Profile Photo

ফারদিন ইসলাম উইনমিOffline

  • winme
  • #Unsolved_অরূপ★ (২)
    .
    অরূপের মন এখন কিছুটা শান্তি অনুভব করছে। সবার মুখে হালকা ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে। আর তা দেখেই অরূপের হাসি পাচ্ছে।
    কেউ ভয় পেলে তার অনেক ভালো লাগে।
    মনে মনে আরো একটা খুনের পরিকল্পনা করে নিয়েছে।
    তখনো ভাবেনি তার পরিকল্পনায় বড় বাধা আসতে চলেছে।হঠাৎ করে তার মুখ হাসি থেকে গোমরা হয়ে যায়।একরাশ চিন্তা তাকে গ্রাস করে।
    এভাবে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে তা ভাবতেই পারেনি।
    চিন্তা চিন্তা চিন্তা সম্পুর্ন চিন্তার আর ভয়ের সাগরে হাবুডুবু খেতে শুরু করে।
    চোখ দুটো বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে।
    আর এতো ভয় করার কারন একটাই তা হলো ‘পুলিশ’
    অরূপ এটাই ভেবে ভয় পাচ্ছে যে, পুলিশ এতো তাড়াতাড়ি খবর পেলো কিভাবে?
    আর আমার জানা তত্ত্ব অনুযায়ী এখানে আশেপাশে কোনো থানা নেই!
    তাহলে পুলিশ এরি মাঝে খবর পেয়ে গেলো! আর তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে পুলিশের মুখের দিকে কেমন যেনো একটা অন্যরকম ভাব ফুটে উঠেছে।
    পুলিশ তো একা আসার কথা না।
    সাথে একটা পুলিশ হলেও আনতো,আর পুলিশের পায়ে জুতা পরা থাকে,এখানে মোজা পরা আছে কিন্তু জুতার জায়গা সেন্ডেল দখল করে নিয়েছে।(মানে সেন্ডেল পরে আসছে।)
    সবথেকে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় যেটা, পুলিশ যে বাইক করে এসেছে সে বাইকের নাম্বার প্লেট নেই।
    পুরো বিষয়টা কেমন যেনো অন্যরকম মনে হতে থাকে।
    .
    পুলিশের মুখে একটা কঠিন ভাব কাজ করে সবসম্য।
    এক কথায় মনে যা আছে মনেই রাখে, মুখে ভাব প্রকাশ করে না।আর রাগি রাগি ভাব থাকে এতে সুবিধা একটাই, ক্রিমিনাল তাকে ভয় পায়।
    কিন্তু এখানে পুলিশের ভিতর কান্নার ভাব ফুটে উটেছে।
    তার মানে কি, এই পুলিশ কি সাজেদার সন্তান?
    মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হয়তো ছুটে এসেছে তাই আশেপাশে কিছু খেয়াল করেনি।
    কিন্তু আমি যতদুর জানি সাজেদা কোনো সন্তান নেই,তবে কি পালিত সন্তান?
    হ্যাঁ এটাই হতে পারে।
    এক জায়গা দাঁড়িয়ে মনে মনে এটাই ভাবছে, আর পুলিশের দিকে তাকিয়ে আছে।
    পুলিশের বুকে লেগে থাকা নেমপ্লেট দিকে নজর পরতেই দেখে,সেখানে লেখা আছে আযিয ইসলাম
    মোঃআযিয ইসলাম।
    আযিয বাইক থেকে নেমে হেলাল সাহেবের কাছে গিয়ে, তাকে জরিয়ে ধরে “বাবা” বলে কাদতে থাকে।
    অরুপ দূর থেকে অবাক হয়ে যায়! হেলাল সাহেব ওর বাবা হলে, মৃত সাজেদা তাহলে ওর কে হয়?
