-
গল্পঃ নিশি
জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যখন মনে হয় সবকিছু ছেড়ে চলে যাই। আমি কেন এখানে পরে আছি। কি দরকার এখানে থাকার? আমি কি চাইলে অন্য কোথাও থাকতে পারতাম না? আপনার চারপাশে সবকিছু ঠিক মতই চলছে। কিন্তু আপনার কাছে মনে হচ্ছে কোন কিছুই ঠিকভাবে চলছে না। আপনার মনের মধ্যে সবসময় চলতে থাকে, আমি আমার মধ্যে নাই। আমার যেখানে থাকার কথা ছিল সেখানে আমি নাই। যার আমার সাথে থাকার কথা, সে আমার থেকে অনেক দূরে।আপনি হইত ভুলে গেছেন, আপনি কে? প্রত্যেকটা শিশু অসাধারন প্রতিভার সাথেই জন্মগ্রহন করে। কিন্তু তাদের সফটওয়্যারে যে পেঁচ লাগানো হয়, সেটা হয় পরিবারে অথবা স্কুল, কলেজে।
সুমনকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? অন্য সব বাচ্চাদের মত সে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় নি। সে সেদিন বলেছিল, আমি নিজেকে এমন একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই যেন সবার মুখে মুখে তার নাম থাকে। আমি কাউকে না চিনি কোন সমস্যা নেই, কিন্তু মানুষ যেন আমাকে চেনে। তার শিক্ষক তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তাহলে তুমি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চাও? কোন অভিনেতা, ফুটবলার বা ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ? কি হতে চাও?সে সেদিন বলেছিল, আমি লেখক হতে চাই। প্রচুর গল্প লিখতে চাই। ছোট বাচ্চাদের জন্য গল্প লিখতে চাই। তারা যেন নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করার মত সাহস পায়, সে বিষয়ে গল্প লিখতে চাই। আমার মত তারা যেন বাবা মার ভয়ে নিজেদের স্বপ্নকে কখনো মেরে না ফেলে।
সেসময় সুমনের বয়স যদিও কম ছিল কিন্তু তার কথার মধ্যে অনেক গাম্ভীর্য লুকিয়ে ছিল, লুকিয়ে ছিল অনেক অপ্রকাশিত সত্য।সুমন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। সে যত বড় হতে থাকে ততবেশি সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরতে থাকে। যেখানে সবাই বাইরে ঘুরে বেরাচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে বন্ধুদের সাথে, সেখানে সুমন রুমে বসে পড়াশুনা করছে। কিছু করার নাই। সুমনেরও মাঝে মধ্যে অনেক রাগ হয়। কেন সে সবসময় রুমের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকবে। তারও তো ইচ্ছা করে সবার সাথে বাইরে গিয়ে একটু আড্ডা দিতে। তার এক শিক্ষক ছিলেন, আজম স্যার। স্যার তাকে বলেছিলেন,তোমার মত অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমিও একসময় আসছি। আমি তখন গ্রামে থাকতাম। আমি রুমে বসে পড়াশুনা করছি, আর সে সময় আমার একবন্ধু জানালার সামনে একটা খোলা জায়গা আছে সেখানে গ্রামের আর সবার সাথে গুটি খেলছে। আমারও খুব ইচ্ছা করত ওদের সাথে খেলতে। কিন্তু যখন আজকে নিজেকে এই অবস্থানে দেখি তখন মনে হয়, বাবা মা ঠিকই করেছিল সেদিন আমাকে বাইরে না যেতে দিয়ে। সেই বন্ধু এখনো গ্রামে বসে জমি চাষবাস করে খাচ্ছে। আর আমি এইখানে শিক্ষকতা করছি। আরও একটা গল্প শুনাই, শোন। আমার পরিচিত একজন ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ছোটবেলায় আমি খুব একটা বাসা থেকে বের হতে পারতাম না, সবসময় বাসার মধ্যে থাকতাম। বাবা মা চোখে চোখে রাখত। আর এখন আমি নিজের দেশে ভালো মত কয়েকটা দিন থাকার সুযোগই পাই না। কোন না কোন দেশে যেতে হয়।
সুমনের তখন মনে হয়েছিল, কিছু কিছু সময় বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকা ভালো। তবে সব সময় না। বাবা মা কখনই তার সন্তানের অমঙ্গল চান না। নিজের জীবন দিয়ে দিবেন কিন্তু নিজের সন্তানের কোন ক্ষতি হতে দিবেন না।
সুমন কলেজ পাশ করে গেল। এরপর তার বাবা মা তাকে যেকোনো দুইটি রাস্তার মধ্যে একটি রাস্তা বেঁচে নিতে বলল। হয় ইঞ্জিনিয়ার নাহয় ডাক্তার। কারন বাংলাদেশে এই দুইটির উপরে আর কারো ভাত নাই। সে তার বাবাকে বলেছিল, সে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় না। সে লেখক হতে চায়। সে ঢাবি তে বাংলা নিয়ে পরতে চায়। কিন্তু তার বাবা তাকে বলেছিল, লেখক হয়ে কি করবি? লেখকের ভাত নাই। কোন ঠিক ঠিকানা নাই। নিজে চলবে কি, আরেক জনকে খাওয়াবে কি?
