Profile Photo

Khandakar Fazlul Karim RabbyOffline

  • rabbyml
  • Profile picture of Khandakar Fazlul Karim Rabby

    Khandakar Fazlul Karim Rabby

    5 years, 1 month ago

    মাছ ধরার জিন
    খন্দকার ফজলূল করিম রাব্বী
    ******************************
    গ্রামের অনেক আছে যারা শখ করে রাতের বেলায় মাছ ধরতে যায়। তেমনি দুজন গৃহস্থ ছিলেন যারা প্রায় রাতেই বিলে মাছ ধরতে যেত। বিশেষ করে শীত কালে নদীতে পানি থাকে কম। তখন এই দুজন গৃহস্থ রাতে মাছ ধরার জন্য বিলে যায়। এই দুজনের একজননের নাম হাফিজ আর একজনের নাম কফিল। হাফিজ একটু অবস্থা সম্পন্ন গৃহস্থ। কিন্ত কফিল কম অবস্থা সম্পন্ন। তবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল অনেক গভীর। দুজন বাস করতো গ্রামের দুই পাড়ায়। একজনের বাড়ি থেকে আর একজনের বাড়ি ছিল বেশ খানিক টা দূরে। তার পরে ও একজন আর এক জনকে ছাড়া মাছ ধরতে যেত না।

    হাফিজের বাড়িটা ছিল গ্রামের উত্তর প্রান্তে। আর কফিলের বাড়িটা ছিল গ্রামের পশ্চিম দক্ষিণ কোনায়। তাছাড়া হাফিজের বাড়ির পাশ দিয়েই বিলে যেতে হতো। তাই কফিলের একটা বারতি কাজ ছিল। তাহল ফজরের আজানের আগে উঠে এসে হাফিজকে ডেকে তোলা। এভাবে অনেক দিন ধরেই তারা মাছ ধরে আসছে। এই রকম একদিন তারা দুজন যুক্তি করল মাছ ধরতে যাবে।

    হাফিজ বলল, পাশের বিলেতো অনেক দিন মাছ ধরি এবার চল টাকরার বিলে মাছ ধরতে যাই। ঐ বিলের শিং গুলি খব সাদের হয়।

    এই কথা শুনে কফিল বলল, হ দোস্ত আমারও একবার মনে হইছিল টাকরার বিলের কথা। কিন্তু ঐ বিলে রাতে মাছ ধরতে যাওয়ার সাহস হয় না। নানা আজগুবি কথা শুনি।

    হাফিজ বলে, দুর তুমিও এসব বিশ্বাস কর নাকি। দুজনে তো কত কঠিন কঠিন কাম করে ফেলালাম। টাকরার বিলতো কোন ব্যাপারই না। কিচ্ছু হবে না। চল একদিন যাই।

    আচ্ছা, কবে যাবা, হাফিজের কথা শুনে কফিল সাহস করে রাজি হয়।

    কথা হয় আগামী কাল রাতে হাফিজকে এসে কফিল ঘুম ভাঙ্গাবে। একথা বলে যে যার বাড়ি চলে যায়। এর মধ্যে আর একদিন। পরদিন তারা আর কারো সাথে কেউ দেখা করে না। গ্রামের অন্য কেউ যাতে বেশ এটা না জানে সেদিকে ও তারা খেয়াল রাখে। কারন কফিল আর হাফিজের মাছ ভাগ্য খুব ভাল তাই তাদের দুজনের সাথে মাছ ধরতে যাবার জন্য অনেকেই যেতে চায়। কিন্তু তারা গ্রামের আর কাইকেই তাদের দলে ভিরায় না। যাক পর দিন কথা মত কফিল হাফিজকে ডাকবে। এই চিন্তা করে হাফিজ তার বৌকে বলে রাখে মাছ ধরার সরঞ্জাম যেন ঘুছিয়ে রাখে। কথা অনুযায়ি হাফিজের বৌ সব গুছিয়ে রাখে ঠিক ভাবে।

