Profile Photo

Kanej-RoksanaOffline

  • Kanej-Roksana
  • Profile picture of Kanej-Roksana

    Kanej-Roksana

    • 1 year, 5 months ago

    মিনিয়েচার কৃষক

    রিয়াজ সাহেবের অনেক দিনের ইচ্ছা তিনি কৃষি কাজ করবেন। পাথরঘাটায় তার নানার বিশাল জমিদারি ছিল। কৃষি কাজ বরাবরই তার কাছে অনেক ভালো লাগে। যখনই তিনি গ্রাফিক্সের কাজ করতে করতে বিরক্ত হয়ে যেতেন তখনই পিসিতে কৃষি বিষয়ক নানা ইউটিউব ভিডিও দেখতেন। এমনি করে মনে মনে তিনি কখনো মাল্টার চাষ করতেন, কখনো ড্রাগন ফলের চাষ করতেন। মনে কৃষক হওয়ার একটা বিশাল স্বপ্ন লালন করতে করতে তিনি বাথরুমে ‘মনরে তুমি কৃষি কাজ জানো না বলে’ একটা টান দিতেন। রিয়াজ সাহেব একজন চিত্রশিল্পী গানটাও তিনি মাঝে মাঝে গাইতেন শখ করে।

    রিয়াজ সাহেব মনে মনে স্বপ্ন দেখেন একদিন তিনি সত্যিকারের কৃষক হবেন। নাগরিক যন্ত্রণা তার জীবনে থাকবে না। জ্যাম ধুলো বালি ও নোংরা ঢাকা শহরে একেবারেই তাকে বাস করতে হবে না। মাঠে ঘাটে খেতে খামারে কাজ করবেন। অর্গানিক সার ব্যবহার করে অর্গানিক ফসল ফলাবেন। তার শরিরে নোংরা কেমিক্যাল ঢুকতে দিবেন না। বলাই বাহুল্য তিনি ফরহাদ মাজহারের নয়া কৃষি আন্দোলনের একজন সমর্থক। কিন্তু ওই যে একটা ব্যাপার সঞ্চয় বলতে তার জীবনে কিছু নেই। যখনই আয় বাড়ে তিনি অনেক বেশি টাকা ভাড়ায় ও গাড়িতে খরচ করে ফেলেন। আয় অনুযায়ী ব্যয় করতে তো পারেনই না। তার উপরে যখন তখন লোকের কাছ থেকে টাকা ধার করে ফেলেন। ব্যাপারটা তার শিল্পী জীবনের সাথে খাপ খেয়ে গেছে। অনেকগুলো টাকা আয় করলে তা পূর্বের ধার দেনা শোধে চলে যায়।

    এভাবেই বছরের পর বছর চলে যাচ্ছিল। একদিন নিজের উপর রাগ করেই তিনি একটা মাটির টব কিনে সেটাতে মাটি ভরার ব্যবস্থা করে ফেললেন। তারপর কিছু মরিচের বিচি মাটিতে পুতে দিলেন। কিছুদিন পরে সেই টবে মরিচ গাছের চারারা উঁকি দিল। সূর্যের আলোর খোঁজে ইতিউতি তাকাতে লাগলো। তিনি নিয়ম করে চারা গাছে পানি দিতে লাগলেন। ওহ, একদিন দেখি গাছগুলোতে মরিচও ধরলো। আনন্দে খুশিতে রিয়াজ সাহেব একটা রিল বানিয়ে ফেইসবুকে আপলোড করে ফেললেন। আবেগে তিনি আরো কয়েকটি টব কিনে পুই ডাটা বুনে ফেললেন। এরপরে লাগালেন কয়েকটা সিমের চারা সিম গাছের লতা পাতা তার ব্যালকনি আকড়ে ধরে বাড়তে লাগলো। একদিন সেই ব্যালকনির গ্রিলে সীম গাছের বেগনি সাদা ফুলে ছেয়ে গেল।

    রিয়াজ সাহেবের নিজেকে একজন সফল কৃষক মনে হলো। কারণে অকারণে তিনি ব্যালকনির দিকে চেয়ে থাকতেন। তখন তার মনে ধারণাটি একেবারে পোক্ত হয়ে গেল যে কৃষি কাজ না করাই মানব জাতির দুঃখ দুর্দশার এবং তার দুঃখ কষ্টের একমাত্র কারণ। অবশ্যই অনতিবিলম্বে তাকে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে একজন কৃষক হতে হবে। কিন্তু কী এক গোলযোগে তার আর ঢাকা ছাড়া হলো না। ব্যালকনির গাছগুলোই তার চোখের শান্তি হয়ে রইলো।

Skip to toolbar