-
বরিশাল সিটি মেয়রের রোষানলে পড়ে দুইসপ্তাহ কারাবাস
বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র রোষানলে পড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ কারাবাস করে জামিনে মুক্ত হলেন দৈনিক শাহনামার প্রধান বার্তা সম্পাদক, বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদ’র তথ্য সম্পাদক ও বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রশীদ নোমানী। এর আগে তার উপরে অতর্কিত হামলা করে জেলা ছাত্রলীগ নেতা রইজ মান্না, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম সহ অন্যান্যরা। পরে আহত অবস্থায় তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে এই পুরো ঘটনাই ঘটেছে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নির্দেশে তার সামনেই। পরে মেয়রের নির্দেশে কাউন্সিলর সাইদ মান্না বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করলে তাতে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ সময় তার সাথে থাকা কামরুল মৃধা ও লাবু কেও মারধর ও গ্রেফতার দেখানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে নগরীর ত্রিশ গোডাউন কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে এই ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ স্বপরিবারে দলীয় লোকজন সহ নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় বিনোদনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ‘হোবার বোর্ড’ চালান। মেয়রের সহযোগী আতিকুল্লাহ মুনিমের আইডি থেকে ‘হোবার বোর্ড’ চালানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) লাইভ করা হয়। এসময়ে মেয়রের সাথে থাকা সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (নোমানী’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদি) শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না সহ নেতাকর্মীরা দাবী করেন তারা সাংবাদিক নোমানী’কে মেয়রের ছবি তুলতে দেখেছেন। কাউন্সিলর মান্না’র অভিযোগ, নোমানী অসৎ উদ্দেশ্যে গোপনে মেয়র সাদেক আবদুল্লাহ’র ছবি তুলেছেন। এই অভিযোগে মেয়রের উপস্থিতিতে সাংবাদিক নোমানী’কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে ও শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬(২) ও ৩৩(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানী’কে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়। সাংবাদিক নোমানীর পারিবারে দাবী, সেখানে ছবি তোলার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে মেয়র সাদিক সাংবাদিকদের উপরে ছিলেন ক্ষিপ্ত। তারই জেরে নোমানীকে সামনে পেয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটান তিনি। অথচ বরিশালে মেয়রের ভয়ে একথা কোন গণমাধ্যম লিখেনি। এমনকি সহকর্মী সাংবাদিকরাও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, নোমানী একজন পেশাদার সাংবাদিক। তিনি প্রায় দুই যুগ যাবত সাংবাদিকতা করছেন। তার সাথে এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তবে বরিশালের প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছু করার নেই। জানা গেছে, মেয়র সাদিক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শুধুই কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছেন। কোন ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে পারেননি। নগরীর রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তিনি এক মুর্তিমান আতংক। পুরো নগরীতে চাঁদাবাজী ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। এসব নিয়ে দুই একটি পত্রিকায় আকার ইঙ্গিতে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পুরো সাংবাদিক সমাজের উপরে ক্ষিপ্ত তিনি। এ কারণে সাংবাদিককে দেখেই হামলে পড়েন তিনি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর নোমানী জামিনে মুক্ত হয়েছেন তার হাতের অবস্থা খুবই খারাপ তার চিকিৎসাধীন ডাক্তার জানিয়েছেন হাতের ভাঙ্গা স্থানটি ঠিক করতে অপারেশন করতে হবে।
1 Comment
Friends
Drako Shajib
@drako
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo
Foyzur Khan
@foyzur-khan
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
মনজুরুল ইসলাম
@muktomanbangali
Umme Tabassum Taiyeba
@umme-tabassum-taiyeba
Reazul Kabir
@reazul-kabir
Nipun Chandra
@nipunch

👤