    না না হিসেব কিছুই মিলছে না।
    সব অগোছালো।
    আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
    মাথা ঘুরতে শুরু করে অরূপের।
    মাথা ঘুরে যে কোনো মুহুর্তে পরে যেতে পারে। তাই ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে বাসার দিকে রওনা হয়।
    বাসায় এসে তন্ময়া রুমে শুয়ে পরে।
    এখানেই কাল থেকে শুয়ে ছিলো, তাই ক্ষনিকের জন্য নিজের রুম ভাবলেও ক্ষতি নেই তার।
    শুয়ে চোখ বন্ধ করে বার বার আযিযের বিষয় চিন্তা করছে।
    খুব বেশিক্ষণ চিন্তা করতে পারলো না। তার আগেই কেউ তার নাম ধরে ডাক দেয়।
    চোখ খুলে দেখে, পুলিশ অফিসার আযিয সাহেব তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
    অরুপকে চোখ খুলতে দেখে একটা চেয়ার টেনে অরুপের খাটের কাছে বসে পরে আযিয।
    আর অরুপ নিজেও কিছুটা উচু হয়ে বিছানায় কাত হয়ে হেলান দেয়।
    দুজন দুজনার চোখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে,হয়তো দুজনেই চোখের ভাষা বুঝার চেষ্টা করছে।
    তারপর আযিয নিজে থেকে কথা বলা শুরু করে
    “মিস্টার অরুপ আপনার শরীরের কি অবস্থা?
    আর একটু হলে তো আপনি ওখানেই মাথা ঘুরে পরে যাচ্ছিলেন.”
    .
    ” আপনি তো দেখছি সব দিকে নজর রাখেন।”
    আযিযঃ”পুলিশের চোখ এটা।সব দিকে নজর রাখায় আমাদের কাজ। আর হ্যাঁ আপনার মনের সন্দেহ দূর করে দিচ্ছি,আপনি ভাবছেন হেলাল সাহেব আমার বাবা। তাহলে মৃত সাজেদার জন্য এতো কান্না কেনো?
    আসলে আমার জন্মদাতা হেলাল সাহেব কিন্তু পালিত আম্মা মৃত সাজেদা”
    .
    অরুপ প্রায় হতবাক হয়ে যায় পুলিশ অফিসারের কথা শুনে, সে কিভাবে জানে আমার মনে এসব ভাবছি। কোনো কিছু না ভেবেই বলে ফেলে।
    “আপনি কিভাবে জানেন আমি মনে মনে এসব ভাবছি?”
    আযিযঃ” ঐ যে বললাম পুলিশের চোখ, আমাদের পরিস্থিতি বুঝে নিতে হয়।
    শুধু মাত্র এক দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকলে।ক্রিমিনাল নাকের ডগা দিয়ে চলে যাবে কিন্তু টেরই পাবোনা। তাই সব জায়গাত চোখ ঘুরানোর একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রয়োজন পরুক আর নাই পরুক, যেখানেই থাকি চারদিকে নজর রাখি।
    তা মিস্টার অরূপ এক্সিডেন্ট হওয়া সকলের নাম আর ঠিকানা দিয়ে একটা ফাইল তৈরি করা হয়েছে।আর সেখানে একটা পেজ এখনো খালি আছে আপনার জন্য,
    আপনার নাম ঠিকানা নিলে তা পুর্ণ হবে”
    .
    ” শুধু একটা পৃষ্ঠা দিয়ে কি হবে আযিয সাহেব।”
    হাহাহাহ এই বলে কিছুক্ষণ উচ্চহাসি দিয়ে থমকে গেলো,তারপর আবার বলতে শুরু করে
    ” আযিয সাহেব দেখা গেলো আমার বিষয়ে লেখার আগে, আপনার বিষয়ে ফাইল না তৈরি হয়ে না যায়।
    আযিযঃ”মানে?”
    ” মানেটা না হয় নিজেই বুঝে নিয়েন ।”
    এই বলে চোখ বন্ধ করে অরূপ, সে চোখ বন্ধ করে বুঝাতে যাচ্ছে সে আর কথা বলতে চায় না।
    যদি আযিয বুদ্ধিমান হয়ে থাকে তাহলে এ ইশারা বুঝে যাবে সে,তাই সে এটাই দেখছিলো আযিয তার ইশারা বুঝে নাকি।
    .
    এদিকে আযিয অরূপের আচরণ বুঝতে পারে। অরূপ আর কিছু বলতে চায় না।কিছুটা রাগ হলো তার কারন, সে আরো কিছুক্ষণ কথা বলতে চাচ্ছিলো কথার প্যাচে ফেলাতে চেয়েছিলো।কিন্তু কথা শুরু আগেই শেষ।
    এখন নিজের অনিচ্ছায় বলতেই হচ্ছে।
    আযিযঃ “তা হলে অরূপ আজ তা হলে আসি। অন্য একদিন না হয় কথা হবে আমাদের।”
    এই বলে চেয়ারটা একপাশে রেখে খুব দ্রুত পথে প্রস্থান করে ঐ ঘর থেকে।
    অরূপ আর চোখ খোলেনি। আযিয কি বলে গেলো তা কানেই এসেছে কিন্তু কিছুই বুঝে নি। কারন সে এখন আযিযের কথাগুলো বার বার মনে মনে রিপিট করছে।
    .
