-
আমার ফেসবুকের পোস্টগুলো দেখে মাহিন বলে-” মা- মনি, তুমি এতবড় পোস্ট না দিয়ে একটা উপন্যাস লেখে ফেল”
আমি উত্তর দেই- টাইপ রাইটার নেই জন্য উপন্যাস লেখতে পারছিনা। (এখানে আমি Ulterior transactions ব্যবহার করেছি। Ulterior transactions সম্পর্কে অন্য কোন দিন আপনাদেরকে বললো, আজ শুধু এইটুকুই বলি,Ulterior transactions এ দুটো ম্যাসেজ থাকে, ১টি হলো- Overt or social – level & other is covert or psychological – level message. )
মাহিন এ যুগের ছেলে, টাইপ রাইটার সম্পর্কে ধারণা তেমন নেই, ঠিক যেমন আমার” টরে টক্কা” সম্পর্কে ধারণা ছিলো না। সে যাইহোক – মাহিন আমাকে মেকানিক্যাল কি বোর্ড(Mechanical Keyboard) কেনার পরামর্শ দেয়। সে বলে – মা-মনি, একদম টাইপ রাইটার এর মত শব্দ হয়।
ওর পরামর্শ আমাকে তেমন অভিভূত করে না, আমার কাছে মনে হয় – বিষয় টা “অন্ধের দুগ্ধ দর্শণ” এর মত না হয়!ওকে বললাম – তুই নিবি নাকি? ও বললো- নিতেতো চাই,কিন্তু..! আমি তখন ওর বয়োজ্যেষ্ঠ বোনকে জানালাম। বয়োজ্যেষ্ঠ বোন সংগে সংগে নিউইয়র্ক থেকে অর্ডার দিয়ে ফ্লোরিডায় মাহিনের বয়োজ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে পাঠিয়ে দিলো। সেই ভ্রাতা গত ডিসেম্বরে নিয়ে আসলো, এর পরে আমি সেটা নাড়াচাড়া করে বললাম – বড্ড বাঁচা বেঁচে গেছি! কোথায় টাইপ রাইটার এর খটাখট শব্দ আর কোথায় মেকানিকাল!
এখন মাহিন “দারাজ ” এ টাইপ রাইটার এর দরদাম দেখছে। আমি অপেক্ষায় আছি কে আমাকে টাইপ রাইটার গিফট করবে,তার জন্য।
এবার আসি আমার ফেসবুকে বিশাল বিশাল পোস্ট লেখার বিষয় এ।
১. যখন আমাকে কেউ বলে উপন্যাস লেখার কথা, তখন আমি জিহবায় কামড় দিয়ে কান ধরি( চোখ বন্ধ করে আমাকে এই অবস্থায় চিন্তা করুন)। কারণ মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত আমার দৌড় ঠিক তেমনি জাকারবার্গ এর ফেসবুক পর্যন্ত।জাকারবার্গ ভাইজানের ফেসবুকের বদৌলতে আমার কিছু আপনজন আছেন, যারা আমার ধৃষ্টতাকে প্রশ্রয় দেন, সেই সাহসেই আমি এলেবেলে ধরনের কিছু লেখি, উপন্যাস লেখার যোগ্যতা আমার নেই।তাই টাইপ রাইটার এর বিষয় টা হলো একটা “ভাব ধরা”। যাতে করে সবাই ভাববে, সারারাত টাইপ রাইটার এর খটাখট শব্দ করে আমি “মহাভারত ” লেখবো আর ছিড়ব।
২. আমার কোন “ভাবি গ্রুপ”, “বন্ধু গ্রুপ ” নেই। সত্যি বলতে কি আমি গল্প করতে পারিনা, তাছাড়া দ্রুত কাজ শেষ করে আমার ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে,সেই ছোট বেলা থেকেই। আম্মাকে ছাড়া আমি বেশি সময় বাহিরে থাকতে পারতাম না। ঘরে ফিরেই কি কি করলাম সারাদিন তা আম্মাকে না বলা পর্যন্ত আমি স্বস্তি পেতাম না। বিয়ের পরে দ্রুত ঘরে ফিরে সারাদিন কি কি করলাম তা তুহিন কে না বলা পর্যন্ত স্বস্তি পেতাম না। জানতাম অনেক কিছু শুনে রাগ করবে,তবুও বলতাম। তুহিন খুব ভালো শ্রোতা যে ছিলো, তা না, তবুও আমি ওকে শোনাতাম। ওর চোখ থেকে চশমা খুলে, হাত থেকে পেপার নিয়ে ময়লার বাক্সে, অথবা রাগে চশমা ভেঙে, পেপার কুচিকুচি করে ছিঁড়ে ফেলতাম। কত চশমা যে ভেঙেছি! শেষের দিকে তুহিন বলতো- শুনছি,শুনছি, বলো বলো।
এখন তুহিন নেই, আমার অফুরন্ত সময়, কারো সাথে যোগাযোগ করতে ভালো লাগে না তাই বিশাল বিশাল পোস্ট দেই।
৩. তাছাড়া আমার প্রফেশনে আমাকে যা করতে হয় তা হলো – ক্লায়েন্ট এর কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়, তাকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। Big eyes, Big ears, Small mouth.এটাই প্রয়োজন একজন কাউন্সেলর এর। এই কারণেও আমি কথা বলি কম, শুনি বেশী। কথা বলা কমটা পুষিয়ে দেই বিশাল, বিশাল পোস্ট দিয়ে, এই হলো আমার বিশাল বিশাল পোস্ট এর কারণ।
রি-পোষ্ট
২০/০২/২০২২2 Comments
Friends
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed
মেঘ
@megh
রোদেলা শিশির
@rodelashishir


আপনি একই সাথে একজন কাউন্সেলর, একজন মা, একজন একনিষ্ঠ শ্রোতা এবং একজন আজন্ম গল্পকার।