Profile Photo

রেদোয়ান আসিফ রিসানOffline

  • redoanasifrisan
  • বইঃ আটাশতম_শ্রাবণ
    লেখকঃ রেদোয়ান_আসিফ_রিসান
    পার্ট_০৩

    মেহেরীনকে ছাড়া কেটে গেল প্রায় দেড়টা বছর।
    এই আঠারোটি মাস নিশানের কাছে কেবল কতগুলো সংখ্যা ছিল না, ছিল এক দীর্ঘ নীরবতা। প্রতিটি দিন যখন স্কুলের করিডোর দিয়ে সে হেঁটে যেত, তার মনে হতো ঠিক পাশের জানালাটা দিয়ে মেহেরীন এইমাত্র উঁকি দিল। কিন্তু তাকালেই দেখত সেখানে কেবল রোদের ঝিলিক কিংবা ধুলোবালির ওড়াউড়ি। মেহেরীন চলে যাওয়ার পর সেই কাঠগোলাপ গাছটার নিচ দিয়ে হাঁটা বন্ধ করে দিয়েছিল নিশান। ওই ঘ্রাণটা পেলেই বুকটা কেমন হু হু করে ওঠে।
    আজ স্কুল জীবনের বিদায়ের দিন।
    অডিটোরিয়ামে মিলাদ আর দোয়ার অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আবেগঘন কণ্ঠে বিদায়ী ভাষণ দিচ্ছেন, কিন্তু নিশানের কানে কোনো কথাই ঢুকছে না। তার কেবল মনে পড়ছে ক্লাস নাইনের সেই বৃষ্টিভেজা দিনটার কথা, যখন মেহেরীন ওর ছাতার নিচে এসে দাঁড়িয়েছিল। আজ সেই ছাতাও নেই, সেই মানুষটাও নেই।
    সবাই যখন একে অপরের সাদা ইউনিফর্মে মার্কার কলম দিয়ে লিখছে, “দোস্ত মনে রাখিস”, “মিস ইউ অল”
    নিশান তখন ক্লাসরুমের একদম শেষ বেঞ্চে একা বসে ছিল। ওর শার্টটা ধবধবে সাদা। কেউ সেখানে কিছু লেখেনি, কারণ নিশান কাউকে সুযোগই দেয়নি।
    হঠাৎ সৌরভ এসে ওর পাশে বসল। সৌরভের শার্টে হিজিবিজি লেখায় ভরা। সৌরভ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “শেষ পর্যন্ত শেষ হয়েই গেল রে নিশান। আজ থেকে আমরা আর স্কুলের ছাত্র না। কাল থেকে সবাই অন্য ঠিকানায় চলে যাব।”
    নিশান জানালার বাইরে তাকিয়ে ম্লান হাসল। আর বলল-
    “ঠিকানা তো মেহেরীন দেড় বছর আগেই বদলে ফেলেছে সৌরভ। আমরা তো শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য এতদিন এখানে ছিলাম।”
    সৌরভ নিশানের কাঁধে হাত রাখল। “তুই কি এখনো ওর জন্য অপেক্ষা করিস? দেড় বছরে তো একটা যোগাযোগও হলো না।”
    “অপেক্ষা করাটা তো আমার হাতে নেই রে বন্ধু। ওটা হৃদয়ের ব্যাপার। ও বলেছিল অপেক্ষা করতে, আমি করছি। ব্যস, এটুকুই।”
    ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার সময় নিশান দেখল মিরাজ একদল বন্ধুর মাঝে দাঁড়িয়ে খুব হাসছে। মিরাজ এখন স্কুলের বড় লিডার। সে নিশানকে দেখে এগিয়ে এল। মিরাজ বাঁকা হেসে বলল, “কিরে নিশান? শার্ট তো একদম পরিষ্কার! কেউ কিছু লেখেনি? আচ্ছা চল, আমি লিখে দিই।”
    নিশান সরে দাঁড়িয়ে বলল, “না থাক। কিছু সাদা জায়গা সাদাই থাক মিরাজ। সবখানে দাগ দিতে নেই।”
    ……..
    ….
    ধারাবাহিক ভাবে পোস্ট করা হবে।

    1
    2 Comments
    • আগের পর্ব দুটি মনে হয় মিস হয়ে গেছে… তাই আবার শুরু থেকে শুরু করব ভাবছি… 😅

      • বই: আটাশতম_শ্রাবণ লেখক: রেদোয়ান_আসিফ_রিসান পার্ট_০১ঢাকার পুরনো এই স্কুল টার দেয়ালগুলো নোনা ধরা, পলেস্তারা খসে পড়া। করিডোর দিয়ে হাঁটলে এক ধরণের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নাকে আসে। নিশান তার কাঁধের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। নবম শ্রেণীর রসায়ন ক্লাস শেষ হয়েছে মাত্র। ক্লাসের ভেতর তখন তীব্র শোরগোল, যেন একঝাঁক পাখি খাঁচা থেকে…Read More– Redoan Asif Risan (@redoanasifrisan) April 10, 2026

​আমাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা বাইরের পৃথিবীতে নয়, বরং নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা অগণিত প্রতিচ্ছবির সাথে। আমরা সবাই প্রতিনিয়ত নিজেদের খুঁজে পাওয়ার সন্ধানে, যেখানে পরিচয়ই সবচেয়ে বড় সংকট।

রেদোয়ান আসিফ রিসান

রেদোয়ান আসিফ রিসান

লেখক

সমসাময়িক বাংলা কথাসাহিত্যের এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম রেদোয়ান আসিফ রিসান। ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই লেখক খুব অল্প বয়স থেকেই মানবমনের রহস্য এবং মনস্তাত্ত্বিক দর্শনের জটিল গোলকধাঁধা নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে একজন মননশীল লেখক হিসেবে গড়ে তোলে।

​রিসানের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি হলো মানুষের মনস্তত্ত্ব। তিনি কেবল গল্পের খাতিরে গল্প বলেন না, বরং তাঁর উপন্যাসের আড়ালে একুশ শতকের তরুণ প্রজন্মের সংকট—যেমন আইডেন্টিটি ক্রাইসিস, মানসিক দোদুল্যমানতা এবং সূক্ষ্ম আবেগগুলোর নিবিড় ব্যবচ্ছেদ করেন। তাঁর গদ্যশৈলী অত্যন্ত সাবলীল ও পরিমিত, যা পাঠককে জীবনের গভীরতর দর্শনের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য করে।

​মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং জীবনদর্শনের মেলবন্ধনে তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের এক স্বতন্ত্র লেখকসত্তা নির্মাণের পথে এগিয়ে চলেছেন।

Skip to toolbar