Profile Photo

Fahim KoushikOffline

  • fmk29
  • Profile picture
    3 years, 9 months ago

    “জান্নাতের যাত্রা”
    ধূমপান এখনকার সেকুলার সমাজের অতি সাধারন একটি বিষয়। যা নিত্যান্ত একটি ঘৃনীতকাজ। সমাজের নিচু শ্রেণী থেকে উঁচু শ্রেণীর সকল পর্যায়ের মানুষ এই ধূমপানের সাথে যুক্ত। ধুমপানের হাজারো ক্ষতিকর দিক থাকা সত্বেও এটি খুবই স্বাভাবিক ভাবে দেখা হয়।বর্তমান ফ্যাশনেবল সমাজের সাথে তালমিলিয়ে চলতে গেলে ধুমপান করাটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাড়িয়েছে। অন্য দিকে সমাজের কিছু মানুষ আছেন যারা এই ধুমপানের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আবার আমাদের ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকেও ধুমপান করা হারাম আর যারা ধুমপান করে তাদের চল্লিশদিন পর্যন্ত সালাত কবুল হয় না এবং তারা চিরকালের জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করবে।এটি আমার নিজেস্ব কোন মতামত নয় বরং কুরআন ও হাদিসে তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। আমাদের সমাজে কিছু সংখ্যক মানুষ আছে যারা কিনা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক চলাফেরা করে কিন্তু তারা ধুমপানের কাছে এসে দূর্বল। তারা জানে এটা হারাম কাজ কিন্তু তারা নিজেদের সুবিধার্থে বিভিন্ন নামে সমাজের সাথে পরিচয় করে দেয়। এমনকি তারা এটা মানতেও অস্বীকার করে ধুমপান করলে সালাত কবুল হয় না। তাদেরকে এই বিষয় সচেতন গেলে তাদের মন্তব্য এমন, আমার সালাত কবুল হবে কিনা তা তুমি কি করে বলতে পার ? কিন্তু তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিসটি কখনো পরেননি বা শোনেনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার একটি হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলেছেন-

    “আমার উম্মতের কেউ শরাব পান করলে আল্লাহ তাআলা তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করবেন না” (সুনানে নাসায়ী ,৫৬৬৪)

    তাহলে উপরের হাদিসটি থেকে এটা পরিষ্কার যে ধুমপানকারী ব্যক্তির চল্লিশ দিন পর্যন্ত সালাত কবুল হয় না। অন্যদিকে ধুমপানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতা পারবে না এই কথাটি নিয়ে সমাজে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি ছোট ঘটনা আলোচনা করা যাক- কয়েকজন যুবক একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এবং ধুমপান করছিল। একজন মুরুব্বি সেখানে উপস্থিত হলেন এবং যুবকদের উদ্দেশ্য করে বললেন ধুমপানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, তোমাদের ধুমপান ত্যাগ কর উচিত। তোমাদের ও একই অবস্থা হবে। যুবকদের মধ্যে একজন বলে উঠল যে আপনার কথা ভুল আপনি কিভাবে বলতে পারেন যে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবনা। উত্তরে মুরুব্বি বললেন তোমার কথাটির যুক্তি আছে কিন্তু আমাকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও । বাংলাদেশ দন্ডবিধির(৩৬৪-ক ধারা) উল্লেখ করা হয়েছে

    “দশ বছরের নিচের কোন ব্যাক্তি কে খুন, গুরুতর আঘাত ইত্যাদি উদ্দেশ্যে অপহরন বা বলপূর্বক অপহরন করলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে।
    এখন মনে কর অপরাধটি তুমি নিজে করেছো এবং তোমাকে আইন এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। এখন তোমার কি শাস্তি হবে? ছেলেটি উত্তরে বলে মৃত্যুদণ্ড হবে। মুরুব্বি তার উত্তর পওয়ার সাথে সাথে আবার বলতে শুরু করলেন – তোমার মৃত্যুদণ্ড হবে এটা কিন্তু বিচারকের ইচ্ছা মোতাবেক হচ্ছে না এটাতে তার নিজের কোন মতামত নেই এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশ আইন বাবস্তার দারা নিয়ন্তিত।তুমি এখানে কিন্তু বলতে পারবে না আমাকে বিচারক শাস্তি দিবে না।আর এটা হওয়ার সম্ভবানা খুব কম কারণ কোন সুনিশ্চিত বিষয়কে আমরা কিভাবে মিথ্যা বলব? আর কোন ভাবে যদি তুমি তোমার করা অপরাধের শাস্তি থেকে মুক্তি পাও তবে সেটার কোন নিশ্চয়টা নেই ।এমন তো না যে বিদ্যুৎ চমকালো কিন্তু কোন শব্দ হলো না। তোমার করা অপরাধের জন্য তোমার যে মৃত্যুদণ্ড হবে এটা পরিস্কার। এই শাস্তি তোমাকে মাথা পেতে মানে নিতে হবে।
    এখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসে মনোযোগ দাও- হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

