-
প্রথম খুন করেছিলাম একটা বিড়ালকে৷একমাত্র টিউশনটা ছুটে যাওয়ায় নানা দুশ্চিন্তা ঝাক বেধে বসেছে মাথায়।সিগারেটে সুখটান দিতেই যেন মাথাটা হালকা হয়ে গেল।একটু ঝিমঝিম করেও উঠল বটে।বেশ শান্তিতেই সিগারেটটা শেষ করে বাকিটুকু ছুড়ে ফেলে দিলাম দূরে।উঠতে যাব তখনি দেখি একটা ছোট বিড়ালের বাচ্চা পায়ের কাছে বসে মেও মেও করছে।বিড়ালটাকে দেখে বড্ড মায়া হল আমার।কিন্তু এখন ওসব মায়া টায়া করার সময় নেই।পার্ক থেকে বের হয়ে মেইন রোডের দিকে হাটতে শুরু করলাম।কি আশ্চর্য! বিড়ালটাও আমার পিছনে পিছনে হাটছে।বার দুয়েক তাড়িয়ে দেওয়ার পরেও সে গেল না।মৃদু স্বরে মেও মেও করে পিছু আসতে লাগল।আমার বিরক্তি চরম সীমায় পৌছে গেল।চুপচাপ গিয়ে পাশের একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকে গেলাম।মাটিতে হাটুগেড়ে বসতেই বিড়ালটা লেজ নাড়িয়ে এগিয়ে এল।আমি বিলি কেটে দিলাম ওর মাথায়। আবেশে চোখে বন্ধ করে নিল সে।আহা!ক্ষুদ্র জীবটা জানতোই না যে আর সে কখনো চোখ খুলতে পারবে না।পাশে পরে থাকা একটা পাথরের টুকরা দিয়ে সোজোরে বারি মারলাম বিড়ালটার মাথায়।চোখ থেতলে গলগলিয়ে রক্ত বের হতে লাগল মাথার পাশ দিয়ে।কিন্তু কেবল তো শুরু।পাথরটা দিয়ে আস্তে আস্তে করে ধর থেকে মাথাটা আলাদা করে দিলাম। তার পর দু হাত পা ধরে চিরে দুই টুকরো করে ফেলে দিলাম দুই দিকে।এক রাশ শান্তি বয়ে গেল পুরো শরীর জুড়ে।
তখন থেকেই খুন করার প্রতি কেমন একটা টান অনুভব করতে লাগলাম।কুকুর বিড়াল মেরে একটা অন্য রকম শান্তি পাচ্ছিলাম।কুকুর বিড়াল মারতে মারতে এলাকা প্রায় প্রানী শূন্য হয়ে গেল।রাস্তার কোন কুকুর বিড়াল আমাকে দেখলেই ভয়ে উলটো দিকে দৌড়ে পালাত।কেন কি জানি !হয়তো তারা বুঝতে পেরেছিল আমিই তাদের জাতিকে বিনাশের কাজে লেগেছি।এক সময় কুকুর বিড়াল মেরেও আর শান্তি হচ্ছিল না। কথায় বলে মানুষ্য হৃদয় কখনো সন্তুষ্ট নয়।আমার বেলায়ও ব্যতিক্রম হলো না। কোন মানুষকে মারার জন্য হাত নিষপিস করতে লাগল।কিন্তু কাকে মারব!হুট হাট তো যাকে তাকে খুন করা যায় না।অবশেষে একদিন সেই সুযোগ পেলাম।সেদিন অফিসে আজহার সাহেবের সাথে ছোট একটা বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেধে গেল।ষাট উর্ধ্ব এক বৃদ্ধার পেনসনের ফাইল আটকে রেখেছেন তিনি। চা পানির টাকা ছাড়া কোনভাবেই ফাইল ছাড়তে নারাজ।এইদিকে বৃদ্ধার সামর্থ্য বিশ কিনে খাওয়ারও অনুকূলে না।বৃদ্ধার উপর বেশ মায়া জাগল আমার।আজহার সাহেবকে খুব করে অনুরোধ করলাম বৃদ্ধার ফাইলটা ছেড়ে দিতে। কিন্তু উনি কিছুতেই রাজী হলেন না।উলটো আমাকে যাচ্ছেতাই বলে গালাগালি করতে লাগলেন।আমি কিছু না বলেই চুপচাপ বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে।
ঘটনার দুদিন পর অফিস শেষে পিছু নিলাম আজহার সাহেবের।ভদ্র লোক হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে উনার সময় ঘনিয়ে এসেছে।তাই নিজ থেকেই দেরী করলেন।রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া কম থাকার পরেও উঠে গেলেন ওভার ব্রীজে।আমার কাজ যেন ইজি হয়ে গেল।পিছু পিছু চললাম ভদ্র লোকের। মাঝামাঝি আসার পরে যেন ভদ্র লোকের টনক নড়ল।চলতে চলতে হঠাত করে থেমে গেলেন।সেকেন্ড কয়েক মূর্তিমান থেকে আচমকা পিছনে ফিরে তাকালেন।হঠাত এখানে আমাকে দেখে আজহার সাহেব বেশ অবাক হলেন। কিন্তু পরক্ষনেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন
-আপনি এখানে?এত রাতে?
