Profile Photo

proton 69 (asger ahmmed)Offline

  • proton69
  • Profile picture of proton 69 (asger ahmmed)

    proton 69 (asger ahmmed)

    2 years, 2 months ago

    প্রিয় ফুল
    (ছোট গল্প)
    প্রথম প্রকাশ ভারতীয় এ‍্যাপ

    ফুল কত বর্ণের,কত গন্ধের! কি যে সুন্দর! যখন একসাথে অনেক রঙের অনেক ফুল ফুটে থাকে, দেখে স্বর্গ মনে হয়। এই দেখেই বোধ হয় স্বর্গের চিত্র বা ধারণার সৃষ্টি। তা না হলে জীবিত মানুষ কি করে স্বর্গের কথা বলে?
    আমি আমার বাবার বাড়ীর দোতলাতে বউ নিয়ে থাকি। ছোট ছোট স্বাদ আহ্লাদের মধ‍্যে আমার বাগান ও আছে।
    তবে খূব অযতনে থাকে। আমার বউও ফুল আর ফুলের বাগান ভালোবাসে। তবে পরিচর্যা করে না। আগাছা সাফ-সাফাই, ডাল ছেঁটে দেওয়া, সার বা কীটনাশক দেওয়া ইত‍্যাদি তো করতে হয়। না করলে চলে?
    কিন্ত গাছের পরিচর্যার চেয়ে সে নিজের পরিচর্যা নিয়ে বেশী থাকে। কেননা, সেও তো আবার একটা ফুল। আর এজন‍্য যেমন আমার একটা অংকের টাকা ব‍্যায় হয় তেমনি গাছের চারা কিনতেও ব‍্যায় হয়। নার্সারী থেকে পছন্দের ফুল গাছ কিনে
    কোটা পূরন করে আনি আর ক’দিন পরে অর্ধেক মরে সাফ।”উদোর পিন্ডি বুদোর ঘারে”। তার কথা নার্সারীর চারাই ভাল না। ওদিকে নার্সারীতে বললে বলে”যত্ন তো নিতে হবে”। কি আর করা! আমার টাকা খস্ তে থাকে। কারণ স্ত্রীর সাথে আমার মনও গাছের জন‍্য বায়না ধরে।
    তা আমার প্রিয় ফুল, আমার স্ত্রীর কাছে গাছের ফুল এভাবে তুচ্ছ হয়ে মরে যায়। তো এভাবে আবার চারা কিনতে গেলাম নার্সারীতে। কত্ত ফুল! কত্ত প্রজাতির! মনে তো হয় পুরো নার্সারীটাই উঠিয়ে নিয়ে আসি। কিন্তু এত পয়সা তো ব‍্যায় করে ফেলতে পারি না। তা ছাড়া মরেই যাবে যেহেতু! আগেই অলক্ষণে কথা বললাম।🙂

    তবু ভাল মরে যায়। তাই আমার স্ত্রী আর বেশী বায়না ধরে না। নইলে….

    সেদিন ঘুরে ঘুরে ক’টা চারা কিনে ফেলেছি। বাজেট শেষ। এখন ঘরে ফেরা। বার হয়ে আসতে গিয়ে একটা গাছ চোখে পড়ল। আগেই বলে রাখি যে ফুল ভালোবাসলেও অত নাম-ধাম জানিনা। আর তা ছাড়া মালিরাও হয়ত নামগুলো বানিয়ে বলে। তো সে গাছের ফুল যে কি চমৎকার, কি সুন্দর!কি নাম কে জানে!

    দাম জিজ্ঞেস করলাম, যদিও জানি আমার পকেটে শুধু বাড়ী ফেরার গাড়ী ভাড়াটুকু আছে। মাঝখান থেকে একটা মেয়ে এসে ফট্ করে চারাটা উঠিয়ে ফেল্ ল। কেমন লাগে?

