Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ০৯
    ——————————————————————————————————————

    রিপন, শিপন এবং লোকমান সাহেব। তিনজনে ঘরে বসে আছে। কতদিন পর তিনভাই একসাথে। সেটাও মনে হয় তারা ভুলে গেছে। তবে তাদের কথা বলার টপিকটা শুধু লোকমান সাহেবকে ঘিরেই। যেমন শিপন বলছেন,

     ভাইজান শুধু একটা স্বপ্নে এত বেশি কাবু হয়ে গেছেন, আমারতো বিশ্বাস হয়না।
    লোকমান সাহেব বলছেন,
     কেন!! তোর এমনটা মনে হবার কারনটা কি??
     না ভাইজান!! ছোট বেলায় আপনে যেই সাহসী ছিলেন। রিপন তোর মনে আছে, সেই পোড়বাড়ির কথা।
    রিপন বলে উঠলো…..
     মনে থাকবে না আবার। ভাইজান সেই রাতে এত সাহস কই পাইছিল কে জানে।
    শিপন বলে উঠলো…..
     সেই থেইক্যা গ্রামের সব লোক ভাইয়েরে ডাকতো সাহসীরাজা।।

    লোকমান সাহেব দুই ভাইয়ের কথার ফাঁকে ডুবে গেলেন সেই সময়ে। সত্যিই তো কি সাহস না সেদিন সে দেখিয়েছে। যেই পোড়াবাড়িতে মানুষ দিনের বেলা যেতে ভয় পেত আর সেখানে সে রাত ১২টার পর গিয়েছে। আর সেই লোকমান সাহেবকে একটা দুঃস্বপ্ন এভাবে কাবু করে ফেলেছে। শুধু ০১টা স্বপ্ন যার ফলে লোকমান সাহেবের চোখের ঘুম সরে গেছে। কিন্তু কেন এরকম হচ্ছে। এরকম তো হবার কথা নয়। তবে কেন তার সাথে আজ এমন হচ্ছে। এটা কি তবে নিয়তির লেখা হতে পারে। লোকমান সাহেব দুই ভাইয়ের কথাতে আবার মনোযোগ দিলেন।
    লোকমান সাহেব লক্ষ্য করলেন দুই ভাই বিদেশ থেকেছে, কিন্তু বাংলা ভাষার মধ্যে চলিত এবং সাধু দুটো মিশ্রিত রেখেছে। দুজনে আগেও এভাবে কথা বলতো। ভালোই লাগছে দুই ভাইয়ের কথা শুনতে।
    .
    .

