Profile Photo

Md Rizwan ShuvoOffline

  • Md-Rizwan-Ullah-Shuvo
  • Profile picture of Md Rizwan Shuvo

    Md Rizwan Shuvo

    3 years, 4 months ago

    ভৌতিক গল্প আমার খুবি প্রিয়,আর তা যদি হয় সত্য গল্প তাহলেতো কথাই নেই।আজ আপনাদের সামনে আমার শুনা একটি গল্প লিখলাম। আশা করি ভালো লাগবে।

    সুগন্ধি

    জাহারারা বেগমের বয়স হয়েছে।স্বামি মারা গেছে আজ প্রায় ২০ বছর হতে চলল।দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়েই তার সব।দুই ছেলে আমেরিকা আর জুক্তরাজ‍্যে থাকে।বছর পাচেক হয়েছে মেয়ের বিয়ের,থাকে ঢাকায়।তিন একর জমির মাঝে বিশাল বাঙলো কিন্তু মানুষ থাকেন শুধু দুইজন জাহানারা বেগম আর একজন বুয়া।সারাদিন কাটে একাকিত্বে।একাকিত্তকে কাজে লাগিয়ে ছাদ বাগান করে তুলেছেন।বেশ কিছু জাতের ফুল,বাতাবি লেবু আর কয়েকটি চারা গাছ লাগিয়েছেন।রোজ ছেলে মেয়েদের সাথে কথা বলেন।কথা ছিল বাংলাদেশে আসার কিন্তু করণা কালে,সব ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ছেলেদের আর দেশে আসা হয়নি।গতো মাশে জামাইকে সঙে করে মেয়ে তাসলিমা এসেছিল।তবে বেশিদিন থাকেনি।

    জাহানারা বেগমের ফুলের গাছের প্রতি একটু নেশা আছে।দেশি বিদেশি নানান জাতের ফুলের গাছের সমাহার আছে তার বাগানে।কিছু -কিছু এমন ফুলও আছে যা প্রায় বিপন্ন প্রজাতির।লাল গোলাপ,জবা,জুই আরও কত কি।তবুও প্রতি সপ্তাহে একবার হলেও বুয়াকে সঙ্গে নিয়ে কাছের নারসাড়িগুলতে ঘুরে আসেন।কোন ফুল ভালো লাগলে নিয়ে আসেন।

    একবার বাসা থেকে খানিকটা দুরে একটি নারসাড়িতে গিয়েছিলেন।সব সাধারণ ফুলের মাঝে একটি গাছ তার আকর্ষণ কেরে নেয়।হাল্কা হলদে রঙের ফুলের একটি গাছ।গাছটি আকারে ছোট কিন্তু দেখতে খুব সুন্দর।গাছটির শুগন্ধি তার সুন্দর্রযকে আরও ফুটিয়ে তুলছে।বাসায় আনার পর থেকে ঘর জুড়ে তার শুগন্ধি।

    যেই দিন অই গাছটি কিনে আনলেন,ওই দিন জাহানারা বেগম বাড়িতে একা।বুয়াকে একটা কাজে বাহিরে পাঠিয়েছেন।তিনি ছাদে একা,এমন সময় অনুভব করলেন তার পেছনে কে যেন দারিয়ে।এই মৌসুমী দারিয়ে আছিস কেন?যা গিয়ে এক কাপ চা বানা।ছাদ থেকে নেমে দেখে মৌসুমী নিচে বসে বসে পেয়াজ ছিলছে।মৌসুমী হচ্ছে বুয়ার নাম।কাজের মানুষ হলেও,জাহানারা বেগমের খুব কাছের।জাহানারা বেগম মৌসুমীকে দেকে বললেন,কিরে চা কই?।মৌসুমী অবাক শুরে বলল চা বানাতে বলছিলেন খালাম্মা?খেয়াল করিনাই হয়তো।মৌসুমী চা বানিয়ে আনলো,আর জাহানারা বেগম চা খেতে খেতে টিভি দেখতে লাগল।

    জোহরের নামায শেষ করে,বিছানায় বসে আছেন।এমন সময় মনে হলো যেন ছাদে কেউ দৌড়াদৌড়ি করছে।ভাবলেন মৌসুমী ছাদে গেছে হয়তো?।ভাবলেন গাছগুলোতে পানি দিয়ে আসা যাক।উপরে উঠার পর দেখেন ছাদ খালি।ভাবলেন মৌসুমী হয়তো নিচে নেমে গেছে।যাইহোক তিনি খেয়াল করলেন না।ছাদে লাগানো একটা পাইপ দিয়ে গাছ গুলোতে পানি ঢালছিলেন,এমন সময় খেয়াল করলেন……..

