Profile Photo

ফারদিন ইসলাম উইনমিOffline

  • winme
  • #Unsolved_অরূপ★
    .
    বারান্দার এক পাশে দাঁড়িয়ে টিনের চালে বৃষ্টি ফোটার গুরি গুরি শব্দ কান পেতে শুনছে।
    খুব ঠান্ডা বাতাস আর হালকা বৃষ্টির ঝাপ্টা এসে শরীরে ধাক্কা খাচ্ছে বার বার।
    এরকম পরিবেশে মোটামুটি অনেক মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অরূপের মন আজ কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।
    কোনো কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না।
    গতকাল প্রায় ১০০+খুন করেছে। কিন্তু তাতেও আজ তার মন শান্ত হচ্ছে না।নিজেও মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে, এমতাবস্থায় নিজেকে ধন্য ভাবা উচিৎ। কারন এখনো সে বেঁচে আছে।
    কিন্তু না কোনো কিছুতেই আজ তার মন ভালো নেই।
    সবকিছু থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
    তার মন এখন একটা ভাবেই শান্ত করতে পারবে। আর তা হলো রক্ত, তাজা মানুষের রক্ত নিজ চোখে দেখে আর নিজ হাতে হত্যা করতে পারলেই তার মন শান্ত হবে।
    তা ছাড়া কোনোকিছুতেই শান্ত হবে না।
    খুন, খুন, খুন, এটাই এখন তার মস্তিষ্ক বশ করে রেখেছে।খুন ছাড়া অন্যকিছু বুঝে না।
    এক ধরনের নেশা হয়ে গেছে, যত বেশি খুন তত মনে শান্তি।
    অচেনা জায়গা, অচেনা মানুষ আর রিমঝিম বৃষ্টি সবকিছু তার অসস্থি লাগছে।
    এই অচেনা জায়গা আসতে চায়নি সে, নিজের অনিচ্ছায় এখানে এসেছে।
    গতকাল যখন তাকে এই বাড়িতে নিয়ে আসছে, তখন অজ্ঞান ছিলো।
    নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সারা শরীর রক্ত মাখা।
    যদিও তার রক্ত শুধু গায়ে লেপ্টে নেই
    আরুপের রক্ত সহ প্রায় অনেক মানুষের রক্ত শরীরে লাগিয়ে ছিলো।
    অনেক মানুষ মারা গেছে।
    অনেকগুলো লাশের ভিরে যখন অরূপ চাপা ছিলো, ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরতে শুরু করেছে।
    ঠিক তখনি এক আগন্তুক তাকে এই বাড়িতে নিয়ে আসে।
    তার ভাই ডাক্তার, এ কারনে আগন্তুক ভেবেছে হাসপাতালের চেয়ে এখানে ভালো চিকিৎসা হবে। ভালো সেবা যত্ন পেয়ে তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে।
    এটা ভেবেই নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে।
    আগুন্তুক বুঝতেই পারেনি নিজেই নিজের মৃত্যুকে ডেকে নিয়ে এসেছে।
    আগন্তুকের নাম হেলাল আর তার ভাই বেলাল।
    বেলালের পরিবার বলতে বউ আর সে নিজে আর কেউ নেই।
    আর হেলালের পরিবারে বউয়ের একটা ৫ বছরের ছেলে মিযান, আর ১৯ বছর বয়সি মেয়ে তন্ময়া,
    অরূপ মাটির বারান্দার এক পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মিযানের বৃষ্টিতে ভিজে এদিক ওদিক ছুটে বেরানো দেখছে।
    আর ঘরের ভিতর তন্ময়া আর তার আম্মু মিলে, সকালের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে।
    একসময় তন্ময়া এসে মিযানকে ধমক দিয়ে বাসার ভিতর নিয়ে গিয়ে, মাথা মুছে দিতে থাকে।
