-
একটি সাদা মানিব্যাগ
অথবা একজন সান্তাক্লজ
(দ্বিতীয় পর্ব)৯.
সকালে নাশতা করেই আবার বের হয়ে গেলো শান্ত। মানিব্যাগটা একটা ব্যাকপ্যাকে ঢুকিয়ে কাঁধে করে চলে এলো রমনায়। বসে রইলো সেই বেঞ্চটায়। যদি বৃদ্ধ আসে, সেই আশা করে দুপুর পর্যন্ত বসে রইলো সে। এলো না বৃদ্ধ। নিরাশ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে চলে এলো শান্ত সাফার বাসায়।
এখন বিকেল। সাফা মানিব্যাগটা নেড়েচেড়ে দেখছে। টাকাগুলোয় একবার নজর বুলিয়ে ভেতরে কোনো চোরা পকেট আছে কিনা পরীক্ষা করলো।
মানিব্যাগে তো দেখছি কোনো চোরা পকেটও নেই?
নেই। ওটা আমি আগেই পরীক্ষা করেছি।
আইডি কার্ডও তো নেই।
নেই।
ফোন নম্বরও নেই দেখা যাচ্ছে। কোনো ভিজিটিং কার্ডও নেই।
কিচ্ছু নেই সাফা। আমি পরীক্ষা করে দেখেছি।
শুধু টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই।
নেই, কিচ্ছু নেই।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সাফা বলল, তাহলে এটা থানায় দিয়ে দাও।
সেটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু একটা সমস্যা আছে।
চিন্তিত মুখে সাফা জিজ্ঞেস করলো, কী সমস্যা?
এতগুলো টাকা! পুলিশ যে গাপ করে দেবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা আছে?
নেই।
শান্ত হেসে বললো, আরেকটা সমস্যাও আছে।
কী?
পুলিশ অযথা হয়রানি করতে পারে। সমস্যা নিয়ে গেলাম, দেখা যাবে তারা সমাধান না করে উলটাপালটা প্রশ্ন করছে।
যেমন?
যেমন, মানিব্যাগটা আসলেই আমি পার্কে কুড়িয়ে পেয়েছি কি না; টাকা মেরে দিয়েছি কি না। এমনকি চেক করার কথা বলে বাসায় তল্লাশিও চালাতে পারে। বাবা-মা টেনশনে পড়ে যাবে বাসায় পুলিশ ঢুকলে।
হুম, তাহলে?
শান্ত একটু ভেবে বললো, লোকটা ইউনিভার্সেল গ্রুপে চাকরি করে। ভাবছি সেখানেই যাবো কি না।
সাফা চুটকি বাজিয়ে বললো, গুড আইডিয়া। এই বুদ্ধি এতক্ষণ মাথায় আসেনি কেন?
এসেছে। তবে সমস্যা হলো ইউনিভার্সেল গ্রুপের অফিসের ঠিকানা আমি জানি না।
সাফা শান্তর মাথায় হালকা চাটি মেরে বললো, তুমি একটা বুদ্ধু!
মানে!
মানে হলো, গুগল মামা থাকতে তোমার এত টেনশন করতে কেন হবে?
শান্ত হেসে ফেলে বললো, অতোটাও বুদ্ধু আমি নই। সার্চ দিয়ে ইতোমধ্যেই দেখেছি।
তো? দেখে কী জানতে পারলে?
আমেরিকায় আছে ইউনিভার্সেল বিল্ডার্স, হংকঙে আছে ইউনিভার্সেল এয়ারলাইন্স, ইংল্যান্ডে আচ্ছে ইউনিভার্সেল ইউনিভার্সিটি। তবে ইউনিভার্সেল গ্রুপ নামে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অফিস বাংলাদেশে নেই।
সাফা একটু বিস্মিত হয়ে বললো, শান্ত, খুবই রহস্যজনক বিষয়! অস্তিত্ব নেই এমন একটা কোম্পানির নাম কেন নিলো বুড়ো?
জানি না।
এখন তাহলে কী করবে?
একটা অনুরোধ করবো তোমাকে।
সাফা হেসে বললো, কী অনুরোধ?
টাকাগুলো তোমার কাছে রাখবে? আমার কাছে থাকলে যদি হারিয়ে যায়। তোমার কাছে একটা ছোট্ট সেফ আছে না? সেটায় লক করে রাখো।
ও, এই অনুরোধ? আমি ভাবলাম…
সাফার মুখভঙ্গি দেখে শান্ত বললো, কী ভেবেছিলে?