সুমন তাদের কথা মত ভর্তি পরীক্ষা দিল। চান্সও পেয়ে গেল। কিন্তু সে তার এই চান্স নিয়ে কখনই সন্তুষ্ট ছিল না। সে চেয়েছিল, নিজের স্বপ্ন পূরণ না হোক। বাবা মার স্বপ্ন যেন পূরণ করতে পারে। সে ভেবে ছিল আরও উপরের কোন মেডিকেলে তার রোল আসবে।মেডিকেলে ক্লাস শুরু হয়ে গেল। সবকিছুই মোটামুটি ভালো মত চলছিল। কিন্তু তার মন ভালো ছিল না। একবার ছুটিতে বাসায় গিয়েছিল সে। রাতে খাওয়ার সময় তার বাবা কে বলেছিল, আমি মনে হয় সব থেকে খারাপ অবস্থানে আছি আব্বু। আমার আর যারা বন্ধু আছে তারা সবাই অনেক ভালো ভালো ভার্সিটি, মেডিকেলে ভর্তি হইছে। আর আমি এখানে পরে আছি।
তার বাবা তাকে বলেছিল, কিসব চিন্তা করিস বাবা। কার রিজিক কোন জায়গায় লেখা আছে, কেউ জানে না, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।তোমরা খুশি তো?
অবশ্যয় অনেক খুশি। দোয়া করি অনেক বড় হবি। ডাক্তার হয়ে দেশ দশের সেবা করবি।
মনের মধ্যে যখন একবার কমপ্লিকেশন তৈরি হয়ে যায় তখন সেটা কখনো ঠিক হই না। সুমনেরও কখনো সেটা ঠিক হয় নি।
মেডিকেল কলেজে ওঠার পর সবার মধ্যেই প্রেমের বাতাস নাড়া দেয়। সুমনের জীবনেও এসেছিল একবার। মেয়েটার নাম ছিল নিশি। অনেক লক্ষ্মী একটা মেয়ে। সুমন তাকে খুব পছন্দ করত। তার সাথে কথা বলার জন্য সবসময় পাগল হয়ে থাকতো। সারাক্ষন তার একটা ম্যাসেজের জন্য অপেক্ষা করে থাকতো। নিশিও তার সাথে ভালো মত কথা বলত। সে খুব ভালো করেই জানত সুমন তাকে অনেক ভালোবাসে।। কিন্তু সুমন সবসময় দ্বিধার মধ্যে থাকতো এই ভেবে যে নিশি তাকে কি আদেও পছন্দ করে কি না। তার মধ্যে অনেক কিছু চলছিল তখন। সে নিশির মধ্যে এতটাই ডুবে থাকতো যে ঠিক মত পড়াশুনাও করত না।
একদিন কথা প্রসঙ্গে নিশিকে বলেছিল, তোমার মনের মধ্যে আমাকে নিয়ে কি চলছে সেটা আমার জানা দরকার।
বুঝি নি। ভালো করে বল।
দেখো, আমি প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষী একটা মানুষ। অনেক বড় বড় স্বপ্ন আছে আমার। কিন্তু আমি তোমার মধ্যে এত টাই ডুবে গেছি যে আর অন্য কোন কাজ করতে পারছি না। তুমি আমাকে নিয়ে কি ভাব সেটা আমার জানা দরকার। আমার জন্য তোমার মনের মধ্যে আদেও কোন অনুভুতি আছে কিনা সেটা আমার জানতে হবে। আমি না আর এই চাপ নিতে পারছি না।
দেখো আমি এসব নিয়ে ভাবতে চাই না।
কেন?
