Profile Photo

বিপুল চন্দ্র রায়Offline

  • অব্যক্ত দহনে প্রেমের বিসর্জন
    বিপুল চন্দ্র রায়

    আমাকেও একটি মেয়ে ভালোবেসে ছিল,
    বিয়ের পিঁড়িতে বসে শোনাল তার রুদ্ধ হাহাকার,
    লগন ফুরোলে ফিরে এসে বললে অকপটে
    তোমাকেই চেয়েছি আজন্ম,
    অথচ কি বিচিত্র এই পৃথিবীর নিষ্ঠুর মনস্তত্ত্ব!
    আমিও বলতে চেয়েছি ভালোবাসি,
    অথচ কণ্ঠরোধ করেছিল আভিজাত্য,
    কিংবা এক অদ্ভুত ভীরুতা,
    যাকে বলতে পারো নিয়তির পরিহাস।
    অগ্নিকুণ্ডে ঘৃতাহুতি দিলে যেমন জ্বলে ওঠে শিখা,
    তেমনি তোমার শেষ স্বীকারোক্তি ভালোবাসি
    শব্দটা যখন ঝরল তোমার ওষ্ঠপ্রান্তে,
    ততক্ষণে সময় গিয়েছে চলে মহাকালের অন্য প্রান্তে।
    আজ তুমি বন্দিনী, অন্যের ঘরনী,
    তোমার সিঁথির ঐ রক্তিম রেখাটি
    যেন আমার না বলা কথার এক শেষ চিহ্ন।
    স্মৃতির অরণ্যে আজও তোমার পদচারণা নিঃশব্দ
    অথচ বিস্মৃত পাণ্ডুলিপির ধুলোমাখা পাতা।
    যা আমি আজও সাজাতে পারিনি কোনো কাব্যে,
    তুমি তো এখন এক অলভ্য উপাখ্যান,
    আর আমি সেই উপাখ্যানের নীরব পাঠক।
    হয়তো কোনো এক গোধূলি বেলায়,
    যদি হঠাৎ দেখা হয় কোনদিন তুমি চমকে উঠবে,
    আঁচল টানবে সংকুচিত লজ্জায়,
    আমি শুধু মৃদু হেসে পাশ কাটিয়ে যাবো,
    যেন আমরা চিরকালই ছিলাম দুই অচেনা ধ্রুবতারা।
    তোমার হাতের শাঁখা আর কপালের ওই উজ্জ্বল সিঁদুর,
    আমার কাছে এক নিষিদ্ধ সীমানা, যা যোজন যোজন দূর।
    অপ্রকাশিতই রয়ে যাক যা বলতে চেয়েছি নির্জনে,
    অসমাপ্ত গল্পই হোক আমাদের প্রেমের শেষ অভিমান।
    তবুও তুমি সুখী থেকো অন্য কারো প্রেয়সী হয়ে,
    আমি না হয় বেঁচে থাকবো একাকীত্বের দীর্ঘশ্বাস বয়ে।

    2
    1 Comment
    • প্রতিটি শব্দে যে সংযম এবং গভীরতা আছে, তা বিরহকেও এক ধরণের পবিত্রতা দান করেছে

Skip to toolbar