Profile Photo

Sheikh Shadi MarjanOffline

  • marjan3s
  • Profile picture of Sheikh Shadi Marjan

    Sheikh Shadi Marjan

    2 years, 2 months ago

    স্বাধীন জাতির স্বাধীন‌ পিতা একটি সফল প্রযোজনা

    বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলো জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদার কবিতা অবলম্বনে, মীর বরকতের নির্দেশনায়; উদ্ভাসন আবৃত্তি দলের প্রযোজনা ‘স্বাধীন জাতির স্বাধীন‌ পিতা’। প্রযোজনা শুরু হয় হৃদয় ছোঁয়া ধারা বর্ণনার মধ্য দিয়ে। তারপর শাস্ত্রীয় নৃত্য এবং হামিং। কিন্তু আমার জ্ঞানেন সীমাবদ্ধতায় এখানে শাস্ত্রীয় নৃত্যের অর্থ বুঝলাম না। এরপর আবৃত্তির মাধ্যমে শুরু হয় মূল প্রযোজনা। কোরাস, বৃন্দ বা সম্মিলিত আবৃত্তিতে মুখরিত আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন। দর্শকরা মঞ্চে নয়জন আবৃত্তিশিল্পীর সমন্বিত পরিবেশনা শুনছেন, সেই সাথে ওদের অভিনয়ও দেখছেন। কিন্তু হৃদয় কেড়ে নিল তামান্না তিথির পরিবেশনা। যদিও তাদের মধ্য থেকে একমাত্র তামান্না তিথিকেই আমি আগে থেকে আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে জানি কারণ তিনি আবৃত্তি অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ। প্রযোজনার শিরোনাম আগে থেকে জানা থাকলেও, শুরু হওয়ার কিছু সময় পর বুঝতে পারলাম মূল চরিত্র ‘খোকা’ আর কেউ নন; তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পুঁথির সুর, তবলার তাল আর কবিতার দোলায়িত ছন্দে উদ্ভাসনের শিল্পীদের অনবদ্য উচ্চারণ, চোখ জুড়ানো আলোর প্রক্ষেপণ এবং আবহ সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় আমিও যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম প্রায় শত বছর আগে। কবির সাবলীল রচনা আর উদ্ভাসনের শিল্পীদের হৃদয় ছোঁয়া পরিবেশনায় তখন আমি অনুভব করি ৭০/৮০ বছর আগের বাঙলার পরিস্থিতি। তরুণ আবৃত্তিকাররা স্মরণ করিয়ে দিলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময় ও সেই সংগ্রামের দিনগুলো। রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর, জব্বারের পথ ধরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে জেগে উঠেছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালি। জাতিসত্তার কবি নুরুল হুদা তার কাব্যে বাঙালি বন্দনা করেছেন। গেয়েছেন বাঙালির বীরত্বগাঁথা। তুলে ধরেছেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাস। কাব্যের মাঝে বুনে দিয়েছেন চিরায়ত বাংলার কাহিনী। মহাভারত, রামায়নও বাদ যায় নি। হৃদয় ছোঁয়া কবিতার লাইনগুলো ঠিক আমার স্মৃতিতে নেই। তবে দু’একটি লাইন স্মৃতিতে গেঁথে আছে।
    ‘বাঙালি পেরিয়ে এলো শত শতাব্দীর ইতিহাস’

    দুঃখ ভারাক্রান্ত মুজিবের ভাষণে ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষ জেগে উঠেছিল, মুক্তি চেয়েছিল। তারপর রচিত হলো বাঙালির মুক্তির সনদ। ১৭ মার্চ, ২০২৪ বাংলা একাডেমিতে উদ্ভাসনের শিল্পীদের কন্ঠে ফুঁটে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের জ্বলন্ত ইতিহাস। মনে হচ্ছিলো মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার কখনো মনে হচ্ছিলো চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাই বলছে তারা। নবীন আবৃত্তিকারদের কণ্ঠে ছিলো রাগ, বিরাগ, অনুরাগ। ‘জেগে থাক একাত্তর…..’ এ ধরণের লাইনগুলো যখন তারা উচ্চারণ করছিলো, তখন মনে হচ্ছিলো আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে কবিতার শব্দ থেকে। যদিও তরুণ আবৃত্তিকারদের দু’একটা উচ্চারণ কানে লেগেছে। তবে এমনটা সবার কানে লাগবে না বলে আমার মনে হয়। তবে সব মিলিয়ে মুহম্মদ নুরুল হুদার কবিতা অবলম্বনে নির্মিত ‘স্বাধীন জাতির স্বাধীন‌ পিতা’ একটি সফল প্রযোজনা বলে আমার মনে হয়েছে।

    3
    2 Comments
    • আবৃত্তি / অভিনয় বা নাচ দিয়ে এমন একটা চমৎকার পারফরমেন্স হতে পারে – এটা মাথায় আসেনি আগে। তাও আবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে। আগ্রহ জাগছে বেশ। পরে কখনও রিপিট হলে দেখতে হবে।

    • বাহ! বেশ জমজমাট অনুষ্ঠান হয়েছে মনে হচ্ছে! আমারো যেতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব!

Skip to toolbar