-
মুহাঃ হাবিবুর রহমান
জল নূপুরের শব্দ
জল নূপুরের শব্দ শুনেছি কী?
কখনো কান পাতনি ঝর্নার জল পতনের দিকে?
অবিরাম জলধারার ঝরা শব্দের মোহনীয় সূরের ব্যঞ্জনায়
চারিপাশের প্রকৃতির মাঝে ঝিঝি পোকাদের ডানার খরখরে কাঁপন
তুমি কি দেখনি কোন কালে একবার হলেও!
ভালোবাসার প্রথম স্পর্শের কম্পন বোঝনি?
সব অনুভূতিগুলো একাত্ম হয়ে মহুর্তে তোমাকে মাতাল করেনি
বসন্তের উত্তাল উচ্ছলতা, কাছে পাওয়ার স্বর্গীয় মুগ্ধতা বুঝতে পারো হৃদয় দিয়ে?
দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের প্লাবনে মন হারিয়ে কাঁদতে পারনি জানি-
সে তোমার অপারগতার প্রকাশ ধরে নিও, সবুজের মাঝে ধুসর মেঠ পথে
হারিয়ে ছিলে কৈশরের প্রেম, যাকে ঘিরে অবুঝ মনের স্বর্ণলতা বেড়ে উঠে ছিল
একটু দমকা বাতাসে মুচড়িয়ে দিল কল্পনার চূঢ়া, তুমিতো ভাবনি এসবের কিছুই
কোথা থেক কি হয় মানুষ তা জানেনা-
আমাদের ভিতরের পতন গুলি বেদনার বান ডেকে আনে,
শ্রাবনের জলজ সঙ্গমে শাপলা পাতার তলে পানকৌড়ির ডুবসাঁতারের
মেলা বসে, কতক লুকোচূরির মাঝে বিয়োগ গ্যাথা অকালে বিলিন হয়
সে খবর কে রাখে? তুমি তো রাখইনা সে খবর আমি রাখি,
উপর থেকে জল পতনের রিমঝিম শব্দ-মায়ার কান্না মনে হতে পারে
আমি বলি পাহাড়ের বিরহ কান্নার ধ্বনি হাজার বছর বয়ে চলে
সৃষ্টির আদি থেকে অনন্ত সময়ের বুক চিরে,
বিষন্ন সেতারের তারে জমে থাকা ধুলোর আবছা ছায়ায় লুকোয় হৃদয়ের রক্ত ক্ষরন,
তখন গোধূলির বুক থেকে শেষ আলোয় ভাঙা জৌলুসে ঢেকে পড়ে অবশিষ্ট পৃথিবীর
সমস্ত শরীর, আকাশের নীল রঙে মুছে যায় রাত্রির অন্ধকারে
আলোহীন ধরনীর মুখচ্ছবি বিকৃত হয়ে পড়ে, চিনতে পারবেনা,
তবুও সন্ধা তারায় জ্বলে ওঠে
আকাশের কোল,
প্রদ্বীপের আলোয় ঝলমলিয়ে ওঠে প্রেয়সীর কপোলের তীল,
শিউলীরা ফুটতে থাকে একেএকে সমস্ত রাত্রি জুড়ে।6 Comments-
কবিতাটি প্রকৃতি ও প্রেমের অনুভূতিকে এক সুতোয় গেঁথে একধরনের আবেগঘন অভ্যন্তরীণ যাত্রা নির্মাণ করেছে। “জল নূপুরের শব্দ” এখানে শুধু শ্রুতিমধুর ইমেজ নয়, বরং স্মৃতি, হারানো কৈশোর আর অদেখা অনুভূতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। Overall, এটা এক ধরনের নস্টালজিক, সুরেলা কিন্তু খানিকটা বিস্তৃত আবেগের কবিতা, যা পাঠককে অনুভূতির গভীরে টেনে নিতে সক্ষম।
-
কবিতাটা অনেক ভালো, কিন্তু বানান ঠিক করতে হবে। যেমন: “ঝর্না” → “ঝর্ণা”, “ঝিঝি” → “ঝিঁঝিঁ”, “মহুর্ত” → “মুহূর্ত”, “ধুসর” → “ধূসর”, “মুচড়িয়ে” → “মুচড়ে” (প্রবাহ ঠিক করতে), “কি/কী” ব্যবহারে সামঞ্জস্য, “বিলিন” → “বিলীন”, “রক্ত ক্ষরন” → “রক্তক্ষরণ”, “সন্ধা তারায়” → “সন্ধ্যাতারায়”, “প্রদ্বীপ” → “প্রদীপ”, “তীল” → “তিল”

Md. Habibur Rahman
Lec-Islamic History and Culture Nowabenki Degree College, Shyamnagar Sathira.
১৯৭২ সালে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ১০নং আটুলিয়া ইউনিয়নের বিড়ালাক্ষী গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্ম। সরকারী ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স সহ মাষ্টার্স পাশ। বর্তমানে নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে কর্মরত। লেখালেখি, কবিতা আবৃতি, উপস্থাপনা অনেক আগের থেকে। কবিতা, প্রবন্ধ, ছোট গল্প ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত লেখা চলমান। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে নিজের কাছে খুবই ভালো লাগে। সামাজিক সেবা মূলক কাজে সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্রষ্টার ইবাদত আর সৃষ্টির সেবা মহান ব্রত ও বিশ্বাস।
Friends
Nahar moyna
@moyna
Nushrat Mohima
@nushrat-jahan-mohima
Md Rabiul Islam
@mdrabiulislam
Md-Shajib-Sikder
@md-shajib-sikder
Kh. Mahadi Hasan
@kh-mahadihasan
পরিমল রায়
@parimal-roy
Ghulam Faruq Hamim
@ghulamfaruqhamim
Okkhar ahsan
@okkharahsan
মিশকাত হোসাইন হিশাম
@hisham



প্রকৃতি আর বেদনাকে এক সুতোয় গাঁথা….🖤