-
প্রিয় পুত্র আমার,
লিখতে চেয়েছিলাম— প্রিয় বড় পুত্র আমার।
কিন্তু আমি চাই না, এই “বড়” শব্দটা তোমার ওপর কোনো চাপ তৈরি করুক।
তুমি যে আমার বড় পুত্র— এটা তোমার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার রব চেয়েছেন বলেই তুমি এই জায়গায় এসেছো।আমি যেমন আমাদের পরিবারের সবচেয়ে ছোট— সেটাও তো আমার নিজের পছন্দে হয়নি।
আমার রব যদি সুযোগ দিতেন, হয়তো আমিও বড় হতে চাইতাম।
কারণ, তোমার বড় মামা আমার শৈশব আর কৈশোরকে ভাজাভাজা বা বলতে পারো- বেশ কড়াভাবে গড়ে দিয়েছেন।আমি যদি বড় হতাম— হয়তো ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে শুধু হাসি-আনন্দে দিন কাটাতাম, পড়াশোনার জন্য এতটা চাপ দিতাম না।
তখন হয়তো দেখা যেত— কেউ হাল চাষ করছে, কেউ দোকান দিচ্ছে, কেউ অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত। যে কাজ করতে লেখা পড়ার প্রয়োজন হয় না।
আর আমি আর তোমার খালামনি কোনো এক গ্রামে, কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে, গরুর গোবর দিয়ে ঘর লেপছি।মন্দ কি?
এত পড়াশোনা করে আমরা এমন কী হয়ে গেছি?যাই হোক, “বড় পুত্র” তর্কটা থাক।
তুমি হয়তো ভাবছো— আজ হঠাৎ আম্মু এমন চিঠি লিখছে কেন? আজ তো আমার জন্মদিনও না!
চিঠির কারণ খুব সহজ—
তুমি তোমার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছো।
তোমাকে অভিনন্দন, আমার রেহান।আজ তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।
তুমি যদি “হিমু” হতে— তাহলে এগুলো হয়তো “হিমুর মায়ের কথামালা” নামে বই হয়ে যেত!
এখন আপাতত এগুলো— “রেহানের আম্মুর একগুচ্ছ কথাবীথি” 😄রেহান,
১. নিজেকে ভালোবাসবে।
সবসময়, সবক্ষেত্রে— নিজের থেকে কোনো মানুষ, বস্তু বা পেশাকে বেশি ভালোবাসবে না।
নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে।ধরো, সামনে একটা বড় সুযোগ এলো— কিন্তু তুমি ভাবলে, “আমি গেলে আম্মুর কী হবে? রোহানের কি হবে?”
না, এমনটা কখনো করবে না।
তুমি সেই সুযোগ নেবে— আমি কখনোই এতে কষ্ট পাবো না।আবার, যদি কাউকে ভালো লাগে— আর সে তোমাকে না পছন্দ করে, বা পছন্দ করলেও পরে মত বদলায়—
তাহলে জীবন থেমে থাকবে না।
কষ্ট হবে, কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জীবন।
প্রয়োজনে পেশাদার কারো সাহায্য নিতেও দ্বিধা করবে না।আল্লাহ প্রত্যেককে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠিয়েছেন।
জীবন একটাই— তাই প্রতিদিন পূর্ণভাবে বাঁচবে।২. লক্ষ্য স্থির করো।
পড়াশোনা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য নয়।
তুমি যে বিষয়েই পড়ো— সেটার গভীরে যাও।
ভাসা-ভাসা জ্ঞান কখনোই সত্যিকারের কাজে লাগে না।৩. ব্যর্থতাকে ভয় পেও না।
জীবনে সবকিছু প্রথমবারেই ঠিক হবে না।
হেরে যাওয়া মানে শেষ হয়ে যাওয়া না— বরং শেখার সুযোগ।
যতবার পরে যাবে, ততবার উঠে দাঁড়াতে শিখবে— এটাই তোমার শক্তি।৪. সময়ের মূল্য বুঝো।
সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না।
তাই সময়কে সম্মান করতে শিখো— এটাই তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।৫. পর্যবেক্ষণ করতে শেখো।
কারো সম্পর্কে মত দেওয়ার আগে তাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করো।
একটা দিক দেখে কাউকে বিচার করো না।৬. সম্পর্ককে সম্মান দাও— কিন্তু নিজেকে হারিয়ে নয়।
যে সম্পর্ক তোমাকে ভেঙে দেয়, সেটাকে ধরে রাখার প্রয়োজন নেই।
নিজের সম্মান আর মানসিক শান্তি সবসময় আগে রাখবে।৭. অন্যকে সাহায্য করো— কিন্তু সীমার মধ্যে।
নিজে নিরাপদে থেকে যতটা সম্ভব, ততটাই সাহায্য করবে।
বাস্তব জীবন সিনেমা না— এখানে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া ঠিক না।৮. সত্য কথা বলো।
মিথ্যা না বললে জীবন অনেক সহজ হয়।
সত্য বললে কখনো কখনো বিপদ আসতে পারে, কিন্তু সেই বিপদ থেকে বের হওয়াও অসম্ভব না।৯. নিজের ভুল স্বীকার করতে শিখো।
ভুল করাটা স্বাভাবিক।
কিন্তু ভুল বুঝে সেটাকে ঠিক করার মানসিকতাই মানুষকে বড় করে।১০. আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।
সবকিছু সবসময় তোমার ইচ্ছামতো হবে না।
তবুও বিশ্বাস রাখবে— তোমার জন্য ভালো কিছুই লেখা আছে।১১. কৃতজ্ঞ হতে শিখো।
যা আছে, তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলো।
কৃতজ্ঞতা মানুষকে শান্তি দেয়।শেষে একটা কথা—
তোমাকে বড় হতে দেখাটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত, রেহান।তোমার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা, ভালোবাসা আর দোয়া রইলো।
তোমার আম্মু
০২/০৫/২০২৬1 Comment
Friends
naznin shamim
@nazninshamim
Md Mofiz
@mdmofiz
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
wajibad
@wajibad
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
সুবহা জাহান
@subhajahan
Intisar Jabed
@intisarjabed
মেঘ
@megh
রোদেলা শিশির
@rodelashishir

আমার ছেলের জন্যেও চিঠিটা তুলে রাখলাম।