    ছাদে লাগানো একটা পাইপ দিয়ে গাছ গুলোতে পানি ঢালছিলেন,এমন সময় খেয়াল করলেন একটা মেয়ের কন্ঠ।যেন কেউ হাল্কা গলায় গুন গুন শব্দ করছে।তিনি পিছনে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই।ভাবলেন হয়তো ভুল শুনেছেন।খানিকটা অবাক হলেন,তবে তা পাত্তা না দিয়ে চলে আসলেন।

    রাত তখন বাজে ১২.৩০টা গ্রামগঞ্জে এই সময়টা হলো প্রায় মাঝরাতের সমান।পানির পিপাসা লাগায় জাহানারা বেগমের ঘুম ভেঙে গেল।মাঝরাতে আবার বুয়াকে ডাকবেন?এই ভেবে তিনি দাইনিঙ রুমে গেলেন।মৌসুমী ঘুমায় আরেক রুমে।রুমের দরজা চাপানো।দাইনিঙ রুমে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে,পানি খাচ্ছেন।এমন সময় মনে হলো রান্না ঘরে কে যেন দারিয়ে।দেখে মনে হলো মৌসুমীর মতো।জাহানারা বেগম ভাবলেন এতো রাতে সে রান্না ঘরে কি করছে?মৌসুমী,এই মৌসুমী?ঘুমাস নাই কেন?।দেখেন কেউ জবাব দেয় না।কৌতুহুলে তিনি রান্না ঘরে গেলেন।যেতেই দেখেন কেউ নেই।নিমিসেই তিনি মৌসুমীর রুমের দরজার দিকে ছুটলেন।মৌসুমী উঠ?জলদি উঠ।মৌসুমী চমকে উঠলো।দেখে জাহানারা বেগম,তার পাশে দারিয়ে।কি হয়েছে খালাম্মা?আপনি ঠিক আছেন?জাহানারা বেগমের শ্বাস ফুলে গেছে,কিছুই স্পষ্ট বলতে পারলেন না।যতটুকু বলতে পারলেন তাতেই মৌসুমীর কাছে কথা গেল।মৌসুমী রান্না ঘরে গিয়ে বাতি জালিয়ে দিল।খালাম্মা অইখানেত কিছুই নাই।জাহানারা বেগম এমনিতেই একা থাকেন,এখন ভয়ে নাজেহাল অবস্থা।তাই তিনি মৌসুমীকে বললেন আজ রাতে তার রুমে গিয়ে ঘুমতে।

    সেইরাতে ঘরের সব বাতি জালিয়ে রেখেই ঘুমতে গেলেন।ঘুমও যেন শত্রুতা পালন করছিল আসে না আসে না অবশেষে ঘুম এল।সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে।মৌসুমী আগে উঠে নাশ্তা বানিয়েছে।খালাম্মা ঠিক আছেন?।জাহানারা বেগম হালকা গলায় বললেন হ্যাঁ।মৌসুমী জিগ্যেস করলো,খালাম্মা কাল কে কি হয়েছিল,একটু বুঝিয়ে বলবেন?।জাহানারা বেগম ধোগ গিল্লেন,বললেন কাল রাতে পানি খাওয়ার জন্য দাইনিং রুমে গিয়েছিলাম।তখন দেখি রান্না ঘরে কার যেন ছায়া।ভাবলাম তুই বুঝি?তাই অইখানে গেলাম।কিন্তু অইখানে কেউ ছিল না।রুমটাও ছিল অন্ধকার,সব মিলিয়ে একবারে ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলাম।খালাম্মা হয়তো ভুল দেখসেন।আমিও তো অইখানে গেলাম কিন্তু কাউকে দেখি নাই।জাহানারা বেগম কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস টানলেন।কিন্তু একটা সন্দেহ আর ভয়ের প্রভাব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। হয়তো ভাবছিলেন তার শ্বরির ঠিক আছে কিনা?
    সকাল থেকে মুশুল ধারায় বৃষ্টি পড়ছে,জাহানারা বেগম বারান্দায় তার রকিং চেয়ারে বসে চা খাচ্ছেন।এমন সময় অনুভব করলেন…..

