-
“গোলাম-ই-লুৎফা গুলজার বারী”
লেখক :- রাতিন আহমেদগোলাম-ই-লুৎফা গুলজার বারী,
পীরে কামেল মোজাম্মেল দরবারী,
দরূদ-এ-রাসূল জিকিরে-হক-জারী,
মেহেরবান হে মাওলা শাহে কাদরী।গোলাম এখানে ইনসান সব-ই,
জ্বীন-ফেরেস্তা-পশু-ও-পাখি,
তুমি গোলাম-এ-গুলজার বারী,
আস্তানায়ে-কাদরী ত্বরিকা জারী।নূর নবীজ্বীর দরূদ-ও-সালাম,
হুজুরী দীলে জারী-এ-কালাম,
সালাম জানাই তোমায়-হে-গোলাম,
দীলে দীলে ছড়ালে নূরের পয়াম।সিয়াম-ও-সালাতে কায়েম হলো,
আখলাকে পেলো মোহাম্মদী আলো,
কালেমা-তুল-হক প্রকাশ করলো,
বে-দ্বীনের দীলও দ্বীনের নূর পেলো।গোলাম গোলামীতে সুবহ-শাম,
কালেমার রাহে জান-ও-কুরবান,
হারাম জনাবের যতো হোক বয়ান,
খোদার আস্তানায় খোদার-ই-ফরমান।আস্তানায়ে-বারী’র হে গোলাম,
দীলে খোদা, জবানে খোদায়ী কালাম,
হায়, এ জাহান কি বুঝবে আপনার মোকাম!
যে ইশক-এ-ফানা, ইশক-এ-খাজানা,
এক খোদা-ই জানে তাঁর রাযখানা।দেখো! নূরের মাহফিলে উঠে তাকবীর,
হক হক ইয়া বারী,
ইশকের সুরে কাঁপে এই জমীন,
হে শাহেনশাহ, রহমত-এ-লুৎফরী।হে বন্ধুরা! আস্তানায়ে-বারী গোলামের অন্তরে,
মুর্শিদ নামে গোলামী নবী মোস্তফার ঘরে,
বেহেশতের নূর নামে তাঁর-ই পথ ধরে,
দোযখী বলে ডাকছো তুমি যারে।
বেহেশতের আশায় গোলাম চলে না,
যে চায় সে নিক, গোলামের কি দায়!
আস্তানায়ে-বারী’র গোলামী শুধু চাই,
এখানেই গোলামের বেহেশত, এখানেই সে পায়।হে বন্ধুরা! এই পাপের ভার গোলাম’কে দাও।
নত-মস্তক যদি শিরক-ই হয়,
গর্দান চাও তো কেটে নাও,
তবুও মুর্শিদের কদমে রেখে যাও।
মৃত্যুর ভয় গোলামের থাকে না,
সে তো গোলাম-এ কারবালা।
হুকুম-এ-মাওলা গর্দান-ও-কুরবান,
গোলাম-এ-বারী এখানে হুসাইনওয়ালা।
কসম সে জাত-এ-আহাদ,
গোলাম করে না শিরক-এ-খোদা,
মোহাম্মদ রাসূল নহে জুদা-এ-খোদা।
কসম সে জাত-এ-সামাদ,
মুর্শিদ যদি হতো জুদা রাসূল হতে,
ছিন্ন করিতো গোলাম থাকিতো না সোহবতে।
যেহেতু! তাঁহার নিশান পাই মোস্তফার-ই দরিয়ায়,
হায়, দরিয়া-এ-ইশকে তাই মস্তক নত হয়ে যায়।কি আনন্দ! কি আনন্দ!
মুর্শিদের আস্তানায় গোলাম হলাম,
দুনিয়া থেকে কাফের উপাধি পেলাম।হে বন্ধুরা! গোলামের পরিচয় কি জানো?
