Profile Photo

রাইসা আনজুম (পর্শি)Offline

  • raisaanjumporshi
  • রাইসার ডাইরি থেকে—
    ১৯শে মে ২০২৬
    মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট

    তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
    -শহীদ কাদরী

    ভয় নেই
    আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী
    গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে
    মার্চপাস্ট করে চলে যাবে
    এবং স্যালুট করবে
    কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।

    ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    বন-বাদাড় ডিঙ্গিয়ে
    কাঁটা-তার, ব্যারিকেড পার হয়ে, অনেক রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে
    আর্মার্ড-কারগুলো এসে দাঁড়াবে
    ভায়োলিন বোঝাই করে
    কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা।

    ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো-
    বি-৫২ আর মিগ-২১গুলো
    মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে

    ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    চকোলেট, টফি আর লজেন্সগুলো
    প্যারাট্রুপারদের মতো ঝরে পড়বে
    কেবল তোমার উঠোনে প্রিয়তমা।

    ভয় নেই…আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    একজন কবি কমান্ড করবেন বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী
    এবং আসন্ন নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
    সবগুলো গণভোট পাবেন একজন প্রেমিক, প্রিয়তমা

    সংঘর্ষের সব সম্ভাবনা, ঠিক জেনো, শেষ হবে যাবে-
    আমি এমন ব্যবস্থা করবো, একজন গায়ক
    অনায়াসে বিরোধীদলের অধিনায়ক হয়ে যাবেন
    সীমান্তের ট্রেঞ্চগুলোয় পাহারা দেবে সারাটা বৎসর
    লাল নীল সোনালি মাছ—
    ভালোবাসার চোরাচালান ছাড়া সবকিছু নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, প্রিয়তমা।

    ভয় নেই আমি এমন ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে
    শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা প্রতিদিন
    আমি এমন ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে
    গণচুম্বনের ভয়ে
    হন্তারকের হাত থেকে পড়ে যাবে ছুরি, প্রিয়তমা।

    ভয় নেই,
    আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    শীতের পার্কের ওপর বসন্তের সংগোপন আক্রমণের মতো
    অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে-বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে,
    ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    স্টেটব্যাংকে গিয়ে
    গোলাপ কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
    একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।
    ভয় নেই, ভয় নেই
    ভয় নেই,
    আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    নৌ, বিমান আর পদাতিক বাহিনী
    কেবল তোমাকেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে-ঘিরে
    নিশিদিন অভিবাদন করবে, প্রিয়তমা।

    কবি শহীদ কাদীর-এর কবিতা পড়ছিলাম, এদিকে লবণ, অক্সিডিয়েন আর বাফার মিশ্রিত দ্রবণ পড়ছে চোখ থেকে। এরপর আর বসে থাকি কিভাবে? আবৃত্তি শুনলাম আসাদুজ্জামান নূরের। একবার, কয়েকবার, ফোনের চার্জ 35% থেকে 16% হওয়া পর্যন্ত বারবার। এখন, যদি না লিখি, আমার পাপ হবে। এখনও যদি স্বীকার না করি যে, “কবিরা আসলেই ভালোবাসে আর ভালো না বাসলে কবিতা লেখা যায় না”— সবুজ স্যারের এই কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। তাহলে আমার পাপ হবে।
    আগে বিশ্বাস করতাম না। আমি জানিও না ভালোবাসা কি জিনিস। একেকজন মানুষ একেকরকম সংজ্ঞা, বর্ণনা দিয়ে যায়, বাচ্চাদের মতো মুগ্ধতা নিয়ে তাদের কথা শুনি শুধু। তবে আশ্চর্য! কবিরা কী দারুণভাবে ভালোবাসেন তাই না?
    যখন কবি বললেন তিনি এমন ব্যবস্থা করবেন যেন সেনাবাহিনী গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে মার্চপাস্ট করে চলে যাবে এবং স্যালুট করবে কেবল তাঁর প্রিয়তমাকে!
    আবার যখন বললেন, “ভয় নেই…আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    একজন কবি কমান্ড করবেন বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী
    এবং আসন্ন নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
    সবগুলো গণভোট পাবেন একজন প্রেমিক”
    অথবা, “আমি এমন ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে
    শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা প্রতিদিন”
    অথবা, “আমি এমন ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে
    গণচুম্বনের ভয়ে
    হন্তারকের হাত থেকে পড়ে যাবে ছুরি, প্রিয়তমা।”
    অথবা যখন বললেন, “আমি এমন ব্যবস্থা করবো
    স্টেটব্যাংকে গিয়ে
    গোলাপ কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
    একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।”

    আহা! কবি কতো গভীরভাবেই না ভালোবেসেছেন প্রিয়তমাকে, মানুষকে আর আমাকেই কীভাবে ভালোবাসতে শেখাচ্ছেন! আমি ভালোবাসতে চাই। আমি এমন ব্যবস্থা করতে চাই যেন সবাই ভালোবাসে! আমি ভালোবাসতে চাই, আমি প্রেমে পড়তে চাই সুন্দরের, অসুন্দরের, বেগুনি রজনীগন্ধা, পদ্ম, গাঁদা, ভোরের পাখি, দাঁড়কাক, মৌমাছি, জোনাকি, সিংহ, হরিণ, কুকুর, বিড়াল, গাভী, বাঁশঝাড়, শতবর্ষীয় বট, শতদল, স্রোত, আগুন, মাটি, বাতাস, রৌদ্র, আশা, ক্ষুধা, দরিদ্রতা, মমতা, নিষ্পাপতা, বেদনা, হাসি, বৃদ্ধ, শিশু, প্রেমিক/প্রেমিকা, বন্ধুরা, অপরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী সবার! সবকিছুর! আমি প্রেমে পড়তে চাই বারবার!! ভালোবাসতে চাই, হাজারবার!!!

    3
    3 Comments

আমি রাইসা আনজুম পর্শি, জন্ম ঢাকার ধানমন্ডিতে, সাভারে বেড়ে ওঠা। এখনো বাড়ছি। ডাইরিতে টুকটাক লিখি, দুই-একটা কবিতা প্রকাশ হয়েছে, তাতে কিছু লোকের প্রশংসা পাই এতে লেখালেখির প্রতি আগ্রহ বাড়ে৷ কবি বা লেখিকা হওয়ার চাইতে পাঠিকা হতে বেশি পছন্দ করি। প্রচুর বই পড়ি। আকাশ দেখতে পছন্দ করি, কথা বলতে আর মানুষের কথা শুনতে পছন্দ করি, যেকোনো বয়সের মানুষের সাথে আলাপ জমাতে পারি। বড়ো হচ্ছি তো, হয়তো সামনেই কিছু একটা করে ফেলবো। আপাতত পড়ছি, লিখছি এ-ই।

Skip to toolbar