    অরূপ আনমোনা হয়ে বৃষ্টি দেখেই যাচ্ছে, আর মনে মনে ভাবতে থাকে কিভাবে খুন করা যায় এদের সবাইকে।
    একটা ঘরে সবাইকে বন্ধ করে দিয়ে। খুন করবে গলা দিয়ে রক্ত ছিটকে পরবে দেয়ালে, পুরো দেয়াল জুরে লাল রক্তে রাঙ্গিয়ে যাবে।
    মনে মনে এটাই ভাবছে,তখনি তার ভাবনার ছেদ পরে।
    হেলাল সাহেব তাকে উদ্দ্যেশ্য করে হালকা উচু করে ডাকতে থাকে “বাবা এভাবে বৃষ্টির পাশে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে ঘরের ভিতরে আসো সকালের খাবার খেয়ে নাও”।
    অরুপ কিছুক্ষণ হেলাল সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে কি যেনো ভাবলো, তারপর ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেই দম বন্ধ হয়ে আসবে এমন অবস্থা।
    কারন পুরো ঘর অন্ধকার আর কেন যেন অন্যরকম গন্ধ।
    গন্ধটা ভালো করে নাকে নিতেই বুঝতে পারে। এটা কেরোসিন তেলের গন্ধ, পাশের রুমে তাকাতেই বুঝতে পারে গন্ধটা কেন আসছে।
    পাশের রুমে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কারেন্ট না থাকাতে লেম্প জালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর তা থেকেই কেরোসিন তেলের গন্ধ আসছে।
    অরূপ এ রুম থেকে ও রুমে প্রবেশ করলো।
    হেলাল সাহেব আর বাকি সবাই মাটিতে মাদুর বিছিয়ে খেতে বসেছে।
    খাওয়ার জন্য কোনো টেবিল নেই শুধু কয়েকটা চেয়ার আছে আর একটা পড়ার টেবিল চোখে পরে।
    এটা যে হেলাল সাহেবের মেয়ের ঘর তা ঘরের পরিবেশ দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
    যাইহোক সবার সাথে অরূপ মাটিতেই খেতে বসে।
    হেলাল সাহেবের পাশে বসে আর হেলাল সাহেবের বাম পাশে তন্ময়া খেতে বসেছে।
    মিযান তার মায়ের কোলে বসে খাচ্ছে।
    মাথা নিচু করে সবাই নিরব হয়ে মুখে লোকমা নিচ্ছে,কেউ কোনো কথা বলছে না।
    অরূপ খুব ভালো করেই জানে এ নিরবতা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকবেনা।
    কারন হেলাল সাহেব কিছু বলার জন্য বার বার অরূপের দিকে তাকাচ্ছে আবার মাথা নিচু করে মুখে লোকমা দিচ্ছে
    .
    একসময় নিজের অসস্তিকে বিদায় জানিয়ে বলতে শুরু করে ” বাবা আমি আর আমার কিছু বন্ধু মিলে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা বাস আমাদের চোখের সামনে একদম ফাকা রাস্তায় উলটে পরে।
    উলটে গিয়ে রাস্তার সাইডে নিচু জমিতে পরে যায়।
    আমরা তখনি সবাই ছুটে যায়। বাসে থাকা সবাইকে সাহায্য করতে।
    এম্বুলেন্স ফোন করে জলদি আসতে বলা হয়।
    কিন্তু এখান থেকে হাসপাতাল অনেক দূরে তাই এম্বুলেন্স আসতে আসতে অনেক লোক এখানেই মারা যায়
    আমার হাতের উপর ৩ জনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে দেখেছি।
    একটুর জন্য কাউকে বাঁচাতে পারিনি।
    এম্বুলেন্স তাড়াতাড়ি আসলে হয়তো অনেক মানুষের জীবন বেচে যেত।
    কি বিভৎস, মানুষের দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে পরে ছিলো রাস্তার পাশে।
    দেখে মনে হয়েছিলো লাশের স্তুপ,
    ১৯৭১ সালে যখন দেশে যুদ্ধ লেগেছিলাম তখন এরকম লাশ দেখেছি, আর আজ এতো বছর পর আবার দেখলাম।
