-
একজন ভদ্রলোক
মার্কসবাদী সাহিত্যে লুম্পেন শব্দটা খুব দেখা যায়। এরা মধ্যবিত্ত। চলে ধনীদের কৃপায়। ঠাঁট-বাটই এদের পুঁজি। পার্থ সাদিক তেমন কিনা জানিনা। তবে মার্কসবাদ তার পছন্দ। কথায় কথায় মিশেল ফুঁকোর উদ্ধৃতি ঝাড়ে। লোকজন তাকে পন্ডিত বলেই জানে। যারা ঘনিষ্ঠ হয়, তারা বলে–আরে থো; হেয় একটা বাটপার। আধঘন্টা কথা কবি, তারপর দেখবি, চুপচুপ কইরা টাকা চাইবো। একদম পাত্তা দিবি না…।
লোকটা অফিস করার মতন ভোরবেলায় এসে পাবলিক লাইব্রেরির কেন্টিনে বসে দুই/ তিনটা ইংরেজি,বাংলা পত্রিকায় চোখ বুলায়। ততক্ষণে পরিচিত কেউ এসে বলে–পার্থ দা, নাস্তা করছেন?
বসেন, প্লিজ। হেডিংগুলা দেখেন; দেশের অবস্থা একদম যা তা! এতো মার্ডার, ভাবা যায়!
হয়ে গেল ব্রেকফাস্ট। এরপর লোকটা লাইব্রেরিতে ঢোকে। যতনা পড়ার জন্য, তারচেয়ে বেশি দরকার ওয়াশরুম ব্যবহার। লাইব্রেরিতে ছাত্র-ছাত্রী বেড়ে গেলে রাস্তা পেরিয়ে পার্কে ঢুকে আমাকে খোঁজে। দেখা হয়ে গেলে বলে–শ্রেফ আপনার জন্য আসি।
পার্থ দাকে আমি ভালোবাসি। ওনাকে দেখে ইউরোপীয় টকেটিভদের ধারণা পাই। লোকজন বেড়ে গেলে দেখনদারী ভঙ্গিতে ইংরেজি ফুটায়।
আমি বলি–বাংলাতো মিষ্টি ভাষা।
অল রাইট। বাট, ছোটলোকরা বাংলায় কথা বলে।
দেশ নিয়ে লোকটা দুশ্চিন্তায় ভোগে। এটা কী নিউ-কলোনিয়াল যুগ চলছে না?
আমি বলি–এজন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে।
লোকটা হাসে–আপনি জ্ঞানি মানুষ। কিন্তু সমস্যা হইল, গরীব লোকদের সঙ্গে চলেন। কী লাভ বলেন তো!
আমি বলি–আপনার কোটটা পুরান হয়ে গেছে। টাইটা ধোন না কেন!
লোকটা ম্লান হেসে বলে–ম্যাসে থাকি। স্ট্রগল করতে হয়। মেয়েটা এইবার কলেজে উঠবে। একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে এসে একসঙ্গে থাকবো ভবতেছি।
মানুষ এবং মুখোশ একাকার হয়ে থাকে বলে দুঃখি লোকদের চিনতে ভুল করি। আমি বলি–পার্থ দা, এক দিন সময় দিলে আপনাকে একটা সাফারি স্যুট বানিয়ে দেবো। খুব মানাবে।
লোকটা হাসে–থ্যাঙ্কস ব্রাদার। কিন্তু সময় দিতে পারবো কিনা জানিনা।
হাতঘড়ি দেখে পার্থ সাদিক উঠে দাঁড়ায়। মৃদু হেসে বলে–আপনার পাশে বসতে কেন ভালোলাগে জানেন? বিকজ, ইউ আর এ রিয়েল প্রলেতারিয়েত।
আমি হাসি–এখন কোথায় যাবেন?
মতিঝিলের একটা ব্যাংকে যাবো। একজন ব্যাংকারের সঙ্গে লাঞ্চ করবো। বাঙালি মধ্যবিত্তের মন এখনো বড় হয় নাই। আচ্ছা, দিবি যখন পাঁচশ কেন, দুই হাজার টাকা দে। একটা ভালো বই কিনতে কত লাগে আপনিতো জানেন!
আরেক কাপ চা খাবেন?
নো থ্যাঙ্কস। ছোটলোকদের সঙ্গে লোকাল বাসে চড়া বিরাট ঝামেলা; এইটুক পথ যেতে ঘাম ছুটে যাবে।
লোকটার হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বলি–মতিঝিলের ফুটপাতে দারুণ দারুণ টাই পাওয়া যায়..।
লোকটা হাসে। যেতে যেতে ঘাড় ঘুরিয়ে টা টা দেয়।
এরাই কী লুম্পেন? ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।পথের দিকে চেয়ে থাকি।3 Comments
Friends
Razia Dalia
@raziadalia
45abu Kalam
@45abukalam
মো:নুর আলম
@nur-mpngmail-com
Tanvir Hosen
@tanvirhosen
প্রান্ত কুমার (শুভ)
@prantaroy-shuvo
Mahbuba Jahan
@mahbubajahan
নুসরাত জাহান বুশরা
@nusratjahan166909gmail-com
Syed Touhidul Islam
@syedtouhidulislam
TAPAN CHANDRA SHILL
@tapanchandrashill


আমিও বুঝে উঠতে পারি না