    হাফিজ ঐ রাতে একটু আগেই শুয়ে পরে। বৌ কে বলে রাখে, কফিল এসে ডাক দিলে যেন হাফিজকে ডেকে দেয়। হাফিজের বৌ হাতের কাজ শেষ করে ঘুমিয়ে পরে। রাত গভির হয়। হাফিজ আগে আগে ঘুমানোর কারনে মনে করে রাত হয়তো ভোর হয়ে এসেছে। তাই এ কাত ও কাত করতে থাকে। আর মনে মনে চিন্তা করে কফিলটা এখনো কেন আসছে না। আজানের আগে না গেলে মাছ ধরে আরাম নাই। যেই ভাবা এমনি বাইরে থেকে কফিল তাকে ডাক দেয়।
    কফিল, এই হাফিজ দোস্ত ওঠ। তারা তাড়ি যেতে হবে। টাকরার বিলতো অনেক দূরে। একটু আগে আগে গেলে ভাল হবে।

    কফিলের ডাক শুনে হাফিজ উঠে পরে। বৌকে বলে, দরজা লাগিয়ে দাও আমি গেলাম। বলে ই হাফিজ মাছের জাল, ডোলা নিয়ে বেরিয়ে পরে। তারাহুরায় হারিকেন নিতে ভুলে যায়। উঠানে এসে দেখে কফিলও দাড়িয়ে আছে। দেখে কোন কথা জিঙ্গাস করে না। হাফিজ খালি বলে ঠিক সময় মতই তুমি এসে পরছ দেখছি। আমি খুব দুরচিন্তার মধ্য ছিলাম তুমি যদি দেরী কর।

    কফিল বলে, হ একটু দুরের বিলতো আগে না গেলে মাছ পওন যায়না। পা চাইয়া হাট।

    হাফিজের কাদে জাল থাকায় একটু পিছে পরে যায়। তার পরও কফিলের সাথে সে তাল মিলায়ে ই চলে। আইজ মনে হয় শীত একটু বেশী পরছে। বলে হাফিজ।

    কফিল কোন কথা বলে না।

    তুমি একটু আস্তে হাট। এত তাড়া তাড়ি হাটছ কেন? বলে হাফিজ।

    কফিল তাও জোরে হাটে। হাফিজ বলে ডোলাটা একটু ধর। কফিল কোন কথা বলে না। হাফিজ আবার জিজ্ঞাস করে তোমার কি বেশী শীত লাগছে। এবার ও কফিল কোন কথা বলে না। হাফিজ বুঝতে পারেনা। কি হয়েছে। কফিল কথো বলেনা কেন। অন্য দিনতো হাফিজ চুপথাকে কফিল খালি বক বক করে, আজ আবার কি হল। হাফিজ একটু জোরে হেটে কফিলের কাছে আসতে চায়। কিন্তু হাফিজ থেকে কফিলেল দুরত্ত্ব কিছুইতে কমাতে পারে না। হাফিজ বলে কফিলতো কোন দিন এত জোরে হাটে না। তাছাড়া আমার হাত থেকে জালাটা তার হাতে নিয়ে নিত আজ ওর কি হল। টাকরার বিলে যাবার জন্য ও রাজি হয়নি। আমি জোর করার সে রাজি হয়েছে। এই জন্যই কি মন খারাপ। তাহলে থাক ওর সাথে কথা বলে লাভ নাই। বরং বিলে যাই মাছ ধরা শুরু করলে, আপনা আপনি ঠিক হয়ে যাবে।

    দুজনেই হাটতে থাকে। হাটতে হাটতে বিলের কাছে চলে আসে। এসেই কফিল পানিতে নেমে যায়। হাফিজ বলে আরে আগে আগে নামলা কেন। জালডা গুছায়া লই।

    হাফিজের কথা না শুনে কফিল নদীর মাঝে চলে যায়। বলে, এই দিকটায় আস, পানি কম আছে মাছও বেশী পাবা। হাফিজ কফিলের কথা মতো নদীতে নামতে যায় কিন্তু পরক্ষণেই থেমে যায়। একি কফিলের পাতো পানির নিচে নাই এত পানি তারপরও ওর মাত্র হাটু পানি। এটা কেমন করে হয়। হাফিজ বিষয় টা কিছুটা আন্দাজ করতে পারে। তাই আর পানিতে নামে না।

