-
বইঃ আটাশতম_শ্রাবণ
লেখকঃ রেদোয়ান_আসিফ_রিসান
পার্ট_০২তাদের মাঝে বন্ধুত্বটা গত কয়েক মাসে গভীর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মেহেরীন কখনো আলাদা করে এভাবে কথা বলার প্রস্তাব দেয়নি।
নিশান লক্ষ্য করল, কাঠগোলাপ গাছ থেকে আরও একটি ফুল টুপ করে মাটিতে পড়ে গেল। বসন্তের শেষ বিকেলগুলো কেন জানি খুব বেশি হাহাকারময় হয়। স্কুল ছুটির ঘণ্টা পড়ল। ‘টন-টন’ শব্দটা আজ নিশানের কানে অন্যরকম এক সুর নিয়ে এল। সবাই যখন ব্যাগ গুছিয়ে হৈ-হৈ করে বের হয়ে যাচ্ছে, নিশান তখন ধীরপায়ে এগোলো স্কুল গেটের দিকে।
পুরনো বটগাছটার নিচে মেহেরীন দাঁড়িয়ে ছিল। পড়ন্ত রোদের একটা ফালি ওর মুখে এসে পড়েছে। নিশানকে দেখে ও একটু এগিয়ে এল।
মেহেরীন বলল, “আমি ভাবলাম তুমি বুঝি আসবে না।”
নিশান ম্লান হেসে বলল, “তুমি বললে আর আমি আসব না, এমন কি কখনো হয়েছে? কী যেন বলবে বলছিলে?”
মেহেরীন কিছুক্ষণ নিশানের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর খুব নিচু স্বরে বলল, “বাবা বদলি হয়ে যাচ্ছেন। হয়তো এই মাসটাই আমাদের এই স্কুলে শেষ মাস।”
নিশানের পৃথিবীটা যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে অস্ফুট স্বরে বলল, “চলে যাবে? কোথায়?”
“অন্য শহরে। অনেক দূরে।” মেহেরীনের গলায় এক ধরণের বিষণ্ণতা। “আমার খুব ভয় করছে নিশান। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ… আমি কি এই স্কুলের দিনগুলো ভুলতে পারব? আমি কি তোমাকে ভুলতে পারব?”
নিশান কিছু বলতে পারল না। তার গলার কাছে কী একটা দলা পাকিয়ে এল। সে শুধু দেখল, মেহেরীনের চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিকচিক করছে। মেহেরীন ওর হাত থেকে ডায়েরিটা নিয়ে ঝটপট কিছু একটা লিখল, তারপর ডায়েরিটা ফেরত দিয়ে বলল, “বাড়ি গিয়ে পড়বে। এখন না।”
মেহেরীন চলে গেল। নিশান ডায়েরিটা হাতে নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। মেহেরীন চলে যাওয়ার পথেও যেন সেই কাঠগোলাপের সুবাসটুকু বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।
বাসায় ফিরতে রাত হলো নিশানের কাঁপা কাঁপা হাতে ডায়েরিটা খুলল। মেহেরীন লিখেছে:
“নিশান, দূরত্ব কি কখনো স্মৃতি মুছে দিতে পারে? যদি আমাদের দেখা আর না হয়, তবে এই কাঠগোলাপের ঘ্রাণে আমাকে খুঁজে নিও। তুমি কি আমার জন্য অপেক্ষা করবে?”
নিশান জানালার বাইরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “অপেক্ষা? আমি তোমার জন্য অনন্তকাল দাঁড়িয়ে থাকতে পারি মেহেরীন।”
……..
….
ধারাবাহিক ভাবে পোস্ট করা হবে।2 Comments
আমাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা বাইরের পৃথিবীতে নয়, বরং নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা অগণিত প্রতিচ্ছবির সাথে। আমরা সবাই প্রতিনিয়ত নিজেদের খুঁজে পাওয়ার সন্ধানে, যেখানে পরিচয়ই সবচেয়ে বড় সংকট।
রেদোয়ান আসিফ রিসান

রেদোয়ান আসিফ রিসান
লেখক
সমসাময়িক বাংলা কথাসাহিত্যের এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম রেদোয়ান আসিফ রিসান। ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই লেখক খুব অল্প বয়স থেকেই মানবমনের রহস্য এবং মনস্তাত্ত্বিক দর্শনের জটিল গোলকধাঁধা নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে একজন মননশীল লেখক হিসেবে গড়ে তোলে।
রিসানের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি হলো মানুষের মনস্তত্ত্ব। তিনি কেবল গল্পের খাতিরে গল্প বলেন না, বরং তাঁর উপন্যাসের আড়ালে একুশ শতকের তরুণ প্রজন্মের সংকট—যেমন আইডেন্টিটি ক্রাইসিস, মানসিক দোদুল্যমানতা এবং সূক্ষ্ম আবেগগুলোর নিবিড় ব্যবচ্ছেদ করেন। তাঁর গদ্যশৈলী অত্যন্ত সাবলীল ও পরিমিত, যা পাঠককে জীবনের গভীরতর দর্শনের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য করে।
মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং জীবনদর্শনের মেলবন্ধনে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের এক স্বতন্ত্র লেখকসত্তা নির্মাণের পথে এগিয়ে চলেছেন।

এরপর কী হলো? নিশান কি আসলেই মেহেরীনের জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করতে পারবে? পরের পার্ট দ্রুত চাই!