আমি তার উত্তরে হালকা হেসে বললাম
-আরে আজহার সাহেব কতক্ষন ধরে ডাকছি শুনছেন না কেন?
আমার কথায় উনি বেশ অবাক হলেন। ভ্রু কুচকে বললেন
-ফাযলামো করছেন আমার সাথে? এত বড় একটা দামড়া মানুষ আমাকে ডাকল আর আমি শুনিনি?
আমি হাসিটা আরও প্রসারিত করে বললাম
-রাত দুপুরে কেন মিথ্যা বলব বলুন তো মশাই?চলুন হাটতে হাঁটতে কথা বলা যাক ।
রাত ঘনিয়ে আসছে।আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আশেপাশে কেউ নেই ।একটা গাড়ী ওভার ব্রীজের নিচ দিয়ে ছুটে গেল ঝরের বেগে।সবকিছু নিশ্চিত করে কথা পাড়লাম
-আজহার সাহেব সেদিনের কাজটা আপনি ঠিক করেন নি।
আজহার সাহেব বিদ্রুপের হাসি হেসে বললেন
-কোন টা ?অই বুড়িটাকে সাইন না দেওয়া!এতো তো আর …..আহ।
কিছু বলার আগেই নতুন কেনা চাকুটা ঢুকিয়ে দিলাম তার পেট বরাবর।দুহাতে বাচার আকুতি নিয়ে এগিয়ে দিল আমার দিকে আজহার সাহেব।চোখে ফুটে আছে এক রাশ বিষ্ময় ।আমার ঠোটে তখন বাকা হাসি।আমি বা হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম পাশে।হালকা ঝুকে বললাম
-আমার বাবা মা তুলে কথা বলাটা মোটেও ঠিক হয় নি আপনার।
কথাটা বলে পেছন ফিরে প্রায় চলেই এসেছিলাম।কিন্তু কেমন একটা অস্বস্তি লাগছিল ।ফিরে গিয়ে আবার চাকু হাতে ঝুকে বসলাম আজহার সাহেবের লাশটার উপরে।এক এক করে হৃদপিন্ড আর চোখ দুটো উপড়ে তুলে ফেললাম।ইটের টুকরা দিয়ে থেতলে চেহারা নষ্ট করে দিলাম।লাশের অবস্থা এতটাই বিকৃত হয়েছিল যে পুলিশ পর্যন্ত লাশ দেখে ভয়ে কেপে উঠেছিল।বডি শনাক্ত করা হয়েছিল আইডি কার্ড দেখে। সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম শুধু খুন করা নয়,লাশকে টুকরো টুকরো করার মধ্যেই আসল পৈশাচিকতা বিরাজ করে।নিহিত থাকে দুর্লভ সুখ।
.
.
