Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 4 months ago

    আমার মা ছিলেন খুবই সাধারণ একজন। আব্বা পুলিশ অফিসার ছিলেন। তাই আমাদের “Orderly” ছিল। কিন্তু আমার আব্বা এবং আম্মা পারতঃপক্ষে তাঁদের দিয়ে কাজ করাতেন না। বাজার করত আমার মেজ ভাই। আম্মা গরু ছাগল পালতেন। এ সবের খড় কাঁটা থেকে শুরু করে সব কিছুই আমার ভাইরা করত। (আমার মেজ ভাই প্রতি বৃহষ্পতিবার আমেরিকা থেকে আমাকে ফোন দেয়। কারণ এই দিন তার লন্ড্রি করার দায়িত্ব। সে ফোন করেই বলে “রুনা, কি করছিস্।” তাঁর পর শুরু করে “আম্মা আমাকে দিয়ে গরুর ছাগলের ঘাস কাঁটাতো, আব্বার কোথাও বদলী হলে আমাকে গরু নিয়ে হেঁটে ২ দিন আগেই পাঠিয়ে দিত। সেই কাজ আমেরিকায় আসার পর এখনও চলছে। তোঁর ভাবী আমাকে দিয়ে লন্ড্রি করায়।” আমি তখন বলি – আপনিতো এই কাজ করতে পছন্দ করেন, ভাবীতো সব কাজ করতে পারে আর এই কাজ পারবেনা?)। আব্বার
    “Orderly” যারা ছিলেন তাঁদের সাথে আম্মা কখনোই খারাপ ব্যবহার করেন নি, তাঁরা আম্মাকে ভাবী বলে ডাকতেন, আর আমরা তাঁদের কাক্কু বলে ডাকতাম। কখনোই বিলাসী জীবন যাপন করতে দেখিনি আমার আম্মাকে। থানা কোয়ার্টার থেকে যখন পাড়ায় (কোয়ার্টারের বাহিরের বাসায়) আসলাম তখনও আম্মার সবার সাথে অনেক অনেক ভাব ছিল। সময় পেলেই তিনি সবার বাসায় যেতেন, কিন্তু কখনও কারো বাসায় কিছুই খেতেন না তিনি। তবে কেউ আমাদের বাসায় আসলে তাঁকে আম্মা না খাইয়ে ছাড়তেন না। আমরা যদি খেতে দেরী করতাম তাহলে আম্মা অস্থির হয়ে যেতেন। বাড়িতে কেউ এলেই আম্মা তাঁকে খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তেন আর আব্বা মশাড়ি টাঙ্গানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন মানে যে এসেছেন তাঁকে রাতে যেতে দেওয়া হবে না থাকতে হবে। এই ছিলেন আমার আম্মা আর আব্বা।
    আমার এখনও মনে আছে, আব্বা আম্মার জন্য নতুন শাড়ী কিনে নিয়ে এসেছেন, এরপর আম্মা এবং আমাকে নিয়ে কল্পনা হলে (রাজশাহীর) সিনেমা দেখতে গেছেন। শুধু তাই না থানার দায়িত্বে যারা থাকেন তাঁদের জন্য ফ্রি বক্সের টিকিট, কিন্তু আমার আব্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেঁটেছেন। এই দেখে সিনেমা হলের একজন এসে বলেছিল- স্যার, আপনি কেন লাইনে দাঁড়াবেন? আপনি বসেন, আপনার জন্য সিনেমার টিকিট ফ্রি। এ কথাগুলো শুনে আব্বা তাঁকে বলেছিলেন- আমাকে টিকিট কাঁটতে দাও, না হলে তোমাকে ধরে নিয়ে জেলে ঢুকাবো ঘুষ দেওয়ার অপরাধে। সিনেমার (Movie) নাম ছিল – “দিন যায় কথা থাকে।” নায়ক নায়িকা কে কে ছিল তা মনে নেই কিন্তু আব্বা আম্মার এ ঘটনাগুলো ছবির মত এখনও চোখের সামনে ভাসছে।

    আম্মা আমাকে লায়লা বলে ডাকতেন, কিন্তু মাঝে মাঝে “তোতন” বলেও ডাকতেন। আজ আম্মার মৃত্যুবাষির্কী। এ মাসের ৩১ তারিখে আব্বার। আল্লাহ্ তালা তাদের বেহেস্ত নসিব করুন।
    আমিন।

    5
    2 Comments

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar