Profile Photo

Jannatun NurOffline

  • Jannatun-Nur
  • Profile picture of Jannatun Nur

    Jannatun Nur

    5 months ago

    সুফিয়া ও ডাইনি।
    জান্নাতুন নূর সাহলা।

    অনেক বছর আগে নিশ্চিন্ত পুরে সুফিয়া নামে এক মেয়ে ছিলো।তার বাবা বেচেঁ ছিল । কিন্ত মা অনেক দিন আগে মারাগেছে।বাবা হলেও সুফিয়াকে তেমন পছন্দ করতো না।সারাদিন খাটিয়ে মারতো।

    সুফিয়াঃবাবা কেন জানি এমন করে।আমাকে একদম সহ্য করতে পারে না।

    বাবাঃএই সুফিয়া ,কিরে মরলি নাকি?মরলে ও বাঁচতাম ।পরা মুখি অপয়া। তোর মা কেন একা মরলো ।
    হতছাড়িঁ কোথাকার ।যা বনে কুড়াল নিয়ে ।কাঠ কেটে লাড়কিঁ করে ঝুড়ি ভরে ,তবে বাড়িতে আসবি।

    সুফিয়াঃ যাচ্ছি বাবা।তুমি সময় করে স্নান করে,খাবার খেয়ে নিয়ো।

    বাবাঃহয়েছে পোড়া মুখি আর আহ্লাদ করতে হবে না।

    প্রতিদিনের মতো সুফিয়া কাদঁতে কাদঁতে বনে চলে গেল।এই কাঠঁ কেঁটে লাড়ঁকি করে ,ঝুড়ি না ভরা পর্যন্ত
    বাড়িতে গেলে, বাবা আর আস্ত রাখবে না।
    কিন্ত, সুফিয়া কিছু তেই বুঝতে পারতো না ,তার বাবা এত লাড়ঁকি দিয়ে কি করে।কেনই বা বাবাকে কোনদিন কিছু মুখে দিতে দেখে না।

    সুফিয়াঃবনের পথে হাটঁছে আর কাঁদছে।এমন সময় একটা গাছের সাথে পা লেগে পড়ে গেল সুফিয়া।

    গাছটিঃব্যাথা পেয়েছো মা।

    সুফিয়াঃকে কথা বলে।সুফিয়ার কেন জানি অন্যরকম মনে হচ্ছে।মনে হচ্ছে এই গাছটিই তার বাবা -মা।
    ধীরে ধীরে গাছের কাছে গেল।

    গাছটি ঃ আমাকে মুক্ত কর মা।আমরা তোর মা-বাবা।আমাদের মুক্ত কর মা।

    সুফিয়াঃকিন্তু কিভাবে মুক্তকরবো।

    গাছটি ঃ এই গাছের ফোকরে হাত দে মা।

    সুফিয়াঃগাছের কাথা মতো গাছেল ফোকরে হাত দিয়ে একটি কাচেঁর বোতল পায়।ওমা একি দুটি জ্যান্ত
    মানুষ এই কাচেঁর বোতলে।বোতলটি ভাঙ্গর সাথে সাথে দুটি মানুষ বেড়িয়ে এলো।

    গাছটি
    বাবা)ঃমারে আজ দশবছর যাবৎ এই খানে আটঁকে আছি।তোক নিশ্চই ওই ডায়নী আটঁকে রেখেছে।
    আমরা তোর বাবা-মা।দশবছর আগে এই ডায়নী ভিক্ষারি সেজেঁ আমাদের বাড়িতে গিয়ে ,মন্ত্র
    বলে আমাদের বন্দি করে এখানে রেখে দেয়।আর তোকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বাস করতে
    থাকে। কাল আমাবশ্যা, কাল আমাদের খাবে। এইজন্য তোকে দিয়ে কাঠ সংগ্রহ করছে। শুধু
    আমরা না এখানে আরো মানুষ আছে।এই ডায়নী দশ বছর পর পর খাবার খায়।আজ আমাবশ্যার রাতে আমাদের পুড়িয়ে খাবে। জঙ্গলের শেষ প্রান্তে একটা বিশাল চুল্লি আছে।আর তোর এই ঝুড়ি জাদুর।এখানে যতই লাড়কিঁ রাখা হোক না কেন শেষ রাতে তা আপনা আপনি চুল্লিতে গিয়ে জমা হবে।

    মাঃসুফিয়া তাড়াতাড়ি অন্যদের মুক্ত কর ।বেলা পড়ে যাওয়ার আগে।

    সুফিয়াঃকিভাবে ?

