-
রহস্যময় পাণ্ডুলিপি
### **তৃতীয় পর্ব**###দরজা দিয়ে ঢোকা নতুন লোকটি ঘরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই একটা ভারী নীরবতা ছড়িয়ে পড়ল। শবরেশ তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লোকটিকে নিরীক্ষণ করলেন। লোকটি গড়নে লম্বা, চেহারায় রুক্ষ, এবং চোখে-মুখে এক ধরনের কঠোরতা ছিল। তার চোখে তীক্ষ্ণতার ছাপ স্পষ্ট, যা দেখে শবরেশ বুঝতে পারলেন, এই ব্যক্তি সাধারণ কেউ নয়।
লোকটি ঢুকে টেবিলের পাশের একটি চেয়ারে বসে পড়ল, এবং তার সঙ্গেই ঘরের বাকিরাও বসে পড়ল। লোকটি নিজের হ্যাট খুলে টেবিলের ওপর রাখল। শবরেশ দেখলেন, তার হাতে একটি চমকপ্রদ সোনার ঘড়ি রয়েছে। ঘড়ির ডায়ালে একটা ছোট্ট রক্তলাল পাথর খচিত। শবরেশ তখনই বুঝতে পারলেন যে এই লোকটি হতে পারে গোটা চক্রের মূল হোতা।
ঘরের মধ্যে বাতাসের গতি যেন কমে গিয়েছে। লোকটি ধীরে ধীরে কথা বলা শুরু করল, “সবাই নিশ্চয়ই জানেন, কেন আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি। আমাদের হাতে অমূল্য সম্পদ রয়েছে, এবং সেটা যেন নিরাপদে থাকে, সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
বাকিরা তার কথার সম্মতি জানাল। কিন্তু তার পরেই সেই সুদর্শন যুবকটি, যার হাতে লাল রত্ন খচিত আংটি ছিল, উঠে দাঁড়াল। তার চোখে-মুখে এক ধরনের উদ্বেগের ছাপ ফুটে উঠল। “কিন্তু আমরা কি নিশ্চিত, আমরা নিরাপদ? শহরে একজন গোয়েন্দা আছে, যাকে নিয়ে শোনা যায়, সে সবকিছু জানতে পারে।”
শবরেশ তার মনোযোগ পুরোপুরি যুবকটির কথায় কেন্দ্রীভূত করলেন। সে তার সম্পর্কে কথা বলছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে পারছিলেন না, কিন্তু তার অন্তর্দৃষ্টি তাকে সতর্ক থাকতে বলছিল।
লোকটি হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা ছিল না। “যদি গোয়েন্দা থাকে, তাহলে তাকে নিয়ে আমরা বিশেষ চিন্তা করি না। আমরা জানি কিভাবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে সাবধানতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”
শবরেশ বুঝতে পারলেন, এই মিটিংয়ে এমন কিছু ঘটছে, যা তার মাথায় জট পাকিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন, এবং সেই যুবকটির প্রতিটি কথা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নজর করতে লাগলেন।
“আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে?” সেই সুদর্শন যুবকটি জিজ্ঞেস করল।
“পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত গোপনীয়,” লোকটি বলল। “আমি চাই, তোমরা সবাই আজই আমাদের জন্য এক একটি কাজ করবে। আমরা যে অমূল্য পাণ্ডুলিপি পেয়েছি, তা নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে আমাদের এটির কপি রাখতে হবে, যাতে কেউ সহজে তা খুঁজে না পায়।”
শবরেশের মনে হাজারো প্রশ্ন উদিত হতে লাগল। এই পাণ্ডুলিপি কি তাহলে একাধিক স্থানে ভাগ করে রাখা হবে? তাদের উদ্দেশ্য কি হতে পারে? তিনি বুঝতে পারলেন, তার হাতে খুব কম সময় আছে, কারণ তাদের পরিকল্পনা সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাকে তা থামাতে হবে।
যখন এই আলোচনা চলছিল, তখন হঠাৎ করে ঘরের ভেতরের বাতি মিটমিট করতে লাগল। সবাই চমকে উঠল, এবং ঘরের মধ্যে এক রকমের চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। শবরেশ বুঝতে পারলেন, এই ঘটনাটি একটি বিপদের সংকেত হতে পারে। তার মাথায় তখনই একটি চিন্তা এল—এই মুহূর্তে তাকে কিছু করতে হবে, না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
তিনি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দরজার দিকে এগোলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়, সেই লম্বা লোকটি তাকে লক্ষ্য করল এবং তার দিকে সোজা তাকাল। শবরেশ এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। তার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হলো না, বরং দৃঢ়তার সঙ্গে লোকটির দৃষ্টিকে সোজা ভাবে কাটিয়ে উঠলেন।
“তুমি কে? তুমি এখানে কী করছ?” লোকটি সোজা প্রশ্ন করল।
শবরেশ জানতেন, তার পরিচয় এখনই প্রকাশ করলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। তিনি মাথা ঠান্ডা রেখে উত্তর দিলেন, “আমি একজন নতুন বই সংগ্রাহক, এই মিটিংয়ের বিষয়ে শুনে এসেছি।”
লোকটির চোখে সন্দেহের ছাপ ফুটে উঠল। সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর ধীরে ধীরে বলল, “তোমাকে এর আগে দেখিনি। তুমি কি নতুন?”
