-
• 2 months, 2 weeks agoমোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন• 2 months, 2 weeks ago
প্রতিবিম্বের ব্যবচ্ছেদ
~মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন
৩১-০৩-২৬বিদ্রূপের তীক্ষ্ণ স্বরে বলেছিলে একদা— ‘আয়নায় হেরো নিজ মুখ’,
আমি ফেরিনি দর্পণে, বিসর্জন দিয়েছিলাম যাবতীয় সুখ।
তোমার নগরী ছেড়ে ছিন্নমূল যাযাবরের ন্যায় নিয়েছি বিদায়,
ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে বয়েছি শুধু একরাশ বিষণ্নতারে অবলীলয়।
নক্ষত্রের কক্ষপথে মহাকাল আবর্তিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার গহ্বরে,
লক্ষ্মী আজ সহায় মোর, ঐশ্বর্য আর প্রতিপত্তি বিরাজে ঘরে ঘরে।
অথচ আজ যখন স্বর্ণালি দর্পণে নিবদ্ধ করি আপন নয়ন,
সেথা নিজেরে পাই না খুঁজে, ভাসে কেবল তোমারই আনন।
ভেবেছিলেম তুমি আছো সেই পূর্বের ন্যায় গরিয়সী মায়াবিনী,
নাকি অন্য কারো গৃহকোণে হয়ে আছো আজ অলক্তকধন্যা ঘরনি?
একবার কি আসব ফিরে? দুয়ারে দাঁড়ালে কি তুলে ধরবে আখি?
নাকি উপেক্ষার অনলে ভস্মীভূত হবে মোর জীবনের অবশিষ্টাংশটুকু বাকি?
শুন্যহাতে পৌঁছেছিলেম তোমার সেই জনহীন বিরান ধূসর নগরে,
যেথায় তোমার অস্তিত্ব বিলীন, বাতাস দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে প্রান্তর থরে থরে।
কেউ জানে না তব বার্তা, মহাকালের গর্ভে তুমি আজ অনিরুদ্ধ,
অপ্রাপ্তির গ্লানি নিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরলেম আমি রণক্লান্ত বুদ্ধ।
অতঃপর বিস্ময়! মোর প্রতীক্ষায় দণ্ডায়মান এক অচেনা মানবী,
চক্ষু স্থির হলো মোর— তুমি? এ কোন ম্লান গোধূলির ছবি?
অহংকারই ছিল তব একমাত্র বিভূষণ, শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার,
দর্পহীন তোমায় কল্পনা করাও যে মোর চেতনার অগম্য অন্ধকার।
আজ তুমি রিক্তা, মম দ্বারে এক অসহায়া আর্ত সমর্পিতা,
যেখানে বিলীন হয়েছে তব তেজস্বিতা, নিভেছে সব দম্ভের চিতা।
করুণার পাত্রে আমার সর্বস্ব ঢেলে দিতে পারি সাহায্যের তরে,
কিন্তু প্রেম? সে তো সমাধিস্থ হয়েছে বহু আগে, অভিমানের স্তরে।
দর্পণে মুখ দেখে ভালোবাসা জাগে না রুদ্ধ দ্বারে,
স্মৃতির কঙ্কাল নিয়ে অনুরাগ আর ফেরে না এ পারে।