতে শুরু করল / আপনাকে স্বাগতম ,কেমন আছেন আপনি ? আমি মর্গান বে / আমাদের এই সংস্থা নাসা এর মহাপরিচালক / আমি আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই/ যদি কিছু মনে না করেন / মানে কিছুটা কিউরিসিটি আর কি / আপনার কি উত্তর দিতে কোন অসুবিধা হবে ? আমি বললাম আমার কোন অসুবিধা নেই আপনি বলেন / তবে আমার একটা অনুরোধ আছে / আপনার সাথে কথা বলা শেষ করে আমি আমার ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে চাই / প্লিজ আপনি একটা ব্যবস্থা করে দিন / নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই উত্তর দিলেন মর্গান বে / আপনি ওদের ঠিকানাটা লিখে দিন আমি সর্বোচ্চ আধাঘন্টা মধ্যে আপনার এই প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আপনার যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি / এবার কাজের কথায় আসি / কে আপনি ? এখন আপনি কোথা থেকে এসেছেন ? আমি বললাম আমি আপনার এই পৃথিবীর ই একজন মানুষ / আমাদের পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার দূরের কোন গ্রহের এলিয়েনরা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল / আমি এখন সেখান থেকেই পালিয়ে এসেছি / আপনি কি মনে করতে পারেন কোন সময়ে এই ঘটনাটা ঘটেছিল ? অর্থাৎ আমি আপনার এই পৃথিবী থেকে আপনার প্রস্থানের তারিখ টা জানতে চাচ্ছি / ধন্যবাদ আমি আবার বলতে শুরু করলাম / হ্যাঁ এইতো কিছুদিন আগের কথাই / তারিখটা ছিলো 3 রা ফেব্রুয়ারি 2019 সাল / ঐদিন গভীর রাতে আমাকে আমার ফ্ল্যাট থেকে একজন এলিয়েন এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায় / মর্গান বে একটু হকচকিয়ে গেলেন , আপনি কি কোথাও ভুল করছেন ? মানে আমি বলতে চাইছি তারিখ টা ? আপনি আবার একটু ভালো করে মনে করে দেখেন তো তারিখ টা কত ছিল ? এটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় / আমি পরিষ্কার মনে করতে পারছি তারিখ টা / তারিখ টা ছিল 3 রা ফেব্রুয়ারি 2019 , আমার পরিষ্কার মনে আছে / তাছাড়া এটা তো খুব বেশিদিন আগের কথা না / আমি ভুলে যাব কেন ? ওকে , না ঠিক আছে , যোগ করল মর্গান বে / আমার মনে হয় আপনার একটু রেস্ট প্রয়োজন / ঠিক আছে আমি সব ব্যবস্থা করছি / বলেই মহাপরিচালক মর্গান বে লাইনটা কেটে দিল / মুহূর্তেই মর্গান বে এর ছবিটা স্ক্রীন হতে অদৃশ্য হয়ে গেল / আমি স্যান্ডেলিনা র দিকে তাকিয়ে আবার ও বলতে শুরু করলাম / প্লিজ আপনি আমাকে পৃথিবীতে যোগাযোগের ব্যবস্থা করিয়ে দিন / আমি আমার ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে চাই / আমরা চেষ্টা করছি বলল স্যান্ডেলিনা / প্লিজ অধৈর্য হবেন না /
ওয়াশিংটন ডিসি / National Aeronautics and Space Administration (NASA) এর হেড অফিস / মহা ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করছেন সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ / সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ই তোলপাড় / এতদিন যাবত পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টার পরেও এলিয়েনদের সাথে কোনরূপ যোগাযোগ করতে পারেননি এমনকি এদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য জোগাড় করতে পারেননি / অথচ সেই এলিয়েনরা ই পৃথিবীতে এসে একজন মানুষকে ধরে নিয়ে গেল অথচ পৃথিবীর বড় বড় বৈজ্ঞানিকরা তার কোন তথ্যই জানতে পারলেন না / পৃথিবীর প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট গুলির দৃষ্টি এরিয়ে কি করে ভিনগ্রহের এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসে তার কার্যকলাপ চালিয়ে গেল , একজন জল জ্যান্ত মানুষকে পৃথিবী থেকে ধরে নিয়ে গেল তা এক মহা আশ্চর্য বিষয় / অবশ্য তার চেয়ে বিজ্ঞানীদের মহা ধাঁধায় ফেলেছে যে বিষয়টি তা হচ্ছে পৃথিবীতে আগত ব্যক্তির বর্ণনা অনুযায়ী পৃথিবী থেকে তার প্রস্থানের তারিখটা / তিনি বলছেন এলিয়েনদের আগমনের তারিখটা ছিলো 3 রা ফেব্রুয়ারি 2019 সাল / বর্তমান তারিখ হচ্ছে 2150 শাল / অর্থাৎ ঘটনাটি প্রায় একশত তিরিশ বছর আগের / কিন্তু এটা কি করে সম্ভব / একজন মানুষের সর্বোচ্চ জীবনের পরিধি 120-130 বছর এর