Profile Photo

Shazzad SobujOffline

  • mr.green360
  • Profile picture of Shazzad Sobuj

    Shazzad Sobuj

    3 years, 1 month ago

    “Money can buy happiness”
    সফলতার সংজ্ঞা কি আপেক্ষিক নাকি চিরন্তন? টাকায় সব নাকি খ্যাতির পেছনে ছোটা উচিত। নাকি টাকা থাকলেই খ্যাতি পাওয়া যায়? নাকি সুখে থাকাটাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য?

    সেদিন ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজ পড়ে রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম। হঠাৎ ভাবলাম এক গ্লাস লেবুর শরবত কিনে খায়। শরবতের ঠেলাগাড়ির কাছে গিয়ে দেখলাম উপচে পড়া ভীড়। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর গ্লাস হাতে পেলাম। খেয়ে টাকা দিলাম ২০ টাকা, কারণ লেবুর হালি নাকি ৪০। আমি ওখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে Observe করলাম। Worst Case হিসাব করে দেখলাম বিক্রেতা প্রতি ১০ মিনিটে ২০০ টাকা ইনকাম করছে। জিজ্ঞেস করলাম
    – প্রতিদিন কতক্ষণ থাকেন?
    – রমজান মাসে আছরের পর থেকে শুরু করি রাত ৯ টা – ১০ টা পর্যন্ত। আর রমজান বাদে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা – ১০ টা।
    তাহলে হিসেব দাড়ালো, রমজান মাসে প্রতিদিন ইনকাম ৬০০০ টাকা। আর রমজান বাদে ১০,০০০ টাকা ই ধরলাম। তাহলে তার প্রতি মাসে ইনকাম ১.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। টাকার পরিমাণটা আমি আরো বেশ কিছু সোর্স থেকে যাচাই করে নিয়েছি। এমন হাজারো উদাহরণ আমার আপনার প্রত্যেকের সামনে অনেক আছে যেটা আমরা সবাইই কমবেশি জানি।
    এবার একটু কর্পোরেট লাইফের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। গ্রাজুয়েশন শেষ করে আপনার প্রস্তুতি খুব ভালো থাকলে প্রবেশনে আপনাকে বেতন দিতে চাইবে ২০-৪০ হাজার রেঞ্জ এর মধ্যে। সকাল ৮ টা থেকে ৫ টা অফিস করতে হবে। প্রতিটি ভুল পদক্ষেপে জবাবদিহিতা তো রয়েছেই। স্বাধীনতার কথা ভুলে যেতে হবে। বেশ কয়েক বছর হাড়ভাংগা খাটুনির পর হয়তো ১.৫ থেকে ২ লক্ষ টাকা হবে বেতন। মেরুদন্ড সোজা করতে বেশ কসরত করতে হবে এই পর্যায়ে এসে।
    এবার আসি মধ্যবিত্তের সাধারণ জীবনযাপনে ছোটবেলা থেকেই রোল যেন ১ এর বেশি না হয়। বৃত্তিটা কিন্তু এবার পেতেই হবে। জিপিএ ৫ না পেলে কোথাও ভর্তি হইতে পারবানা। ভার্সিটিতে চান্স না পাইলে জীবন শেষ। বিসিএস ক্যাডার না হইতে পারলে সমাজে কোন দাম পাবা না।বিয়ে করছোনা কেনো? এত দ্রুত বিয়ে করে ফেললা? বেতন কত? এই বেতনে সংসার চলে?
    পুরো লাইফে এমন কখনো দেখিনি কেউ কোন পর্যায়ে এসে কাউকে জিজ্ঞেস করতেছে,
    “সুখে আছোতো ?”
    বেশকিছু পডকাস্ট, গুণী ব্যাক্তিদের জীবনী, ইন্টারভিউ থেকে একটা বিষয় সম্পর্কে ক্লিয়ার একটি ধারণা এসেছে তা হলো, উপার্জন করতে থাকো, যতদিন না পর্যন্ত তোমার প্রতিটা আকাঙ্খার মূল্য তোমার সাধ্যের মধ্যে না আসে। ঠিক ততদিন পর্যন্ত তুমি বুঝতে পারবে না “Happiness is the only thing that you cannot buy. Untill then, Money can buy all the happiness you desire.”
    আমি ধরে নিলাম ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ মানুষ বুঝতে পারে যে Money Cannot Buy Happiness. তবে তো বাকি ৯৭-৯৮ ভাগ মানুষেরই টাকার প্রয়োজন আছে। তবে এই পুজিবাদী সমাজব্যবস্থার ভিত্তি তো তলে তলে আমরা এই সংখ্যাগরিষ্টরাই মজবুত করতেছি।
    তাহলে আত্মমর্যাদার দোহায় দিয়ে ছোটকাজ – বড়কাজের এই ভেদাভেদ কেনো তৈরী করতেছি। যখন এই আমরাই সমস্বরে বলে উঠতেছি “কোন কাজই ছোট না, প্রত্যেকেরই প্রত্যেকের কাজকে সম্মান করা উচিত?”
    সমস্যা কি তাহলে আমাদেরই নাকি আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থার?

Skip to toolbar