Profile Photo

সৃষ্টিOffline

  • premdevota
  • Profile picture of সৃষ্টি

    সৃষ্টি

    2 years, 3 months ago

    বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণ দাবীর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে।
    পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। এগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক থেকেও বাংলা ভাষা অনেক বেশি এগিয়ে। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি পুরো বিশ্বে পালিত হয়। সুতরাং এ ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি কিন্তু আজো দেখা যায়, গাড়ির পেছনে কিছু কথা কিংবা উপদেশমূলক বাণী লেখা থাকে। যেখানে প্রায় সময় শব্দের বানান ভুল থাকে। অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা ঠিকানায় থাকে বানান ভুল। ব্যানার কিংবা পোস্টারেও থাকে একই অবস্থা। প্রকাশ্যে যদি এভাবে বানান ভুল করা হয়, তবে তা লজ্জাজনক। অনেকেই অজ্ঞতা কিংবা ভুলবশত এবং কখনো উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে ভুল করে, যা দুঃখজনক।
    আমাদের বাংলাদেশ মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। শুধু আমরাই নই আমাদের দেশের বাইরেও কয়েক কোটি মানুষ কথা বলে এই ভাষায়। আজ আমাদের গৌরব , আমাদের ভাষার সাহিত্য পৃথিবীর প্রথম সারিতে ঠায় করে নিয়েছে।
    সাধারণ মানুষের এই ভাষা। তাদের হাসি কান্না নিয়ে, তাদের ধর্ম সমাজ নিযে ছয়শো বছরের এক বিপুল বাংলা সাহিত্য গড়ে উঠেছে। আর আপনা ভাষার জোরই এ সাহিত্য জীবন্ত।
    এই নতুন যুগেই বাংলা ভাষার সাহিত্যকে দুনিয়ার দরবারে পৌছে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। বাংলা ভাষার আশ্চর্য ক্ষমতা আবিস্কার করলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
    আর আজ যে আমরা স্বাধীন হয়েছি তা তো বাংলা ভাষার জন্যই, আমাদের গর্ব মায়ের ভাষা বাংলাকে নিয়েই। ভাষার সাম্রাজ্যবাদ বা আগ্রাসনে নিজেদের টিকে রাখতে হলে নিজেদের সেভাবে তৈরি করতে হবে। বেতার ও দূরদর্শনে বিকৃত উচ্চারণ, ভাষা ব্যঙ্গ সম্প্রচার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাভাষীদের এ দেশে আজও যথেচ্ছভাবে বিদেশী ভাষার ব্যবহার চলছে। চলছে মিশ্র ও ভুলে ভরা ভাষার ব্যবহার। র্সর্বস্তরে আজও বাংলা ভাষার প্রচলন সম্ভব হয়নি। প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাভাষীদের এ দেশে আজও যথেচ্ছভাবে বিদেশী ভাষার ব্যবহার চলছে। তাহলে কি প্রয়োজন ছিলো ভাষা আন্দোলনের, বাংলা ভাষা শিখতে আরো কতটা সময় লাগবে ?
    যাতায়াতের সময় এ ভুল বানানগুলো শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। অনেক সময় তারা গাড়িতে বসে এ ভুল বানানগুলো মনোযোগ সহকারে দেখে। ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী (বিশেষ করে ছোট শিশুরা) এটাকে শুদ্ধ ভেবে মুখস্থ করে নেয়। আবার অনেক শিক্ষার্থী (উচ্চবিদ্যালয় কিংবা কলেজ) এ ভুল বানানগুলোকে শুদ্ধ বানানের সঙ্গে তুলনা করে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। আমরা বড়রাও এ ভুল বানানগুলো অবলীলায় না দেখার মতো দেখে যাই। আর এভাবে ভুল বাড়তেই থাকে।
    পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। এগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক থেকেও বাংলা ভাষা অনেক বেশি এগিয়ে। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি পুরো বিশ্বে পালিত হয়। সুতরাং এ ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি কিন্তু যদি প্রকাশ্যে এভাবে বানান ভুল করা হয়, তবে তা লজ্জাজনক।