বেশি হতে পারে না / তাহলে আগত মানুষটি কি কোথাও ভুল করছে ? বিজ্ঞানীরা আগন্তুক এর কথা ও তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী বাংলাদেশের মিনিসিপাল কর্পোরেশনের পুরনো নথি ঘেটে 2019 সালের ম্যাপ খুঁজে বের করেছেন / বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন যে আগন্তুক এর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ওই সময় সেই জায়গায় অক্সলিভ ভিলা নামে একটা হাউসিং কম্প্লেক্স ঠিকই ছিল / এবং সেই কমপ্লেক্সের দোতালার পূর্ব দিকের ফ্ল্যাটের মালিকের নাম ছিল শাহাদত হোসেন ফিরোজ / তখনকার লোকাল থানার পুরনো নথি ঘেঁটে জানা যায় এই ফিরোজ সাহেব হঠাৎ করেই তেসরা ফেব্রুয়ারি 2019 তারিখে হঠাৎ উধাও হয়ে যান / পরবর্তীতে তার কোন ট্রেস আর পুলিশ করতে পারেনি / এমনকি তার কোনরূপ মৃত্যুর খবর ও পুলিশ বের করতে পারেনি / প্রায় তিন মাস তদন্তের পর পুলিশ কেস টির কোন সুরাহা করতে না পেরে মিসিং কেস হিসেবে ফাইলটি বন্ধ করে দেয় / এরপর বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস এর সিডনি শহরে অনুসন্ধান শুরু করেন / সিডনি শহরের মেয়র ডেভিড , যার পূর্বপুরুষ ছিলেন বাংলাদেশি তিনি তার ব্যক্তিগত উৎসাহে নাসার বিজ্ঞানীদের যথেষ্ট সাহায্য করেন / মেয়র যখন জানতে পারেন মহাশূন্য থেকে আগত মানুষটির পরবর্তী প্রজন্ম এই অস্ট্রেলিয়াতেই থাকতেন এবং তারা এই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক তখন তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন এবং নিজ উদ্যোগে এদের খুঁজে বের করার এবং এদের বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেন / ফিরোজ সাহেবের দুই ছেলে রাজিব আহমেদ ও সজীব আহমেদ এর সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও রাজীব আহমেদের একমাত্র পুত্র রাভিদ আহমেদ সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায় / ওই সময়ে রাভিদ আহমেদ একজন নামকরা আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন / সিডনি শহরের প্রাণকেন্দ্র ডার্লিং হারবারের পাশে 502 তালা যে বিল্ডিং টা এখনো বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে তার আর্কিটেক্ট ডিজাইন টা তিনি ই করেছিলেন / যেটা এখনও সমস্ত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বড় বিল্ডিং / সেই বিল্ডিংয়ের সামনে তখনকার সিডনি শহরের মেয়র তার সম্মানার্থে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন যা এখনো তার পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে / বিদেশি টুরিস্ট এবং দেশীয় লোকজন দূরদূরান্ত থেকে এই ভাস্কর্য দেখার জন্য এখনো এখানে ছুটে আসে / ভদ্রলোক বিয়ে করেননি / অগাধ সম্পত্তির মালিক ছিলেন তিনি / তার নামে একটি ফাউন্ডেশন আছে যা তার সম্পত্তির আয় থেকে চলে / সংস্থাটির নাম ম্যান ফর ম্যানকাইন্ড / সংস্থাটি বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে / তিনি মারা যান 2081 সালের একুশে জুলাই / এরপর মেয়র ফিরোজ সাহেবের ছোট ছেলে নাজিব আহমেদের বড় মেয়ে আরিয়া সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য খুঁজে বের করেন / পেশায় আরিয়া ছিলেন অস্ট্রেলিয়া ইউনিভার্সিটির ফার্মা সির একজন প্রফেসর / তিনি বিয়ে করেন একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক কে / তিনিও পেশায় ছিলেন একজন অধ্যাপক / তারা দুজনেই ওই সময়কার মরণঘাতী ক্যান্সার রোগের ওষুধ আবিষ্কার করেন / যা পরবর্তীতে এই রোগটির নিয়ন্ত্রণে ও ভ্যাকসিন তৈরি করতে যথেষ্ট সহায়তা করে / তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য নোবেল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে / চিকিৎসা বিজ্ঞানে এদের দুজনকে এখনো যথেষ্ট সম্মানের সাথে দেখা হয় / তাদের কিছু লিখিত বই আছে যা এখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানে খুবই গুরুত্ব সহকারে পড়ানো হয় / এই দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন / অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকার নিউ জার্সি তে যাওয়ার পথে একটি এয়ারবাস