    আযিয কেনো এসব বললো?
    সে কি বুঝাতে চাচ্ছে? তবে কি সে বুঝে গেছে খুনি আমি!
    না না কিছুতেই ধরা পরলে চলবে না,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শেষ করে এখান থেকে বিদায় হওয়া উচিৎ। নইলে ধরা পরে যাবো।
    আযিযের কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে,তা নিজেও জানে না।
    অবশ্য ঘুম কাউকে বলে আসে না।
    (একটা কথা আছে তা হলো মানুষের মস্তিষ্ক যে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সবসময়, ঘুমোনোর পরে তার মস্তিষ্ক কল্পনায় ঐ কাজটায় করে।)
    কোনোকিছু নিয়ে সবসময় ভাবলে সেটায় স্বপ্নে দেখা যায়।
    .
    অরূপ এখন স্বপ্নে খুন করতে শুরু করেছে।
    একটা মেয়েকে সে গাছের সাথে উলটো করে ঝুলে দিয়েছে। তারপর মুখের চামড়া খুব যত্ন করে কাটতে থাকে, অর্ধেক কাটছে আর অর্ধেক ওরকম রেখেছে , মেয়েটিযে জীবন্ত অবস্থায় এমন নির্মম কাজ করছে।
    মেয়েটি ছটফট করছে,বার বার মাথা এদিক ওদিক ঘুরাতে থাকে কিন্তু তাতে ব্যাথা একটু কমে না,বরং পুরো মুখে ব্যাথা অনুভব হতে থাকে। আর লাল রক্ত টপ টপ করে পড়তে থাকে।
    হঠাৎ মনে হতে থাকে তাকে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে
    চোখ খুলে ধড়ফড় করে উঠে, বিছানা থেকে উঠে বসে পরে খুব জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে।
    সে ভয় পেয়েছিলো এটাই যে তাকে কেউ দেখেনি তো আবার খুন করার সময়!
    আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারে সে স্বপ্ন দেখছিলো।
    .
    পাশে তাকিয়ে দেখে ৫ বছরের ছেলে মিযান দাঁড়িয়ে আছে, মিযান এতক্ষণ ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তুলার চেষ্টা করছিলো।
    আমি চোখ খোলাতে সে বলে উঠে, “পাগলা ভাই (অরূপ কে সে পাগলা ভাই বলে ডাকে,কেনো যে সে পাগলা ভাই বলে ডাকে তার উত্তর মিযান নিজেও জানে না,যখনি তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তুমি পাগলা ভাই বলে কেনো ডাকো? তখনি সে চুপ হয়ে যায়। হয়তো ও নিজেই ভাবতে থাকে, কেনো সে পাগলা ভাই বলে) “এ বাসায় কেউ নাই।সবাই পাশের বাসায় গেছে মিতু আপির বাসায় গেছে। তোমাকেউ এক্ষনি যেতে বলছে।
    তুমি আসো আমি গেলাম।”
    এই বলে সোজা দৌড় দিলো মিযান।
    কিছু বলার সুযোগ দিলো না।
    মিতুর বাসা কোনটা তা অরূপ জানে না।
    তাই বুঝতে পারে না এখন কি করবে।
    চারদিকে তাকিয়ে দেখে অন্ধকার ভর করেছে।আলোকে গ্রাস করে অন্ধকারের রাজত্ব চলছে।
    চারদিকে কালো কালো ঘরের এক পাশে লেম্প জালিয়ে দেওয়া আছে আর সেখান থেকে, কিছুটা আলো এসে অন্ধকার মুছে দিয়েছে।
    তবে এ ক্ষনিকের রাজত্ব কারন লেম্প তেল ফুরিয়ে গেলে আবার অন্ধকার অনায়াসে রাজত্ব করতে পারবে।
    অরূপ উঠে হাত মুখ ধুয়ে নিলো।নিজেকে রিফ্রেশ করে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে কারন অরূপ জানে কেউ না কেউ তাকে নিতে আসবে।
    তা ছাড়া সে কার বাসায় যাবে, কিছুই চিনে না।
    অল্প কিছুক্ষনের ভিতরে বাড়িতে হেলাল সাহেব প্রবেশ করে, অরূপ আসছে না দেখে নিজেই আসে দেখার জন্য।
    বাড়িতে অরূপ এভাবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা দেখে বুঝে যায়, কেনো সে দাঁড়িয়ে আছে।
    তাই আর কিছু না বলে শুধু বলে
    “বাবা কিছু মনে করোনা মিযান ছোটো মানুষ, তাই কিছু বুঝোনি, ও তো জানে না তুমি বাসা চিনোনা।
    যাইহোক অনেক রাত হয়ে গেছে চলো খেয়ে আসি।
    আমিও খাইনি
    ” চাচা এখানে খাবো না?”
