Profile Photo

Debashish RoyOffline

  • DROY
  • Profile picture of Debashish Roy

    Debashish Roy

    2 years, 2 months ago

    খুদ
    দেবাশীষ রায়

    দুর্গা: বাচ্চা গুলোর কান্না আমি যে আর সইতে পারছি না। আজ দুদিন ওদের পেটে একটি ভাতের দানাও পড়েনি।
    নরেশ নিশ্চুপ কথা গুলো শুনছে। টু শব্দটিও করলো না। যুদ্ধ বিধস্ত বাংলাদেশ। ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফিরে ভিটে মাটি ছাড়া নিজের সম্পদ বলতে আর কিছুই নেই। স্বাধীনতার কয়েক বছর হল। গাও গ্রামের মানুষ গুলো এখনো দুবেলা ভাতের জন্য যুদ্ধ করছে। নরেশ হঠাৎ বেরিয়ে পড়ল। মাথার উপর সূর্যের সে কি অট্টহাসি। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা । নরেশের খোঁজ নেই। ঘরের দুয়ারে দুর্গা এখনো বসে। বাচ্চা দুটো আর কাঁদেনা। হয়তো ক্ষুদার জ্বালায় কান্নার শক্তিটুকু নাই। চারিদিক নিঃশব্দ। কাশির শব্দে দুর্গার চেতনা ফিরলো। কিছু আনলে ছবির বাপ। নরেশ গামছার পুটুলি খুলতে খুলতে বলল, সুখেন মাস্টারের থেকে দু’মুটো খুদ নিয়ে এসেছি! ফুটিয়ে ওদের খেতে দে! কাজ পাইনি রে বৌ। দোকানিও বাকি দিতে চাইনা। দুর্গা কিছু না বলেই চলে গেল।

    বাতাসে ভাতের গন্ধ । বাচ্চারা জেগে গেছে। মা, খেতে দে। খুব ক্ষিদে পেয়েছে! আরেকটু দেরি কর। এখনো হয়নি। দুর্গার চোখ ভরা জল। দুদিন ওরা শাক সিদ্ধ খেয়ে আছে। কেউ একবার খোঁজ নেয়নি। বাচ্চারা আজ ভাত খাবে। খুদের ভাত!! বাচ্চারা মনের আনন্দে পেট পুরে খেয়ে নিল। কোন অভিযোগ নেই।

    নরেশ এর বাড়ি , ওর বাড়ি কাজের সন্ধ্যানে যায়। কোনদিন দু গ্লাস চালের বিনিময়ে কাজ করে। কোনদিন সেটাও হয়না। সংসারের অভাব যেন বেড়েই চলেছে! বাচ্চারাও বড় হচ্ছে । লিখলিকে গঠন। এভাবে আর কতদিন? সুখেন মাস্টারের কাছ থেকে এতদিনে যে খুদ কর্জ করছে তার পরিমান তিন ধামা হবে। বিনিময়ে ভিটে বাড়ির দলিল তার জিম্মায়। কোথায় যাবে নরেশ।
    কি ভাবছো? ঘুমাবে না ছবির বাপ।
    ঘুম আসছে নারে বৌ। বাচ্চারা কি ঘুমিয়ে গেছে । খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠিস। আমাদের যেতে হবে।
    কোথায় যাবে ছবির বাপ ??
    শুধু বোবা কান্নার শব্দ! আর কেউ কথা বলেনি। আঁধার কাটিয়ে সূর্যের হাসি। আলোর রেখায় সবুজের রং যেন ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। নরেশের ভিটে বাড়ির কৃষ্ণচূড়ায় লাল ফুল। বৃদ্ধ সুখেন মাস্টার এক পলক দেখে শান্তির শ্বাস নিল !
    (সংক্ষিপ্ত)

    3
    3 Comments
Skip to toolbar