-
========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
লেখকঃ নাদিম হোসাইন।।
পর্ব নাম্বারঃ ১২
——————————————————————————————————————
লোকমান সাহেব, তার মেয়ের জামাই এবং শানু বেগম গাড়ি থেকে নামলো। তারা আজ এক ফকির বাবার কাছে এসেছে। লোকটার নামটাও খুব অদ্ভুত। ফকির বাবার নাম তাবিজ বাবা। এই এলাকায় খুব নামিদামী ফকির। শানু বেগম তার স্বামীকে ধরে ধরে হাটছেন। লোকমান সাহেব যেন হাটার শুক্তি পাচ্ছে না। লোকমান সাহেবের মেয়ের জামাই কিছু দুর হেটে যাচ্ছে আবার থেমে অপেক্ষা করছে আবার হাটা শুরু করছে। কিছু দুরে এক টঙ্গ দোকান, সেখানে গিয়ে সে জিজ্ঞেস করছে,
এই যে ভাই, তাবিজ ফকির এর বাসাটা কোথায়?
দোকানদার বলল…
এই হান দিয়া সোজা হাডেন। এরপর সামনে একটা মসজিদ পাইবেন। হেইডার বাম মুরার বাসাডা তাবিজ ফকিরের।
ভাই কিছু মনে কইরেন না। এইখান থেকে যাইতে কত সময় লাগবো??
হেইডা দরেন দুই তিন মিনিট লাগবো।
সে আর দোকানদারকে কিছু বলল না। সোজা হাটতে থাকলো। শানু বলছে…
জামাই, অনেক দুরে নাকি?
নাহ্ আম্মা। বেশি দুরে না। বলল তো দুই তিন মিনিট লাগবো যাইতে।
আকাঁবাকা রাস্তাগুলো উচু নিচু এবং সুরকিযুক্ত রাস্তা। হাটা চলায় খুব সমস্যা হয়। তবে খুব বেশি খারাপ লাগছে না। সকাল ১০টা বাজে। রোদ উকিঁ দিচ্ছে। কিছুটা সময় লাগছে। প্রায় পাচঁ মিনিট ধরে হাটার পর একটা মসজিদ পড়লো। তার বাম পাশে একটা বেড়ার ঘর দেখা যাচ্ছে। তিনজনে দাড়ালেন। লোকমান সাহেবের জামাই একটা ছেলেকে দেখতে পেলেন। তিনি ছেলেটাকে ডাকলেন। ছেলেটি সামনে আসলেন…
স্যার কন।
তাবিজ ফকির কোথায়….?
ছেলেটা মুখটা গম্ভির করে ফেলল। মনে হচ্ছে কিছুটা বিরক্ত হলো। বিরক্ত মাখা মুখ নিয়ে বলল…
বাবা বলেন। ফকির বাবা বলেন। হেরে এমনে ডাকবেন না। তাইলে অমঙ্গল হইবো।
আচ্ছা ঠিকাছে। ডাকবো না। এখন কও উনি কোথায়..??
আহেন, আমার লগে আহেন।
ছেলেটার পিছে পিছে তারা হেটে যেতে লাগলো। কিছুটা যাবার পর একটা বিশাল বট গাছ। ঐ বটগাছে প্রতিটা ডালে শুধু তাবিজ আর তাবিজ। মনে হচ্ছে তাবিজ এর ভার বটগাছ যেন আর সইতে পারছে না। যার ফলে ডালপালা গুলো নুইয়ে পড়েছে। বটগাছের পাশে একটা ঘর। মোটামুটি প্রায় অনেক লোক। সবাই এই বাবার কাছেই এসেছে। তারা এক পাশে সিরিয়াল ধরে বসে রইলো। লোকমান সাহেব অনেক কষ্টে বসে আছেন। তিনি বসে বসে ভাবছেন এমনও সময় গেছে যে, তার কাছে এসে সাক্ষাৎ করার জন্য অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে ছিল। কিন্তু তিনি দেখা দিতেন না। কিন্তু আজ তিনি বসে অপেক্ষা করছেন সামান্য একটা ফকিরের সাথে দেখা করার জন্য। ভাগ্য মানুষকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায়। আসলে মানুষ বলে বিধাতার লিলা খেলা বোঝা বড় দায়। কথাটা আসলেই সত্য। আজ বোঝা যাচ্ছে অপেক্ষার পালা কতটা ভারি হয়। প্রায় বিশ মিনিট পর তারা ভেতরে প্রবেশ করলো।
লোকমান সাহেব বুঝতে পারলেন তার নাম কেন তাবিজ বাবা রাখা হয়েছে। তার ডান এবং বাম হাতের পুরোটা কায়তন পেচিয়ে তার উপর তাবিজ লাগানো। গলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি তাবিজ ঝুলানো। তিনি মনে মনে ভেবে নিলেন এই ফকির পুরো ভুয়া। তাবিজ ঝুলিয়ে শুধু মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেছেন। এর কাছে শুধু শুধু আসতে হয়েছে তার। লোকমান সাহেবকে বাবার সামনে বসালেন। লোকমান সাহেবের জামাই কিছু বলতে গেলেন তখনি ফকির বাবা হাত ইশারা করে চুপ থাকতে বললেন। ফকির বাবা বললেন…
আপনারা দুইজনে বাইরে যান। রোগীর সাথে আমি একা কথা কইতাছি।
শানু বেগম বললেন
বাবা…. কিছু মনে কইরেন না। ওতো আসলে বসে থাকতে পারবে না।
বাবা বললেন,
সমস্যা নাই। আপনারা বাইরে যান, তার কিছুই অইবো না। এইখানে বইতে পারবো।
তারা আর কিছু না বলে বাইরে চলে গেলেন। তারা যখন বাইরে গেলেন ঠিক তখন ফকির বাবা হেসে হেসে বললেন…
লোকমান সাহেব। ভালো আছেন।
লোকমান সাহেব অবাক হয়ে বললেন…
আপনি আমার নাম জানেন!!! আপনি কি আমাকে চেনেন!!!
