Profile Photo

Taufiq al sadifOffline

  • 483-Taufiq-Al-Sadif-roll-483
  • Profile picture of Taufiq al sadif

    Taufiq al sadif

    1 year, 9 months ago

    রহস্যময় পাণ্ডুলিপি
    ### **দ্বিতীয় পর্ব**###

    শবরেশ মিত্রের মাথায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই পাণ্ডুলিপির চুরি কেন এবং কিভাবে হয়েছে? তার অভিজ্ঞতা বলে, কোনো সাধারণ চোর এই ধরনের কাজ করতে পারে না। পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু সম্পর্কে যে জানে, এবং যেটি ইতিহাসের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, সেই ব্যক্তিই শুধু এই কাজটি করতে পারে। এই তথ্যের সূত্র ধরে, শবরেশ সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাকে এখন খুব সাবধানে কাজ করতে হবে।

    প্রথমে, শবরেশ তার সহকারী তন্ময়কে ডাকলেন। তন্ময়, তার বিশ্বস্ত সহকারী, কলকাতার অপরাধ জগত সম্পর্কে প্রচুর জানে। তার ধারণা, সে কলকাতার প্রতিটি ছোট-বড় অপরাধীকে চেনে। তন্ময়, একটু মোটা-সোটা এবং হাসিখুশি প্রকৃতির হলেও, তার চোখে-মুখে তীক্ষ্ণতার ছাপ স্পষ্ট। সে শবরেশের নির্দেশে খুব দ্রুত কাজ করতে পারে।

    “তন্ময়, আমাকে এখনই সাহা বুক স্টোরে এসে দেখা করো,” শবরেশ ফোনে বললেন। “আমি তোমার জন্য কিছু কাজ রেখেছি।”

    “অবশ্যই, স্যার,” তন্ময় বলল। “আমি দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি।”

    তন্ময় এসে পৌঁছানোর পর, শবরেশ তাকে সবকিছু ব্যাখ্যা করলেন। পাণ্ডুলিপির চুরি, দরজার তালা ভাঙার সূক্ষ্মতা, এবং মাটিতে পড়ে থাকা সেই রহস্যময় কাগজের টুকরো—সবকিছু তন্ময়ের সাথে শেয়ার করলেন। তন্ময় গভীর মনোযোগ দিয়ে সব শুনল এবং তার নোটবুকের পৃষ্ঠায় তথ্যগুলো লিখে নিল।

    “তন্ময়, আমাদের প্রথমে জানতে হবে, এই পাণ্ডুলিপির কথা শহরের আর কারা জানে। আমি মনে করি, যেহেতু এটি বাংলার ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ, কেউ হয়তো এটি নিয়ে গবেষণা করছিল। তুমি শহরের বড় লাইব্রেরিগুলোতে খোঁজ নাও, এবং ইতিহাসের যে সমস্ত বিশেষজ্ঞ আছে, তাদের সাথেও কথা বল। আর, আমাদের অপরাধ জগতের লোকজনের কাছ থেকেও খবর নিতে হবে। কেউ হয়তো জানে, এই চুরির পেছনে কারা থাকতে পারে।”

    তন্ময় মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। “ঠিক আছে, স্যার। আমি এখনই কাজে নামছি।”

    তন্ময় চলে যাওয়ার পর, শবরেশ আবার দোকানের ভেতরে ঢুকে পাণ্ডুলিপির শেলফটিকে আরও একবার পর্যবেক্ষণ করলেন। তার চোখে পড়ল, শেলফের নিচের দিকে ছোট্ট একটা স্ক্র্যাচ। সাধারণত এ ধরনের স্ক্র্যাচ হয় যখন কেউ তাড়াহুড়ো করে কিছু তুলে নিয়ে যায়। শবরেশ এই স্ক্র্যাচটাকে গুরুত্ব দিলেন। তিনি তার পকেট থেকে ছোট্ট ম্যাগনিফায়িং গ্লাস বের করে আরও গভীরভাবে এটি দেখার চেষ্টা করলেন। স্ক্র্যাচটি খুবই তীক্ষ্ণ ছিল, এবং তা দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে চোর খুব সাবধানে কাজ করেছে, কিন্তু তাড়াহুড়োয় এই স্ক্র্যাচটি পড়ে গেছে।

