-
সন্তান যখন ছোটবেলায় কোন খেলনার জন্য বায়না ধরে তখন আমরা কি করি?
উত্তর হলো – কিনে দেই।
না কিনে দিয়ে কি উপায় আছে! কেঁদে কেটে বাড়ি মাথায় তুলবে যে।
মনে মনে ,কখনো প্রকাশ্যে ই বলি- আমার ছেলে!/ মেয়ের কি যে জেদ!
সেদিন শপিং মলে যেয়ে একটা পুতুল /গাড়ি দেখে সেটা না নিয়ে আর বাড়িতে আসবেই না। অথচ একসপ্তাহও হয়নি ঠিক এই রকম ই একটা গাড়ি /পুতুল কিনে দিয়েছি।
কিন্তু কি করবো বলেন – শপিং মলের মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমারতো লজ্জায় মাথা কাটা যায়, শেষে বাধ্য হয়েই কিনেই দিলাম।
আপনাকে বলছি- আপনার সন্তান কি চিরকাল ছোট ই থাকবে?
ওমা! তা কেন? সে বড় হবে না?
সে যখন বড় হবে তখনও কি খেলনা গাড়ি //পুতুল এর জন্য জেদ করবে? নাকি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চাহিদাও বাড়তে থাকবে?
খেলনা গাড়ির বা পুতুলের জায়গায় সত্যিকারের গাড়ি বা ম্যাক বুক হবে। তখন হয়তো শপিংমল এর মেঝেতে গড়াগড়ি দিবে না কিন্তু ততদিনে তো অন্য উপায় খুঁজে পেয়েছে সে।
যখন প্রথম জেদ করে তার পছন্দের খেলনাটা সে আপনার কাছ থেকে আদায় করে নিলো , তখন কি আপনি আপনার ছেলে বা মেয়ের বিষয়ে কোন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কর্মী সাথে কথা বলেছিলেন?
নাহ্! এই সামান্য বিষয় এর জন্য কেন শুধু শুধু কাউন্সেলর এর কাছে যাবো।
আজ কি সমস্যার নিয়ে এসেছেন?- আজ কয়দিন সে (ছেলে বা মেয়ে)খায় না, ঘুমায় নাহ্, বাড়ির জিনিস পত্র ভাংচুর করছে। ওর জন্য বাড়ির কেউ শান্তিতে থাকতে পারছিনা।
কারণ কি?- সে গাড়ি নিবে, তার নিজের জন্য। বাড়িতে ওর বাবার গাড়ি আছে, সেটায় ওর হচ্ছে না। কতবার করে বলছি যে “লেখা-পড়া শেষ করো আগে, তারপর দিবো।কিন্তু তাকে এখনোই দিতে হবে। ছোট বেলা থেকেই এমন জেদি। কিছু করেন , এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বাড়িতে টেকা মুশকিল হয়ে যাবে।”
আমাদের কাছে ক্লায়েন্ট আসেন তাঁদের বর্তমান সমস্যা নিয়ে। কিন্তু আমরা শুধু তাদের বর্তমান নিয়ে কাজ করি না। তাদের বর্তমানের সমস্যার শিকড় আছে তাদের অতীতে, তাই তাদের অতীত জানাটা আমাদের জন্য খুব ই দরকার। এরপর ক্রমান্বয়ে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করি।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি যে- আমাদের কাছে ৩ দিন, ৫দিন, ৭ দিন বা ২১ দিনের এন্টিবায়োটিক ডোজ নেই। বা নেই কোন জাদুর কাঠি। অতীত এর আগাছা ছাফ করতে কত সময় লাগবে সেটা নির্ভর করবে আপনি কতটা অযত্ন এবং অবহেলা করেছেন তার উপর।
আচ্ছা বলুন তো- মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত আপনার আপনজনকে , যে কিনা নিরাময় যোগ্য নয় , জেনেও আপনি আপনার শেষ সম্বল দিয়ে হলেও কি চেষ্টা করেন না?
তাহলে আপনার আপনজন,যে মানসিকভাবে সুস্থতার জন্য আপনার সহযোগিতা ,সমানুভূতি চাচ্ছে ,তার পাশে থাকায় কেন এত অবহেলা?
তাঁর সমস্যা টা কি তিলে তিলে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? ক্যান্সার ডায়াগনোসিস হওয়ার পরে আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তাঁকে যমের বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে ,কিন্তু মানসিক রোগ ডায়াগনোসিস হওয়ার পরেও আপনি সেটা লুকিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেন কেউ না জানতে পারে। যেন কেউ না জানতে পারে যে, সে একজন সাইকোথেরাপিস্ট বা সাইক্রিয়াটিস এর চেম্বারে যাতায়াত করছে।
সন্তান হতে হবে টপার, তানাহলে সমাজে আপনার কোন কদর থাকবে না, অন্যের সাথে গল্প করার আপনার কোন রসদ থাকবে না।
কখনো “টপার” সন্তানের মনের খবর নিয়ে দেখেছেন কি?
আসলে সে কতটা নিজের জন্য আর কতটা আপনাদের জন্য বেঁচে আছেন।
আমরা ডাক্তারদের মতো বলতে পারি না যে-রুগীকে একদম শেষ মুহূর্তে নিয়ে এসেছেন।
আসলে তাঁর মনের মৃত্যু যে অনেক আগেই হয়েছে , সেটা আমরা বুঝতে পারলেও আপনাদেরকে বলতে পারি না।
কারণ মনের খবর রাখার মত আপনাদের সময় এবং ধৈর্য্য কোনটা ই নেই এবং এর প্রয়োজনীয়তাও আছে বলে আপনারা মনে করেন না।
বিঃদ্রঃ উপরের উদাহরণগুলো মিথ্যে হলে খুশী হতাম, কিন্তু এগুলো সত্য।2 Comments
Friends
নাঈম অরণ্য
@aronnonaim
Hafizur Rahman shakil
@shakilahamed72gmail-com
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed


একদম সঠিক কথা বলেছেন।