-
চিঠি দিবসের গল্প
কলমে বরাবরের মতো আপনাদের ভালোবাসার মানুষ, ইসমাঈল মজুমদারচিঠি দিবস নিয়ে আমার কখনো কোনো আগ্রহ ছিলো না। কাগজ, কলম, খাম কিংবা ডাকটিকিট—এসব কিছু যেনো আমার কাছে একেবারেই পুরোনো দিনের অবশিষ্ট, যাকে আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে অচল মনে হয়। আমি ভাবতাম, যখন একটি বোতামে চাপ দিলেই দূরের মানুষ চোখের সামনে চলে আসে, তখন আবার কেনো কাগজে লিখে খামে ভরে ডাকপিয়নের হাতে তুলে দিতে হবে? সেই ধৈর্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে, এ ভেবেই আমি চিঠি দিবসের মতো দিনগুলোকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করতাম।
কিন্তু মানুষ তো সবসময় নিজের ভেতরকার ধারণায় স্থির থাকে না। কখনো কখনো একটিমাত্র উপস্থিতিই ভেঙে দেয় সব যুক্তি, বদলে দেয় বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা মানসিক অবস্থান। বছর খানেক আগে এমনই একজন মানুষের আগমন আমার জীবনকে অন্যভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলো। সেই বছর চিঠি দিবসে সে বুঝিয়ে দিলো চিঠি শুধু মাত্র একটি কাগজের টুকরোতে লিখা কিছু মাত্র শব্দ নয়। চিঠি হলো হৃদয়ের গোপন অনুভূতি গুলো প্রিয়জনকে জানানোট মাধ্যমও ভটেই, চিঠি কখনো শুধু লেখা নয়, কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে অনুভূতির সবচৌকৃত কণ্ঠস্বর।
প্রথম দিনেই তার চোখে এক অদ্ভুত শান্তি দেখেছিলাম। যেনো কোনো গল্প লুকানো ছিলো সেই দৃষ্টিতে। খুব সাধারণ ভঙ্গিতে কথা বললেও তার প্রতিটি শব্দে আমি খুঁজে পেতাম এক অন্যরকম সুর। আমি বুঝতে পারছিলাম, এই মানুষটিই হয়তো আমার ভেতরের দীর্ঘদিনের নীরবতাকে জাগিয়ে তুলবে। ধীরে ধীরে তার সাথে কথা বলতে বলতে মনে হলো, প্রতিটি মুহূর্ত আমি যেনো একেকটা অক্ষরে রূপান্তর করছি। অথচ সেই অক্ষরগুলো কোনো খাতায় লেখা হচ্ছে না, জমা হচ্ছে আমার ভেতরের পাতায়—যেখানে কোনো কালি নেই, তবুও লেখা হয়ে যাচ্ছে অদৃশ্য চিঠি।
প্রতিদিনের দেখা-সাক্ষাৎ, সামান্য কিছু আলাপ আর মাঝে মাঝে তার চোখের কোণে জমে থাকা এক রহস্যময় দৃষ্টি—সব মিলেই আমার মনে অজানা ঢেউ তুলতো। আমি কোনোদিন তাকে খামের ভেতর সাজানো চিঠি দিইনি। তবুও মনে হতো, যত কথা বলি না কেনো, ততই যেনো ভিতরে ভিতরে জমে থাকছে অসংখ্য অক্ষর, যাদের জায়গা কেবল চিঠির পাতায়। রাতে যখন বিছানায় শুয়ে জানালার বাইরে চাঁদের আলো দেখি, তখন মনে হয়, আমার অদেখা চিঠিগুলো সেই আলোর সাথে ভেসে যাচ্ছে তার দিকে, সে জানুক বা না জানুক।
অবশেষে এলো সেই দিন—চিঠি দিবস। চারপাশে সবাই যেনো উৎসবমুখর। কেউ বন্ধুকে লিখছে শুভেচ্ছা, কেউ প্রিয়জনকে দিচ্ছে ভালোবাসার বার্তা। ক্লাসে চারপাশে কাগজের খসখস শব্দ, রঙিন খামের সাজ, আর ডাকটিকিটের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। অথচ আমার হাতে নেই কোনো কাগজ, নেই কোনো খাম। বাইরে থেকে হয়তো মনে হচ্ছিলো আমি চুপচাপ, নির্লিপ্ত। কিন্তু ভেতরে তখন গুঞ্জন করছে হাজারো অক্ষর। মনে হচ্ছিলো, আমি চোখ বন্ধ করলেই শব্দেরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, আর প্রতিটি বাক্য যেনো তাকে উদ্দেশ্য করেই লেখা।