    সকাল থেকে মুশুল ধারায় বৃষ্টি পড়ছে,জাহানারা বেগম বারান্দায় তার রকিং চেয়ারে বসে চা খাচ্ছেন।এমন সময় অনুভব করলেন কে যেন তার পেছনে ছোটাছুটি করছে।আবার বাচ্চাদের মতো ফিস ফিস করে হাসছে।জাহানারা বেগমের ব্যাপারটা বেশ সন্দেহ ভজন লাগল।তিনি বিষয়টি ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে ভাব্বেন।কন্ঠটি হতাৎ বন্ধ হয়ে গেল।জাহানারা বেগম ভাবলেন কি ব্যাপার।তখন পেছন থেকে মৌসুমী এসে হাজির।বলল খালাম্মা ভাত হয়েছে খাবেন না?জাহানারা বেগম এমনিতে ভীষণ ভীতু স্বভাবের কিন্তু তার কৌতুহুল খুব বেশি।তাই সে বুঝতে চেষ্টা করছিল যে আসলেই কি সে কিছু শুনতে পাচ্ছে নাকি এটা তার মনের কোন চিন্তা।ব্যেপারটা স্পষ্ট ছিল যে কিছু একটা আছে।তবে এটা তার ক্ষতি করার চেষ্টা করে নি।তাই তিনি মৌসুমীকে এর সম্পর্কে আর কিছু বলেন নি।

    এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল ,জাহানারা বেগম লমবা সময় ধরে বারান্দায় একা একাই সময় কাটান।মৌসুমী সেখানে গেলে তাকে কোন না কোন অযুহাতে তারিয়ে দেন।কারণ অকারণে একা একাই কথা বলেন।মৌসুমীর, প্রথম থেকে সন্দেহ ভজন লাগছিল।একদিন মাগ্রিবের সময় সে লক্ষ করতে লাগল।দেখে জাহানারা বেগম তার রুমের দরজা লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো।কিন্তু বিচিত্র বিষয় ভেতরে অন্য কেউ না থাকলেও জাহানারা বেগম একাএকি কার সাথে কথা বলছে।মাঝে মাঝে আবার হাশি ঠাট্টা করছেন।মৌসুমী দরজায় কান পেতে তাদের কথা শুনছিল।হতাৎ পেছন থেকে একটি শব্দ এল,যেন কেউ খিল খিল শব্দ করে হাসছে।মৌসুমী শব্দটির দিকে খেয়াল করলো।মনে হলো যেন কোন শিশুর কন্ঠ,একটি ছোট মেয়ের মতো।কিন্তু শব্দটি বেশিক্ষণ স্তাহী ছিল না।

    প্রায় ঘন্টা খানিক পর জাহানার বেগম মৌসুমীকে দেকে পাঠালেন বললেন মিতুর জন্য এক কাপ দুধ নিয়ে আসতে।খালাম্মা এই মিতু কে?মৌসুমীর প্রশ্ন শুনে জাহানারা বেগম অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন।মানে কি?তুমি মিতুকে চিননা?মিতু অইযে দেখ বিছানায় বসে খেলছে।মৌসুমী এক নজর বিছানার দিকে তাকাল। কিন্তু সেখানেতো কেউ নেই খালাম্মা।জাহানারা বেগম এইবার রেগে গেলেন বললেন যাওতো যাও দুধ নিয়ে এসো।মৌসুমী অবাক হয়ে রান্না ঘরে চলে গেল।ভাবলো খালাম্মার হয়তো মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে।গরম দুধের গ্লাস সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন জাহানারা বেগমের কাছে।আজব এজ দৃশ্য জাহানারা বেগম কাকে যেন দুধ আর বিশকুট স্বাদছে।মৌসুমী এক দৃষ্টিতে শুধু জাহানারা বেগমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।মনে মনে ভাবলো অনার ছেলেদেরকে এই কথা জানানো উচিত।