    শবরেশ এই তথ্যও তার নোটবুকে লিখে রাখলেন। এরপর, তিনি দোকানের বাইরের দিকে গেলেন। বাইরে বৃষ্টি কিছুটা কমে এসেছে, কিন্তু রাস্তায় এখনো পানি জমে আছে। শবরেশ দোকানের চারপাশে ভালোভাবে দেখে নিলেন। রাস্তায় তেমন কোনো চিহ্ন নেই, যা থেকে কোনো সূত্র পাওয়া যেতে পারে।

    তবে তার চোখে একটা জিনিস পড়ল, দোকানের পিছনের গলিতে ছোট্ট একটা সাদা রঙের টুকরো। সেটি কি হতে পারে, সেটি নিয়ে তার মনে কৌতূহল জাগল। তিনি সেটা হাতে তুলে নিলেন। এটি একটি ছোট্ট কাগজের টুকরো, যা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। তবুও, সেটার উপরে কিছু লেখা রয়েছে। শবরেশ সেটি সাবধানে খুলে দেখলেন। কাগজটির উপরে ইংরেজিতে লেখা ছিল, “Dover Street, 7 PM”।

    এই লাইন পড়ে শবরেশের চোখে এক রকমের আলো ফুটে উঠল। “Dover Street”—এটি কলকাতার এক পুরনো গলি, যা শহরের অপরাধীদের আড্ডা হিসেবে পরিচিত। আর “7 PM”—এর মানে কি হতে পারে? এটি কি কোনো মিটিংয়ের সময়, নাকি অন্য কিছু?

    শবরেশ বুঝতে পারলেন, এই চুরির তদন্তের জন্য তাকে আজ সন্ধ্যায় Dover Street-এ যেতে হবে। কিন্তু, সেখানে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। Dover Street-এর অপরাধ জগতের মানুষজন সহজে বাইরের কাউকে মেনে নেয় না। কিন্তু শবরেশ মিত্র কোনো সাধারণ গোয়েন্দা নন। তিনি জানেন কিভাবে সেই বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ করতে হয়, এবং কিভাবে অপরাধীদের সাথে কথা বলতে হয়।

    সন্ধ্যা সাতটা বাজতে এখনো অনেক সময় বাকি। শবরেশ সিদ্ধান্ত নিলেন, এই সময়ের মধ্যে তিনি আরও কিছু তদন্ত করে দেখবেন। প্রথমে, তিনি সাহা বুক স্টোরের মালিক মিঃ সাহার সাথে কিছু প্রশ্ন করতে বসলেন।

    “মিঃ সাহা, আপনার দোকানে কি কেউ সম্প্রতি এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছিল?” শবরেশ প্রশ্ন করলেন।

    মিঃ সাহা একটু ভেবে বললেন, “হ্যাঁ, কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক এসেছিলেন। তিনি পাণ্ডুলিপির ব্যাপারে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম তিনি কোনো গবেষক হতে পারেন, তাই আমি তাকে কিছু তথ্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, হয়তো সে সেই চোরের সাথে যুক্ত হতে পারে।”

    “আপনি কি তার নাম মনে করতে পারেন?” শবরেশ জিজ্ঞাসা করলেন।

    “না, আমি তার নাম জানি না। তিনি নিজের নাম বলেননি। তবে তিনি একজন সুদর্শন যুবক ছিলেন, এবং তার হাতে একটি বড় ব্রিফকেস ছিল,” সাহা বললেন।

    “ব্রিফকেস?” শবরেশের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। “আপনি কি কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখেছেন, যা তাকে আলাদা করতে পারে?”

    মিঃ সাহা কিছুক্ষণ ভাবলেন, তারপর বললেন, “হ্যাঁ, তার হাতে একটা সোনার আংটি ছিল, যার উপর একটি লাল রত্ন ছিল। আমার মনে আছে, কারণ আংটিটা খুবই আকর্ষণীয় ছিল।”

    শবরেশ সবকিছু শুনে নোটবুকে লিখে নিলেন। তার মাথায় এখন অনেক প্রশ্ন ঘুরছে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর একসাথে পাওয়া সম্ভব নয়। শবরেশের অভিজ্ঞতা বলে, প্রতিটি তথ্যকে আলাদা আলাদাভাবে বিচার করতে হবে এবং ধীরে ধীরে পুরো ছবিটা তৈরি করতে হবে।