হকের ইশকে সে দিল বিলালো,
মাবুদের রাহে নিজ সত্তাও মিটালো,
না বুঝে এই দুনিয়া কাফের ডাকিলো।
যাও কাফের সই, কাফের-ই হই,
এমন নামে যে ডাকিলে তাঁকে,
ঋণ শোধ হবে কি দিলে?
সেই বা কেমন গোলামী বলো,
যদি কাফের বলে না ডাকিলে।হে পরওয়ারদিগার, আপনার-ই তরে এই ফরিয়াদ,
আস্তানায়ে-বারী জিন্দাবাদ, গোলাম-এ-বারী জিন্দাবাদ।হে পরওয়ারদিগার! কি জখমটা-ই সে পেলো,
ইশকের দাওয়াত-এ কত বদনাম সে সইলো!
গোলামের গলায় ছুড়ি, এ-ও কি কথা ছিলো?
এমন তলোয়ার কোথা থেকে কে’বা দিলো!
যে দীলে তোমার নামের জিকির,
দেখো, সে দীলে জুলুম-ও চালিয়ে দিলো।হায়! গোলামের দীল তো নরম গোলাপের পাপড়ী,
তবুও নিক্ষেপ করিলো তলোয়ার-ও-ছুড়ি।
কিন্তু! এই গোলামের শান দেখো-
শত আঘাতে-ও তোমার শোকর জারী,
মুর্শিদের দরবারে দুঃখ-ও রহমত-এ-বারী।
আমি রাতিন হই তোমার পথের ভিখারী,
হে! দিওয়ানা-এ-বারী মোজাম্মেল দরবারী।4 Comments

RATIN AHMED
WRITER & POET
"পবিত্র আস্তানায়-ই-বারী" থেকে আমি রাতিন আহমেদ। একজন কবি ও লেখক। ৮ই আগস্ট ২০০২ সালে চট্টগ্রাম শহরে আমার জন্ম। তবে আমি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছি। আমার পিতার নাম জনাব নাছির আহমেদ। ছোট থেকেই তিনি আমায় মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য ও পরিচালনা সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন। এবং পরিশেষে আমায় নিয়ে যান মহান "পবিত্র আস্তানায়-ই-বারী"। আর সেখানেই সেই মহান সুন্দর শিক্ষার ছায়াতলে জন্ম হয় আমার লেখালেখির। প্রেম, আত্মশুদ্ধি, মানবতা, নবীপ্রেম, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এবং স্রষ্টার প্রতি নিবেদনই আমার লেখার প্রধান সুর। আমার লেখার ভাষা সহজ, কিন্তু শব্দচয়নে রয়েছে সুফি ভাবধারার আবহ। ফারসি-উর্দু ঘরানার শব্দ, প্রেমের রূপক এবং আধ্যাত্মিক অনুভবকে সহজ বাংলার সঙ্গে মিলিয়ে নির্মাণের প্রচেষ্টা ।
উল্লেখযোগ্য রচনা :-
কবিতা — “শান-ই-মুহাম্মাদ (সা.)” | “গোলাম-ই-লুৎফা গুলজার বারী” | “মানুষ” | “গোফতার-ই-দীল” | “ইশকনামা-ই-রাতিন” | “মনের কথোপকথন” | “আশেক” | “দশ হরফ” |
সংগীত — “আয় কে যাবি কারবালায়” | “হায় প্রেম বিধাতা” |
গল্প — “পোড়া বাড়ী” | “সন্ধ্যার সায়মন” |
আমার সাথে যুক্ত থাকুন :-
Page :- https://www.facebook.com/ZeroRatin
Instagram :- https://www.instagram.com/zero_ratin
Threads :- https://www.threads.net/@zero_ratin
Website :- https://ahmedworldin.blogspot.com
Youtube :- https://youtube.com/@ahmedworldin
Tiktok :- https://www.tiktok.com/@ahmedworldin


ইশকে গোলামী তলোয়ারে জিকির…..🤍