আজহার সাহেবের মৃত্যুর খবর বেশ ঝড় তুলল জনমনে।কেউ কেউ খুনের নৃশ্ংসতা দেখে ভয়ে কেপে উঠল,কেউ বা সুখ হাসি দিল আজহার সাহেবের নিদারুন পরিনতি দেখে।আজহার সাহেবের কিছু শুভাকাংখী তার মৃত্যুর জন্যে আমাকে সন্দেহভাজন তালিকায় রেখেছিল।কিন্তু আমার অসুস্থতা আর অফিসের সবার সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার সুনাম থাকায় পুলিশ সেই তালিকা থেকে আমার নাম কেটে দিল।তবে এই ঘটনা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডে।ধনী কুবেররা টাকার বান্ডিল নিয়ে খুজতে লাগল খুনিকে।ভাগ্য যেন সহায় হল আমার উপর।পরিচয় গোপন করে পাড়ি জমালাম অন্ধকার দুনিয়ায় ।তখন থেকেই ছোট বড় ,কালো সাদা,নারী পুরুষ যে কাউকে মারতেই আমার হাত দ্বিতীয়বার কাপে নি।শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হইনি ।প্রতিটা লাশের এতটাই মর্মান্তিক অবস্থা করেছি যে যে কেউ দেখলে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে তার।হয়তো সেজন্যেই সিরিয়াল কিলার হিসেবে বেশ খ্যাতি পেয়েছিলাম আমি।খুন করার আগে যে খুন হবে তার ছবি আর আমার ঠিকানা আমার ডার্ক ওয়েবসাইটে সেন্ড করে দেওয়া হত।কাজ শেষ হলেই হাতে চলে আসত মোটা অংকের টাকা।কে কাকে কেন খুন করছে এসব আমার জানার বিষয় ছিল না।আমি শুধু খুশি হতাম খুনের সুপারিশ পেলে,আমার নেশা র খোরাক যোগালে চাহিদা দিন দিন বাড়িতেই লাগল আমার ।সব কিছু ঠিকভাবেই চলছিল।। এ পর্যন্ত ৯৭৯ জন কে মেরেছি আমি ।কিন্তু বিপত্তি ঘটল ৮০ তম জনে।
হঠাত করেই আমার কাছে একদিন একটা ছবি এল ।ছবিটা দেখেই যেন আমার পায়ের তলা থেকে মাটী সরে গেল।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।গোপন আইডী ব্যবহার করায় কে পাঠিয়েছে,কেন পাঠিয়েছে কিছুই জানতে পারছিলাম না।কি করব না করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।অবশেষে অনেক চিন্তা করে একটা সিদ্ধান্তে পৌছলাম।তোমাকে খুন করব।
এতটুকু বলে থামল রুদ্র।তার সামনে হাত পা বাধা অবস্থায় পরে আছে কায়া।কায়ার চোখ দিয়ে টপটুপ করে পানি ঝরছে।যে মানুষটাকে সে ভালোবেসে বিয়ে করেছে ,যে মানুষটার সাথে এতদিন সংসার করছে আজ সেই কিনা তাকে মারতে উদ্যত হয়েছে।এক তীব্র ব্যাথা ছড়ীয়ে আছে তার চোখ মুখ জুড়ে ।
রুদ্র খানিকটা সময় নিশ্চুপ ভাবে কায়ার দিকে তাকিয়ে থাকল।ঘোর ভেঙ্গে একটূ ঝুকে বলল
-বিশ্বাস কর কায়া।তোমাকে মারতে আমার একটূও ভাল্লাগছে না।কিন্তু কি করব বল! আমাকে যে করতেই হবে এটা।
এক গভীর আবেগ ফুটে উঠেছে রুদ্রর কন্ঠে ।কিন্তু চোখ দুটো যেন চকচক করছে এক নতুন নেশায় ।
কায়া কিছু বলার চেস্টা করছে বেশক্ষানিকখন থেকে কিন্তু মুখ বাধা থাকার কারনে বলতে পারছে না।গলায় ছুড়ি চালানোর আগে রুদ্র কায়ার মুখের বাধন খুলে দিল।বুক ভরে নিশ্বাস নিল কায়া।সে ভালো করেই বুঝতে পেরেছে রুদ্রকে ফেরানোর কোন উপায় নেই তার ।ছলছল চোখে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল
-আমাকে এক বার চুমু খাবে প্লিজ?
প্রিয়তমা স্ত্রীর শেষ ইচ্ছাটুকু ফেলতে পারল না রুদ্র।টুক করে ঠোট ডুবিয়ে দিল প্রিয়তমার ঠোটে।ব্যাস সেটাই যেন কাল মুহুর্ত হয়ে দারাল তার জন্যে।প্রেয়সীর চোখে সর্বনাশ দেখেওনি এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েতই কম আছে ।কিন্তু রুদ্রর সর্বনাশ ডেকে আনল প্রিয়তমার ঠোট।প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছিটকে পড়ল দূরে ।কায়ার ঠোটে ফুটে উঠ বাকা হাসি।দড়ীর বাধন খুলে উঠে দাঁড়াল সে।একে একে সব বাধন খুলে আড়মোড়া ভাঙ্গল সে।রুদ্র যেন বিষ্ময়ের সর্বোচ্চ সীমায় পৌছে গেছে।চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে কায়ার দিকে।
কায়া পাশের টেবিল থেকে রুমাল নিয়ে ঠোট মুছতে মুছতে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল
-হ্যা ঠিক ধরেছ ।আমার লিপস্টিকে বিষ ছিল।কি!অবাক লাগছে তাই তো? লাগারই কথা।ভাবছো তোমার কাছে কন্ট্রাক্ট ছিল আমাকে মারার জন্যে কিন্তু আমি কেন তোমাক মারছি ?
