Profile Photo

AlockOffline

  • alock
  • Profile picture of Alock

    Alock is with মোঃ জাহিদ হোসেন and 46 others

    • 5 months, 2 weeks ago

    “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”
    (পর্ব: ছয়)
    পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রবিনের জীবনে হুট করেই একটা হালকা শূন্যতা নেমে এলো। এতদিনের চেনা ব্যস্ততা যখন হঠাৎ থেমে যায়, মানুষ তখন নিজের ভেতরের অবদমিত কথাগুলো বেশি শুনতে পায়। রবিনের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হচ্ছিল। শৈলীর কথা সে কিছুতেই ভুলতে পারেনি। চেষ্টা যে করেনি তা নয়, কিন্তু কিছু অনুভূতি মন থেকে চাইলেই মুছে ফেলা যায় না—তাও আবার যদি হয় জীবনের প্রথম প্রেম! সেই অনুভূতির শিকড় এত গভীরে ছিল যে, তা সহজে উপড়ে ফেলার মতো নয়।

    অন্যদিকে শৈলীও নিজের মতো করে দিন কাটাচ্ছিল। বাইরে থেকে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হলেও, তার মনের কোথাও একটা বড়সড় অপূর্ণতা আর চাপা দীর্ঘশ্বাস রয়ে গিয়েছিল।

    অবশেষে এলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত দিন—এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন। সকাল থেকেই স্কুলের সামনে উপচে পড়া ভিড়। চারদিকে এক তীব্র উত্তেজনা; কেউ চিন্তিত, কেউ আনন্দিত, কেউ বা ফলাফল জানার অপেক্ষায় ছটফট করছে। রবিনও সেই ভিড়ে সামিল হয়েছিল, তবে তার মনে শুধু নিজের রেজাল্ট জানার আগ্রহ ছিল না, বরং অবচেতন মনে কাজ করছিল অন্য এক অদৃশ্য প্রত্যাশা।

    হঠাৎ ভিড়ের মাঝেই রবিনের চোখ আটকে গেল—শৈলী!

    অনেকদিন পর, ঠিক একই জায়গায় আবার তাদের দেখা। দুজনেই কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল। চারপাশের কোলাহল যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল, সময় থমকে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য।

    নীরবতা ভেঙে প্রথমে শৈলীই এগিয়ে এলো। মুখে চেনা দুষ্টুমির হাসি ফুটিয়ে বলল, “রেজাল্ট কেমন হলো, জনাব?”

    রবিন হালকা হেসে উত্তর দিল, “ভালো… আলহামদুলিল্লাহ।”

    “তাহলে তো মিষ্টি খাওয়াতে হবে! কবে খাওয়াচ্ছো বলো?” শৈলী বেশ দাবি খাটিয়েই বলল।

    “মিষ্টি তো অবশ্যই খাওয়াবো, তবে কীভাবে খাওয়াবো সেটাই ভাবছি। আচ্ছা, আগে নীরার সাথে কথা বলে সব গুছিয়ে নেই, কেমন? তোমার পড়াশোনার কী খবর?”

    “ভালো,” শৈলী ছোট করে উত্তর দিল।

    এরপর আবার কিছুক্ষণ দুজনের মাঝে নীরবতা নেমে এলো। তবে এই নীরবতা আগের মতো অস্বস্তিকর ছিল না—বরং এর মাঝে জড়িয়ে ছিল এক অদ্ভুত পরিণত অনুভূতি।

    রবিন একটু নরম গলায় বলল, “অনেকদিন পর…”

    শৈলী আলতো করে মাথা নেড়ে সায় দিল, “হ্যাঁ… অনেকদিন।”

    চারপাশে তখনো তুমুল শোরগোল, কিন্তু তাদের দুজনের জন্য যেন পৃথিবীর সব শব্দ ম্লান হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর শৈলী মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কেমন আছো?”

    রবিন খানিকটা থমকে গিয়ে বলল, “ভালো থাকার চেষ্টা করি।”

    এই সামান্য কয়েকটা শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর অর্থটুকু বুঝতে শৈলীর বিন্দুমাত্র সময় লাগল না। সেও চোখ নামিয়ে হালকা করে বলল, “আমিও…”

    এই সংক্ষিপ্ত আর সাধারণ কথোপকথনের মাঝেই তারা দুজন বুঝতে পারল—সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, মনের ভেতরের কিছু অনুভূতি ঠিক আগের মতোই অবিচল থেকে যায়।

    হঠাৎ করেই সেখানে নীরা এসে হাজির হলো। তার সেই আগের মতোই প্রাণোচ্ছল আর হাসিখুশি কণ্ঠস্বর, “এই যে! তোদের আবার দেখা হয়ে গেছে দেখছি!”

    নীরার উপস্থিতিতে পরিবেশের জমাট বাঁধা ভাবটা নিমেষেই হালকা হয়ে গেল। রবিন সুযোগ বুঝে বলল, “এই নীরা শোন, তোর এই শৈলী মহারানী তো মিষ্টি খেতে চাচ্ছে। তাহলে কাল স্কুলের টিফিন টাইমে তোরা ক্লাসের সবাইকে নিয়ে এই টাকাটা দিয়ে মিষ্টি এনে খেয়ে নিস, কেমন?”

    এরপর রবিন একটু ইতস্তত করে শৈলীর চোখের দিকে তাকাল। কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে বলল, “আমরা কি আবার… নতুন করে বন্ধু হিসেবে শুরু করতে পারি?”

    শৈলী কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, যেন মনে মনে কিছু ভাবল। তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলল, “হয়তো… তবে এবার একটু বুঝে-শুনে, জনাব।”

    এই ছোট একটা “হয়তো” শব্দের মাঝেই লুকিয়ে ছিল তাদের জীবনের এক নতুন বসন্তের ইঙ্গিত।

    (গল্প চলমান থাকবে…)

    2
    3 Comments
Skip to toolbar