    মাঃ এই গাছের গুড়ির ভিতর একটা সোনার ময়না আছে।কুড়াল দিয়ে গাছ কেটেঁ বের কর।তারপর ওটা
    পুড়িয়ে ফেল।তাতেই ডায়নি মারা যাবে।

    ডায়নীঃঘুমেই নেই।রাতে খেতে হবে। সুফিয়াকে দিয়েই খাওয়া শুরু করবো।।সুফিয়ার কচিঁ হার গুলো চিবাতেবেশ হবে।

    সুফিয়াঃগাছটা যেন বিশাল এক বট গাছ। যতই কাটেঁ ততই বেড়ে যায়।
    বাবাঃকুড়াল টা দেতো দেখি।গাছের ফোকরের একটা প্রচন্ড জোরে আঘাত করতেই সোনার ময়না
    বেড়িয়ে এলো।আশ্চয্য ব্যাপার সোনার ময়না কথা বলে।

    (সোনার
    ময়নাঃসুফিয়া আমাকে পুরাস না ,আমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যা।সুফিয়াকে যেন মন্ত্র করা হয়েছে। বাড়ির দিকে পা বাড়াচ্ছে।

    মাঃ হাতের থেকে খোপ করে ধরে ময়নাতে আগুন ধরাল।

    সুফিয়াঃঅজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে গেল।

    ধীরে ধীরে সকল মানুষ মুক্তি পেল।সারা বন মানুষে ভরে গেল।দুর হতে একটা কালো কাক সুফিয়ার উপর মরে পরলো

    বাবাঃকাকটাকে ও আগুনে পোড়ালো। ওমনি সুফয়া জেগে উঠলো।সবাই সুফিয়াকে জয়জয়কার শুরু করলো।গ্রামের শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখলো ঝুড়িসহ লাড়কিঁ সোনাতে পরিণত হয়েছে।সবাই সেখান থেকে
    সোনা নিতে শুরু করলো। অন্যদিকে রাত নেমে এলো। ঘন অন্ধকারে চারদিক ছেয়ে গেলে।হঠ্যাৎ করে চারদিক বূষ্টিতে ভিজে গেলে।সোনার ময়না টা আধখানা পুরে ভিজে রইলো।কাকটি পুড়ে গেলেও বূষ্টিতে
    ভিজে জীবন ফিরে পেল।ভয়ংকর এক হাসিতে সারা বন কাঁপতে লাগলো। কাকাটি অর্ধেক পুড়ে অর্ধেক
    আছে।

    কাকঃকি এক বিধঘুট ,দুরবধ্য মন্ত্র পড়লো সাথে সাথে সবার হাতের সোনা এসে ময়নার লাগতে লাগলো।
    একে একে সবার হাতের সোনাই ময়নাতে লেগে গেলো।

    ময়নাঃ ময়না খুশীতে গান গাইতে শুরু করলো ।এমন খুশী আর হয়না।লোভী মানুষ নিজেই এসে ধরা পড়ে।মায়াবীর মায়াজালে হারিয়ে যায় শেষে।এমন খুশী আর হয়না লোভী মানুষ নিজেই এসে ধরা পরে।ময়াবীর মায়াজালে হারিয়ে যায় শেষে।এরপর অট্রহাসি দিয়ে সারা বন কাপিঁয়ে তোলে।হাসিতে বড় বড় গাাছ আবল -তাবল পড়তে থাকে ।মানুষ গুলো ভয়ে দিক বেদিক ছুটতে শুরু করলো।

    সুফিয়াঃবাবা আমার ভিষন ভয় লাগছে। আমরা বোধহয় সবাই মারা যাচ্ছি।

    বাবাঃইস কতই না ভালো হত,যদি আমরা কেউ সোনা না নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতাম।

    মাঃআর বলে কি হবে ।যা হবার তো হয়েই গেছে। দেখো কোন তান্ত্রিক পাওয়া যায় কিনা?