আমাকে মারার কন্ট্রাক্ট টা যে আমিই তোমাকে দিয়েছিলাম ।
বিষ্ময় যেন সীমা ছাড়িয়ে ফেলেছে রূদ্রর ।দুই হাত দিয়ে গলা চেপে হাপাচ্ছে সে।
রুদ্রকে ছটফটাতে দেখে কায়া বলল
-রিলাক্স মাই লাভ।যত প্যানিক করবে তত তাড়াতাড়ি আর পেইনফুলি মরবে।keep calm and you’ll get a less painful death.
রুদ্র অনেক কষ্টে নিজেকে শান্ত করে বলে উঠল
– কে… কে তুমি?
-Good Question. কে আমি?আমিও তোমার মত একজন সিরিয়াল কিলার ।তোমার মত আমারও কিলিং প্যাশন শুরু হয়েছিল অভাবের তাড়নায়।খুব অল্প সময়ে আন্ডারোয়ার্ল্ডে আমি নাম কামিয়েছিলাম।তোমার মত কুকুর বিড়াল না মানুষ মেরেই শুরু করেছিলাম এই যাত্রার।একের পর এক ক্লিন মাডার যোগ হতে থাকল সিরিয়াল কিলিং এর খাতায় ।কন্ট্রাক্ট এতই বেশি হয়ে গিয়েছিল যে খুজে বাছে কাজ নিতে লাগলাম আমি।বাকিরা কাজ করাতে না পেরে বিকল্প রাস্তা খুজতে লাগলেন।ঠিক সেই মূহুর্তে মাথা চাড়া দিলে তুমি ।ধীরে ধীরে আমার কাজ কমতে লাগল ।পরিচয় গোপন করায় তোমার পর্যন্ত পৌছানো কঠিন ছিল আমার জন্যে। তাই ফন্দি আটতে লাগলাম তোমাকে মারার ।এর মধ্যে আগুনে ঘি ঢাললেন এক ক্লাইন্ট ।তার বেশ কয়েকজন লোককে মারায় সে আমাকে কন্ট্রাক্ট পাঠিয়েছে তোমাকে খুজে বের করে মারার জন্যে।তারপর আর কি !দিন ক্ষন ঠিক করে তোমাকে আমার ছবি পাঠালাম ।পরক্ষন থেকেই আমি সর্বোচ্চ সিকিউরিটী মেইন্টেইন করতে লাগলাম।তোমার উপর সন্দেহ হয়েছিল সেদিন তোমার ল্যাপটপ ঘাটতে গিয়ে ।তোমার ব্রাউজার চেক করতে গিয়ে তোমার উপর সন্দেহ হয়েছিল।নজর রাখতে শুরু করলাম তোমার উপরে। দু দিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম হন্য হয়ে যাকে খুজছি সে আমার ঘরেই আশ্রয় নিয়ে আছে।তারপর বাকিটা তোমার সামনে।
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে ঘড়ির দিকে তাকালো কায়া।
-আর বেশিক্ষন না মাত্র দুই মিনিটের মেহমান তুমি।চিন্তা করোনা ।আমি তোমার জন্যে ভায়োলেন্স পছন্দ করিনা ।আমার প্যাশন খুন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।
হিলের খটখট আওয়াজ তুলে রুম থেকে বের হয়ে যেতে লাগল কায়া।রুদ্র কায়াকে চলে যেতে দেখে অনেক কষ্টে বলে উঠল
-Kaya .Please save me.আমি তোমাকে অনেক্ ভালোবাসি।
রুদ্রর কথা শুনে থেমে দাড়াল কায়া ।ঘাড় ঘুড়িয়ে বলল
-Killers only kill .They don’t feel for the target.
কথাটা বলেই বের হয়ে চলে গেল কায়া।মাটিয়ে লুটীয়ে পড়ল রুদ্রর নিথর দেহ।সমাপ্তি ঘটল একজন সিরিয়াল কিলারের ।
#সিরিয়াল_কিলার
#আফরিন_ইনায়াত_কায়া3 Comments
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
অরন্য হিল্লোল
@oronnyohillol
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
Dr. Shaheen Mahmud
@shaheen
Suhas Barnabash Gomes
@barnabash
তানভীর তীব্র
@tanvir3
Drako Shajib
@drako
Emotionless Rima
@emotionless-rima


সুন্দর লেখা। অভিনন্দন।