-
দিনলিপি: রবের রহমতের ছায়ায়
০২/০৭/২৫ ইংরেজি, বুধবার।
সুপ্রভাতের আলোকরশ্মি আলোকিত করেছে সবেমাত্র প্রকৃতির দৃশ্যকে। মোলায়েম আবহাওয়ায় হৃদমাঝে প্রশান্তি আসছে ধীরে ধীরে। গাছগাছালির দোল আর পাখিদের কিচিরমিচির ধ্বনি হৃদয় সতেজ করে তুলছে। এসবই রবের সৃষ্টি—রব যিনি মহান, অসীম।
এমন এক সকাল উদিত হয়েছিল গেলো শুক্রবারে (২৭/০৬/২৫)। ফজরের পর হালকা বিশ্রাম, তিলাওয়াত আর সাফাই কার্য সম্পাদন করি আমরা সবাই মিলে। নববী কাননের কাজ করতে হৃদয়ে শান্তি অনুভব করি আমরা সবাই সবসময়ই।
ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল দশটা ছুঁইছুঁই, প্রিয় এক অনুজের আবদার আসলো—তার দাদি অসুস্থ, বাড়িতে যেতে হবে তাকে। ছোট্ট মানুষ, ভয় কাজ করে; দূরের পথ একা ছুটে চলা দুরূহ ব্যাপার। অতঃপর উস্তাদের আদেশ—তাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসো। গেলাম তাকে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু সময়ের নির্মমতায় গন্তব্য আরেকটু দূরে সরে গেল—যেতে হলো শহর পর্যন্ত। গাড়ির পথ-সফর শেষে নামলাম প্রাথমিক গন্তব্যস্থানে।
হাঁটা দিলাম নিকটস্থ মসজিদের পানে—উদ্দেশ্য জুমা আদায়। ফের গন্তব্যের দিকে দুজনার সফর শুরু। অতঃপর দিয়ে আসলাম তাকে গাড়িতে তুলে। এখন সে আত্মবিশ্বাসী—যেতে পারবে, আর সমস্যা নেই।
মাঝপথে পড়ে গেলাম বৃষ্টির কবলে, ভিজে একাকার হয়ে গেল শরীর। হনহন করে ছুটছি স্টেশনের দিকে। সময় প্রায় বিকাল তিনটা। গাড়িতে বসা আমি—আছেন আরও একাধিক যাত্রীও। সময় হয়ে গেল, গাড়ি ছুটলো আপন গতিতে। পথিমধ্যে লম্বা একটা ঘুম দিলাম। (ইচ্ছা ছিল বই পড়ি, কিন্তু আফসোস—বই ছিল না সাথে)।
মাদরাসায় আসলাম আসরের পর। ইজতেমায়ী আমলে শরিক হলাম। বাদ মাগরিব শরীর সাড়া দিতে চাচ্ছেই না—অস্থিরতা বিরাজ করলো দেহে; কিছুটা জ্বর, সাথে মাথাব্যথা। কী করি এখন? চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছি। উদাসীন আমি এখন। পারলাম না আর! শুয়ে পড়লাম রুমে।
আহ! এ তো দেখি অসহ্যকর জ্বর-মাথাব্যথা! রাত গেল, দিন গেল—ছাত্র ভাইয়েরা, পিতৃতুল্য আসাতেজায়ে কেরাম খোঁজ নিলেন, ওষুধ দিলেন, দিকনির্দেশনা দিলেন সাথীদের। তারাও যথাসাধ্য চেষ্টা করলো—বা’দ এশা মাথায় পানি ঢাললো তারা, কিছুটা আরাম মিললো আমার। ফের আবার যেই সেই—ভেঙে পড়লাম আমি। যেন এটাই আমার আয়ুর সমাপ্তি! অথচ নেই তৈয়ার আমার সামান। আমি ভারাক্রান্ত, ব্যথিত।
এভাবে চললো শুক্র থেকে রবি পর্যন্ত। অতঃপর বাধ্য হয়ে রবিবার সকাল দশটা নাগাদ তিনজন সহপাঠীর সাহায্যে দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা। একা মানুষ, শরীরের এই দুর্বলতা নিয়ে একটু একটু কষ্ট সহ্য করে বাড়িতে পৌঁছালাম—রবের রহমতের চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে।
ঘরে ঢুকে বিছানার সাথে আলিঙ্গন করলাম। বাদ মাগরিব ডাক্তারের নিকট চলে গেলাম। গাড়িতে উঠে বসাটাও যেন কষ্টকর হয়ে পড়লো। অতঃপর একদিন অতিবাহিত হলো—মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ, সুস্থতা দান করলেন রব। আর আজ বুধবার—রবের শুকরিয়া, রব আমাকে এখন পূর্ণ সুস্থতা দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
صحتك قبل مرضك
তোমার অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার কদর করো।
সুস্থতা কী যে নেয়ামত—অসুস্থ হলে তা বোঝা যায়। আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া। আল্লাহ এমন অসুস্থতা দিয়ে হয়তোবা গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন। এজন্য রবের প্রতি হাজারো শুকর, আলহামদুলিল্লাহ।
রেজাউল করীম মাসুম।
Friends
Mohammad Mofazzal Hossain
@mohammadmofazzalhossain
Sharmin
@sharmin1
সেলিনা বিনতে কারীম
@selina15
rahat shams
@rahatshams
প্রাগৈতিহাসিক নিয়ান্ডারথাল
@showkataziz
Rafi Shams
@rafishams
রেহমান স্বাধীন
@rehmansadhin
Drako Shajib
@drako
Neel tripura
@neel