    রাগে মেয়েটার দিকে চাইতে গিয়ে দেখি সে-ও আরেকটা ফুল!আমি তখন তিন ফুলের মাঝখানে। আমার স্ত্রী পিছন থেকে তাগাদা দিল। তার গুরুত্ব না কমে। কেননা হাতের ওই ফুল গাছ ছেড়ে আমি ওই মেয়ে ফুলটির দিকে তাকিয়ে। তার সাথে আরও একটি ফুল,ব্ল‍্যাক রোজ্। মানে কালির হাঁড়ি। তো সেটা বাদ।

    এখন পিছনের ফুলটার তাগাদায় আমাকে আগাতে হল। কারণ এর কাঁটা আছে। আমার একেবারে খবর করে দেবে।

    আগেই পয়সা পরিশোধ করা হয়ে গেছিল কিনা জানিনা। সে মেয়েটি দেখি আমরও আগে আগে ওই গাছটা হাতে আগাতে লাগল। বাঁ হাতে আরও কটা চারা পলিব‍্যাগে। আর ব্ল‍্যাক রোজের দু’হাতেও চারার ব‍্যাগ।এদের সম্পর্ক কি সেটা তখন একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তবে এই সব ফুলই কি তা’হলে আমার সাথে চল্ ল? আমার বাসায়!

    একথা বলার কারণ আমরা সব তখন (সবই ফুল, আমি বাদে, আমি ডালা)একসাথে যেভাবে এগোচ্ছি, যে কেউই বলবে আমরা এক বাড়ীর,এক পরিবারের।

    হলে তো বেশ হত। এত্ত এত্ত ফুল! মরেই যেতাম! কিন্ত কন্টক? মানে আমার দেশী ফুলটা?

    মেয়েটা ডান হাতে ধরা ওই গাছটা ফুটপাতে নামিয়ে রেখে একটু সামান‍্য এগিয়ে সাইড ব‍্যাগ থেকে মোবাইল বের করে বোধ হয় ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে আসতে বল্ ল। মানে প্রাইভেট কার আছে। সেইরকম ফুলই। আমার ফুল তো রিক্সা, বড় জোর সিএনজির যাত্রী। একটু বিরক্তির চোখে তাকালাম আমার ফুলের দিকে।
    সেই মেয়ের পাশ ঘেষে দাঁড়িয়েছে কালো মেয়েটা। মনে হয় ওই বিশেষ গাছটার প্রতি কোন মনযোগই নেই। নাকি আমার জন‍্য ফেলে যাচ্ছে?

    এ সময় একটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। আমার বিড়ি খাওয়ার অভ‍্যাস তো। তাই পকেটে সব সময় ম‍্যাচ থাকে।একটু এগিয়ে সেই ম‍্যাচটা পকেট থেকে ওই গাছটার কাছে ফেলে দিলাম। হাত থেকে আমার ধরা চারাগুলো নামিয়ে রেখে ফ্রী হয়ে নিয়েছি। বাঁ হাতের মুঠিতে সিগারেট ধরা। ভাবটা এমন, সিগারেট ধরাব কিন্ত ম‍্যাচটা পড়ে গেছে। তোলার কায়দা করে নিলাম ওই বিশেষ গাছটার দুটো ফুল ছিঁড়ে। তারপর সোজা স্ত্রীর পাশে।

    সে সব দেখছিল। আর দেখবে না কেন? সে ফুল তো না,কন্টক। বল্ ল,”এটা কি হ’ল?”
    চুরি করা ফুলটা তখন পিছনে বা হাতে ধরা। আমি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে হাসছি। আমি আর ওই মেয়ের দিকে তাকাইনি। তাকালে আমার হাতের চুরির ফুলসহ আমিও…….

    4
    1 Comment
    • বাহ! দারুণ গল্প তো! ফুলেদের মাঝে ডালা হওয়ার বেশ জ্বালা আছে সেটাও বেশ বুঝতে পারলাম!

শিক্ষা, অর্থ, ধর্ম, সমাজ কোন কিছুই একজন মানুষ তৈরী করতে পারে না যতক্ষণ না তার ভেতর মানুষ জন্মায়। মানুষ হয় তার বিবেক, বিবেচনা, আর বিচারবোধে।

Proton69

Syed Asger Ahmmed

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে মার্কেটিং এ পড়াশোনা করেছি। তবে চাকরী বা ব‍্যাবসা কোনটাই করিনি। ব‍্যাক্তিগত কারণ। 

আমি মিউজিশিয়ান। গীটারিস্ট। এটাই আমার প্রথম পরিচয়। এছাড়াও অনেক জায়গায় লিখি। আমার নিজস্ব ওয়েব আর ব্লগ আছে। সব প্রধান সাইটেই আমার পেজ আছে। আমি ছবিও আঁকি। এ সবের আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। আমি জন্ম থেকেই শিল্পী।

Skip to toolbar