    হেলালঃ “না বাবা আগামি কিছুদিন কষ্ট করে অন্যের বাসায় খেতে হবে। এ বাড়িতে রান্না বন্ধ।
    আর কি করা।কোনো উপাই না পেয়ে কাদা মাখা মাটিতে পা টিপে টিপে চলতে থাকে।
    চলার পথে বার বার নিচে তাকাতে হচ্ছে কারন কাঁদায় পা আটকে গেলে, কিংবা পা পিছলে পরে গেলে একটা বাজে অবস্থা হবে।
    কোনোরকম ভাবে মিতুর বাসায় আসলো, মিতুর বাসা অন্ধকার
    তাই ঘরের ভিতর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
    হালকা মেঘে ঢাকা চাঁদ মামা কিছুটা আলো দিচ্ছে। আর তা দিয়ে এটুকু বুঝা যাচ্ছে।
    বাড়ির বারান্দার একটা কোনায় টেবিল আছে।সম্ভবত খাওয়া জন্য ব্যবহার করা হয়।
    আর বারান্দায় আরেক কোনায় মাদুরের উপর মোমেনা বেগম তার পাশে একি বয়সি একটা মহিলা বসে আ,ছে। আর একদিকে তন্ময়া আর তার সমবয়সী দুজনে বসে নানান বিষয়ে আলাপ করতাছে
    আলো পরিষ্কার না হওয়াতে কারো মুখ বুঝাই যাচ্ছে না।
    হেলাল আর অরূপ দুজনে টাবিলে গিয়ে বসে, আগে থেকে এক চেয়ার দখল করে মিযান বসে আছে।
    অরূপকে দেখে বলে” ও পাগলা ভাই এতক্ষন লাগে আসতে।”
    অরূপ কিছু বলে না
    হেলাল সাহেব পকেট থেকে ম্যাচ বের করে, সামনে থাকা লেম্প জালায়। তাতে কিছুটা আলো পাওয়া যায়।
    অরূপ তাকিয়ে দেখে সামনে মসুর কালাইয়ের ডাল,ছোটো আলু ভাজি আর মাছের ডিম ভাজি, তারপর চাম ঘাস ভর্তা (চাম ঘাস এক ধরনের শাক যা ভর্তা করে খাওয়া হয়)
    হেলালবসাহেব আরূপের প্লেটে ভাত ডাল সব তুলে নিতে থাকে।
    মিযান নিজ হাতে তুলে নেয়
    তাকে হেলাল সাহেব তুলে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু না নিজ হাতে তুলে নিবে। তাই আর তুলে দেয়নি।
    সবগুলো মিলিয়ে লোকমা করে খেতে শুরু করে অরূপ।
    নাহ খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছে না।
    এসব রান্না ভালো হয়েছে কিন্তু তাতেউ সে কেমন জানি অনুভব করছে।
    তার মন চাচ্ছে রক্ত,এখন যদি খুন করে এসে খেতে বসতো তাহলে বেশ তৃপ্তি করে খেতে পারতো।
    কিছুটা ভাত খেয়ে, হেলাল সাহেবের কানে ফিস ফিস করে কি যেনো বলে।খাবার প্লেটে হাত ধুয়ে চলে যেতে থাকে বাইরের দিকে।
    বাড়িতে থাকা সবাই অরূপের দিকে তাকিয়ে আছে। কেনো এভাবে চলে গেলো,খাওয়া ছেরে তা বুঝার চেষ্টা করছে।
    আর হেলাল সাহেব তার মতো করে খেয়েই যাচ্ছে।
    অরুপ আসলে একটা নির্দিষ্ট জায়গা খুজতে বের হয়েছে আজ রাতে খুন করার জন্য,
    আশেপাশে সে কিছুই চিনেনা তাই একটু ঘুরে ঘুরে রাস্তা চিনার চেষ্টা করছে।