নিখোঁজ হয় / অনেক যাত্রী সাথে এই দম্পতি ও ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন / তারাও সেই সময় নিখোঁজ হন / ওই বিমান টির ভাগ্যে পরবর্তীতে কি ঘটেছিল তা আজও জানা যায়নি / এবং বিমানের যাত্রীদের ও আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি / বিমান কর্তৃপক্ষ অবশ্য দীর্ঘ ছয় মাস তদন্তের পরে যাত্রী দের সবাইকে মৃত বলে ঘোষণা করেন / সবাই যখন হতাশ সেই সময় মেয়র ডেবিট ছোট্ট একটা আশার আলো খুঁজে পান / ফিরোজ সাহেবের নাতনি আয়েশা বেগমের একমাত্র জীবিত উত্তরাধিকারী খোঁজ পাওয়া যায় / তবে তিনি এখন আর অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন না / বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে ন / তার নাম লিন্ডা হপকিন্স / তিনি জনাবা আয়েশার একমাত্র নাতনি / নাসা এর পক্ষ হতে লিন্ডা হপকিন্সের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উচ্ছ্বাসে আনন্দে কেঁদে ফেলেন এবং তিনি জানান যে তিনি বড় বাবা এর সাথে দেখা করতে চান / তার নানু আয়েশা বেগমের পক্ষ হতে বড় বাবার জন্য কিছু মেসেজ আছে এবং একটা ডায়েরি আছে যেটা আয়েশা বেগম এর নিজ হাতে লেখা এবং সেখানে বড় বাবার জন্য অনেক তথ্য আছে / নাসার মহাপরিচালক মর্গান বে একদিন তার অফিস কক্ষে আমাকে নিয়ে আলোচনা র জন্য বসেন / তারপর তিনি আমাকে জানান যে তার এই পৃথিবী থেকে প্রস্থান এবং ফিরে আসার মাঝে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে / এবং সময়টা প্রায় একশত 30 বছর / সুতরাং স্বাভাবিক নিয়মে তার প্রিয় মানুষগুলোর আর কেউ এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই / আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম / বুঝতে পারছিলাম না উনারা কি বলছেন ? আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার এ পৃথিবী থেকে প্রস্থানের ঘটনা হয়তো বা খুব বেশি হলে এক বছর পূর্বের ঘটনা / আমি আর্তনাদ করে উঠলাম চিৎকার করে বললাম তা কী করে সম্ভব ? আমি নিজে অস্ট্রেলিয়া তে যাব এবং ওদের খুজে বের করব / আমি হঠাৎ করে জিজ্ঞাসা করলাম . আজকে কত তারিখ ? মর্গান বে উত্তরে বললেন , ফিরোজ সাহেব আজকের তারিখ হচ্ছে 2150 সালের/ 5ই নভেম্বর / আমার মাথায় ভেতরটা এলোমেলো হয়ে যায় , , আমি বুঝতে পারছিলাম না তারা এসব কি বলছে ? তাহলে ? তাহলে এই পৃথিবীতে কি আমি একা ? কেউ নেই আমার ? আমি একটা শিশুর মতন হু হু করে কাঁদতে থাকলাম / বারবার আমার ছেলেদের কথা মনে হতে লাগলো / আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম / মর্গান বে তার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন তারপর আস্তে আস্তে হেঁটে আমার কাছে এসে আলতো করে আমার কাঁধে হাত রাখেন / তারপর মৃদু একটা চাপ দিয়ে বলেন আপনার হতাশ হওয়া কোন কারণ নেই এবং আপনার জন্য একটা সুখবর ও অপেক্ষা করছে / এই পৃথিবীতে আপনি একা নন / আপনার প্রিয় নাতনি আয়েশা বেগমের এক নাতনি এই পৃথিবীতে এখনো বেঁচে আছে এবং সুখের বিষয় হচ্ছে তিনি আপনাকে দেখার জন্য এবং আপনার সাথে কথা বলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন / আমি চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালাম তারপর বললাম আমি যাব, আমি অস্ট্রেলিয়া তে যাব সেখানে ওদের আমি নিজে খুঁজে বের করব প্লিজ আমাকে যেতে দিন / মর্গান বে আবার তার চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং বলতে শুরু করেন , নিশ্চয়ই আপনি যাবেন / আমরা সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি / আমাদের একটু সময় দিবেন প্লিজ / আমি বুঝতে পারলাম না আমি কি করব ? চুপ করে দিশেহারা র মত বসে রইলাম , অনেকটা পাথরের মূর্তির মতো / (চলবে)
#Shahadat Hossain3 Comments
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
M A Kuddus Hossen
@makuddushossen
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman


এই পর্বটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত হয়েছি । “এলিয়েন লি” এর জন্য খারাপ লাগছে। তবে লেখক নিশ্চয়ই তার জন্য সুন্দর কোন পথ খুজে রেখেছেন।❤