Profile Photo

Pritam BiswasOffline

  • Pritam-Biswas
  • Profile picture of Pritam Biswas

    Pritam Biswas

    1 year, 6 months ago

    কিশোর বয়সের প্রেম
    প্রীতম বিশ্বাস

    গ্রীষ্মের বিকেল, অশ্বিনী মাসের আকাশ রক্তবর্ণে রঙিন। মাঠে সোনালি রোদ ছড়িয়ে পড়ছে। হাওয়ায় পলাশের ফুলের মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। গ্রামের পথ ধরে খেলা শেষে প্রীতম বাড়ি ফিরছিল। তার মনটাও যেন খোলামেলা, নিঃসঙ্গ, কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছিল—তবে কী খুঁজছিল সে নিজেও জানত না। মাঝে মাঝে আকাশে ঘুরে বেড়ানো পাখিদের দিকে তাকিয়ে ভাবত, তাদের মতো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারলে হয়তো নিজের খুঁজে পাওয়া জীবনের রহস্যও মিটে যেত।

    ঠিক তখন, মাঠের শেষে, এক তরুণী মেয়ে সবে উঠে আসছিল। তার সিল্কের শাড়ির কোণা বাতাসে উড়ছিল। প্রীতম মনে করেছিল, সে কখনও তার জীবনে এমন সুন্দর কিছু দেখেনি। সেই মেয়ে তার দিকে একবার চোখ তুলে তাকালো, আর প্রীতম বুঝতে পারল, যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে। মেয়েটির মধ্যে কি যেন ছিল, যা প্রীতমের হৃদয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করেছিল। প্রীতমের পায়ের পাতা একদম থমকে গিয়েছিল। তার অজ্ঞাত এক অনুভূতি, এক অজানা আকর্ষণ, তাকে ধীরে ধীরে ওই মেয়েটির কাছে টেনে নিচ্ছিল।

    ততক্ষণে মেয়েটি কাছে চলে এসেছে। প্রীতম অদ্ভুতভাবে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
    “আপনি কোথায় যাচ্ছেন?” প্রীতম অবশেষে কথা বলল, কিন্তু তার গলার স্বর একটুও স্বাভাবিক ছিল না।
    মেয়েটি এক পলক প্রীতমের দিকে তাকিয়ে, মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, “বাড়ি। তুমি?”
    “আমি প্রীতম, শুধু তোমার নাম জানতে চেয়েছিলাম,” প্রীতম কিছুটা থেমে থেমে বলল।
    মেয়েটি একটু মুচকি হেসে বলল, “আমার নাম মায়া।”

    প্রীতম হঠাৎ কী জানি অনুভব করল, মনে হলো পৃথিবীর সমস্ত শব্দ হারিয়ে গেছে। তার সমস্ত দৃষ্টি একমাত্র মায়ার দিকে নিবদ্ধ হয়ে রইল। আর মায়া, যেন প্রীতমের চেহারার সমস্ত গোপন ব্যথা দেখেছিল, তার মুখে এক অবর্ণনীয় দয়ার ভাব ছিল।

    “তুমি কি কখনো এই মাঠের পথে একা হাঁটতে আসো?” প্রীতম সাহস জোগাল।
    মায়া চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, তার চোখে তখন এক অদ্ভুত দৃষ্টি, যেন সে কিছু বলতে চায়, কিন্তু পারছে না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “হাঁ, মাঝে মাঝে আসি।”

    প্রীতমের ভিতর আবার একই প্রশ্ন ঘুরতে লাগল। “তুমি জানো না, তুমি আমাকে কী অনুভব করাচ্ছো?”

    মায়া যেন পুরো ব্যাপারটি বুঝে গেছিল। সে তার দিকে এক মিষ্টি দৃষ্টি দিয়ে বলল, “জানি, কিন্তু তোমার মতো কিশোরদের জন্য এই অনুভূতিগুলি কখনও স্থায়ী হয় না।”

    প্রীতম এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেল। তার মধ্যে এক তীব্র আক্ষেপ, এক মনের মধ্যে ঝড় বয়ে গেল।
    “তাহলে তুমি কি আমাকে এড়িয়ে চলবে?” প্রীতম কষ্টে বলল।
    “না,” মায়া একটু নত হয়ে, গভীরভাবে বলল, “আমি তোমাকে এড়িয়ে চলবো না। কিন্তু মনে রেখো, জীবনে কিছু মুহূর্ত শুধু অনুভূতির মধ্যে থাকতে হয়, তাদের পূর্ণতা কখনো আসে না।”

    প্রীতম একটু থেমে গেল, যেন মায়ার কথাগুলো তার জীবনের এক অমোচনীয় সত্য হয়ে গিয়েছিল। সে বুঝতে পারছিল না, কেন মায়া তার সাথে এমন কথা বলছে। কিন্তু, তার হৃদয় তো এক নতুন পথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল—যে পথের শেষ কোথাও ছিল না, কিন্তু সেই পথটাই ছিল তার অদৃশ্য ভবিষ্যৎ।

    “তুমি কি আবার আমার সঙ্গে কথা বলবে?” প্রীতম প্রশ্ন করল, মনে এক আশার মৃদু আলো জ্বলছিল।
    মায়া এক ক্ষণ চুপ থেকে বলল, “তুমি যদি তোমার হৃদয়ের কথা শুনে জীবনকে না বদলাতে চাও, তাহলে হয়তো আবার দেখা হবে।”

    এই কথাগুলি প্রীতমের মনে গেঁথে রইল। মায়া চলে গেলে, সে একা দাঁড়িয়ে রইল, যেন সেই স্নিগ্ধ বিকেলটি এক নিরব সাক্ষী হয়ে গিয়েছিল তাদের মধ্যে শুরুর পথে।

    2
    1 Comment
Skip to toolbar