-
মজনু মিয়ার বিয়ের তিনকাল
অমর প্রেমিক জুটি লাইলী-মজনুর বিয়ে না হলেও আধুনিক যুগে মজনু মিয়া ও লাইলী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ে পরবর্তী তাদের কেমন কেটেছে তা তিনকাল বিভক্ত করে সারাংশ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রথমকাল- বিয়ের পর নাস্তার টেবিলে লাইলী বেগমের চোখ ও নাক দিয়ে শ্রাবণধারা বইছে। মজনু বিষন্নমনে নাস্তা খেয়ে চলছে।
লাইলী হিসেব করে বলে, অফিসে ৮ ঘণ্টা, যেতে আসতে দুই ঘণ্টা, রাস্তায় প্রত্যাশিত জ্যামে আরও দুই ঘণ্টা। মোট ১২ ঘণ্টা তোমাকে ছাড়া থাকতে হবে। এ যন্ত্রণার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল।
দুঃখ করো না প্রাণেশ্বরী, প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিব তোমায়, বলে মজনু।
তাহলে খাব কি, বাড়ি ভাড়া কোথায় থেকে দিব- বলতে বলতে কেঁদে উঠে লাইলী।
এ রকম গভীর থেকে গভীরতর ভালোবাসায় কেটে যায় তাদের প্রথমকাল।
দ্বিতীয়কাল- সকালে নাস্তার টেবিলে এসে দেখে মজনু খাবারে মাছি উড়ছে। প্রাণেশ্বরী লাইলী বেগম নেই। ড্রয়িংরুমে উঁকি মেরে মজনু দেখতে পায় তার প্রাণেশ্বরী টিভিতে ভারতের সিরিয়াল দেখছে।
অফিসের যাওয়ার সময় হয়েছে, নাস্তা করতে হবে- বলে মজনু।
নাস্তা সাজানো রয়েছে, খেয়ে নাও, আমাকে ‘ভালোবাসার ভিন্ন রঙ’সিরিয়াল দেখতে দাও- বিরক্ত হয়ে বলে লাইলী।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মজনু মিয়া মাছি উড়া খাবার না খেয়ে অফিসে চলে যায়।
এ জাতীয় আরও ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের দ্বিতীয়কাল চলে যায়।
তৃতীয়কাল-রাতে প্রচণ্ড গোলযোগ। এটা পাইনি, ওটা পাইনি অভিযোগে লাইলী বেগমের ঝগড়া। এরপর তৈজসপত্র ভাংচুর ইত্যাদি।
সকালে নাস্তা টেবিলে এসে মজনু দেখতে পেল নাস্তা নেই। লাইলী বেগম সিরিয়াল দেখছে।
নাস্তা কোথায়? ক্ষিপ্তকণ্ঠে মজনু বলে।
কোথাও করে নেও, আমার সময় নেই। সিরিয়ালের ফাটাফাটি পর্ব চলছে- বলে লাইলী।
আমি চললাম-বলে মজনু।
সড়ক দুর্ঘটনায় যদি না মরো তাহলে পারলে বাড়িতে এসো- ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে লাইলী।
বুকে একরাশ ব্যথা নিয়ে মজনু বাসে চেপে বসে। তার অন্তরের অন্তস্থল থেকে মান্নাদের বিখ্যাত গান’ তুমি কি সেই আগের মত আছো, নাকি অনেক খানি বদলে গেছে, খুব জানতে ইচ্ছে করছে’ গাইছে।
এ সময় মজনু মিয়ার ছেলেবেলায় চিড়িয়াখানা দর্শণের কথা মনে পড়ে। বাবার সাথে চিড়িয়াখানায় গিয়ে একটি খাঁচার সামনে এসে সে বাবাকে বলে- উঠা কি? গাধা- উত্তর দেয় বাবা। গাধার পাশে কে- আবার প্রশ্ন মজনুর। গাধার বউ- উত্তর বাবার। গাধারা বিয়ে করে- অবাক হয়ে মজনু জিজ্ঞেস করে। হ বাবা গাধারাই বিয়ে করে- বিষন্নকণ্ঠে বলে বাবা।
এরপর শেষকাল কিভাবে কাটবে তা ভাবতে পারে না মজনু মিয়া।
বই : দেবুদার আত্মাহুতি (অণুরম্য গল্পগুচ্ছ} লেখক : মাহমুদুর রহমান মনা3 Comments
Friends
Azmeri Nafsi
@azmeri
Eiasin Arafat
@eiasin-arafat
Azmayin Talha
@azmayin9956
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
Abu Said Vuia
@shahadatur-rahman-sohel
নোমান খালভী
@nomankhalovi
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
শায়েরুল ইসলাম
@shaerulislam
shakila-khatun
@shakila-khatun



জীবনের রম্য কথা। অভিনন্দন।