সে দিন আমি ডাকপিয়নের হাতে কোনো খাম তুলে দিইনি। তবুও মনে হয়েছিলো, আমার চিঠি পৌঁছে যাবে। কারণ চিঠি তো কেবল ডাকটিকিটের মাধ্যমে যায় না, কখনো কখনো তা বাতাসের ভেতর ভেসে যায়, কখনো যায় দৃষ্টির ইঙ্গিতে, আর কখনো নিছক নীরবতার ভেতরেই পৌঁছে যায় গন্তব্যে। আমি বিশ্বাস করেছিলাম, আমার ভেতরের অদৃশ্য চিঠিগুলোও পৌঁছে গেছে তার কাছে—যদিও সে হয়তো কোনোদিন জানতে পারবে না।
কিন্তু সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। জীবনের টানাপোড়েন মানুষকে আলাদা পথে নিয়ে যায়। সে-ও একসময় চলে গেলো অন্য শহরে, অন্য ব্যস্ততায়। আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ কমতে লাগলো, কথাবার্তা কমে গেলো আরও বেশি। মনে হতো, যে সম্পর্কটা এতদিন ধরে আমাকে নীরবে লিখিয়ে গেছে অসংখ্য চিঠি, তার পাতাগুলো হয়তো হঠাৎই ছিঁড়ে যাবে। তবুও আশ্চর্যের বিষয়, চিঠি দিবস এলেই আমি এখনো ভেতরে ভেতরে তাকে উদ্দেশ্য করে লিখতে বসি।
হয়তো কাগজ নেই, খাম নেই, ডাকটিকিট নেই। তবুও আমার মনে জমে থাকে কত কথা—তুমি জানো কি, তোমার একটুখানি হাসি আমার সারাদিনের ক্লান্তি মুছে দেয়? তুমি বুঝতে পারো কি, তোমার সামান্য কিছু শব্দও আমার কাছে অমূল্য গ্রন্থের মতো? এইসব কথা আমি লিখতে থাকি অদৃশ্য কালিতে, যেগুলো কোনো ডাকপিয়ন বহন করে না, কেবল স্মৃতির বাতাসে ভেসে যায়।
আজও আমি খামের ভেতর কোনো লেখা রাখিনি, ডাকপিয়নের হাতে কিছু তুলে দিইনি। তবুও মনে হয়, আমার মনের ভেতরে যে অক্ষরগুলো জন্ম নিচ্ছে, সেগুলো হয়তো কোনো না কোনো অদৃশ্য পথেই তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। একসময় যে দিনটিকে আমি অর্থহীন ভেবেছিলাম, সেই চিঠি দিবসই এখন আমার কাছে হয়ে উঠেছে অনুভূতির প্রতীক।
চিঠি মানে কেবল কাগজ নয়, চিঠি মানে অনুভূতির জমা, স্মৃতির ভাণ্ডার, হৃদয়ের সবচেয়ে নরম ভাষা। আর সেই মানুষ এসে আমাকে শিখিয়ে গেছে—চিঠি মানে কখনো কখনো পুরো একটি জীবন। এখন আমি বেঁচে আছি সেই অদৃশ্য চিঠিগুলোর ভেতরে, যেগুলো শুধু আমার নয়, বরং আমার আর তার মাঝের এক অমলিন সেতুবন্ধন।
2 Comments
ঢাল নেই, তলোয়ার নেই,
নেই মোর গায়ে বল।
নারায়ে তাকবীরের কর্মী আমি,
এটুকুই মোর সম্বল।
Ismail Mozumdar

Ismail Hossain Mozumdar
- ইসমাঈল হোসেন মজুমদারের সম্পূর্ণ পরিচয়
পুরো নাম: ইসমাঈল হোসেন মজুমদার
ডাক নাম: ইসমাঈল
কলম নাম: ইসমাঈল মজুমদার
জন্ম: ২০০২ সাল, বাগচতল গ্রাম, মনোহরগঞ্জ থানা, কুমিল্লা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা: বাংলাদেশি
ধর্ম: ইসলাম
Visite Facebook Profile: Click Hear
আমার কবিতা শুনুন।
