-
কবিতা -“বনফুলের মায়া
কে তুমি পথিক, চলেছ পথে গন্তব্যের সন্ধানে,
দৃষ্টি শুধুই সন্মুখ পানে,কবে পৌঁছবে সেখানে?
অপেক্ষায় বুঝি বসে আছে তোমার কোন প্রিয়জন,
কিংবা রয়েছে কর্মস্থলের জরুরি কোন প্রয়োজন।
হতে পারে,ট্রেনের সময়টা দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে
নাকি দিতে যাচ্ছ কোন চাকরির ইন্টারভিউ?
তাই বুঝি তাড়া,খুব তাড়া
ভাবছো কি লাভ একটু থেমে,শুধুই সময় নষ্ট করা,
তাহলে আর কি করা,তবে সাবধানে যেও
চলার ফাঁকে মাঝে,মাঝে খানিক টা জিরিয়ে নিও।
কে তুমি পথিক, চলেছ পথে আপন খেয়ালে,
কোন সে চিন্তা রাখছো পুশে ,মনের দেয়ালে।
মায়াঘেরা,ছায়াঘেরা পথে ,চলেছ একা,একা
ভাবছো সামনে গেলেই ,মিলবে সুখের দেখা।
তাই বুঝি,নিরন্তর এই ছুটে চলা,
তাই তো তোমার সনে হয়ে ওঠেনা
আর কারও কথা বলা।
জীবনের কঠিন শ্রমে,ঘামে,হাঁটা তবুও নাহি থামে।
ভাবি,দূর থেকে দূর, সুখ যে কতদূর
কোন মেঘের আড়ালে আছে,কোন সে অচিনপুর।
পথ শুধায়,হে পথিক শুনছ কি আমার কথা?
তোমার জন্যই কাঁদছে সব ফুল, পাখি,বনলতা।
তাই তো তোমায় ডাকি বারবার পিছু,
দেখো চেয়ে একবার, ফেলে গেলে কি কিছু।
বেলা নেই, বেলা নেই, করেই তো পার করছ বেলা,
পায়ের চাপে মাড়িয়ে যাচ্ছ ঘাসফরিঙ আর প্রজাপতির খেলা।
ব্যস্ততম পথে কেন এই ছুটে চলা অবিরাম,
অনেক হয়েছে পথিক, এবার না হয় থাম। দাঁড়াও, দাঁড়াও পথিক, ঐ শুনো কান পেতে,
কুকিলের কুহুতানে ,বশন্তের আগমনী বার্তা,
আর ঝরাপাতার মর্মরে ,বিরহী মনের আকুলতা।
জানতে ইচ্ছে করেনা তোমার, মেঠোপথে হেঁটে যাওয়া বাউলের মনের কথা,
কিঃবা রাখালের বাঁশির সুরের ঐ গোপন মর্ম ব্যাথা?
শুনবে কি একটু,দূর পাহাড়ের ঝরনা-ধারার নিরব কলকলানী,
প্রতিনিয়ত সে ছুঁতে চায়,তোমার ই হৃদয় খানি।
আঁধার রাতে মোর সাথে,গাঁয়ের পথের বাঁশ বাগানে চল,
দেখবে সেথায় তারার সাজে,জোনাক পোঁকার আলো।
হে পথের পথিক, পদস্পর্শে রেখে যাওয়া
নিত্য তোমার ছায়া,
বাড়িয়ে দেয় পথে ফুটা ঐ বনফুলের মায়া।
যদিও সে বেড়ে উঠে নিতান্তই তোমার অনাদর অবহেলায়,
অথচ কি জান,পথের দু’পাশ রাঙ্গিয়ে রাখে সে
তোমার ই অভ্যর্থনায়।
শ্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব বলে,সব সৃষ্টি শুধু তোমার কল্যাণে,
মনে হয় যেন, সদা ব্যস্ত পৃথিবী
তোমার ই আনন্দ, আয়োজনে।
সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার প্রকাশ
নয় আর কোথাও, অন্য কোন খানে,
দৃষ্টি তব কর উন্নত, পৌঁছাও তা ঐ সুদূর আকাশ পানে।
অতঃপর দেখো,আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায়,
আলো-আঁধারের লুকোচুরি খেলা,
সুন্দরের মোহনায়,ভাসিয়ে দিও জীবন নদীর ভেলা।
সেদিন হয়তো থেমে যাবে ব্যস্ততা আর দিনের কোলাহল,
আনমনে বসে পুকুর পাড়ে,চেয়ে দেখো শান্ত পুকুরের জ্যোৎস্নামাখা ঐ চিকচিক জল। ।10 Comments-
অনেক সুন্দর লেখা, আপু। জোনাকপোকার আলো, বাউলের মনের কথা, ঝরনার কলকল শব্দ দিয়ে এত সুন্দর করে প্রকৃতিকে ডেকে এনেছেন খুব ভালো লাগলো পড়ে।
-
Friends
সুরঞ্জিত দাস
@suranjitmastergmail-com
Suranjit Master
@suranjitmaster
মোঃ রাঈদুল ইসলাম
@mdraidulislam
নাহিদুল হাসান
@nahidulhasan
Surjotoron সূর্যতোরণ দূরশিক্ষণ
@surjotoron
তাসনিম শাহরিয়ার
@tasnimmmm
Drako Shajib
@drako
Neel tripura
@neel
Prithula Zaman
@prithula



আপনার কবিতার “আনমনে ব’সে পুকুরপাড়ে, চেয়ে দ্যাখো শান্ত পুকুরের জোৎস্নামাখা ঐ চিকচিক জল”__ এই পঙক্তি দুটি আমার খুব ভালো লেগেছে। শুভেচ্ছাএবং শুভকামনা রইলো।আপনার আরো লেখা পড়তে চাই।