Profile Photo

মাহমুদুর রহমান মনাOffline

  • দেবুদার আত্মাহুতি

    দেবদাস রায় ওরফে দেবুদা বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত প্রেমিক। মাধুরীকে সে দীর্ঘদিন ধরে ভালবাসে। দু’জনের মধুময় সম্পর্ক। দেবুদা মাধুরীকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। সেই মাধুরী একখান পত্র দেবুদা হাতে দিয়ে পালিয়ে গেলেন।
    পত্রখানা গভীর আগ্রহে দেবুদা পড়তে শুরু করলেন। কিন্তু একি! নিজের চোখকে দেবুদা বিশ্বাস করতে পারছে না। মাধুরী লিখেছেন, দেবুদা তোমাকে আমি আর ভালবাসি না। আমি মনের মত একজনকে খুঁজে পেয়েছি। এবার তুমি বিদায় হও—ইত্যাদি।
    পত্রখানা পড়ে জলপ্রপাতের ন্যায় দেবুদা চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে তাকে। অতঃপর দেবুদা সিদ্ধান্ত নেয় সে আত্মাহতি দেবে।
    সেই মোতাবেক দেবুদা গৃহ থেকে বের হয়ে বিদ্যুতের তারের উপর ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দেবুদা একটি ভবনের উঠে বিদ্যুতের তারের উপর ঝাপ দেয়। কিন্তু একি! তারে তো বিদ্যুৎ নেই। পরে এলাকাবাসীর কাছ থেকে দেবুদা জানতে পারে গত তিন দিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই।
    পরে দেবুদা সিদ্ধান্ত নেয় ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। সুযোগ মতে ফাঁকা জায়গায় রেললাইনের উপর দেবুদা শুয়ে পড়েন। পরে ঘুমিয়ে পড়ে দেবুদা স্বপ্ন দেখেন, স্বর্গে মাধুরীর সঙ্গে তার দেখা। এ সময় চিৎকার শুনে দেবু দার ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে দেখতে পায় কিছু লোক তাকে দেখে হাসছে। কেই চিৎকার করে অন্যদের ডাকছে। দেবুদা জিজ্ঞেস করে আমি কোথায়? উত্তরে লোকগুলো বলে বিশেষদ্রব্য খেয়ে তুমি কি এখানে ঘুমালে? উত্তরে দেবুদা বলে, প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে আমি আত্মাহুতি দিতে চেয়েছি। বয়স্ক এক লোক বলে, বাবারে তিনদিন ধরে ট্রেনের দেখা নেই। তুমি অন্যত্র চেষ্টা করো। সব শুনে দেবুদার দুঃখটা আরো বিস্তৃতি লাভ করল।
    অতঃপর দেবুদা সিদ্ধান্ত নিল নদীতে ঝাপ দিয়ে মহান এই কর্ম সারবে।
    নদীর সন্ধানে চলতে থাকে দেবুদা। পেয়েও যায় একটি নদী। তারপর দিল ঝাপ। কিন্তু একি! নদীতে জল কোথায়। হাটুর নিচে জল। এ সময় দেবু দা একজন ছড়াকার হয়ে গেলেন। ছড়াটি হলো, আমাদের ছোট নদী, চলে বাঁকে বাঁকে, ফারাক্কার ধাক্কায় হাটুজল থাকে।
    আত্মাহতির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দেবুদা গৃহের পথ ধরলেন। গৃহে এসে দেখতে পেলেন মাধুরীর বোন কাজল একখানা পত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেবুদাকে পত্রখানা দিয়ে অধিকতর লাজুক ভঙ্গিতে দৌড়ে পালিয়ে গেল কাজল।
    দেবুদা দুঃখ চেপে পত্রখানি পাঠ করতে শুরু করলেন। মাধুরী লিখেছে, ‘‘ ও প্রাণের দেবুদা আমার ভুল হয়েছে। আমায় ক্ষমা করো। আমি তোমাকে ছাড়া ই্হজগতে আর কারো কথা ভাবতে পারি না—-ইত্যাদি ‘’
    পত্রখানা পাঠ করে খুশির চোটে দেবুদা হার্টফেল করে পটোল তুললেন।

    বই : দেবুদার আত্মাহুতি (অণুরম্য গল্পগুচ্ছ} পৃ: ৯
    লেখক : মাহমুদুর রহমান মনা

    5
    2 Comments
Skip to toolbar