    বানান যাতে ভুল না হয়, সে জন্য সচেতন হতে হবে সবাইকে। শিক্ষার হারের সঙ্গে শিক্ষার মানের দিকটারও উন্নতি ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে বানান ভুলের জন্য (এভাবে প্রকাশ্যে গাড়ির পেছনে কিংবা সাইনবোর্ড, ব্যানার) জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে সংক্রমণের মতো এ ভুলগুলো বাড়তেই থাকবে।
    আমাদের এই দেশের নাম বাংলাদেশ। আর ভাষা,আমাদের আঠারো কোটি মানুষের মাতৃভাষা – বাংলা ভাষা। শুধু আমরাই নই আমাদের দেশের বাইরেও কয়েক কোটি মানুষ কথা বলে এই ভাষায়। এই বাংলা ভাষায় গান ,কবিতা লিখেছেন চন্ডীদাস, আলাওল, রবীন্দ্রনাথ,নজরুল প্রমুখ। আজ আমাদের গৌরব , আমাদের ভাষার সাহিত্য পৃথিবীর প্রথম সারিতে ঠায় করে নিয়েছে।
    মা-কে নিয়ে কথা বলতে কতো সুখ! যেমনি সুখ, তেমনি গর্ব আপন ভাষা নিয়ে। কারণ এ যে আমাদের মাতৃভাষা।
    বাংলা ভাষা আমাদের জননীর ভাষা। সে কারণেই তো জননীর ইজ্জত রক্ষার লড়াইয়ে বাহান্ন সালে তৎকালীন ছেলেরা হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছে। এই বাংলা ভাষা নিয়েই আজকের কথা।
    সাধারণ মানুষের এই ভাষা। তাদের হাসি কান্না নিয়ে, তাদের ধর্ম সমাজ নিযে ছয়শো বছরের এক বিপুল বাংলা সাহিত্য গড়ে উঠেছে। আর আপন ভাষার জোরই, এ সাহিত্য জীবন্ত।
    এই নতুন যুগেই বাংলা ভাষার সাহিত্যকে দুনিয়ার দরবারে পৌছে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। বাংলা ভাষার আশ্চর্য ক্ষমতা আবিস্কার করলেন নজরুল ইসলাম। লিখেছেন, বিদ্রোহের আগুন ছড়ানো গান।
    আর আজ যে আমরা স্বাধীন হয়েছি তা তো বাংলা ভাষার জন্যই, আমাদের গর্ব মায়ের ভাষা বাংলাকে নিয়েই।
    আমরা বাঙালি, আমরা নতুন কী তৈরি করলাম? এখন ইন্টারনেটের যুগ। ইংরেজ, চীনা, জাপানিসহ অনেক জাতি নিজেদের ভাষায় ডোমেইন, হোস্টিং তৈরি করেছেন। চীনারা চীনা ভাষায় নিজেদের অনলাইন জগত তৈরি করেছে। আর আমরা কী তৈরি করেছি? বাংলা ভাষাকে টিকতে হলে অনলাইন জগতে প্রভাব বিস্তার করতে হবে। ভাষার সাম্রাজ্যবাদ বা আগ্রাসনে নিজেদের টিকে রাখতে হলে নিজেদের সেভাবে তৈরি করতে হবে।
    বেতার ও দূরদর্শনে বিকৃত উচ্চারণ, ভাষা ব্যঙ্গ ও দূষণ করে অনুষ্ঠান প্রচার না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রুলে বাংলা ভাষার দূষণ ও বিকৃতি রোধে কেন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়াসহ কয়েকটি বিষয়ে রুল দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, সঠিক শব্দচয়ন, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়।
    দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এখন সেই উদ্যোগ প্রায় থেমে গেছে। গাড়ির নম্বর প্লেট বাংলায় ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় লেখার যুক্তি নেই।
    পাকিস্তান আমলে গাড়ির নম্বর প্লেট বাংলায় লেখার কারণে সাংবাদিক এবিএম মূসার বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের মামলা হয়েছিল। অথচ এখন পথে-ঘাটে ইংরেজি নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি দেখা যায়।
    সাইনবোর্ড কিংবা বিলবোর্ড, নেম প্লেট, নম্বর প্লেট, মিডিয়ায় ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষা ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে হাইকোর্টের আদেশের পর অর্ধযুগের বেশী দিন পার হতে যাচ্ছে। কিন্তু ওই আদেশের দৃশ্যমান কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া বাংলা ভাষা প্রচল আইনও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। সর্বস্তরে আজও বাংলা ভাষার প্রচলন সম্ভব হয়নি। প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাভাষীদের এ দেশে আজও যথেচ্ছভাবে বিদেশী ভাষার ব্যবহার চলছে। চলছে মিশ্র ও ভুলে ভরা ভাষার ব্যবহার।
    ভুল আমারো হয়। মানুষ মাত্রই ভুল। তবুও সচেতন হই শ্রদ্ধ্যাশীল হই নিজের শিক্ষার প্রতি সমাজের প্রতি।