“হ্যাঁ, আমি নতুন,” শবরেশ স্বাভাবিকভাবে বললেন। “শহরের অপরাধ জগত সম্পর্কে আরও জানতে চাই। আর শুনেছি, Dover Street-এ সবকিছু জানা যায়।”
লোকটি আর কোনো কথা বলল না, তবে তার চোখে এখনো সন্দেহের ছাপ স্পষ্ট ছিল। শবরেশ বুঝতে পারলেন, পরিস্থিতি ঘোরালো হচ্ছে। তাকে দ্রুত এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ঠিক সেই মুহূর্তে, বাইরে থেকে হঠাৎ করেই একটি শব্দ শোনা গেল। শবরেশ বুঝতে পারলেন, সময় চলে এসেছে। তিনি তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে শবরেশ দেখলেন, Dover Street-এর গলিটি এখনো নির্জন। বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের শীতলতা রয়ে গেছে।
শবরেশ দ্রুত পা চালিয়ে গলি থেকে বেরিয়ে এলেন এবং ট্যাক্সির জন্য হাত তুললেন। তিনি জানতেন, এই মিটিং থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছেন, কিন্তু পুরো রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।
তিনি এখন যে তথ্যগুলো পেয়েছেন, তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। এই মিটিংয়ে যা শোনা গেছে, তার ভিত্তিতে তিনি মনে করলেন যে পাণ্ডুলিপির প্রকৃত রহস্য আরো গভীরে লুকিয়ে আছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে পাণ্ডুলিপির কপিগুলো রাখা হলে, তাকে খুব দ্রুত সেগুলোর খোঁজ নিতে হবে। কিন্তু তার আগে, তাকে সেই লোকটির পরিচয় জানতে হবে, যে এই পুরো অপারেশনের পেছনে রয়েছে।
শবরেশ সিদ্ধান্ত নিলেন, এবার তাকে শহরের লাইব্রেরি এবং অন্যান্য জায়গাগুলোতে গিয়ে পাণ্ডুলিপির প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ, যতক্ষণ না তিনি পাণ্ডুলিপির আসল মূল্য এবং তার ইতিহাস জানেন, ততক্ষণ তিনি এই রহস্যের মূল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না।
—
2 Comments
Friends
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম
@shiyam
Payel Akhter Jyoti Nur
@payel
রতন
@ratan92
মো দানিয়াল আরাফাত (প্রমিস)
@md-daniel-araphat-promice
Abu Said Vuia
@shahadatur-rahman-sohel
Ahmed Aryan
@aryan8989
Moniruzzaman Sarjil
@zaman2802
অনুভূতির ডাইরি
@onuvutir-dairi


গল্প লেখা সহজ কাজ নয় তবে, আপনার প্রচেষ্টা সত্যি তারিফ করার মত বন্ধু ! কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আমাদের অনেক চাহিদা রয়েছে, তার মধ্যে একটি হল, সবকিছু যেন খুব সহজেই মিলে যাচ্ছে, কাহিনীর মারপ্যাঁচ আরো জোরালো হোক ! অনেক শুভ কামনা রইল !