আমার ভালো লাগে না এসব চিন্তা করতে।
ঠিক আছে। বুঝলাম।
কি বুঝলে?
আমার যা বোঝার দরকার, বুঝে গেছি।
সেদিন সে খুব কষ্ট পেয়েছিল। এরপর সে নিজেকে শান্ত করেছিল এই বলে যে, সঠিক সময়ে ভুল মানুষের সাথের আমাদের পরিচয় হয়, আর ভুলে সময়ে সঠিক মানুষের সাথে। এরপর থেকে সে নিশির সাথে কথা বলা কমিয়ে দেয়। একটা সময় গিয়ে একেবারে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়।
সুমনেরও তখন মনে হয়েছিল মেডিকেলে থাকা তার পক্ষে আর সম্ভব না। সে রুট পরিবর্তন করবে। তার বাবা মাকে জানায়, সে মেডিকেলে আর পরবে না। তখন তার বাবা মা তার উপরে অনেক রাগ করেছিল। শেষে তার মা তাকে বলে, আচ্ছা তুমি শুধু এমবিবিএস পাশ করে আসো। তারপর তুমি কোন দিকে যাবা তোমার ইচ্ছা। তখন তোমাকে আর আমরা কিছু বলব না। সুমন মেনে নেই। মাঝে মধ্যে গল্প লেখে। তারপর বই লেখা শুরু হয়ে করে।নিশির সাথে সুমনের কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। নিশির সাথে সামনা সামনি দেখা হলেও কখনো কথা হত না। তার বন্ধুরাও তাকে জিজ্ঞেস করে, নিশির সাথে কথা বলিস না কেন? তোদের মধ্যে আবার কি হল? সুমন বলেছিল, নিশি আমাকে পছন্দ করে না। সে আমাকে কখনো তার জীবনে আসতে দিবে না। তাহলে কেন আমি তাকে নিয়ে ভাববো? ভাবার কোন যুক্তি আছে? সে আমাকে কখনো নিজের প্রয়োজন ছাড়া কোন কথা বলে নি। কখনো জিজ্ঞেস করে নি আমি কেমন আছি। আমি ঠিক আছি কি না। সবসময় আমিই তাকে সবকিছু জিজ্ঞেস করতাম, তার খোঁজ খবর নিতাম। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি বন্ধু, আমার থেকে বেশি কেউ তাকে ভালবাসতে পারবে না।
তাহলে তার সাথে কথা বলিস না কেন?
এমনি।
এমনি কোন উত্তর হল?
কারন তো বলবি।
বলছি। আমি যাই থাক।
ঠিক আছে। সাবধানে যা। ঢাকা কবে যাবি?
পরশু।
প্রকাশনীর সাথে সব কথা হইছে?
হুম।
কত টাকা চাইছে?
২০ হাজার। ২০০ কপি বই ছাপায় দিবে।
টাকা সব জোগাড় করছিস?
হুম।
ওকে। সাবধানে যাস।
আচ্ছা। ভালো থাক।
সুমন ঢাকা গিয়ে তার বই এর কাজ সেরে আসলো। আসার কিছুদিন পর, একদিন হটাঠ রাত ৩ টার সময় তার ফোন বেজে ওঠে। সে অনেক ভয় পেয়ে গেছিল। রাতে ৩ টার সময় কেউ প্রয়োজন ছাড়া কল দেয় না। সে ফোনের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল, নিশি তাকে কল করেছে। কল ধরবে কি ধরবে না, এই ভাবতে ভাবতে কল কেটে গেল। আবার নিশির কল আসলো। এইবার সে কল ধরল। ধরে বলল, তুমি এখনো ঘুমাও নি?
ঘুম থেকে উঠলাম। পরব এখন।
ওহ। তুমি তো আবার অনেক ভোরে উঠে পড়াশুনা কর। হটাঠ কি মনে করে ফোন করলা?
তুমি ঘুমাও নি এখনো?
ঘুমাব একটু পরে। কাজ করছিলাম।
কি কাজ?
ভাইয়ার থিসিস চলতিছে। সেজন্য ভাইয়ার কাছে আসছিলাম। কাজ করার জন্য।
আর্কিটেকচারের কাজ করতে তোমার ভালো লাগে?
হুম। অনেক ভালো লাগে। ক্রাফট নিয়ে কাজ করতে কার না ভালো লাগে।
আচ্ছা। বলছিলাম যে কালকে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবা?