Page
Youtube Channel
শিক্ষা জীবন:
- প্রাথমিক শিক্ষা: শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
- পরবর্তী শিক্ষা: বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং ২০১৪ সালে চিতাষি সুলতানিয়া ফাজিল মাদরাসায় ইবতেদায়ী চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- পরীক্ষার ফলাফল:
- PSC: ২০১৬
- JSC: ২০১৯
- দাখিল: ২০২২
- আলিম: ২০২৪
বর্তমান পড়াশোনা:
- ফাজিল: চিতোষি সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
- অনার্স: গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা।
পারিবারিক পরিচয়:
- পিতা: মরহুম বাহারুল ইসলাম মজুমদার (২০০৪ সালে ইন্তেকাল করেন) – তিনি ছিলেন একজন ইউনিয়ন সদস্য ও স্ক্রিম ব্যবসায়ী।
- মাতা: রোকেয়া বেগম
- ভাই-বোন: তিনি আট ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট।
- মরিয়ম বেগম লাভলী
- ওমর ফারুক সোহেল মজুমদার
- জান্নাতুল ফেরদৌস
- শিউলি
- শেফালী
- মাইমুনা আক্তার বকুল
- ইউসুফ হোসেন মজুমদার
- ইসমাঈল মজুমদার
পেশাগত জীবন:
- তিনি একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং ফ্রিল্যান্সার।
- পাশাপাশি, সাহিত্য রচনায়ও তিনি সক্রিয়।
সাহিত্য ও লেখালেখি:
- তিনি মূলত কবিতা, ছোটগল্প ও হাস্যরসাত্মক গল্প লিখে থাকেন।
- তার লেখা কিছু জনপ্রিয় কবিতা ও ছন্দ:
- "আমারে দেখায়া লাভ নেই"
- "প্রিয়"
- "বড্ড ইচ্ছে করে"
- "কোথাও কখনো দেখা হয়নি তোমার ছবিটা"
- "বৃষ্টি বিলাস"
- দুই লাইনের প্রেমের ছন্দসমূহ
- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরে তার লেখা আহ্বান
তার কবিতাগুলো প্রেম, বিরহ, বাস্তবতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে লেখা হয় এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বিশেষ পরিচিতি ও জীবন দর্শন:
- তিনি বিশ্বাস করেন, "যেকোনো কিছু সম্ভব, যদি কেউ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে"।
- সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার এবং লেখনীর মাধ্যমে মানুষের বিবেক জাগ্রত করার চেষ্টা করেন।
- তিনি ইসলামী মোটিভেশনাল ভিডিও তৈরিতেও আগ্রহী।
সংক্ষেপে ইসমাঈল মজুমদার:
✅ কবি ও লেখক
✅ ফ্রিল্যান্সার ও গ্রাফিক ডিজাইনার
✅ সামাজিকভাবে সচেতন ব্যক্তিত্ব
✅ ইসলামী মোটিভেশনাল ভিডিও নির্মাণে আগ্রহী
Friends
Mina Bulbul Hossain
@minabulbulhossain
কাজী আনিসুল হক
@kajeanisulhaque
VURAR ALO
@vuraralo
মেহেদী হাসান
@saimul
Abdul Hannan
@abdulhannan
Kazee Hosneara Begum
@kazeearenu
Ekhlas Ekhlas
@ekhlasekhlas
আরশিয়া কায়া
@arshiyakaye
রাতিন আহমেদ
@ratin2190


প্রথমে “চিঠি দিবস”-এর প্রতি নিরাসক্তি দেখালেও, একজন মানুষের উপস্থিতি কীভাবে সেই নিরাসক্তিকে গভীর অনুভূতিতে রূপান্তর করেছে তা দারুনভাবে প্রকাশিত হয়েছে। দারুন একটা লেখা।