    মৌসুমী গ্রামের মানুষ সকালে ঘুম থেকে তারাতারি উঠে।সকালে ঘুম থেকে উঠেই তার প্রথম কাজ হলো কাপড় ধুয়ে ছাদে দিয়ে আসা।রোজ সকালের মতো মৌসুমী গৌসল খানায় কাপড় ধুচ্ছে,এমন সময় মনে হলো যেন কেউ তার ঘাড়ে স্পর্ষ করেছে।সে চমকে গেল,কিছুক্ষন এদিক সেদিক তাকিয়ে কাউকেই খুজে পেল না।সে এক প্রকার ভয় পেয়েই বের হয়ে গেল।মনে যেন খানিকটা সন্দেহ আর সঙ্কা।যদি খালাম্মার কথা সত্যি হয়?।এইদিকে জাহানারা বেগম মৌসুমীকে ডেকে পাঠালেন।বললেন গরম পানি চরাতে আজ তিনি গৌসল করবেন।মৌসুমী নিজের মনে নিজেকে বোঝাল যে হয়তো সে ভয়ে এইসব কল্পনা করেছে।সব বাদ দিয়ে বরং কাজে ফিরা যাক।চুলায় পানি চোরিয়ে মোসুমী ছাদে কাপড় দাওয়ার উদ্দেশ্যে চলে গেল।পুর ছাদ যুরে সে একা।কাপর ঝুলিয়ে সে কিছক্ষন একা বশে বশে গুন গুন করছে।হতাৎ কি কারণে যেন তার চোখ মাটিতে পরলো।বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে সে খেয়াল করলো,যে তার ছায়ার পাশাপাশি আরেক্টা ছায়া।সে ভাবলো,ঠিক দেখছেতো?সে এক দুইপা আগাতেই দেখে অই ছায়াটি তার থেকে একটু পরে এগোচ্ছে।সঙ্কার আর কোন অবকাশ রইল না।নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়ে পালাল।এত জোরে দৌড় দিল যে নিচের সিড়িতে হোচট খেয়ে পরে গেল।জাহানারা বেগম পরার শব্দ শুনতে পেয়ে এগিয়ে এসে দেখে মৌসুমী মেঝেতে পরে আছে।ভাগ্যক্রমে মৌসুমী কোন আঘাত পায়নি,কিন্তু সে এখন আর এই বাড়িতে থাকতে নারাজ।এইদিকে জাহানারা বেগম মৌসুমী কে যেতে দিতে চাইছেন না।মৌসুমী নিজের ইচ্ছায় অটুট।সে যাবেই,তার যাওয়ার আগে জাহানারা বেগমের মেয়ে তাসলিমাকে ফোন করে এইসব খলে বলল।

    তাসলিমা এসে হাজির,দেখে মৌসুমী ততক্ষণে চলে গেছে।বাড়িতে জাহানারা বেগম একা।মৌসুমী তাকে জাহানারা বেগমের অদ্ভুত আচরণ বিচরণের কথা জানানো মাত্রই সে তার মায়ের কাছে ছুটে আছে।এরি মাঝে ঢাকার নামকরা এক মনরোগ বিশেষঞ ডাক্তারের সাথে কথা বার্তা চলছে।জাহানারা বেগমের অশুস্থ্যতার কথা বিদেশে তার ছেলেদেরও জানানো হলো।জাহানারা বেগম এইদিকে তার অশুস্থ্যতার কথা মানতে চাইছেন না।বার বার বলছেন মিতু সত্যি আছে।রোজ তার সাথে দেখা করতে আসেন।তিনি মিতুর সাথে খেলাধুলাও করেন।জাহানারা বেগমের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো।