    সোফিয়াঃমনে পরেছে ,একদিন এক তান্ত্রিক এসে, এই ডায়নীর সাথে অনেক ঝগড়া করে।
    তান্ত্রিক আমকে বলেছিল ,কোন প্রয়োজন হলে তাকে ডাকতে। সে আমাদের পশের
    গ্রামে থাকে। তাকে নাকি আমাদের খুব প্রয়োজন হবে।তান্ত্রিক ডাকতে সে রওনা দিলো।

    মাঃতুই একা যাস নে ,আর যা করার তাড়াতাড়ি কর।
    বাবাঃ আমাকে ও সাথে নে।মরি বাঁচি সব একসাথে।

    তিনজনে রওণা দিলো তান্ত্রিকের খোজেঁ। পথ যেন ফুরাতেই চায় নাা।সোফিয়ই একা সম্বল।দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ওর মা -বাবার ।ওদের অবস্থা একদম কাহিল।অন্যদিকে ডায়নী ভিজে কাঠঁ গুলোকে জর করে মন্ত্র পড়ছে।ওমা একি ভিজে কাঠঁগুলো ক্যারাসিন পেয়ে যেমন জ্বলে তেমনি জ্বলছে। মুহুর্তের মধ্যে সারা বন
    আলোকিত হয়ে গেল।

    ডায়নীঃভয়ংকর ভাবে হাসতে শুরু করলো। সারা বন তাতে কাপছেঁ। সুফিয়া মা কই গেলি ।আয় তো মা ,
    পোড়া মুখী।তোকে দিয়ে খাওয়া শুরু করি।তোর নরম হাড় গুলো দিয়েই তো হবে মাংসের হলি।
    হাহা,সারা বনে ডায়নী এক চোখ হাতে নিয়ে সোফিয়াকে খুজঁছে।মারে খিদে পেয়েছে তো আয়।

    তান্ত্রিকঃকিরে সুফিয়া এসেছিস।তোর জন্যই তো অপেক্ষা করছি। তাড়াতাড়িঁ মাথার চুল ফেলে দে ।
    নয়তো এই ডায়নী তোদের ঘ্রান পাবে।

    সুফিয়াঃকে কেটেঁ দিবে চুল আমার। আমি তো কোনদিন চুল কাটিঁনি।এই দেখো আমার কত লম্বা চুল।

    তান্ত্রিকঃএই চুলের মধ্যেই মায়াজাল।এই চুলের উপর মন্ত্র করেই ডায়নী পুনরায় ফিরে এসছে।

    বাবাঃ আমাকে কিছুদিন যাতে করে ওর চুল কাটতে পারি।

    অধরা ঃ আমার কাছে আসেন আমি কেটে দেই।

    সুফিয়াঃআহ কি আরাম।রাক্ষষ মরবে চুল কাটঁলে। নাচবো আমি মনের সুখে বনে।

    অধরা ঃ তান্ত্রিক বাবা চুলে তো কাচি চলে না ।গিটেঁ ভরা

    তান্ত্রিকঃদে আমি কেটেঁ দেই।ও যতগুলো মানুষ বন্ধি করেছে, ততো গুলো গিটঁ দিয়েছে। মন্ত্র পরে
    পরে ফু দিয়ে চুল কাটঁছে।

    ডায়নীঃসুফিয়া আ আ মরে গেলাম ।গগন বিদারি আত্ননাদ করে বন কাপাচ্ছে।

    আসে পাশের মানুষ ডায়নীর এই আত্ননাদ অবাক ।চারদিকে এক রহস্যের গোলক ধাঁধাঁ সূষ্টি হয়েছে।
    মানুষগুলো ভাবতে পারছে না কি করবে। বূষ্টি থেমে গেলো।ডায়নীর আত্ননাদ থামবার কোন জো নেই।
    আগুন জ্বলে সারা বন আলকিত হয়ে গেলে।ডায়নীর শরীল থেকে মাংস খসে খসে পড়ছে।গন্ধে চারদিক
    ভরে গেছে। এখানে টিকাই দায়।

    তান্ত্রিকঃঅবশেষে চুল কাটা হলো।সুফিয়া আর কোনদিন চুল রাখতে পারবে না।ওর চুল দিয়েই ডায়নীর ফিরে আসা সম্ভব।তোমরা চল আমার সাথে।দেখি ডায়নী মরেছে কিনা ?

