-
অবশেষে পাইলাম। আহা! আহা কি শান্তি!!! আবশেষে আজ স্মার্ট হইতে পারিলাম। কিভাবে এই অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করিবো আমি!! কবি আমাকে ভাষা দেও। কোথায় আছো নিবারণ চক্রবর্তী? আমাকে ভাষা দেও!
প্রায় এক বছর আগে আমাদের ডেট আসিলো স্মার্ট কার্ড তুলিবার। অফিসকে বলিয়া কার্ড তুলিতে গেলাম। কিন্তু ভোর বেলায় গিয়াও দেখি- আমি কেন্দ্রের বাহিরে এক মাইল দূরে পড়িয়া আছি। মাথায় ছাতা দিয়া ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়াইয়া থাকিয়াও কেন্দ্রের কাছাকাছি যাইতে পারিলাম না। ততক্ষণে আমার পা দ্বয় আর আমার কথা শুনিতে চাইলো না। হাতে ছাতা ধরিয়া থাকার কারণে হাতটাও আর আমার কথা শুনিতে চাইলো না। তাই বাধ্য হইয়া আনস্মার্টই থাকিবো ভাবিয়া ফিরিয়া আসিলাম।
ইহার পর বহুদিবস অতিবাহিত হইলেও আমি স্মার্ট হওয়ার ইচ্ছা ব্যাক্ত করিলাম না। গত কয়েক মাস হইলো আমার উনি কহিলেন- “শোন নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে।” আমি আবারো পুরাতন স্মৃতিতে ফিরিয়া গেলাম- “কহিলাম না, আমি স্মার্ট কার্ড নিতে যাইবোনা।” আমার উনি কহিলেন- এবার অত ভীড় নাই। চাহিবা মাত্রই পাইবা। আমি আবার তাঁকে অন্ধ বিশ্বাস করি তাই অফিসে কহিয়া আবার গেলুম। কিন্তু যে লাউ সেই কদু!! প্রথম দিনে বিফল মনে আবারো ফিরিয়া আসিলাম, কারণ ১১টার পরে তাহাদের যন্ত্র বিকল হইয়া যায়। অনেকেই বহু দূর দূরান্ত থেকে আসিয়াছিলেন, তাহারা অনেক অনুনয় বিনয় করিলেন কিন্তু কোনো কাজ হইলো না। তাহারা ৭/৫ বুঝাইয়া আমাদেরকে ফিরাইয়া দিলেন। পরের দিন সকাল ৯-১১টার মধ্যে আসিলে আগে আমাদেরটাই হইবে শুনে আবারো অফিসে বলিয়া বৃষ্টি মাথায় নিয়া ৯টার আগেই নির্বাচন কমিশন অফিসে পৌঁছাইয়া গেলাম। কি খুশি আজ আমি স্মার্ট হইতে পারিবো! কিন্তু কোথায়! সেদিন শুধু হাত, আঙ্গুল, চোখ (কত বড় করিতে পারি) দেখিয়া, এক টুকরা কাগজ ধরাইয়া ছাড়িয়া দিলো। বাহিরে আসিয়া দেখিলাম ১৬ তারিখ দ্বীপ্রহর ২ ঘটিকা হইতে ৪ ঘটিকার মধ্যে তাহাদেরকে দর্শণ দিতে হইবে। অফিসে আর কতবার একই কাজের কথা বলিয়া যাওয়া যায়!!
তাহার পরেও আজ লজ্জা সরমের মাথা খাইয়া অফিসে বলিয়া গেলাম স্মার্ট হওয়ার জন্য স্মার্ট কার্ড নিতে। হেথায় গিয়া দেখিলাম সেখানে মচ্ছব বসিয়া গিয়াছে! আমি এ দেশের একজন অতি নগণ্য নাগরিক ! নরাধম। শুধু বসিয়া বসিয়া তাহাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবার চেষ্টা করিতেছিলাম। তাহাতে কাজের কাজ কিছুই হইতে ছিলো না। কারণ তাহাদের মধ্যাহ্ন ভোজন এর সময় চলিতেছিলো। তাই বসিয়া বসিয়া দেখিতেছিলাম। এক সময় অফিসের সবার মধ্যে একধরনের চাঞ্চল্য দেখিতে পাইলাম। আমি আমার চক্ষু, কর্ণ সজাগ করিলাম এবং যাহা বুঝিতে পারিলাম এক বিশেষ পেশার (Blue blood) (আমি জানি আপনারা বুঝিবেন আমি কোন পেশার কথা বুঝাইবার চেষ্টা করিতেছি) থেকে ফোন আসিয়াছে, তাহাদেরও স্মার্ট কার্ড দরকার। কিন্তু তাহাদেরকে তো আর ৯-১১ টায় বাঁধিবার উপায় নাই। তাই তক্ষুনি হস্ত আর চোখের দৃষ্টির কাজ এই দ্বীপ্রহরেই করিতে হইবে। যে মেশিন কিনা ১১টার পরে ব্লক হইয়া যায়। সেটা ভয়েই হয়তো সংগে সংগে সচল হইয়া গেলো। আমি সেইদিনের সেই মহিলার কথা চিন্তা করিতে লাগিলাম। যে কিনা সিলেট হইতে বহু কষ্ট করিয়া আসিয়াছিলো। যাকে কিনা সুন্দরভাবে নিয়ম বুঝাইয়া বিদায় দেওয়া হইয়াছিল। পাশাপাশি এটাও চিন্তা করিতেছিলাম, সেই বিশেষ পেশার সন্মানিত ব্যাক্তির কথা। এই ব্যাক্তির যখন ক্ষমতা প্রয়োগ করার ক্ষমতা চলিয়া যাইবে (অবসরে যাইবেন) তখন তিনি আসিবেন আমাদের মত সাইকোথ্যারাপিষ্ট এর কাছে!