    লাশগুলো দেখে আমার সেই ৭১ সালের কথা মনে পরে গিয়েছে।
    এম্বুলেন্স আসে আর অনেক লোককে এম্বুলেন্স করে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তাতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে এম্বুলেন্স এর লোকদের।
    তবুও অনেক্ষন ছুটাছুটি করার পর কিছুটা শান্তি পাই,অনেক মানুষ বেঁচে গিয়েছে কিন্তু তারচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে, আর সব মৃত লাশ তখনো রাস্তার পাশে ছিলো
    শুধু যাদের বাঁচার মত অবস্থায় আছে তাদের আগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
    যখন সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো শেষ করে বাসায় আসার জন্য পা বারায়,তখনি লাশের স্তুপ একপাশে হালকা নরতে দেখি।
    বুঝতে আর বাকি নেই কেউ একজন জীবিত আছে এই লাশের স্তুপের ভিতরে বন্ধুদের সবাইকে ডেকে লাশের স্তুপ সরিয়ে তোমাকে দেখতে পাই। এম্বুলেন্স আসতে সময় লাগবে এটা ভেবে তোমাকে আমি বাসায় নিয়ে আসি।
    আর ভাইকে সব খুলে বলি, তখন ভাই এসে তোমার চিকিৎসা করে ঘুমের ইনিজেকশন দিয়ে ঘুমিয়ে রাখে।”
    অরূপ সবটা শুনে মুখে হালকা হাসি টেনে নিয়ে বলে “ধন্যবাদ চাচা”।
    মুখে ধন্যবাদ বললেও মনে মনে তার উল্টোটা বলছে কারন বাঁচতে সে চায়না।
    মরে গেলেই খুশি হতো।
    হেলাল সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলতে শুরু করে
    “তা বাবা তোমার বিষয়ে তো কাল থেকে কিছুই জানতে পারিনি, তোমার মানিব্যাগ ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছি তা থেকে জানতে পারি তুমি এই বগুড়ার সন্তান নাম কি যেন লেখা ছিলো”
    এটা বলেই হেলাল সাহেব বা হাত দিয়ে মাথা চুলকাতে থাকে হয়তো মনে করার চেষ্টা করছিলো।
    তখনি পাশ থেকে তন্ময়া বলে উঠে _”আব্বা উনার নাম অরূপ”।
    এই বলে আমার দিকে তাকায়
    অরূপ একভাবে তাকিয়ে আছে তন্ময়ার দিকে।যদিও এসব প্রেম বা বিয়ে এসবে তার এলার্জি কিন্তু আলাদা মায়া টানছে তাকে বার বার
    নিজের অজান্তে এই মায়াই জড়িয়ে যাচ্ছে।
    কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে অরূপ বলতে শুরু করে জী চাচা আমার নাম অরূপ আমি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের সামনেই থাকি,আর আজিজুল হক কলেজে পড়াশুনা করছি।
    নিজের ছোটো খাটো দোকান আছে সেটা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি।
    হেলালঃ “বাহ বাহ বেশ ভালো তা আমাদের বিষয়ে শুনে নেওয়া ভালো, যদিও হয়তো এতক্ষণে বুঝেই গেছো সবকিছু
    অরূপ হেলাল সাহেবকে আর কিছু বলতে দেয় না।তার আগেই বলতে শুরু করে “জী চাচা আপনার পাশে আপনার মেয়ে তন্ময়া আর আপনার স্ত্রী, আর মিযান আপনার ছেলে।
    এই নিয়ে আপনার সংসার”
    হেলাল সাহেব সব শুনে কিছুটা মুচকি হাসি হেসে বলে”বাহ সব দেখছি বলার আগেই বুঝে গেছো।আচ্ছা তা কাল থেকে তো অজ্ঞান ছিলে,বাড়িতে কি কাউকে এ বিষয়ে জানিয়েছো?
    বাড়ির লোক টেনশন করছে না!