    কফিল তাড়া দেয়, কই তুমি নামলা না।

    হাফিজ বলে, তুমি নাম আমি একটা বিড়ি খইয়া লই।

    এদিকে হাফিজকে বিড়ি মুখে দিতে দেখে কফিল বুঝে যে, ও তো এখন আগুন ধরাবে। তাহলেতো ওর গায়ের রূপ দেখে ফেলবে তাই সে তাড়াতারি বলে এখন বিড়ি খাবা। আরে কয়েটা খেও দিয়া লও।

    হাফিজ ভাবে সে কি কথা বিড়ি না খেলে শরীর মেজ মেজ করে। তাছাড়া তুমিওতো প্রদিন বিড়ি খেয়েই পানিতে নামত্ েআজ বিড়িটিড়ি খাবা না।

    কফিল বলে, না তুমি খাও।

    হাফিজ মনে মনে ভাবে, আইজ বিড়ি খাবানা। বুজলাম, কি করা যায়, পইরাতো গেছি টাকরার বিলের টকরার হাতে। কেমনে রক্ষা পাই। তোমারে খবর লওয়াই তাছি। বলে বিড়ির পেকেট ছিড়ে বিড়ি মুখে দেয়। উদ্দেশ্য আগুন দরালে হয়তো বয়টা কেটে যাবে এবং কফিল বেশী টাকরাটা চলে যাবে। সেই কথা মনে করে। কিন্তু বিধি বাম ভুলে সে ম্যাচ আনে নাই। হায় এখন উপায়, ভাবত ভাবতে হাফিজ একটা বুদ্ধি বের করে। বলে আমি একটু পায় খানা করে আসি তুমি এখানেই থাক। খুব পায়খানা চাপছে। বলেই সে নিজে কে একটু আরালে নিতে চায়। কিন্তু কফিল বলে বেশী ধুরে যাওয়ার দরকার নাই এখানেই করে ফেল।

    হফিজ বলে, এখানে আবার করে কিভাবে। তুমি নাম না এইতো আমি কাজ শেষ করেই আসতাছি। বলেই ও কাছ থেকে একটু সরে গিয়ে জাল টাল ফেলে বাড়ির দিকে দেয় এক লম্বা দৌড়। দৌড়ে কিচু দূরে গিয়ে পিছন ফিরে দেখে কফিল আবার তাকে দাওয়া করল কিনা। দেখে যে, না এখনও টের পায়নি তাই আর সে দেরী করে না। এক দৌড়ে বাড়ির পথে। হাফা হাফাতে এসে ঘরের দরজায় টোকা দেয়। ডাকে বৌ, বৌ দরজা খুল।

    বৌতো অবাক, আরে তুমি বিলে গেলে, মাছ ধরা শেষ।

    হাফিজ বলে, হ, দরজাটা খুল।

    বৌ দরজা খোলে, হাফিজ ঘরে ঢুকে। বৌও যাতে ভয় না পায়। বলে, শীত করতেছেতো তাই, চইলা আইলাম। কেউ আমারে ডাকলেও দরজা খুলবি না। সকালে কফিল আইসা মাছ দিয়া যাইবো। বলেই হাফিজ শুয়ে পরে।

    এদিকে আসল কফিল আসে, ফজরের আজান এর আগ মুহূর্ত। হফিজকে ডাকে হাফিজ কোন জবাব দেয় না। হাফিজের বৌ ঘরের ভিতর থেকে বলে, কে

    কফিল, বাইরে থেকে বলে, বাউজ আমি কফিল, দোস্তরে একটু ডাইকা দেন।

    হাফিজের বৌ বলে, কেন ?