    শবরেশ এবার দোকান ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। তিনি ঠিক করলেন, এবার Dover Street-এ যাবেন এবং সেই রহস্যময় সময় এবং জায়গা সম্পর্কে আরও কিছু জানার চেষ্টা করবেন।

    **Dover Street:**

    Dover Street কলকাতার এক পুরনো গলি, যেখানে অপরাধীদের আড্ডা এবং ব্যবসা চলে। এখানে পুলিশের চোখেও কোনো অপরাধী ধরা পড়ে না, কারণ গলিটা অনেক গভীর আর সরু। সন্ধ্যা সাতটা বাজতে তখনো কিছুটা সময় ছিল। শবরেশ নিজের প্রিয় কালো কোটটি গায়ে চাপালেন এবং টুপিটা মাথায় দিলেন। তিনি জানেন, Dover Street-এ যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু তার জন্য এটিই এখন একমাত্র পথ।

    গলির ভিতরে প্রবেশ করতেই শবরেশ অনুভব করলেন এক ধরনের অসহ্য গন্ধ। পুরনো বাড়িগুলো ঝুঁকে পড়েছে, আর তাদের জানালা থেকে উঁকি মারছে কিছু অচেনা মুখ। গলির এক পাশে কিছু দোকান রয়েছে, যেগুলো দিনের আলোতে বন্ধ থাকে, কিন্তু সন্ধ্যার পর খুলে যায়। এখানে যারা আসে, তারা সাধারণ মানুষ নয়। সবসময়ই কিছু একটা অশুভ ঘটনা ঘটে, যা বাইরে প্রকাশ পায় না।

    শবরেশ গলির শেষপ্রান্তে গিয়ে দেখলেন, একটি পুরনো বাড়ির দরজায় একজন বিশালদেহী মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। সে শবরেশকে একবার দেখে নিয়ে কিছু না বলেই ভেতরে ঢুকতে দিল। শবরেশ বুঝলেন, এই বাড়ির ভেতরেই কিছু চলছে। তিনি খুবই সাবধানে ভিতরে ঢুকলেন।

    ভিতরে ঢুকতেই তিনি দেখলেন, একটি ছোট ঘরে কিছু লোক বসে আছে। তাদের মধ্যে কেউ অপরাধী হতে পারে, আবার কেউ হতে পারে সাধারণ মানুষ। ঘরের মাঝখানে একটি বড় টেবিল রয়েছে, যার উপর কিছু কাগজপত্র ছড়িয়ে আছে। ঘরটিতে আলো কম, কিন্তু যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রাখতে ভালো।

    শবরেশ ঘরের এক কোণে বসে পড়লেন, এবং সবকিছু মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর, একজন লোক ঘরে ঢুকল। লোকটা ছিল লম্বা, তার হাতে একটি বড় ব্রিফকেস। শবরেশ তৎ

    ক্ষণাৎ চিনে ফেললেন, এই লোকটিই সেই লোক, যার কথা মিঃ সাহা বলেছিলেন। তার হাতে ছিল সেই সোনার আংটি, যার মধ্যে লাল রত্ন খচিত।

    লোকটা টেবিলের উপর তার ব্রিফকেসটি রাখল, এবং চারপাশের সবাইকে একবার দেখে নিল। শবরেশ তার চোখে এক রকমের রহস্যময় দৃষ্টি দেখলেন। সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগে ঘরের দরজা হঠাৎ করে খুলে গেল। শবরেশ দেখলেন, সেখানে এক নতুন লোক ঢুকছে। এই নতুন লোকটিকে দেখে ঘরে সবাই এক মুহূর্তের জন্য চুপ হয়ে গেল।

    এই অংশে, শবরেশ মিত্র Dover Street-এ তার প্রথম মিশনে মুখোমুখি হন। তার সামনে যে লোকটি ঢুকল, সে কি এই চুরির সাথে জড়িত? অথবা, তার আসল উদ্দেশ্য কী?

    6
    3 Comments
    • ভালো হচ্ছে। পরের অংশ পড়ার একটা আগ্রহ তৈরী করেছেন।

    • গল্পের সাথে রহস্যের ওলি-গলিতে ঘুরতে দারুণ লাগছে বন্ধু, পরের পর্বের জন্য শুভ কামনা রইল !

    • দূর্দান্ত গল্প… প্রথম দুইটা পর্বই খুব ভালো লাগলো… 💙❤

Skip to toolbar