    অরূপঃ “চাচা আমি এতিম, ছোটো বেলায় আম্মু মারা গেছে আর ৭/৮ বছর বয়সে আব্বু মারা গেছে তখন চাচা আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়।
    সেই থেকে নিজের ব্যবস্থা নিজে করি।”
    হেলাল সাহেব কিছুটা অবাক হয়ে যায়
    আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই গলা খাকারি দিয়ে ঘরে আরেকজন প্রবেশ করে।
    সবাই খাওয়া বাদ দিয়ে তার দিকে তাকায়,
    অরূপ নিজেও দেখার চেষ্টা করে কে আসছে এখন ঘরে।
    তাকিয়ে দেখে বেলাল সাহেব শার্ট প্যান ইন করে লম্বা মানুষ চুল পেকে গেছে প্রায় কিন্তু একটাও দাড়ি নেই।
    কখনো দাড়ি মোছ কিছুই গজায়নি,আর্মিদের মতো ছোটো ছোটো করে চুল কাটিয়েছে।
    দেখতে ব্যাংকের ম্যানেজারের মতো লাগছে।
    শুধু একটা কোর্ট পরা বাকি
    তাহলে একদম পারফেক্ট ম্যানেজারের মতো লাগবে।
    বেলাল সাহেব জুতো জোরা খুলে মাদুরের উপর খেতে বসে।
    আর অরূপের দিকে তাকিয়ে বলে “বাবা অরূপ তোমার কেমন অবস্থা শরীর কি ব্যাথা ট্যাথা করছে?
    অরূপ বেলালের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে
    “না চাচা সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না
    তবে মাথাটা খুব ব্যাথা করছে”।
    বেলালঃ “তা তো একটু হবেই মাথায় খুব বড় আঘাত পাইছো ব্যাথা একটু করবেই,আর শহরে গেলে মাথার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে নিও। বলা যায় যদি কোনো ক্ষত হয়ে থাকে ভিতরে,
    তাই করে নেওয়া ভালো।
    হেলাল সাহেব বেলাল কে উদ্দেশ্য করে বলে তা এতো সকালে কই গেছিলা?
    বেলালঃ তুমি তো জানোই হাসপাতালে এখন কি অবস্থা কত লোকের মুখ হাত শিলাই করলাম তার ঠিক নেই।
    চারদিকে সামলাতে গিয়ে জানের উপর উঠে যাচ্ছে,
    এখন খেয়ে আবার যেতে হবে হাসপাতালে।
    এটুকু বলে গ্লাস হাতে নিয়ে পানি খেতে থাকে আর চারদিকে চোখ বুলাতে থাকে।
    পানি খাওয়া শেষ করে, বেলাল সাহেব আবার বলে সাজেদা কই তাকে দেখছিনা যে
    (সাজেদা বেলালের স্ত্রী)
    এটা শুনে হেলালের স্ত্রী মোমেনা বেগম বলে”সাজে সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেছে, আপনি খেতে বসুন এখনি চলে আসবে।
    .
    বেলাল কিছুটা মাথা নেরে খাবারের থালা এগিয়ে নেয়,নিজ হাতে ভাতের গামলা থেকে ভাত বেরে নিয়ে খলসে মাছের পুরপুরি, আর ডাল নিয়ে সবগুলা এক করে হাতের ভিতর ছোটো লোকমা করে মুখে নেওয়ার জন্য হাতটা উচু করে।
    তখনি একটা চিৎকার শুনতে পায় চিৎকার টা বেলাল সাহেবকে উদ্দেশ্য করে।
    কেউ তাকে ডাকছে চিৎকার করে।
    খুব বেশি সময় লাগলোনা চিৎকারের কারন বুঝতে একটা মোটা বয়স্ক লোক দৌড়ে ঘরের দরজার কাছে এসে থেমে যায়।
