Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 11 months ago

    কেউ কি কয়লার আয়রন দেখেছেন?
    আমাদের বাসায় কয়লার আয়রন ছিলো , তাতে গরম কয়লা ঢাকনা খুলে দিতে হতো।এত সুন্দর ছিলো! আয়রন টা ছিলো লোহার।
    পরবর্তীতে আমি আম্মাকে ওই আয়রনটা রেখে দিতে বলেছিলাম, আমি নিয়ে আসবো জন্য।
    আমার আম্মার খুব নেশা ছিলো পুরনো জামা কাপড় , ভাংগা হাড়ি পাতিল দিয়ে নতুন হাঁড়ি পাতিল কেনার।
    একবার হয়েছে কি, আমার ছোট ভাইয়ের নতুন প্যান্ট ( যেটা সে মাত্র একবারই পড়েছে ) সেটা হাঁড়ি পাতিলওয়ালাকে দিয়ে নতুন হাঁড়ি কিনেছিলেন। ছোট ভাই এসেতো খুব রাগারাগি করেছিলো আম্মার সাথে, আম্মাও একদম যেন চুপ হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ তিনিও বুঝতে পারেননি যে ওটা নতুন প্যান্ট ছিলো।
    আর সেই ফেরীওয়ালারাও এমন সময়ে আসতো, যখন বাসায় কোন পুরুষ থাকতো না। কতযে হাঁড়ি পাতিল কিনতেন আম্মা!
    আমার এমন কোন শখ নেই।আসলে বলা যায় হাঁড়ি পাতিল কেনার প্রয়োজন ই পড়েনি।কারণ তুহিনের ছিলো এগুলো কেনার শখ। আমি যখন লেখা পড়ার মাঝে ছুটিতে সংসার করতে আসতাম, তখন দেখতাম তুহিন নতুন নতুন হাঁড়ি পাতিল , বাসার প্রয়োজনীয় সব জিনিস পত্র কিনে রাখতো।
    আমি জানি না আর সবাই এমন কি না? তবে আমার আব্বা বা ভাইদেরকে এমন দেখি নাই।
    বানিজ্য মেলায় গেলে বিশাল বিশাল হাঁড়ি পাতিল কিনে ফেলতো। আমার পরশিরা বলতেন- আপনার ছেলে- মেয়ে হলে ডেকোরেটর থেকে কিছু নিয়ে আসতে হবে না।
    আসলেই আমার বাসায় আমি ছেলেদের জন্মদিনে ২০/৩০জনের রান্না করতাম সেই হাঁড়িতে। রোষ্টের জন্য ও বিশাল পাতিল আছে। আসলে ওই হাঁড়িগুলো আমাদের বাসা বাড়ির গ্যাসের চুলায় রান্না করার উপযোগী না, তবুও তুহিন- উপরে গরম কয়লা দিয়ে নীচে তাওয়া দিয়ে দিতো।
    আমি কখনো রান্না করলেও সে হাঁড়ি চুলা থেকে নামানোর শক্তি আমার ছিলো না।তুহিনই নামাতো।আসলে তুহিন খুব পছন্দ করতো সবাইকে খাওয়াতে।
    যাক, যে বিষয়ে বলছিলাম – আমার বাসায় যে ইলেকট্রনিকস জিনিস পত্র আছে , সেগুলো শুধু দেখার জন্য। কারণ এত্ত বিদ্যুৎ বিল আসে যে, ভয়ে আমি সেগুলো ব্যবহার করিনা। সারাদিন বাসায় আমরা থাকি না।” থ্রি ইডিয়টস ” মুভির ফারহানের বাবার মতো বলতে হয়- একটা এসি আছে বাসায়, সেটাও ছেলেদের ঘরে। যেন তারা ঠান্ডা মাথায় পড়াশোনা করতে পারে।
    নিজে গরমে সিদ্ধ হয়েও ফ্যান চালানোর সাহস পাই না।
    এত ত্যাগ স্বীকারের পরেও প্রতিমাসে ৪০০০/-+ বিল দিতে হয়। বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেছিলাম, তাঁরা এসে বলেছিলেন -মিটার চেঞ্জ করতে হবে। সেটাও করেছিলাম।
    এরপর এলো স্মার্ট মিটার, আমিতো মহা খুশীতে ছিলাম।যাক, এবার অন্ততঃ নিজে যতটুকু ব্যবহার করবো তার বিলটাই দিবো।
    কিন্তু দেখা গেলো কিছুদিন বিল কম আসলেও আবারও যেই লাউ, সেই কদু।
    অফিসে শাড়ি পরবো জন্য ব্লাউজ বের করে দেখি, কোন অবস্থায় এটাকে আয়রন না করে পরা যাবে না। রাতও অনেক হয়ে গেছে ,ছেলেদেরকে লন্ড্রিতে পাঠানো ঠিক হবে না।
    কি করা যায়? ভাবতে ভাবতে আমাদের সেই কয়লার আয়রন এর কথা মনে পড়ে গেল। মাথায় যেন ১০০ পাওয়ার এর ফিলিপস বাত্তি জ্বলে উঠলো।
    চলে গেলাম রান্নাঘরে, গ্যাসের চুলা অন করে আয়রনটা চুলায় বসিয়ে দিয়ে গরম করে নিয়ে সেরে ফেললাম আমার কাজ😜🤣😆।
    যথারীতি পরেরদিন ফিটফাট হয়ে অফিসে গেলাম🫠🤩।
    এইধরনের জোড়াতালি বুদ্ধির জোরেই আমি সংসারটাকে টেনে নিয়ে চলছি, আলহামদুলিল্লাহ।

    5
    2 Comments

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar