-
ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-২১
দরজার কড়া নড়ে ওঠতেই সৈকত এগিয়ে আসে। দরজা খুলেই সৈকত অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রুচিরাকে দেখে। তারপর পাশ ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলে- দিদি এসো, ভেতরে এসো।
ঘরে প্রবেশ করেই চুপচাপ চেয়ার টেনে রুচিরা বসে। কাছাকাছি হয়েই খাটের উপর বসে সৈকত। রুচিরা মনে মনে ভাবে; কোত্থেকে, কীভাবে শুরু করবে। বেশ কিছুটা চিন্তায় পড়ে যায় সে। সৈকত রুচিরা দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু একটা শুনবে এমন প্রত্যাশায়। কিন্তু রুচিরা চুপচাপ বসেই থাকে। কোন সমস্যা রুচি’দি?
নীরবতা ভেঙে সৈকত বলে- এভাবে চুপচাপ বসে আছেন যে? তাছাড়া আপনাকে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে।
রুচিরা এড়াতে চেষ্টা করে- না এমনিতইে। হঠাৎ ভাবলাম তোমার এখান থেকে একটু ঘুরে যাই।
এসে ভালো করেছেন। আমিও ভাবছিলাম কোথায় যাওয়া যায়। কারণ একা একা বোরিং লাগছে।
কেন? অনিক কোথায়?
দু’দিন হল বাড়িতে গেছে।
সৈকত, তুমি পারমিতাকে খুব ভালবাস, তাই না?
সৈকত লজ্জাবনত হয়ে উচ্চারণ করে- কেন দিদি, হঠাৎ করে এই প্রশ্ন?
রুচিরা কোন কথা বলে না। পলকহীন দৃষ্টিতে তাকায়, দৃষ্টিতেই বোঝা যাচ্ছে যে রুচিরা উত্তর চাচ্ছে।
রুচিরার দিকে না তাকিয়ে সৈকত বলে- রুচিদি সত্যি বলতে কী, পারমতিাই আমার জীবনরে প্রথম নারী যাকে আমি মনের ভেতর ঠাঁই দিয়েছি।
পারমিতাও নিশ্চয়ই তোমাকে খুব ভালোবাসে?
আমার বিশ্বাস আমি যতটুকু ভালাবাসি, পারমিতাও তেমনি আমাকে ভালোবাসে। কথাগুলো সৈকত বলছে ঠিকই কিন্তু মনের ভেতর কিছু প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে যে, রুচিদি হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করছে কেন।
তুমি ঠিকই বুঝতে পেরেছ। পারমিতা তোমাকে খু-উ-ব ভালোবাসে।
কথাটা শোনার পর সৈকতের পুরো মুখণ্ডলে হালকা খুশীর বন্যার ঢেউ খেলে গেল যেন। রুচিরার চোখে বিষয়টা ধরা পড়ে। কিন্তু রুচিরা বেশ কষ্ট পায়। রুচিরা কোন কথায় আর এগোবার সাহস পাচ্ছে না। সৈকত অপেক্ষায় আছে পরবর্তী কথা শোনার জন্য।
সৈকত, জীবনে কিছু ঘটনা আচমকা ঘটে যায়। যার জন্য, কেউ কখনও প্রস্তত থাকে না এবং অনেক সময় তা একটা জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। তবে জীবনের জন্য ওইসব ঘটনাকে মোকাবিলা করতে হয়। বুদ্ধিমত্তার সাথে যারা মোকাবিলা করে তারাই প্রকৃত জীবন যোদ্ধা।
কথাগুলো সৈকতের মনে আরও প্রশ্ন জাগায়। কিন্তু সৈকত কিছু প্রশ্ন করল না । প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রুচিদির দিকে। রুচিরার সুন্দর মুখটা যেন নীলচে হয়ে আছে। পারমিতার জমাট বাঁধা কষ্টগুলো রুচিরার ভেতরে ক্রমশ বেড়ে চলছে। নিরুপায় হরিণীর মত ছটফট করছে রুচিরার দেহ-মন।
র্দীঘ নীরবতা ভেঙে সৈকত বলে- রুচিদি, আমার মনে হচ্ছে আপনি অন্য কিছু একটা বলবেন। নিঃসন্দেহে বলতে পারেন।
রুচিরা এবার সাহসের বুকে ভর করে এগোবার চেষ্টা করে বলে- সৈকত পারমিতা খুবই বিপদে পড়ে গেছে।
সৈকত বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে- ওর কী হয়েছে দিদি?
