Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • এই লেখাটি পোস্ট করেছিলো ছেলেদের বাবা, আমার তুহিন ‘ ২০১৭ সালে।
    তুহিন ,২০২০ সালের ২৩’মে আমাদেরকে একা করে , দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন।
    “তুলট” মঞ্চে লেখাটি রেখে দিলাম।
    ——————————————

    আমার ছোট ছেলে মোঃ রোহান আবরার মল্লিক “হাতি আর মাছির গল্প” লিখেছিল। সেই গল্পটা ওর মা তাঁর ফেসবুক পেইজে পোষ্ট করেছিল। সে ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাইস্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। তাঁর বয়স ৭+। সেই লেখাটা ফেসবুক পেইজে পোষ্ট করার পর অনেকে গল্পটিতে লাইক দিয়েছিল এবং অনেক অনেক ভালো ও অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্য লিখেছিল।

    আমার বড় ছেলে মোঃ রেহান আবরার মল্লিকও আমার ছোট ছেলের ন্যায় “হাতি ও তাঁর বন্ধুদের ক্রিকেট খেলা” নামে একটি গল্প লিখে নিয়ে এসে আমাকে বলে, “দ্যাখো আব্বু, আমি একটা গল্প লিখেছি। গল্পটা তোমার ফেসবুক পেইজে পোষ্ট কর।” আমার বড় ছেলেও ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। তাঁর বয়স ১০+। আমি আশা করি তাঁর কচি হাতের লেখা গল্পটিও আপনাদের খুব ভালো লাগবে। গল্পটি নীচে আপনাদের জন্য আমার ফেসবুক পেইজে হুবুহু পোষ্ট করলাম।

    “হাতি ও তাঁর বন্ধুদের ক্রিকেট খেলা”

    এক বনে ছিল এক হাতি। হাতিটি বনে খুব সুখে-শান্তিতে বন্ধুদের সাথে বাস করত এবং খুব আনন্দে দিন কাঁটাতো। বনের ছোট-বড় সবার সাথে তাঁর খুব ভাব ছিল। সবাই হাতিকে খুব ভালবাসতো এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের সকল কথা মন খুলে বলতো।

    একদিন হাতিটি তাঁর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। আড্ডার এক পর্যায়ে হাতি তাঁর বন্ধুদের বল্লো- বন্ধু আমি শুনেছি, শহরের মানুষেরা একটা খেলা খেলে। সেই খেলা খেলতে বল লাগে, ব্যাট লাগে, ষ্ট্যাম্প লাগে আরও কি কি যেন লাগে। শুনেছি সেই খেলাটার নাম ক্রিকেট খেলা। আর সেই ক্রিকেট খেলা তাঁদের নাকি খুব প্রিয় খেলা। চলো আমরা সবাই মিলে ক্রিকেট খেলি। তখন এক শহুরে পাখি ভ্রূ কুচিকয়ে বল্লো- চাইলেইতো আর ক্রিকেট খেলা যায় না। শহুরে পাখির কথা শুনে শিয়াল পন্ডিতের খুব রাগ হলো। রাগ হয়ে বল্লো- বন্ধুগণ হ্যাঁ, সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে ক্রিকেট খেলার সব জিনিষ যোগার করে খেলাটা আমরাও খেলতে পারি।

    শিয়াল পন্ডিত বল্লো-ক্রিকেট খেলা আমি চুপি চুপি লুকিয়ে ঝোপের আড়াল থেকে অনেক বার দেখেছি। খুব ভালো খেলা। ব্যাট দিয়ে বল মারার খেলা, বল ধরার খেলা, বল ছুড়ে মারার খেলা, দৌঁড়া-দৌঁড়ির খেলা, খুব মজার খেলা। ভল্লুক মামা বল্লো- তাই নাকি, শিয়াল পন্ডিত? শিয়াল পন্ডিত বল্লো- হ্যাঁ, ভল্লুক মামা, ক্রিকেট খেলা খুব মজার খেলা। হাতি বল্লো- তাহলে চলো, আমরা আজ সবাই মিলে ক্রিকেট খেলবো। বুদ্ধিমান শিয়াল পন্ডিত উঠে বল্লো- হাতি ভাই, ক্রিকেটতো এমনি এমনি খালি হাতে খেলা যায় না। তুমিতো আগেই শুনেছো। ক্রিকেট খেলার জন্য দরকার ব্যাট, বল, ষ্ট্যাম্প, মাঠ, আরও কত কি। আবার তার সাথে সাথে ক্রিকেট খেলায় একজন আম্পায়ারও লাগে। সে খেলা পরিচালনা করে।