    আর জনবসতি থেকে দূরে নিরিবিলি জায়গা খুজছে।
    যেখানে মনের আয়েসে খুন করা যাবে।
    একটা জায়গা পেয়েও যায়।
    আর তাড়াতাড়ি বাড়ি এসেপ প্রয়োজনিয় বেশ কিছু জিনিষ নিয়ে যায়।
    খুন করতে।
    ধারালো চাকু,দড়ি আরো অনেক কিছু
    অরূপ জানে এখন বাসায় কেউ নেই।
    আর এই সুযোগে এগুলা আনলে কেউ বুঝতেও পারবে না।
    তার প্লান মতো সব কাজ করে বাসার দিকে ফিরে আসছিলো।
    ফাদ তৈরি করাশেষ। এখন শিকারের অপেক্ষা।
    অরূপের কপাল ভালই ছিলো কারন একটা শিকার পেয়ে গেছে খুব তাড়াতাড়ি, কেউ এদিকে আসছে
    আবছা আলোতে মনে হচ্ছে এটা মেয়ে,মনে মনে খুশি হলো, এখন আবার রক্ত খেলায় মেতে উঠবে।
    ভাবতেই মন কেমন জানি অজানা খুশি বয়ে যাচ্ছে।
    মেয়েটা অরুপের কাছাকাছি আসতেই অরূপ মেয়েটার সামনে দাঁড়ায় আর একটা সুই মেয়েটার কানের নিচে বরাবর চালান করে দেয়।
    ব্যাস খেল খতম
    মেয়েটা সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে যায়
    অরূপ মেয়েটাকে ঘারে করে নিয়ে তার সাজানো জায়গা নিয়ে যায়।
    তারপর মেয়েটাকে পায়ে রশি দিয়ে ঝুলে দিয়ে দেয়।
    কাজ শেষ এখন তার স্বপ্নে দেখা খুন, বাস্তবের রুপ নিবে।
    স্বপ্নে যেভাবে খুন করেছে এখন সেভাবেও খুন করবে।
    পুরো মুখ অর্ধেক চামড়া কাটবে
    আর অর্ধেক চামড়া রেখে দিবে।
    ধারালো চাকু নিয়ে উলটো ঝুলন্ত মেয়েটার কপালে চাকু ঠেকিয়ে চামড়া কাটতে শুরু করে। আর তখনি মেয়েটার জ্ঞান ফিরে আসে।
    জ্ঞান ফিরে আসার পর নিজেকে এভাবে আবিষ্কার করে খুব ভয় পেয়ে যায়।আর তখনি জোরে চিৎকার দেওয়ার জন্য হা করে, অরূপ মেয়েটা এভাবে জ্ঞান ফিরতে দেখে মেয়েটার ২ ঠোটের মাঝখানে চাকু চালিয়ে দেয়। একটু জোরে চাপ দেওয়াতে ২ ঠোটের মাঝখানে নরম মাংশ কেটে দাঁতের শেষ সিমানায় পৌছে যায়।
    আর রক্ত পরতে শুরু করে।
    অরূপ এবার সুযোগ বুঝে জিহবা কেটে দেয়। যার ফলে মেয়েটা আর চিৎকার করতে পারে না।
    শুধু চোখ দিয়ে অজস্র পানি বের হতে থাকে,মেয়েটা অপলক দৃষ্টিতে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে অরূপের দিকে।
    হাত পা বাধা তাই কিছুই নরাতে পারছে না
    তার উপর উলটো ঝুলে আছে।
    চুল গুলো রক্তে ভিজে ছেপছেপা হয়ে গেছে।
    মুখের রক্ত চোখের জল জিহবার রক্ত সব গড়িয়ে চুল ভিজিয়ে দিচ্ছে।
    অরূপ যতবার চাকু মেয়েটার কপালে ধরছে, মেয়েটা জীবন বাচানোর জন্য মাথা এদি ওদিক নারাচ্ছে এতে করে মুখের চামড়া কাটতে পারছে না।
    .