    এইদিকে তাসলিমা, মৌসুমীর বাসায় চলে গেল মৌসুমীর বাড়িতে।তার শ্বরীর বেশ খারাপ,সে নাকি এখন একলা কথাউ যেতে ভয় পায়।তাসলিমা তাকে বার বার বোঝানোর চেষ্টা করছে যে ভুত টুট বলতে কিছুই নেই।কিন্তু কে শুনে কার কথা।তাই তাসলিমা তাকে সব কথা খুলে বলার জন্য বলেন।তাসলিমা ভুতে বিশ্বাস করে না।সে একজন শিক্ষিত নারী এইসবে তার বিশ্বাস নেই।সে জানতে চাইলো,এই ঘটনার শুত্রপাত কবে থেকে হয়েছে?।মৌসমী অনেক্ষণ ভেবে বলল যেইদিন অই গাছটা কিনে এনেছিলেন অইদিন থেকে।সে বলল হয়তো গাছটা অভিশপ্ত।তাসলিমা ওদের বাড়ি ছেড়ে তার মায়ের বাসায় গেল।সে নিজের চোখে পরিক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছিল।যদিও সে মনে মনে ভেবেই নিয়েছিল যে অইখানে কিছু নেই।

    রাত তখন ১.৩০টা বাজে তাসলিমার ঘুম আসছিল না,তাই সে ছাদে চলে গেল।নিচ তলায় তার স্বামী ঘুমাচ্ছে।হতাৎ দেখে তার স্বামী ছাদে এসে হাজির।আচমকা তাকে দেখে তাসলিমাও অবাক।সে বলল সে নাকি কারও কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছে।তাই তাসলিমার কিছু হলো কি না এটা দেখার জন্য ছাদে চলে আসছে।তাসলিমা তার স্বামীকে আর কোন কথা বলল না।এদিকে তার মাথায় এখন খানিকটা সন্দেহ যেগে উঠলো।বাস্তব অবাস্তবের মাঝে সে প্রশ্নের উত্তর খুজে বেরাচ্ছিল।এক সময় সিদ্ধান্ত চিল সে এর উত্তর এইখানে পাবে না,তাই সকাল হতেই সে চলে গেল সেই নারসাড়িতে যদিও তার মুল উদ্দেশ্য ছিল এটা প্রমাণ করা যে এইসব মনের ভুল চিন্তা ছারা আর কিছু নয়।নারসাড়ির মালিক জব্বার মিয়ার কাছে মৌসুমী এই ঘটনার বর্ণনা দিতেই তার চেহেরার রুপ পাল্টে গেল।জব্বার মিয়া প্রশ্ন করলেন,ওইটা কি একটি হলদে রঙের ফুল গাছ?।মৌসুমী একটু ভীতু শ্বরে বলল হ্যাঁ?।এ শুনে জব্বার মিয়া হাটু গেরে বসে কাদতে শুরু করলেন।তাসলিমা একটু কৌতুহলবশত জিঞেস করে ফেললেন,ভাই কি হয়েছে কোন সমস্যা?।জব্বার মিয়া অশ্রুজ্জল চোখে বললেন এই গাছটি তার মেয়ে মিতু লাগিয়েছিল।সে ফুল গাছ বেশ পছন্দ করতো।তার পছন্দের রঙের সাথে তাল মিলিয়ে এই গাছটি কিনে আনা হয়েছিল।একদিন ছাদের উপর খেলতে খেলতে তার পা পিছলে যায়,আর নিচে পড়ে যায়।তার মৃত্যুর পর সে প্রায়ই তাকে অনুভব করতো।আরও ভাল যায়গায় রাখার জন্য সে অই ফুল গাছটি এইখানে নিয়ে আসে।কিন্তু এর পর সে মিতুকে আর অনুভব করতে পারছিল না।যেন মিতু তার বাসা ছেড়ে চলে গেছে।

    তাসলিমা যেন এখন তার প্রশ্নের উত্তর পেয়েগেছে।সে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করলো,যেন তার মনের একটি বোঝা কম হয়ে গেল।সে গাছটি ফিরিয়ে দিল।

    প্রায় বছর খানিক পর, জাহারারা বেগম চিকিৎসা শেষে ফিরে আসে।তাজ্জবের বিষয়, এর পর জাহারারা বেগম স্বাভাবিকই ছিলেন।যদিও এই ভাল সময় বেশিদিন চিরোস্থাহী হয়নি।মাস খানিকের মাথায় তিনি পরলোক গমন করেন।

    সত্য কিংবা অসত্য তা হয়তো কখনো প্রমান করা যাবে না।কিন্তু এটা ভেবে শান্তনা দাওয়া যেতেই পারে,যে সমস্যার সমাধান মিলেছিল।

    3
    3 Comments
Skip to toolbar