    শিয়াল পন্ডিত বল্লো- আমি অনেক খেলা দেখেছি। আম্পায়ার কিভাবে খেলা পরিচালনা করে টচ কিভাবে করতে হয়, খেলোয়াড়রা কিভাবে আউট হয়, কিভাবে বল করলে নো বল আর ওয়াইড বল হয়, তাঁর সবই মনোযোগ সহকারে দেখেছি। আমি না হয় আম্পায়ার হয়ে খেলা পরিচালনা করতে পারবো। বাঘ মামা উঠে বল্লো- পন্ডিত মশাই আপনি না হয় আম্পায়ার হলেন, কিন্তু আর অন্য সব জিনিসগুলো কিভাবে যোগার হবে? তখন বানর ভাইয়া বল্লো- আমি ব্যাট আর ষ্ট্যাম্প তৈরী করে দিব। শিয়াল পন্ডিত বল্লো- বানর ভাইয়া, আমি তোমাকে ব্যাট আর ষ্ট্যাম্প বানানোর কাজে সাহায্য করবো।

    হাতি বল্লো- আমাদের মাঠতো আছে। তাহলে চলো খেলা শুরু করা যাক। শিয়াল পন্ডিত বল্লো- খেলা শুরু করতে গেলে বল লাগবে। বলটা পাবে কোথায়? আর বল তৈরী করা এত সহজ ব্যাপার নয়। সবাই চিন্তায় পড়ে গেল। এমন সময় শহুরে পাখি বল্লো- চিন্তার কিছু নেই। আমি দেখছি, বলে শহুরে পাখি ফুরুৎ করে উড়ে গেল শহরের দিকে। শহুরে পাখি দেখতে পেলো শহুরে মানুষরা মাঠে ক্রিকেট খেলছে। শহুরে পাখি মাঠের পাশের বিল্ডিংয়ে বসে খেলা দেখা শুরু করলো। আর বলের অপেক্ষায় রইলো। হটাৎ এক খেলোয়াড় ছক্কা মারলো। বলটি পাখির মাথার উপর দিয়ে ছাদে এসে পড়লো। পাখি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো, আশে-পাশে কেউ নেই। শহুরে পাখি এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে ঠোঁটে বল নিয়ে উড়াল দিল বনের দিকে। ক্ষানিক সময়ের মধ্যে শহুরে পাখি বনে এসে পৌঁছালো। শহুরে পাখির ঠোঁটে বল দেখেই সবাই আনন্দে মেতে উঠলো।

    সবাই মিলে খেলার আয়োজন সম্পন্ন করলো। সবার সুবিধার কথা চিন্তা করে খেলার দিন ধার্য করা হলো ছুটির দিন শক্রবারে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বনের সকল পশু-পাখিকে খেলা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো। অবশেষে কাঙ্খিত খেলার দিন এলো। খেলা দেখার জন্য মাঠে সবাই দলে দলে উপস্থিত হলো। ১১ জন করে দু’দলে ভাগ করা হলো। এক দলের ক্যাপ্টেন হাতি ভাইয়া। আর একদলের ক্যাপ্টেন ভল্লুক মামা।

    শিয়াল পন্ডিতের আম্পায়ারিংয়ে অবশেষে খেলা শুরু হলো। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিল ভল্লুক মামার দল। ভল্লুক মামার দল সব উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তুললো। এবার ব্যাটিংয়ের পালা হাতি ভাইয়ার দলের। খেলা আবারও শুরু হলো। খেলায় টান টান উত্তেজনা। হাতি ভাইয়া একদিকে শুধু ছক্কা আর চার মেরেই চলেছে। আর অন্যদিকে হাতি ভাইয়ার দলের খেলোয়াড়রা কেউ ৪, কেউ ৬ আবার কেউ ০ রানে আউট হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে হাতি ভাইয়ার সাথে শেষ ব্যটসম্যান হরিণ ব্যাট করতে নামলো। খেলার আর মাত্র ৪ বল বাকি, রান দরকার ৭। প্রথম দুই বলে কোন রানই হলো না। পরের বলে হরিণ বল স্কয়ারে ঠেলে দিয়ে কোনমতে ১ রান নিল। খেলার আর ১ বল বাকি। সবার দৃষ্টি মাঠের দিকে। হাতি ব্যাটিংয়ে আর ভল্লুক বোলিংয়ে। ভল্লুক সজোরে বল করলো হাতি বলের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে সজোরে ব্যাট চালালো। বল চোখের নিমিষে একষ্ট্রা কভার দিয়ে মাঠের বাহিরে গহীন বনের ভেতর গিয়ে পড়লো। ছক্কা ছক্কা করে সবাই উল্লাসে ফেঁটে পড়লো। শেষ বলে ছক্কা মেরে হাতির দল বিজয়ী হলো।

    ভল্লুকের দল হেরে যাওয়াতে ভল্লুক ও তাঁর দলের খেলোয়াড়রা দুঃখ পেলেও ক্রিকেট খেলতে পেরে তাঁরা সকলে খুব খুশি হলো। হাতি ও হাতির দলের খেলোয়াড়রাও ক্রিকেট খেলতে পেরে ও জয়লাভ করে খুব খুশি হলো। তাঁর সাথে সাথে দর্শকরাও নতুন একটি খেলা দেখতে পেরে খুশি হলো। অবশেষে সবাই নেচে-গেয়ে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরলো।

    3
    2 Comments
Skip to toolbar