    5
    4 Comments
    • নিজেদের ত্যাগ আর অর্জনটা আমরা যতদিন ভালো না বাসবো, ধারণ না করবো ততদিন এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। ভালো লেখা ।

    • চমৎকার লেখনী

    • আপনার সাথে সহমত। কিন্তু আরো কিছু কথা আছে। আমাদের এই বঙ্গভুমে কিছু নৃতাত্ত্বিক ভাষা আছে। বাংলা ভাষা রাষ্ট্র ভাষা হবার কারনে সে ভাষা গুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। আবার আঞ্চলিক ভাষা গুলো ও মনে রাখতে হবে। যেমন চিটাগাং বা সিলেটের ভাষা অথবা খাস ঢাকাইয়া কুট্টি ভাষা। আবার আমরা যদি চিন্তা করি, চণ্ডীদাসের বাংলা ভাষা আর বর্তমান বাংলা ভাষায় বিস্তর ফারাক। কারণ ভাষা নদীর মতো গতিশীল। সে অনেক দিনের রুপান্তরে বর্তমান রুপ নিয়েছে। তাই এই বিষয়তিও উপেক্ষা করা যাবে না? তাহলে প্রশ্ন হল অভিধানের দরকার কি? অভিধান আমাদের একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাষার কাঠামো দেয়। যেন সকলের বোধগম্ম হয়। তাই অভিধানকে সম্মান করতে হবে। চিন্তা করে দেখুন তো পুঁথির ভাষা কি অভিধান মানে? আসুন এই ভাষা গুলো সংরক্ষন করি। এই ভাষা গুলো আমাদের ঐতিহ্য। আর ভুল থেকেই নতুন শব্দ। বাংলা ভাষায় অনেক শব্দ আছে যেগুলো বিকৃত উচ্চারণের মাধ্যমে চলিত ভাষা হয়েছে। আরমানিটোলা। আরমেনিয়ান খৃষ্টানদের বাসস্থান। একটি শব্দে কত অনুভুতি। কত লুকোনো গল্প। ধৃষ্টতা ক্ষমা করবেন। ভাল থাকবেন, শুভ কামনা।

      • সুন্দর বলেছেন মঞ্চবন্ধু বিক্রমাদিত্য!
        ভাষা নিয়ে আমাদের একটা আলাদা গর্ববোধের জায়গা আছে। তবে, ভাষা একটা সহজাত ব্যাপার। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তাই অনেক দেশী-বিদেশী শব্দ আমাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। নিশ্চয়ই আমাদের নিজস্ব, সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার আছে সেসব সবার জন্য জানা জরুরী নয় কিন্তু যত বেশী জানা যায় ততই ব্যাক্তিগত ভাবে নিজেকে সমৃদ্ধ করা যায়। তবে, বিপন্নপ্রায় ভাষা সংরক্ষণ করাটা অতন্ত্য জরুরী বলে আমিও মনে করি। ভাষা হোক আমাদের শক্তি!

It’s not how much you have but how much you enjoy that's makes happiness.

সৃষ্টি

সৃষ্টি

গল্পকার, চিত্রনাট্যকার ও ভিডিও সম্পাদক

ফিল্মমেকার

Skip to toolbar