    আর বলতে থাকে “বেলাল তোর বউ পাটক্ষেতের পাশে লাশ হয়ে পরে আছে”।
    বেলাল সাহেবের হাতের লোকমা হাতেই রয়ে গেলো মুখে উঠলো না।
    মোটা লোকটির কথা কানে বাজতে থাকে।
    হাতের লোকমা থালায় রেখে ওখান থেকে খালি পায়ে দৌড় দিলো, তার পিছে পিছে অরূপ সহ সবাই ছুটতে শুরু করে।
    চারদিক বৃষ্টির পানি পরছে কিন্তু সেদিকে কারো দেখার বিষয় নেই।
    কাদা মাটি পায়ে লাগিয়ে সবাই ছুটে যায় মাটির তৈরি একটা রাস্তার পাশে।
    রাস্তা খুব বেশি বড় না, একটা ভ্যান যাতায়াতের মতো চাওরা করে বানানো হয়েছে
    রাস্তার দু পাশে নিচু জমি,কিছু উচু জমি আছে যেগুলোতে সবজি জাতীয় আবাদ চাষ করা হয়।
    আর নিচু জমিতে ধান, আলু এসব চাষ করা হয়।
    রাস্তার পাশে একটা পাট ক্ষেতের পাশে উলঙ্গ অবস্থায় উলটো হয়ে পরে আছে সাজেদা বেগম।
    পুরো শরীর রক্ত ভেসে গেছে,কেউ তার শরীরে চামড়া ধারালো ঘাস দিয়ে কেটে দিয়েছে,আর দু এক জায়গা চামড়া হাত দিয়ে তোলার চেষ্টাও করেছে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে, অনেক জায়গা শরীরের চামড়া ভিতরের অংশ দেখা যাচ্ছে।
    কানের চামড়া কেটে ফেলেছে।
    আর একটা জিনিষ দেখা গেল যে_
    পায়ের কানি আঙ্গুল কামরে তুলে নিয়েছে কেউ।
    ঐ অংশ থেকে অঝরে রক্ত গড়িয়ে পরছে।
    বেলাল সাহেব এমন অবস্থা দেখে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যায়।
    হেলাল সাহেব তার স্ত্রীকে একটা চাদর আনতে বলে।
    আর তা দিয়ে সাজেদার মৃত শরীর ঢেকে দেওয়া হয়।
    .
    চারদিকে শোকের ছায়া পরে যায়।
    অনেকেই ভাবতে শুরু করে কে করলো খুন?
    আর কেনো করলো?
    তাও আবার এমনভাবে খুন করলো কেনো?
    চারদিকে নানান ভাবে আলোচনা চলতে থাকে। কেউ বলে খুনির সাথে ঝগড়া বিবাদ আছে ফ্যামিলির তাই প্রতিশোধ নিয়েছে।
    এরকম অনেক কিছু অনুমান করতে থাকে।
    সবাই মন খারাপ করলেও অরূপের মুখে হাসি লেগে আছে।
    অরুপের একটা টার্গেট পুরন হয়েছে।
    এখন পরের টার্গেট কাজ শুরু করবে সে।
    সকালে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলো,চারদিকে আবছা আলো ফুটেছে তখন অরূপের জ্ঞান ফিরে, আর প্রশাব করার জন্য বাইরে আসে।
    বাইরে এসেই দেখে যে বাড়িতে সে বর্তমান আছে সে বাড়ির একজন হাতে বস্তা নিয়ে বাইরে বের হচ্ছে।
    অরূপের মনে খুনের নেশা তো আগে থেকেই ছিলো তাই তখনি পিছু নিলো।
    বেলালের স্ত্রী সাজেদা বেগম
    পাট ক্ষেতের কাছাকাছি আসতেই দেখে আশেপাশে কেউ নেই।
    তখনি পিছন থেকে মুখ চাপ দিয়ে ধরে সাজেদা বেগমকে পাট ক্ষেতের মাঝামাঝি জায়গা নিয়ে গিয়ে বুকের ওড়না দিয়ে মুখ পেচে দেয়,এতক্ষণ সাজেদা নিজের হাত দিয়ে ছাড়ানো চেষ্টা করে, কিন্তু অরূপের শক্তির কাছে তুচ্ছ তা।
    .