    আবীর এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আবীর ভালো রেজাল্ট করেছে। আবীর বরাবর ভালো ছা্ত্র ছিল এসএসসি তে সে গোল্ডেন এবং এইবার এইচ এস সি তে এ+ পেয়েছে। আবীর খুব খুশি। আবির অর্পিতাকে ফোন করেছিল। কিন্তু সে ফোন রিসিভ করেনি। কয়েকবার রিসিভ না করায় সে একটা এসএমএস সেন্ড করেছে। আবীর তার মা-বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে। আবীর শিলাকে নিয়ে তার বড় বোন শাকিলার বাসায় রওনা হলো। এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই পৌছে গেল। আবীর এর বোন দরজা খোলার সাথে সাথে আবীর বলে উঠলো…….
     দেখতো আপা চিনতে পারিস কিনা!!
    শাকিলা বললো……
     নাম বলতে পারবো না, তবে মনে হচ্ছে মেজো চাচ্চুর মেয়ে।
    আবীর হতভম্ব হয়ে প্রশ্ন করলো…..
     তুই বুঝলি কিভাবে..???
     আরে বোকা আন্দাজ করলাম।
    শিলা এবার একগাল হাসি দিয়ে বলল….
     আপু আমি হচ্ছি শিলা।
    রিয়া অবশ্য পাশেই ছিল সে আবীরকে ডাকলো। আবীর নীচু হলো এবং তারপর বলল….
     কি হয়েছে মামা। কিছু বলবে..??
    রিয়া আস্তে করে আবীর এর কানের সামনে মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো ….
     মামা !!! ইনি আমার কি হন??
     ইনি!!! ইনি তোমার খালামনি হন।
     ইনি কি খুব রাগী??
    আবীর একটু হাসি মুখে বললো…..
     তোমার কি মনে হচ্ছে???
    রিয়া এবার একটু বিরক্ত চোখ নিয়ে বলল…..
     Please মামা Extra talking করবে না। Just answer I….
    আবীর হাসতে হাসতে বলল
     নাহ !! সে খুব ভালো।।
    ঠিক তখনি আবীর এর ফোন বেজে উঠলো। সে দেখলো অর্পিতা কল করেছে। তার মনটা খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠে। সে ফোনটা নিয়ে আড়ালে চলে গেল। তারপর ফোনটা রিসিভ করলো। আবীর নম্র এবং শান্ত ভাবেই বলল…..
     হ্যালো অর্পিতা।।
    ওপাশ থেকে রাগ্বানিত কন্ঠে…
     তোমার কি মনে হয় অন্য কেউ।।
    আবীর একটু হকচকিয়ে যায় এবং তৎক্ষনাত বলল….
     না.. না।। আমি তা বোঝাতে চাইনি আসলে…. ( আবীরকে থামিয়ে দিয়ে বলল….)
     Best of Luck & Congratulation.
    আবীর একদম চুপ হয়ে গেল। মনে হচ্ছে আবীর যেন সবসুখ পেয়ে গেছে। তার মনটা খুশিতে নাচতে শুরু করলো। সে কি বলবে সেটা বুঝতে পারছিল না। যেন কোন ভাষা খুজে পাচ্ছে না। সে বলল….
     Thank you অর্পিতা।
    অর্পিতা সে তার কর্কশ কন্ঠে প্রশ্ন করলো….
     তা, মেয়েটা কে?? তোমার নতুন Girlfriend…???
    আবীর পুরো চমকে গিয়ে বলল…
     কোন মেয়েটা..??
    অর্পিতার এবার প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো। সে আরও কঠোর হয়ে বলল…
     দেখো আবীর। আমি নাটক করা পছন্দ করিনা। আর দয়া করে আমার সামনে নাটক করবে না। আর আমার কাছে লুকাবার কিছু নেই। আর আমি তোমাকে ভালো ও বাসি না। Just friend হিসেবে প্রশ্ন করেছি। যদি Answer দিতে ইচ্ছে হয় বলবা নয়তো নাটক করবে না।
    আবীর চুপচাপ শুনলো এবং কথা বলার মত ভাষা খুজে পাচ্ছিল না। তার ভেতর থেকে কান্না পাচ্ছিল এবং বুকটা ‍কেমন যেন খালি খালি লাগছে। সে ভাবতেই পারছে না অর্পিতা তাকে Just Friend ছাড়া আর কিছুই না। সে তবুও শান্ত কন্ঠে উত্তর দিল।
     She is my cousin. বিদেশ থেকে এসেছে। আবার চলে যাবে।
     ভালো তো। দেখতে সুন্দর। তোমার সাথে দারুন মানাবে। তাছাড়া আমি তো তোমার সিনিয়র। আমার সংগে তোমাকে বেমানান লাগবে।
    আবীর এর ইচ্ছে হচ্ছে ফোনটা কেটে দিতে। কিন্তু কেটে দিলে সে তো আর কথা বলতে পারবে না। কিন্তু তার যে এসব শুনতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আবীর বলল….
     অর্পিতা তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো!! উত্তর দিবে..??
     হুম… চেষ্টা করবো।
    আবীর ঠিক আগের মতই শান্ত সুরে বলল…
     তোমার আসলে কেমন ছেলে পছন্দ আমাকে কি বলা যাবে..??
    অর্পিতা এবার আরও খানিকটা রাগ নিয়ে বলল….
     আমি যেমন ছেলে পছন্দ করি, সেরকম তুমি কখনও হতে পারবে না।
    আবীর একটু হতাশ কন্ঠে আবার বলল….
     তুমি কি বলবে একটু।
     শোন আমি এমন এক ছেলে চাই যে আমার চেয়ে সিনিয়র হবে। এবং সে আমাকে বাইকে করে সারা শহর ঘুরাবে। আর হ্যা.. সে যেন তোমার মত বোকা না হয়।
    আবীর শান্ত এবং আহত কন্ঠে উত্তর দিল….
     তুমি ঠিকই বলেছো। এই তিনটি যোগ্যতা আমার মধ্যে নেই। হয়তো দ্বিতীয় যোগ্যতা হাসিল করতে পারবো। কিন্তু তার সাথে আমার ০১টা বড় যোগ্যতা আছে। আর যেটা সবার থাকে না।
    অর্পিতা কিছুটা ব্যঙ্গসুরে বলল……
     তুমি তো সাইকেল চালাতে পারো না। আর বাইক কি করে চালাবে!!! আর তোমার বড় যোগ্যতাটা কি শুনি..??
    আবীর একটা বড় দীর্ঘ নিঃস্বাস ফেলে বলল….
     আমার বড় যোগ্যতা হচ্ছে, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। পাগলের মত ভালোবাসি।
    অর্পিতা কিছুটা রাগ্বনিত কন্ঠে বলল…..
     তোমাকে না কতবার বলেছি। এইসব ফিল্মী টাইপের ডায়ালগ বলবে না। আমি এইসব নাটকী কথা একদম পছন্দ করি না। আর তুমি আমাকে আর ফোন দিবে না। ফোন রাখলাম।।
    সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা কেটে দিল। আবীর লক্ষ করলো তার চোখ জ্বলছে। সে বুঝতে পারলো এখনই তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়বে। কিন্তু সে কাদঁতে চাইছে না। কিন্তু সে চোখের পানি থামাতেও পারছে না। সে দ্রুত ওয়াশ রুমের পথে রওনা হলো।

    To Be Continue……….

    2
    3 Comments
    • কথোপকথন বেশ নাটকীয়। ভালো লাগল।

    • মানুষের আসল অস্তিত্ব নির্ভর করে তার অভ্যন্তরীণ জগতে—যা কখনো স্বপ্নের ভয়ে কাঁপে (লোকমান), আবার কখনো নিঃশর্ত ভালোবাসার তীব্র যন্ত্রণায় মুক্তি খোঁজে (আবীর)।

Skip to toolbar