    ভোর হতে আর একটু বাকি।নিশ্চন্ত পুরের অমানিষা কেটেছে কিনা তাই জানতে তান্ত্রিক,অধরা,সুফিয়া,মা-বাবা সহ রওণা দিলো। কিন্তু কাল রাতে যে পথে আসতে সাপ ,বাঘ ,ঘোড়া সহ যত প্রানী দেখেছে তার কোন নিষানা নেই।ভোরের সুয্য রক্তিম আভা যেন জানান দিচ্ছে রাক্ষস মুক্তির গল্প।

    তান্ত্রিকঃএইতো এসে পড়েছি।বাহ ডায়নী খতম, তো খেয়াল খতম। সারা বন দেখে তান্ত্রিক বললো এখানে
    সোনা ,রুপা ,হিরে ,জহরত যাই দেখছো সবিই মায়াজাল ।এগুলোতে কোন মানুষের হাত পড়লে
    তা থেকে ডায়নী আবার ফিরে আসবে। সারা বনে আগুন দেও।

    কথামত বনবাসী সারা বনে আগুন দেয়।আগুনে সব কিছুই পুড়ে যায়। কোন পিপড়েঁ পযন্ত বাচেঁনি।
    রাক্ষসের পোড়া অংশগুলো জ্বলছে।আর বির বির করে কিযেন মন্ত্র পড়ার শব্দ আসছে। টানা তিন দিন
    আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়।

    চর্তুথদিন সবাই বনে গিয়ে দেখলো ,এক সুন্দরী পরী বসে আছে। দেখে গ্রামের সবাই ভয়ে তান্ত্রিক বাবার কাছে গেল।

    তান্ত্রিকঃ চোখ বন্ধ করে রাখলো কিছু সময়।অনেকক্ষণ পরে বললো.’’চল তো গিয়ে দেখি কি হয়েছে?

    পরীঃ আমী নুরী পরী। ৩০০০ হাজার বছর পযন্ত এখানে আটঁকা পড়ে আছি। আমাকে এখানে এই ডায়নী ধরে আটকে রেখেছিলো। ও বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ধরে ধরে আনে ,আর দশ বছল পর পর খায়।

    সুফিয়াঃলক্ষ করলো চারদিক ফুল আর ফল গাছে ভরে আছে।

    তান্ত্রিকঃআচ্ছা পরী মা।কোনদিন কি আবার ডায়নী ফিরে আসতে পারবে?

    পরীঃ প্রত্যেক দশ বছর পর পর আমাবশ্যার রাতে তোমাদের ঘরে কাড়াঁ নাড়বে।আর স্বর্ণ ,রুপা মতি
    ইত্যাদি দিতে চাবে। কেউ যদি নেও ,তবে আবার ফিরে আসবে।আর সুফিয়া তুমি কোনদিন কোন
    ধাতু পরতে পারবেনা । এই নেও ফুলের গহনা। এই গয়না কোদিন খুলবে না।তাহলে তোমার মাথায়
    চুল গজাবে। আর আমি প্রত্যেক পূর্ণিমা রাতে সুফিয়ার সাথে কথা বলবো।

    এই বলে পরী ডানা ঝাপটাতে শুরু করলো।চারদিক থেকে স্বগীয় পরিবেশ সূষ্টি হলো। বনের শেষ প্রান্তে চুল্লি ফেটে পাহাড়ি ঝড়না বইতে শুরু করলো। কোথা থেকে হাজারো পাখি গান ,গাইতে শুরু করলো।

    সুফিয়াঃএটা কি স্বর্গ।

    পরীঃএটা তোমার বাড়ি, আজ থেকে।আর এই পরী ছেলেটার সাথে তোমার বিয়ে দিলাম । কেননা প্রত্যেক
    আমাবশ্যা রাতে ও প্রথম তোমার কাছেই আসবে। আর মনে রেখো তুমি এ বন থেকে কোনদিন বের
    হতে পারবে না।এবার আমাকে বিদায় দেও তোমরা।আমি পরীস্থানে যাবো।

    সবাই সমসুরে বিদায় হে পরী। নুরের এক পরী। বন মাতানো হুরী বলতে শুরু করলো।সবাই একে একে বিদায় নিতে শুরু করলো। এমন সময় সুফিয়ার স্বামী গাছের পাতা ফুল দিয়ে বীণি সুতায় বুনন দিয়ে একটি
    বাড়ি বানালো । চারদিকে হাতের ইশারায় ফোঁয়াড়া কাটঁলো আর তাতে রংবেং এর মাছ ছুটোছুটি শুরু করলো ।হঠাৎ একটি ময়না পাখি গাছের ডালে ওদের সাথে কথা বলতে শুরু করলো কোথা থেকে আরিএকটি পাখি ও ওদের সাথে কথা বলতে শুরু করলো।

    সুফিয়াঃবিস্ময় ভেঙ্গে প্রথম কথা বললো।ওগো ,ওরা কি বলছে গো।
    স্বামীঃএত বুঝতে হবে না গো।চল তাড়াতাড়ি ঘরে, মধুমালা ।যুথীবনে গাহে গান উদাসী হিয়া।
    এই বলে সুফিয়াকে কোলে নিয়ে ঘরে গেল।