কালকে আমি ক্যাম্পাসে থাকব না। দেখা করতে হলে ভার্সিটি আসতে হবে।
আচ্ছা আমি বিকালে আসব।
আচ্ছা আসো।
পরেরদিন নিশি সুমনের সাথে দেখা করতে চলে যায়। পাশাপাশি দুইজন বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। নীরবতা কাটানোর জন্য সুমন বলল, কিছু বলছ না যে? কি হইছে? রাতে ঘুমাও না নাকি? চোখের নিচে কালি পরে গেছে।
ঘুম খুব কম হচ্ছে ইদানিং।
ঠিক মত ঘুমাতে হবে। ঘুম শরীরের জন্য খুব জরুরি।
আচ্ছা ঠিক মত ঘুমাব।
আবার নীরবতা। নিশি সুমনের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছো?
নাহ। রাগ করব কেন? রাগ করার মত কোন কাজ করছ কি?আমার সাথে ইদানিং আর কথা বল না।
কি কথা বলব বল? কোন কিছু বলার কি বাকি আছে?
তুমি কি অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়ায়ে গেছ?
না রে সোনা। সেই সাহস কখনো হয় নি।
তোমার কথার মধ্যে থেকে সোনা শব্দটা এখনো গেল না। তবে আমার খুব ভালো লাগে, যখন তুমি
কথার মধ্যে এই শব্দটা বল।যা বলার জন্য আসছ সেটা বল।
সেটাই তো বলতিছি।
বুঝলাম না।
তুমি আমাকে তোমার সাথে নিবা?
হটাঠ কি হল তোমার। সেদিন তো বলছিলা তুমি এসব নিয়ে ভাবতে চাও না।
সেদিনের পর থেকে আমি এক মুহূর্তের জন্যও তোমাকে ভুলে থাকতে পারি নি।
তাহলে এত দেরি করলে কেন?
কথা বলব বলব করে বলা হয়ে ওঠে নি।
আমি যদি অন্য কারো প্রেমে পরে যাইতাম, তখন কি হত?
আমি তাহলে আগে তোমাকে ঠিক মত সাইজ করতাম, তারপর ওই মেয়ের মুখ ভাঙ্গে দিতাম।
ভালোবাসো আমাকে?হুম। অনেক। অনেক বেশি ভালবাসি। তোমার থেকে বেশি।
সময় সেটা বলে দিবে। কখনো ছেড়ে যাবা না তো?
ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তোমার কাঁধে একটু মাথা রাখি প্লিজ?
অবশ্যয়।
নিশি সুমনের কাঁধে মাথা রাখল। রেখে বলল, বাবু আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না প্লিজ। আমি খুব কষ্ট পাব।
আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাব না সোনা।
সুমন পড়াশুনা শেষ করে লেখালেখির দিকে মনোযোগ দেয়। আর মাঝে মধ্যে দুই একটা অপারেশন করে। আর তার স্ত্রী নিশি শিশু ডাক্তার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।
সবসময় কপালে সুখ থাকে না। কিছু কিছু সময় সুখের সাথে দুঃখও চলে আসে, সুমন নিশির সংসার খুব ভালো মত চলছিল। দুইজনের মধ্যে ভালবাসা অটুট ছিল। কিন্তু স্বামী স্ত্রী যখন বাবা মা হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে পারে না তখন মনে হয় সব কিছু থেকেও কিছু নেই। কার জন্য করতিছি এসব কিছু।নিশি যখন জানতে পারে সে কখনো মা হতে পারবে না। তখন তার মনে হচ্ছিল যেন পায়ের নিছে থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। রাতে নিশি শুয়ে আছে। সুমন নিশির পেটে মাথা রেখে বলল, আমি কি তোমার জন্য যথেষ্ট না? বাচ্চা কেন লাগবে? নিশি তখন কান্না করে দেয়। সুমন নিশিকে বুকের মধ্যে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে থাকে। নিজেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না।
Md Sumsuzzaman Sumon
2 Comments
Friends
এস,এম,মেহেদী হাসান
@hassan-mehedi
আবু ছাবেদ হামীম
@achamim
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
মুক্তা বুলবুলি
@chandra-mukta
রিফাত মাহমুদ
@rifat-mahmud
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman
নীলিদ্রিমা তন্বী (রোদেলা )
@marzia-mahabub
Shomik Adhikary Nandon
@shomikadhikarynandon
সৃষ্টি
@premdevota


ভাল লিখেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।