-
উপদেশমূলক গল্প-১৬
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেও চাকরি পাচ্ছিল না এক যুবক। হঠাৎ একদিন এক চিড়িয়াখানায় তার চাকরি হয়ে গেল।প্রথমদিন কর্তৃপক্ষ তাকে ডেকে বলল, চিড়িয়াখানার বাঘটা হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় খাঁচাটা শূন্য পড়ে আছে। তুমি যদি খাঁচার ভেতর একটা বাঘের পোশাক পড়ে বাঘের মতো তর্জন গর্জন করতে পারো তাহলে মাসে পনেরো হাজার টাকা পাবে।
বেকার ছেলেটা তাতেই রাজি।
রোজ চিড়িয়াখানা খোলার আগে সে বাঘের পোশাক পরে খাঁচায় ঢুকে পড়ে। দর্শকের সামনে হালুম হালুম আওয়াজ করে, নানান কায়দা কসরত দেখিয়ে বিনোদন দেয়।
দেখতে দেখতে চিড়িয়াখানার দর্শক সমাগম বেড়ে গেল। প্রতিদিন বাঘের খাঁচার সামনে বিশাল ভিড়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও খুশি হয়ে ছেলেটার বেতন বাড়িয়ে দিল।
দিনকাল ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন ঘটল এক বিপত্তি! বাঘের খাঁচার পাশেই ছিল সিংহের খাঁচা। মাঝখানে লোহার জালের বেড়া। একদিন ছেলেটি সেই বেড়া ধরে লাফিয়ে নেচে কুঁদে দর্শকদের মজা দিতে দিতে পুরাতন লোহার জাল ভেঙে গিয়ে পড়ল সিংহের খাঁচার ভিতরে।
এখন কি হবে? পৈতৃক প্রাণটা বুঝি আজ সিংহের হাতেই যায়! ভয়ে জবুথবু হয়ে খাঁচার এক কোণে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগল বেচারা।
এদিকে সিংহ প্রথমে কিছুক্ষণ চুপচাপ ছেলেটিকে নিরীক্ষণ করল, তারপর গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল। ক্ষুধার্ত মাংসাশী জানোয়ারটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগল শিকারের দিকে। ভয়ে তো ছেলেটার প্রায় হার্ট এটাক হবার অবস্থা! প্রাণপণে সে স্রষ্টাকে ডাকতে লাগল।
ঠিক তখন ছেলেটিকে অবাক করে সিংহ বলে উঠল, “ভাই, এত ভয় পাবেন না, আমিও একজন মাস্টার্স পাশ বেকার! গত দুই বছর ধরে এই চিড়িয়াখানায় চাকরি করি।”
আসলে গত বছরগুলোতে শিক্ষার মানের সাথে চাকুরী খাতে এতটাই বৈষম্য তৈরী হয়েছে যে, এর থেকে ভালোভাবে আর প্রতিবাদ করতে পারলাম না।
1 Comment

Md. Safi Mahmud
তরুণ লেখক
আমি আমাকে আমার আমিতে অসমাপ্তি, আজীবন অটুট অবিচল
Friends
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel
মো দানিয়াল আরাফাত (প্রমিস)
@md-daniel-araphat-promice
যুবক অনার্য
@jajan
Md Majnur Rahman John (Krishno John)
@krishno-john
মো: জানে আলম জিয়াদ
@jead18
Drako Shajib
@drako
কাব্য রঙ
@mahbuba-hasin
নোমান খালভী
@nomankhalovi
আর্য
@arjo

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘণত্ব হিসেব করলে বাংলাদেশ প্রথমদিকেই থাকার কথা। কিন্তু মানের প্রশ্নে একরাশ নিরবতা