ফকির বাবা আবার একটু হেসে বললেন…
নাহ্। আমি কাউরে চিনি না। শুধু ওই ওপর ওয়ালারে চিনি।
তাহলে আমার নাম জানলেন কিভাবে??
হেইডা আপনের জাইন্যা লাভ নাই। কিন্তু আপনে তো আর বাচঁবেন না।
লোকমান সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন। হটাৎ এমন কথা শুনে তার কপালে ভাজ ফেলে বললেন….
কি..কিসববব উল্টা পাল্টা কথা বলেন।
হ্। আমি যা কইতাছি হাঁচা কইতাছি। এহনও সময় আছে। সেই বাড়িতে ফিরা যান। ঐখানে আপনেরে ওরা মারবো।
মানে কি? কে আমাকে মারবে? কোথায় যাবো?
দ্যাহেন আমি যা কইতাছি। সব সত্য কইতাছি। আপনে যদি সেই বাড়িতে ফিরা না যান, তাইলে ওরা আপনের প্রিয় জিনিস গুলা আপনের থেইক্যা লইয়্যা যাবো।
ওরা কারা? কাদের কথা বলছেন আপনি? আপনি কি পাগল হইছেন?
ফকির একটু হেসে বললেন….
হ্। আমি পাগল। তয় আপনে যদি না যান তবে সপ্তাহের মইধ্যে টের পাইবেন।
লোকমান সাহেবের মাথা ধরে গেল। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি কিছুটা শান্তভাবে বললেন….
এইটার কি কোন প্রতিকার নাই। আপনি কি কিছুই করতে পারবেন না।
আফনে অনেক দেরী কইরা ফালাইছেন। এহন ওরা শুধু আপনেরে চায়। আফনে আগে আইলে কিছু করতে পারতাম। কিন্তু এহন আমি কিছুই করতে পারুম না।
লোকমান সাহেব এবার সব বুঝতে পারলেন। তবে তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি মোলায়েম কন্ঠে বলছেন….
আমি কি তাহলে চলে যাবো।
হ্। আমারে মাফ কইরা দিয়েন। আফনের লাইগ্যা আমি কিছুই করতে পারলাম না।
লোকমান সাহেব উঠে দাড়ালেন। তিনি দরজা পর্যন্ত এগিয়ে গেলেন। ফকির বাবা হটাৎ বললেন….
লোকমান সাহেব। মনে রাখবেন। পাপ ছাড়েনা তার বাপেরে। আর আপনে আমারে অবিশ্বাস করছেন তারপরও আমি কিছু মনে করি নাই। তয় আবার কই তারাতারি ফিরা যান। নাইলে কিন্তু সব কিছু হারাইবেন।
লোকমান সাহেব বেরিয়ে গেলেন। আর অবাক হলেন লোকটার ক্ষমতা দেখে। তিনি বড্ড ভুল করেছেন। যদি মেয়ের জামাই এর কথামত আরও আগে আসতেন। তবে হয়তো আজ তিনি বেঁচে যেতেন। শানু আর তার জামাই অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করছেন। কি বলেছে ফকির। কিন্তু তিনি কিছু বলছেন না। শুধু বললেন…
তেমন কিছুনা। শুধু বললেন রেস্ট নিতে তবে সব ঠিক হয়ে যাবে।
গাড়িতে বসে লোকমান সাহেব চুপ করে মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকলেন। আর শুধু ভাবতে থাকলেন সেই অভিশপ্ত রাতের কথা। কি যে হয়েছিল। সেই যে রাত আর তার ফল তাকে ভুগতে হচ্ছে। শানুকে খুব বলতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু বলা যাবে না। হয়তো স্বামীর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা সব চলে যাবে। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো বলা লাগবে। তিনি যাবার আগে বলে যাবেন। কিন্তু কাকে? হ্যা তার ডাক্তার বন্ধু রকিবকে বলা যায়। সেই এখন তার একমাত্র বন্ধু। হ্যা রকিবকে সব বলে যেতে হবে। শুধু রকিব বুঝবে সব পরিস্থিতি।To be continue……
2 Comments
Friends
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Jannatun Nur
@jannatun-nur
অরিন্দম সাইফুল্লাহ
@arindam-saifullah
Syed Farah
@syedfarah
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Alock
@alock
জে এস এম অনিক
@00anik
আজিজুর রহমান
@azizurrahman

গল্পটি খুবই রহস্যময় এবং টানটান উত্তেজনাপূর্ণ।