    দুবছর পর ,ওদের ঘর আলো করে এক কন্যা সন্তান হয়। এখনো এই কন্যা সন্ততানের নাম ঠিক করা হয়নি। ওরা অপেক্ষা করছে পরী মায়ের জন্য।পূর্ণিমা রাতে যখন আসবে তখন ওদের নাম ঠিক করে দিবে ,পরী মা।

    সুফিয়াঃআমার মেয়েটি কাঁচা সোনা।চোখ টানা টানা।ছোট্র সোনার পুতলা ।অন্যদিকে স্বামী
    ডানা মেলে সারাদিন ছুটোছুটি করে। শেষ বিকেলে বাড়ি আসবে। এসে সুফিয়ার
    জন্য নরম রেশমী কাপড় বুনবে।এত বড় প্রন্তর আমি আর সোনার পুতলা ছাড়া
    কেউ নেই। কিন্তু এই সোনার পুতলা টি মানুষ না পরী । তা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো।

    পরী মাঃসুফিয়া উঠো। আমি এসেছি। দেও ,পরীর ছা কে কোল দেও।আমার নাতনী ,আমার নাতনী।
    কি নাম দিব।,সারদুনি পরী তুমি।জগতের বিখ্যাৎ জাদুকর হবে। যত ডায়নি ,যত খোক্কশ
    বন্দি করে রাখবে আমার নাতনী ।এই নেও ফুলের গয়না ।এই হার কোনদিন গলা থেকে কেউ খুলতে পারবে না আর সুফিয়া তুমি এখন থেকে জাদু তোমার স্বামীর কাছ থেকে শিখবে ।এই নেও জাদুর সোনার কাঠিঁ, এটা দিয়ে তুমি কাজ করতে পরবে।

    স্বামীঃনিন মা , মিষ্টি মুখ করুন।আমায় ধন্য করুন। সুফিয়া মাকে সালাম করো।আমাদের আর্শীরবাদ
    করুন। আমাদের আশীর্বাদ করুন।

    পরী মাঃধন্য হও ধ্যানে ,গুনে ।ধন্য হও ধ্যানে,গুনে।জাদুতে মাতুক বিশ্ব।জাদুতে মাতুক বিশ্ব।একটি ‍
    মিষ্টি মুখে দিয়ে ,ডানা মেলে আকাশে উড়াল দিলো।

    দেখতে দেখেতে দশ বছর পেরিয়ে গেল।সুফিয়ার মেয়ে সারদুনি ,এখন কিছুটা উড়তে পারে।বাবা -মার সাথে রোজই জাদু শিখে। আধো কথা ,আধো জাদু সবই এখন সে শিখছে।

    সারদুনিঃমা আমি বড় হয়ে ডায়নি ধরবো।তারপর কাচেঁর বোতলে ভরে খেলবো।

    সুফিয়াঃহাসতে লাগলো ।হঠ্যাৎ বূষ্টি দেখে সুফিয়ার মনে পড়লো আজ থেকে দশ বছর আগের ভয়ংকর রাত।পরী মার কথা মতো আজ আমাবশ্যার রাতে ডায়নী ফিরে আসবে । সবাইকে জাদু বলে সুফিয়া
    জানিয়ে ,তিনজনে ঘরে ঘাপঁটি মেরে বসে রইলো।

    ডায়নীঃসুফিয়ার ঘরের সামনে এস প্রথমে দাঁড়ালো। পাতার ঘর দেখে বুঝতে বাকিঁ নেই ,এখানে পরীর
    বাস।নাকিঁ গলায় ডাকতে শুরু করলো।সুফিয়া মা আয় তো। সোনা নিবি,নিবি হিরের হার।তাতে ও
    যদি না ভরে মন দেবো মতির মালা। মা মরা মেয়ে আমার পান্না নিবি,নিবি রুপার মল।

    সারদুনিঃমা কে ডাকছে ওমন বেসুরে গলায় ,জাদু করে দেও তারে বোবা করে।

    সোফিয়াঃচুপ করে থাকো।বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমাও। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে গেলি।

    ডায়নীঃপরা মুখিটা মরেছে বোধ হয়। অন্যদের ঘরে ও যেতে হবে।সারা কি আর পোড়া মুখির দঁরজায়
    দাড়িঁয়ে কাঁটাবো ।হতছাঁড়ি কোথাকার।

    2
    2 Comments
Skip to toolbar