পারমিতা তোমাকে সত্যি খুব ভালোবাসে। কিন্তু একটা বেসামাল পরিস্থিতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে সে।
সৈকত চুপচাট। আগ্রহভা দৃষ্টিতে সৈকত তাকিয়ে আছে। রুচিরা সবকিছু খুলে বলে। সবকিছু শোনার পর কিংকর্তব্যবিমূঢ় সৈকত অস্বচ্ছ দৃষ্টিতে রুচিরার দিকে তাকিয়ে থাকে। কান্নার জল চোখের কোণে কোণে এসে জমে আছে। বেদনায় বিদ্ধ সৈকতের পুরো মন। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে সৈকত বলে- রুচিদি, তুমি বলে দাও। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচবো! পারমতিাকে নিয়ে আমি সুন্দর সুন্দর স্বল্প এঁকেছি। আমার স্বপ্নের বাগানে একটিই ফুল, সে হল পারমিতা। ওকে ছাড়াতো আমার সূর্যোদয় হবে না। বলতে বলতে সৈকত শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়ে।
রুচিরা চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ায় । সৈকতের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে- সৈকত এত ভেঙে পড়লে চলবে না। তাছাড়া পারমিতা তোমাকেই ভালোবাসে। না পাওয়ার মাঝেও তো এক রকমের সার্থকতা লুকিয়ে আছে।
এইসব আমি বিশ্বাস করি না। যা বুকের মধ্যে লালন করব তা যখন পাব না তখন সার্থকতা থাকার প্রশ্নই আসে না। পারমিতা আমাকে চিট করেছে।
তুমি ওকে ভুল বোঝ না, সৈকত। তুমি যদি ওকে দেখতে ওর কী অবস্থা, তাহলে এ কথা বলতে পারতে না।
সব মিথ্যে। আমি কিছুই বিশ্বাস করি না।- এই বলে সৈকত দু’হাতে চোখ-মুখ ঢেকে চুপচাপ বসে থাকে।
পারমিতা তোমার কাছে আসবে। ও ক্ষমা চেয়ে তোমার আর্শীবাদ চেয়েছে। শেষের কথাটায় সৈকত মুখ তুলে তাকায়। তারপর ছলছল চোখের কোণ বেয়ে উপচে পড়ল অশ্রু ফোঁটা।
কান্না জড়ানো কন্ঠে সৈকত বলে- ভেবেছে কি, ওকে আমি অভশিাপ দেব?
না, ঠিক তা নয়। পারমিতা তোমাকে খুব ভালোবাসে। সে পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। আসলে ব্যাপারটাও একেবারে ক্রিটিক্যাল।
সৈকত আর কোন কথা বাড়ায় না। দু’জন র্দীঘক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। সময় বয়ে চলে আপন গতিতে।
ক্লাস শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হতে চলল। পারমিতা একদিনও ক্লাস বাদ দেয়নি। এবং প্রতিদিনই সৈকতের খোঁজে ওর ডিপার্টমেন্টে গিয়েছে কিন্তু দেখা পায়নি। আর রুচিরার ক্লাস এখনও শুরু হয়নি। পারমিতা এখন বাসা থেকে সরাসরি ক্লাসে আসে আবার বাসায়ই চলে যায়। হলে সম্ভবত আর আসা হবে না? হলে গিয়ে রুচিরাকে খুঁজেছে কিন্তু দেখা পায়নি? সৈকতকেও কয়েকদিন হলে খুঁজে এসেছে। রুম তালাবদ্ধ অবস্থায়ই পেয়েছে সবদিন। পাশের রুমে খবর রেখে এসেছে কিন্তু তবুও সৈকতের দেখা পাচ্ছে না। পারমিতা বুঝতে পেরেছে সৈকত ইচ্ছে করেই এমনটি করছে। আজও যেতে হবে। কিন্তু সৈকতকে না পেলেও রুমমেট অনিককে ক্যাম্পাসে পেয়েছে পারমিতা। ওর কাছ থেকে জানতে পায় যে, সৈকত একটু উদ্ভট প্রকৃতির জীবনযাপনে জড়িয়ে পড়েছে। সকালে বের হয় আর গভীর রাতে রুমে ফেরে। আর সবকিছুতেই নিষ্পৃহ ভাব। আগের উৎফুল্ল সৈকত আর নেই।
অনিক বলল- সকাল দশটায় মধ্যে আসলে সৈকতকে পাওয়া যাব।- এই বলে অনিক ঘড়ি দেখে বলে এখন অবশ্য গেলে পেতে পার।
পারমিতা ক্যাম্পাসে আর সময় ব্যয় করে না। রিকশা নিয়ে সোজা সৈকতের হলে। রিকশা থেকে নেমে পারমিতা খুব দ্রুতগতিতে হাঁটতে শুরু করল। কয়েকজন পেছন ফেরে পারমিতাকে লক্ষ্য করল, কিন্তু পারমিতার সেদিকে খেয়াল নেই। ওর একমাত্র লক্ষ্য এবং ভাবনা হল সৈকত। সিঁড়ি বেয়ে রীতিমতো দৌড়ে এল পারমিতা।
চলবে…♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.4 Comments-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 10 April 2023 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
Friends
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
D K MAHANTA
@dkmahanta01718942602
রাহুল চন্দ্র দাস
@rahulchandradas13011994gmail-com
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Diponkar Bhowmik Antu
@diponkar
Nilufar Ghani
@nilufar-ghani
Israt Lamia
@israt-lamia
Dhali Moin
@dhali-moin


চমৎকার