    মেয়েটার এমন আচরনে অরূপের খুব রাগ হয় আর সে রাগ কমানোর জন্য মেয়েটার উরু বরাবর ২/৩ বার চাকু দিয়ে আঘাত করে।
    অনেক অংশ মোটা করে কেটে যায় আর রক্ত পরতে থাকে।
    মেয়েটা মুখ হা করে চিৎকার করার মতো করে।
    কিন্তু চিৎকার করতে গিয়েও করতে পারছি না।
    এখন আর বাধা দেয় না,অরূপ তার ইচ্ছামতো চামড়া কাটতে শুরু করে
    মেয়েটা ব্যাথা অনুভব করতে গিয়েও করে না কারন

    তার শরীরে আর কোনো অনুভুতি কাজ করছে না,এক কথায় অবশ হয়ে যাচ্ছে।
    এর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক আর কিছু আছে কি না তা মেয়েটা জানে না।
    আরূপ তার প্রথম ধাপ শেষ করে, ২য় ধাপে এগিয়ে যায় মেয়েটার বুকের কিছু অংশ চামড়া তুলে ফেলে, ফুসফুস বরাবর চামড়া তুলে ফেলে তারপর সুই দিয়ে বার বার ফুসফুসে খোচাতে থাকে।

    বড় সুই হওয়াতে খুব সহজেই ভিতরে গিয়ে সোজা ফুসফুসে আঘাত করছে,আর যতবার ফুসফুসে আঘাত করছে, ততবার রক্ত ছিটকে বেরিয়ে আসতে থাকে।
    একটা ছোট্ট বাচ্চা নতুন খেলনা পেলে যেমন খুশি হয়ে সবকিছু বাদ দিয়ে ঐ খেলনা নিয়েই সারাক্ষণ পরে থাকে।
    অরূপ ছোট্ট বাচ্চার মতো খেলছে।
    এভাবে সুই কানা করতে করতে মেয়েটা মারা যায়।
    এ কঠিন যন্ত্রণা পেয়েও একটুও চিৎকার করতে না পেরে আরো বেশি যন্ত্রণা অনুভব হয়েছে।
    হয়তো মেয়েটার লাশ কাল সকালে সবাই দেখবে আর আফসোস করবে কিন্তু এর কষ্টটা কেউ অনুভব করতেও পারবে না।
    অরূপ এখন অনেক খুশি মুখের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ৩২টা দাঁত বের করে হাসতে হাসতে ঐ জায়গা থেকে চলে আসতে শুরু করে, তখনি কারো উপস্থিতি টের পায়।
    কেউ একজন দূরে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে কিছুটা দূরে
    আর এতক্ষণ ধরে তার মৃত্যু খেলা সব দেখেছে।
    অরুপ ভয় পেয়ে যায় আর ঠোট কাপা কন্ঠে বলে কে? কে ওখানে?
    .
    অরূপের মুখের কথা শুনে। লোকটা একটু একটু করে এগিয়ে আসতে থাকে।
    আর যত কাছে আসে তত অরূপের বুকের হার্টবির্ট বারতে থাকে।
    কেউ তার গলা চাপ দিয়ে ধরেনি,অথচ তার অনুভব হচ্ছে তার নিস্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
    বার বার ঢোক গিলছে
    লোকটি একবারে অরূপের থেকে ২ হাত দূরে দাঁড়িয়ে থেকে লোকটির হাতে থাকা টর্চ লাইট জালিয়ে নিজের মুখে ধরে।
    আর তখনি অরূপ চোখ বড় হয়ে যায়।
    যেটার ভয় করেছিলো সেটাই হয়েছে।
    তার সামনে পুলিশ অফিসার আযিয সাহেব দাঁড়িয়ে আছে।
    এখন সে কি করবে?
    মস্তিষ্ক গভীরে গিয়েও এখান থেকে উদ্ধার পাওয়ার কোনো উপাই খুজে পাচ্ছে না।
    “কিলার অরূপ সাহেব কি স্টাইলে খুন করলেন আপনি,আমি তো ফিদা হয়ে গেছি।
    এভাবে কেউ খুন করতে পারে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতেই পারতাম না।”
    এই বলে হাত তালি দেয় আযিয।
    আর তখনি মুখে গম্ভির ভাব এনে বলে।
    “এখন আমার পালা।”
    এই বলা মাত্র একটা রশি এসে সোজা অরূপের গলা পেঁচিয়ে যায়।
    আর অরূপ ঝুলে পরে
    গলায় এতো জোরে চাপ দেয়াতে নিশ্বাস নিতে পারে না অরূপ,হাত দিয়ে এদিক ওদিক ছুড়াছুড়ি করে নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করে,
    কিন্তু এতো টাইটভাবে গলায় রশি পেঁচিয়ে আছে যে তা থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
    .
    চলবে..
    #উইনমি

    2
    2 Comments
    • আযিয ইসলামের আবির্ভাব এবং তার দ্বৈত সত্তা—একদিকে পুলিশ অফিসার, অন্যদিকে অরূপের বীভৎসতাকেও টেক্কা দেওয়া এক শীতল খুনি—গল্পের উত্তেজনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

Skip to toolbar