    কফিল বলে, আইজ কথা ছিল টাকরার বিলে মাছ ধরতে যামু।
    হাফিজের বৌ বিষয়টা বোঝতে পারে না, কফিলকে জিজ্ঞাস করে কেন, আপনে আপনার ভাইয়ের লগে মাছ মারতে যান নাই।

    কফিল বলে, নাতো
    হাফিজের বৌ বলে, কি কন এই সব। ওনিতো এই মাত্র আইয়া শুইল। কইল, সকালে নাকি আপনে আইয়া মাছ আর জাল দিয়া যাইবেন।

    কফিল আশ্চর্য হয়ে যায়, কি কন ভাবী, আমিতো মাত্রই আইলাম। মাইনে কি।

    মাইনে কিছুনা, ’উনি আইজ মাছ ধরতে যাইব না। আপনারে কইছে বাড়ি যাইতে।

    আইচ্ছা ভাবি, কি হইছে দোস্তর কি শরীর খারাপ। এই দোস্ত, বাইরে আইয়। আর না হইলে ভাবীরে বল দরজা খুলতে আমি ঘরে আই।

    হাফিজ বৌকে বলে, কোন মতেই দোয়ার খুইল না। কইয়া দেও সকালে আমি নিজে ওর বাড়ি গিয়া দেখা করুম নে তখন সব বলুল।

    এই কথা শুনে কফিল বলে, না আমারে তোমার বলতেই হইব। আমি আর বাড়ি গেলাম না। একটু পরে আজান দিব। এহন গিয়া শুইলেই ঘুমাইয়া পরাম। তার চেয়ে তোমার ঘরের উলনাত বইয়া থাকি। তুমি ঘুম থেইক্কা উঠলে তোমার কারন জাইনাই ঘরে যামু। কফিল হাফিজের ঘরের দাওয়ায় বসে থাকে।

    ফজরের আজান হয়। তারও অনেক পরে হফিজ উঠে। বের হয়। দেখে কলি ঘরের বেরায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ভয়ে কাছে যায় না। হাফিজ তার বৌকে ডাকে। বৌ আসে। হাফিজ তার বৌকে বলে আগুন আনতে। বৌ আগুর আনে। হাফিজ আগুন নিয়ে গিয়ে কফিলের কাছে যায়। কফিলের শরীরে লাগাবে এমনি কফিল ধরমর করে জেগে উঠে। হাফিজের বৌ চিৎকার দিয়ে উঠে। পারার লোক এসে জরো হয়। সবাই বলা বলি করতে থাকে দুই দোস্ত এত মিল অথচ একজন আর একজন কে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ফেলতে চাইছে। কি রহস্য। অনেকে আবার ঘটনাটিকে অন্য দিকে নিয়ে যেতে চাইল।

    গ্রামের এক বয়ষ্ক লোক এগিয়ে এসে ঘটনা জানতে চাইল। হাফিজ রাতে ঘটনা বলল। সবাই শুনেতো অবাক। বয়স্ক লোকটি বলল হাফিজ তুমি যে বেচেঁ আইছ এটা অকেন বড় কথা। জগরা কইর না। এতে কফিলের ও কোন দোষ নাই। তোমাই ভুল তুমি রাত কত হইছে আন্দাজ করতে পার নাই। তাছাড়া তুমি যে কথা ঠিক বলছ তার প্রমান কি।

    হফিজ বলে প্রমান আমার জাল, আমার জালতো, ঐ বিলের পারে রাইখা আইছি। চলেন আমার লগে। হাফিজের কথা শুনে, গ্রামের সবাই ছুটল বিলের ধারে। গিয়ে দেখে যেখানের জাল সেখানেই আছে।

    এটা টাকরার কাজ। এই বিলে দিনেই কেউ মাছ ধরতে আইয়ে না। তোদের সহস কমনা। রাতে মাছ ধরতে আই ছিলা। আর কোন দিন এই কাম কইর না।

    গ্রামের মুরুব্বি বলল, আমরা এই বিলে মাছ ধরতে আইতাম দল বাইন্দা। মশাল, বাতি জ্বালাইয়া। একলা আইলে এরকম হইবই।

    কফিল এসে হাফিজকে জরাইয়া ধরে, দোস্ত, তোমার কোন হইলে আমি ঠিক হাটফেইল করতাম।

    1 Share
    3
    2 Comments
Skip to toolbar