    “উপকার করে খোটা দানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান ,সর্বদা মদপানকারী এই তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে (সুন্নানে নাসায়ী, ৫৫৭৭)
    অন্য আরেকটি হাদিসে আছে;
    “পাঁচ শ্রেনীর মানুষ জান্নাত এ প্রবেশ করবে না তারা হলো – মদ্যপায়ী, যাদুর বৈধতায় বিশ্বাসী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, চোগলখোর এবং গনক তথা জ্যোতিষ বাক্তি” (মূসনাদে আহমদ)
    উপরের হাদিস থেকে জানাযায় যে মদ্যপানকারী তথা সিগারেট সেবনকারী, ধূমপানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কাল বিচারের দিন তোমাকে আল্লাহ কি শাস্তি দিবেন তা আল্লাহ ভাল জানেন। তোমাকে আল্লাহ তাল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন নাকি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন্ তা পরের কথা। এখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস থেকে এটা সুনিশ্চিত যে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তুমি তা অস্বীকার করতে পারবে না। যেমন তোমার করা অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড হবে এটা তুমি সুনিশ্চিত ভাবে মানে নিয়েছিলে কারণ তা বংলাদেশের দণ্ডবিধিতে উল্লাখ আছে। এখন যারা এই সকল হাদিসকে অস্বীকার করবে বা মানতে চাইবে না তাদেরও অবস্থান সেই নির্মম যন্ত্রনাদায়ক জাহান্নামেই। পবিত্র কুরআন এ সয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেন-
    “তারা কি জানে না যে বাক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরোধিতা করে তার জন্য অবশ্যই জাহান্নাম, তাতে সে চিরকাল থাকবে। এটা মহালাঞ্চনা।“ (সুরা তাওবা ; আয়াতঃ ৬৩)
    এ বিষয়ে কুরআন আরও অনেক জায়গায় উল্লাখ করা হয়েছে। তাই একজন মুসলিম হিসাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসকে অস্বীকার করার মতো ভুল আমরা কখনইকরব না যদি কিনা আমরা জাহান্নামে না জাতে চাই। আশাকরি তোমরা সকলে ধূমপান ত্যাগ করবে ইনশাল্লাহ । এটি বলা শেষ করে মুরুব্বি ওই স্থান ত্যাগ করলেন

    আমরা এই ঘটনা থেকে এটা পরিস্কারর হলাম ধূমপানকারী বাক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে । আমাদের সমাজের যে সকল মানুষ এই কথাটি মানতে চায়না তাদের উচিত নিজেদের মনগড়া চিন্তা ভাবনা বাদদিয়ে কুরআন ও হাদিস কি বলে তা জানার চেষ্টা করা।
    একটি সুস্থ সমাজে ধূমপান করা নিশ্চয়ই মন্দকাজ তাই এটা অতি সাধারণভাবে না দেখে আমাদের সকলকে ঘৃনার চোখে দেখা উচিত। অন্তত পরকাল আর কথা চিন্তা করে, জাহান্নামের নিস্থুর আগুনকে ভয়করে, মহান আল্লাহ তায়াল্লাকে ভয়করে ধুম্পানের মতো একটি জঘন্নকাজ করা থেকে বিরত থাকি।পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, জান্নাতের দিকে যাত্রা করি । আল্লাহ তাল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক আমল করার তৌফিস দান কুরুক (আমিন) ।

Skip to toolbar