Profile Photo

Jannatul FerdausiOffline

  • ferdausi
  • Profile picture of Jannatul Ferdausi

    Jannatul Ferdausi

    1 year ago

    📜 গীবত-গুনী সমিতির গপ্পো 📜
    (জে,এফ,)
    ====================================================================

    বাড়ির গলির মাথায় একখানা ছায়াঘেরা চায়ের দোকান।
    সেখানে সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলে ‘আলোর মিছিল’।
    না না, কোনো সংগঠন নয়—এ এক ধরনের সামাজিক সাধুসমিতি।
    যার সদস্যরা হলেন “গীবত-গুনী”।
    তাঁদের মুখে এমন তেল, যা দিয়ে ইঞ্জিন চলতে না পারলেও,
    পাড়ার শান্তি নিঃসন্দেহে জ্বলজ্বল করে ভস্ম হয়ে যায়।

    ওখানে বসে এক দাদু বলেন—
    “মজনু এখন আর নামাজে যায় না!”
    আরেকজন সিগারেট ধরিয়ে যোগ করেন,
    “সে তো দেখি ফেসবুকে মেয়েদের পোস্টে লাইক দেয়!”
    তারপর সবাই চা চুমুক দিয়ে বলে,
    “আহারে, দিনকাল আর ভালো রইল না!”

    এরা নিজের ছেলেকে বলে, “তুই আজান শোনছিস না কেন?”
    কিন্তু পরের ছেলের কানে হেডফোন থাকলেই তারা বলে,
    “ইশশ! এই ছেলে একদিন জাহান্নামে যাবে।”
    নিজের মেয়ের সেলফি তো ‘ফুল ফ্রেমে’ ফেসবুকে পোস্ট হয়,
    আর অন্যের মেয়েকে দেখে বলে—
    “আজকালকার মেয়েদের লজ্জা-শরমই নেই!”

    সেই সাধুগণ রোজ রোজ কাউকে না কাউকে ছিঁড়ে ফেলে মুখে মুখে।
    তাদের মতে, দুনিয়ায় সব পাপের উৎস হচ্ছে—
    “অমুকের ছেলে”, “তমুকের বউ”, আর “তাদের পেছনের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করা কাক”।
    নিজেরা যেন নরক অবধি VIP টিকিট নিয়ে গিয়েও ফেরত আসবেন বলেই বিশ্বাস।
    “আমরা তো কারও ক্ষতি করি না”—
    এই লাইন তাদের জাতীয় সংগীত।

    এরা বলে, “গীবত করা মহাপাপ”,
    তারপরই গলায় একটু কাশি দিয়ে বলে,
    “আচ্ছা বলো তো, সেই শিউলি বেগম নাকি তৃতীয় বিয়েটাও করল?”
    তাদের চোখে সব দোষ জগৎসংসারে,
    আর আয়নার সামনে গেলে,
    “এই আয়নাটাই নষ্ট!”—এই অভিযোগে আয়নাকে তিরস্কার করে।

    এই গীবত-গুনীরা পৃথিবীর এক অদ্ভুত অলংকার।
    তারা নাএলে পাড়া অনেকটাই নিস্তেজ লাগে!
    তাদের দিয়ে চায়ের দোকান চলে,
    মুখরোচক খবরের কাগজে শিরোনাম বাঁচে,
    আর আমরা পাঠক-দর্শক,
    এইসব ‘সাধুদের’ দেখে কখনো হাসি, কখনো হুঁশ ফেরাই—
    নিজের আয়নাটা একটু ঝাড়ি দিয়ে নিই।

    শেষমেশ উপদেশঃ

    “যার নিজের ঘর কাঁচের, সে অন্যের জানালায় ঢিল মারে না।
    আর যে সত্যিকারের সাধু, সে চুপচাপ ভালো কাজ করে যায়।
    গীবত করে কখনোই কেউ মহান হয় না—
    হয় শুধু মুখচোরা এক ক্লাউন,
    যার জীবন কৌতুক, আর আত্মা খালি।”
    …………………………………………………………………………………………………………………………………..
    ( রম্য গদ্যকবিতা )

  শিষ্টাচার:
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !

সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !

Jannatul ferdausi

Daulatpur,Khulna

 

♠♣♥♦♣♠জান্নাতুল ফেরদৌসী ১৯৮২ সালের ১৯ জানুয়ারি, যশোর জেলার ছাতিয়ান তলায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহন।

শিক্ষাগতযোগ্যতাঃ এম,এ.(বাংলা) এম,এড ।

২০০০ সালে  সাঁকো প্রকাশনি থেকে কবিহিসেবে স্বীকৃতি লাভ । ২০২২ সালে নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে কবি সম্মাননা’-স্বরূপ সনদ এবং ক্রেস্ট  গ্রহন । পেশায় একজন শিক্ষক (GPS)। যৌথভাবে প্রকাশিত বইয়ের নামবনফুলের সন্ধানে,,নতুন তার মিছিলে,,উদীয়মান কবি,দহনের কাব্য, কবিতায় সাতকাহ,কাব্য ফেরি,ধান শালিকের কাব্য,শব্দ শ্রমিকের কাব্য,চায়ের ধোঁয়ায় তোমাকে খুঁজি,কেউ ভালোবাসেনি,কবি কন্ঠ, রাত_তখন_বারোটা দুই (ভৌতিক)"। একক বই-"আমিত্ব","বুনট","ছায়ামানব", ''উপদেশে উপলব্ধি'', ''ধোঁয়াশা'', ''আড়াল'',সময়ের মুখোশ। 

        ই-মেইলঃ [email protected]

Skip to toolbar