সাফা মুচকি হেসে বললো, ভেবেছিলাম, বলবে- সাফা চলো বিয়ে করে ফেলি। হাতে তো টাকা আছেই।
শান্ত হেসে বললো, পরের ধনে পোদ্দারি ব্যাংক করে, শান্ত করে না।১০.
কিরে মামা, দুই দিন ধরে লাপাত্তা! কই ছিলি?
পরেরদিন সন্ধ্যেবেলা। একটা ইন্টারভিউ দিয়ে বাসায় এসে খেয়েদেয়ে টিউশনি করাতে বের হয়েছিলো শান্ত। পাশাপাশি দুইটা বাসায় পড়িয়ে চলে এসেছে মনু মিয়ার চায়ের দোকানে। এখানেই শান্তর আড্ডাখানা। ওর বন্ধুরা এখানেই আসে। অবশ্য আগের কয়েকজন এখন নেই। সালাম, জীবন দেশের বাইরে চলে গেছে। আতিক আর সঞ্জয় চাকরির সুবাদে থাকে ঢাকার বাইরে। আজকাল আড্ডা দেয় শুধু শান্ত, সজীব আর মানাম। এর মধ্যে মানাম চাকরি করে ঢাকাতেই একটা ওষুধ কোম্পানিতে। শান্ত আর সজীব বেকার। এখনও জব হয়নি। সজিবের অবশ্য পারিবারিক ব্যাবসা আছে ইসলামপুরে।
সজিবের প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলে, আছি একটা ঝামেলায়, দোস্ত। সেইজন্য আসতে পারিনি।
ঝামেলা মিটেছে?
মাথা নেড়ে শান্ত বলে, নাহহ।
মানাম একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে, ঝামেলাটা কী?
বলছি। দাঁড়া একটা চা নিয়ে আসি।
শান্তর সার্কেলে সবাই চেইন স্মোকার। শান্তও আগে খেত। ভার্সিটি থেকে বের হবার পর বাদ দিয়েছে। এক কাপ লেবু চা নিয়ে এসে বসলো ও মানামের পাশে।
সজিব বললো, বল মামা। কী এমন ঝামেলা যে তোর চাঁদমুখ আমরা দুইদিন ধরে দেখি না।
ঝামেলাটা একটা মানিব্যাগ নিয়ে।
মানাম একটু বিরক্ত হয়ে বললো, উহু… ঠিকভাবে গুছায়ে বল। একদম শুরু থেকে।
শান্ত দুই বন্ধুকে পুরো ঘটনাটা বললো। সব শুনে মানাম আর সাদিক চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো শান্তর দিকে। মুখে কথা নেই।
শান্ত বন্ধুদের অবস্থা দেখে বললো, কী রে। শুনে শক খাইলি মনে হয়!
দোস্ত একটা কথা বলি?
মানামের দিকে তাকিয়ে শান্ত বললো, বল।
পরশুদিন শুক্রবার। পরেরদিন শনিবার।
হ্যাঁ, কালকে বিষ্যুদবার। তো?
মানাম বললো, আমার দুইদিন ছুটি। বান্দরবনে ট্রিপ দিয়ে আসি, চল। আমি, তুই সজিব। টাকাও আছে তোর কাছে…
একটা ঝাড়ি দিয়ে ওকে থামিয়ে দিলো শান্ত, চুপ ব্যাটা। মাথা ঠিক আছে তোর? এই টাকা কি আমার নাকি?
তাইলে কার?
কার মানে? সেই বুড়াটার। তাকে টাকা ফেরত দিতে হবে না?
সজিব বললো, শান্ত… দোস্তো, দেখ… মানামের কথাটা কিন্তু আমার মনে ধরেছে।
মানে?
সজিব বুঝিয়ে বলার ঢঙে বললো, দেখ দোস্তো… তুই বলছিস, টাকাগুলো ঐ বুড়ার। আচ্ছা মেনে নিলাম টাকাগুলো তারই। কিন্তু সেই বুড়াকে তুই কই পাবি? মানিব্যাগে ঠিকানা, পরিচয় কিছুই নাই। ঐ বেঞ্চে সারা জীবন বইসা বসে কি তুই বুড়ার অপেক্ষা করবি? আরে শালা, তুই তো সাফার জন্যেও সারা জীবন অপেক্ষা করতি না।
এক দিবো, শালা! সাফাকে এর মধ্যে টানছিস ক্যান? তুই জানিস, সাফার জন্য আমি মরার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম।
সজিব বললো, আচ্ছা, মানলাম। কিন্তু সাফা আর বুড়া এক না। তুই কতদিন ঐভাবে অপেক্ষা করবি? স্পেশালি, যে নিজের টাকার গরজ নিজেই করে না। এতগুলা টাকা কেউ এইভাবে পকেটে নিয়ে ঘুরে। আর ঘুরলেও রাখা উচিত ছিলো কোটের পকেটে। প্যান্টের পকেটে রাখলে তো পড়ার রিস্ক থাকবেই। তার মানে বুড়া কেয়ারলেস।
কেয়ারলেস হলে কি? তার টাকা আমরা মেরে দিবো?
