Profile Photo

Raju BaruaOffline

  • Raju-Barua
  • Profile picture of Raju Barua

    Raju Barua

    1 year, 7 months ago

    সাধারণ জনগণের কষ্ট , রাজনীতি মারপ্যাঁচ ও আমার কথা।
    —————————–

    আমরা সাধারণ বাঙালি জনগণ বাজনা না বুঝে নাচতে ভালোবাসি। শেষে কোমড়ের ব্যাথায় আমাদের মারাসারা।

    কথাটা কেন বলছি এই উপমহাদেশে রাজনীতি পটপরিবর্তনে যতবার হয়। ততবারই সাধারণ জনগণেরই কষ্ট অত্যাধিক। আর রাজনৈতিক গণ আমাদের যুগের পর যুগ গৃহ ভৃত্যের গল্প শুনিয়ে নিজেদের পথ সুগম করে নেয়। আর আমরা তাদের দেখানো স্বপ্নের ফাঁদে পা দিয়ে! বোকা ভৃত্যের মত নিজের ভাগ্যের দোষ দিয়ে দিন গত করি।

    এবার তাহলে আসুন আপনাদের সেই গৃহ ভৃত্যের গল্প শোনায়ঃ- এক গ্রামে দুটো সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাস ছিল। দুই পরিবারে দুইজন খুব বিশ্বস্ত ভৃত্য (কাজের লোক) ছিল। কিন্তুু ব্যাপার হল এখানে এক পরিবারের কর্তা ছিল একটু কিপটে আর ঠক প্রতারক টাইপের। অপর দিকে অন্য পরিবারের কর্তা ছিল উদার আর দয়ালু। সেই সবসময় ভৃত্যকে নিজের সন্তানের মত আদর স্নেহ করত। এবং তার সব প্রাপ্য সঠিক নিয়মে বুঝিয়ে দিত। এদিকে তার ভৃত্য ছিল একদম সহজসরল কখনো নিজের কাজের প্রতি অবহেলা বা চুরি করত না। উল্টো সেই মনিবের কাজ গুলো কে যত্নের সাথে শেষ করত। কর্তা ও তার প্রতি সদ্ব্যবহার সদয় ভাব দেখিয়ে থাকত।

    অপর দিকে যে পরিবারের কর্তা ঠক টাইপের সেই পরিবারের। ভৃত্য ছিল কাজের প্রতি অনীহা আর চোর প্রকৃতির এবং সবসময় কর্তা মুখেমুখে তর্ক করত। কর্তা ও তাকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজ করিয়ে নিত। এই নিয়ে এই কর্তা ও ভৃত্য সবসময় নিজেদের প্রতারণা বজায় রেখে চলতে লাগলো। এই ঠক কর্তা লক্ষ করল অপর পরিবারের ভৃত্যটা তার ভৃত্যের চেয়ে বহুগুণ ভালো। সেই তার মনিবকে সমীহ করে চলে। সবসময় মনিবের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকে। নিজের দ্বায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ কর্ম করে থাকে। সেই তখন মনমনে ভাবত কিভাবে এমন একজন ভালো ভৃত্য পাওয়া যায়। সেই একদিন চিন্তা করে দেখলো অন্য ভালো ভৃত্য খোঁজ করার চেয়ে ঐ পরিবারের ভৃত্যকে নিজের পক্ষে নিয়ে আসলে কেমন হয়। সেই এর মধ্যে লক্ষ করল ঐ পরিবারের ভৃত্যটি সহজসরল প্রকৃতির। সেই তখন বুদ্ধি আটলো ভৃত্যের সরল স্বভাবকে কাজে লাগিয়ে তাকে তার পরিবারের ভৃত্য হিসেবে নিয়োগ দেবে।

    সেই একদিন সহজ সরল ভৃত্যকে জিজ্ঞেস করল কি হে তোমার কি খবর। ভৃত্য তখন তাকে সম্মান করে নিজের কুশল জানাল। আর একদিন তাকে ডেকে গঞ্জের বাজারে বসিয়ে মিষ্টি চা খাওয়ালো। এর পর আর একদিন রাস্তা ধারে দাঁড় করিয়ে গল্প জুড়িয়ে দিল। এক ফাঁকে তার কর্তার পরিবারের সাথে তার সর্ম্পকের কথা জিজ্ঞেস করল। তাকে কেমন যত্ন আর্তি করে তার জিজ্ঞেস করল। এমনকি তাকে কখন কখন খাবার খেতে দেয় তা ও জানতে চাইল।

    ভৃত্য তার সরলমনে সব বলতে থাকলো। এ-সব কথা শুনতে শুনতে হটাৎ করে প্রতারক কর্তা রেগে অগ্নি শর্মা হয়ে গেল। বলল কি বলো তোমাকে সেই সকালে খেতে দেয়, তারপর সেই দুপুরে খেতে দেয় আর সেই রাতে খেতে দেয়। আর এটাকে তুমি সঠিক যত্ন বলছো। সত্যিই তুমি বড্ড বোকা। তুমি যদি আমার কাছে চাকরি করতে। তাহলে তোমাকে আমি সকাল দুপুর রাতে খেতে দিতাম। আর এই প্রতারক পরিবার দেখ তোমাকে সেই সকালে খেতে দেয়, আর সেই দুপুরে তারপর সেই রাতে। না না তুমি যতই ভালো বলো তুমি এটা ভালো বলতে পার না।

    যখন দেখল সরল ভৃত্য তার কথার প্যাচঁ ধরতে পারেনি।তখন সেই তার আসল প্রস্তাব দিল। বলল তুমি এককাজ করো ঐ বাড়ির কাজ ছেড়ে দিয়ে আমার বাড়িতে কাজ করো। আমি তোমাকে খেতে সকালে দেবে, দুপুরে দেব, রাত্রেরে দেব। ভৃত্য ও তার প্রলোভনে পরে ভালো পরিবারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে। এই অসৎ পরিবারের ওখানে চাকরি নিয়ে নিল। এবং একসময় যথারীতি বুঝতে পারল সেই কতো বড় ভুল করেছে। সেই তখন নিজের ভাগ্যের দোষ দিয়ে দিন কাটাতে লাগলো।

    ঠিক তেমন আমার সাধারণ জনগণ ও রাজনীতির চালে পরে নিজেদের কষ্টে নিমজ্জিত করে থাকি।

    🖋️ রাজু বড়ুয়া।
    চট্টগ্রাম
    ২০ ই অক্টোবর ২০২৪.

    #rajubarua #আমারব্লগ #foryouシpage #viralpost2024 #viewers #foryouシ #রাজনৈতিক #রাজনীতি #দুঃখ #গল্প #নিজস্বভাবনা

Skip to toolbar