    অরূপ হাত পা বাধার জন্য কিছুই খুজে পাচ্ছিলো না। তাই সাজেদার কাপড় এক প্রকার চিরে হাত পা বেধে দেয়।
    তারপর হাতের কাছে ধারালো কিছু না পাওয়াতে পাট ক্ষেতের পাশেই অনেক গুলি ঘাসের গাছ লাগানো আছে বিদেশি ঘাস, খুব ধারালো হয় তার পাতা, সেই পাতা নিয়ে এসে সাজেদার শরীরের উপর এদিক সেদিক ঘুরাতে থাকে, কিন্তু তাতে খুব বেশি কাটে না চামড়া তাই হাত দিয়ে টেনে টেনে চিরে তুলে ফেলে।
    সাজেদা নিজের শক্তি দিয়ে এদিক ওদিক পুরো শরীর মোচরাতে থাকে, চোখদিয়ে অবিরাম জল পরতে থাকে কিন্তু কোনো কিছুতেই রেহাই পায়না।
    অরূপের কাছ থেকে
    অরূপ হাতের কাছে ধারালো কিছুই না পাওয়াতে দাঁত দিয়ে কামড়ে নখ কেটে ফেলে।
    যদিও অনেক প্রব্লেম হয় প্রচুর শক্তি খরচ করতে হয়েছে, তার উপর এমনিতেই ক্লান্ত শরীর
    নাহ এতো কিছু করেও মন শান্তি পাচ্ছে না।
    সাজেদা তখনো নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করছে, মুখ দিয়ে চিৎকার করতে গিয়েও চিৎকার করতে পারছে না।
    চোখের জল ছাড়া কিছুই করতে পারছে না।
    সাজেদার মন বলছে এতো কষ্ট সহ্য করার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো।
    কিন্ত তার মনের কথা মনেই রয়ে গেলো।
    অরূপ প্রায় পাগল হয়ে গেছে নাহ খুন করার মতো হাতের কাছে কিছুই পাচ্ছে না।
    একবার ভাবলো বস্তার ভিতর তুলে রাখবি। এটা ভেবে বস্তা হাতে নেয় আর তাতেই একটা ধারালো অস্ত্র দেখতে পায়।
    সম্ভবত ঘাস কাটার কাজে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে আসছিলো।
    ওটা দিয়েই কানের চামড়া , চোখের পাতা,আর নাকের অংশ কেটে ফেলে।
    ছটফট করতে করতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে সাজেদা
    .
    সাজেদার ছটফটানি দেখে কিছুটা শান্তি পায়।
    তারপর হাত পায়ের বাধন খুলে ফেলে ক্ষেতের এক পাশে ফেলে দেয় ধানি জমিতে বর্ষার জন্য কিছুটা পানি জমে গিয়েছে। সেখান থেকে হাত মুখে ছিটকে পরা রক্ত পরিষ্কার করে।
    চুপিসারে ঘরে গিয়ে শুয়ে পরে।
    কেউ বুঝতেই পারেনি সে খুন করেছে।
    .
    অরূপের মন এখন কিছুটা শান্তি পাচ্ছে সবার মুখে হালকা ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে আর তা দেখেই অরূপের হাসি পাচ্ছে।
    কেউ ভয় পেলে তার অনেক ভালো লাগে।
    মনে মনে আরো একটা খুনের পরিকল্পনা করে নিয়েছে অলরেডি।
    তখনো ভাবেনি তার পরিকল্পনা বড় বাধা আসতে চলেছে।
    হঠাৎ করে তার মুখ হাসি থেকে গোমরা হয়ে যায়।
    একরাশ চিন্তা তাকে গ্রাস করে,এভাবে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবি তা ভাবতেই পারেনি।
    চিন্তা চিন্তা চিন্তা সম্পুর্ন চিন্তার আর ভয়ের সাগরে হাবুডুবু খেতে শুরু করে।
    চোখ দুটো বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে।
    .
    চলবে
    _১
    #লেখা_উইনমি

    2
    1 Comment
    • অরূপের চরিত্রের ভেতরে যে আদিম পৈশাচিকতা এবং খুনের নেশা আপনি দেখিয়েছেন, তা শিউরে ওঠার মতো।

Skip to toolbar