এর মধ্যে ক্ষানিক পর আমার কার্ড এর জন্য ডাক পড়িল। ভয়ে ভয়ে আমি এগুতে লাগিলাম। গত কালকেই সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জানিতে পারিলাম ভুলে ভরা স্মার্ট কার্ড। কোন কোন কার্ডে নাকি বিশেষ দেশের নাম ও আসিয়াছে। যাক কম্পিত বক্ষে খামটা হাতে নিয়া খুলিলাম। এ যেন “Saint Jonas University” যাইবার পত্র পাইয়াছি!!, নাহ্ আমারটাতে ভুল নেই। মনে মনে বলিলাম আমি পাইয়াছি, আমি পাইয়াছি, “ইউরেকা………….. ইউরেকা।”
আমার উনিও আজ আমার সাথে স্মার্ট কার্ড লইতে যাইবার কথা ছিল। কিন্তু উনার DC অফিসে জরুরী মিটিং থাকায় উনি শেষ পর্যন্ত আমার সাথে যাইতে পারেন নাই। তাই আমার হাতে তাহার স্মার্ট কার্ড পাইবার চিরকুটটা ধরাইয়া দিয়াছিলেন। আমারটা পাইবার পরে আমি তাহারটার খোঁজ করিতে গেলাম। এ টেবিল, ঐ টেবিল ঘুরিতে থাকিলো স্মার্ট কার্ড পাইবার চিরকুট। আমি অসীম ধৈর্য্য নিয়া অপেক্ষা করিতে থাকিলাম। এক সময় তাহাদের মনে পড়িলো আমার কথা। তখন তাহারা গম্ভীর ভাবে আমাকে ডাকিয়া কহিলেন – আমাদের স্যারের সাথে কথা বলেন। ভয়ে আমার গলা শুকাইয়া গেলো। না জানি কি কহেন তিনি! দুরু দুরু বক্ষে তাহাদের স্যারের কাছে গেলাম। তিনি কহিলেন- সব ঠিক আছে, কিন্তু যে বক্সে ভাই-এর (আমার উনিকে) স্মার্ট কার্ডটা থাকার কথা, সেখানে কার্ডটা পাওয়া যাচ্ছে না। স্যার মহোদয় বলিলেন, “আপনি ওনার মোবাইল নম্বারটা দেন। কার্ড পাওয়া গেলে আমরা ভাইকে ফোন করিব।” আমি বলিলাম অপনাদের অনেক মেহেরবাণী।
মনে মনে কহিলাম- আমার উনি এই খবর শুনিয়া গান ধরিবেন- “আমি চাইলাম যারে, ভবে পাইলাম না তাঁরে, সে এখন আছে কোন বক্সের ভিতরে।” মনে মনে আরো কহিলাম বেশ হইয়াছে, এটা যদি আমার সাথে হইতো, তাহলে অফিসকে আমি আর বিশ্বাস করাতে পারতাম না। কিন্তু তাঁরতো আর সেই জবাবদিহীতার ব্যাপার নেই, তিনি যখন ইচ্ছা তখনি সেথা যেতে পারবেন।
ধন্যবাদ।
১৬/০৯/২০১৮1 Comment
Friends
Hasina Sultana Rima Rima
@hasinasultanarimarima
আনিকা মারজান ইরা
@anikamarjanera
Marketing Online
@marketingonline
Munmun Chakraborty
@munmunchakraborty
Md Babul Hossain
@mdbabulhossain
আনিকা ইসলাম হৃদিতা
@hridita
আয়মন সিদ্দিকা উর্মি
@asurmi85
Song For Peace
@songforpeace
Sahriar Rubaiat
@sahriarrubaiat


😯😯