মানাম বললো, মামা, তুই বিষয়টা ভুলভাবে দেখছিস। চাইলে একটু অন্য অ্যাঙ্গেলেও ভাবতে পারিস।
কেমন?
মানাম একটু নড়েচড়ে বসে বললো, দেখ… তুই মানিব্যাগটা কুড়ায়ে পেয়েছিস, তাইতো?
হুম।
আচ্ছা, মানিব্যাগের মালিক কে, তুই জানিস না।
শান্ত বিরক্ত হয়ে বললো, জানবো না কেন? ঐ বুড়াটা…
ওকে থামিয়ে মানাম বললো, সেইটা তুই ধারনা করছিস। মানিব্যাগটায় বুড়ার কোনো আইডেন্টিফিকেশন মার্ক তুই পাস নাই। এই যেমন, কোনো আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ফোন নাম্বার… কিচ্ছু পাস নাই। ঠিক?
হুম। কিন্তু, সে চলে যাওয়ার পরেই আমি মানিব্যাগটা পাই।
মানাম বললো, হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, যে সেটা আগে থেকেই পড়ে ছিলো বেঞ্চের কাছে। তুই বা বুড়া কেউই লক্ষ্য করিস নাই।
ঝট করে মানামের দিকে তাকালো আনিস। এইভাবে সে চিন্তা করেনি আগে। হুম, হতে পারে মানিব্যাগটা বৃদ্ধ রেদওয়ানের নয়। হয়তো অন্য কারো।
হয়তো ঠিকই বলেছিস।
মানাম মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, হুম… এখন সেই অচেনা লোককে তুই কীভাবে খুঁজে পাবি? বুড়া যেহেতু তোকে চেনে, মানিব্যাগটা ফিরে পাবার আশায় হয়তো সেদিন সে ফিরে আসতো। এবং তুই সেটা ফিরিয়ে দিতি। কিন্তু এটা অন্য কারো হলে, সে তো আর তোকে চিনবে না। জানবেও না, যে মানিব্যাগটা নিয়ে তুই হন্যে হয়ে খুঁজছিস মালিককে। সো, সে হয়তো থানায় মামলা দেবে। অথবা এতগুলো টাকার জন্য কান্নাকাটি করে চোখ ভাসিয়ে হুশ হারিয়ে পড়ে আছে হাসপাতালে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই জিনিসের দাবিদার থাকলেও সে অজ্ঞাত, এবং তাকে পাওয়ার আশা নেই। সেইজন্যই বলছি, চল তিনবন্ধু মিলে ঘুরে আসি। এক বছর ধরে তুই টাকা জমাতে পারিস নাই বলে আমাদের ট্রি টাকাগুলো অলস ফেলে না রেখে সেগুলোর সদ্গতি করি। রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস যে পায়, সেই-ই মালিক। বলতে পারিস ভাগ্যক্রমে তুই মানিব্যাগটা পেয়েছিস।
ভাগ্য?
হ্যাঁ। বলতে পারিস এটা একটা ঐশ্বরিক গিফট। আল্লাহ তোকে দিয়েছে।
শান্ত বিরক্ত হয়ে বলল, না, এটা সম্ভব না দোস্ত। এমন করলে পাপ হবে।
সজিব বললো, ঠিক আছে… বাদ দে। ঘুরাঘুরির প্ল্যান বাদ। এক কাজ কর। আন্টির চেকআপ করানোটা আটকায়ে আছে না অনেকদিন ধরে? এবার করায়ে ফেল। টাকা তো আছেই।
শান্ত বললো, না রে, দোস্ত… এই টাকায় আমি হাত দিতে পারবো না। আম্মার চেকআপ আমি আগামী মাসে করবো। টিউশনির টাকা ব্যাংকে জমিয়েছি কিছু। সেটা তুলে চেকআপ করাবো আম্মার।
মানাম বললো, তাহলে এখন কী করা যায়?শান্ত ভাবতে লাগলো। সঙ্গে মানাম আর সজিবও।
রাতে শান্তর ঘুম আসছিলো না।
বারবার মনে হচ্ছিল মানাম আর সজিবের কথাগুলো।
সত্যিই তো! চাইলেই তো ও টাকাগুলো খরচ করতে পারে!
কেউ জানবে না।
টাকাগুলো কুড়িয়ে নিতে কেউ ওকে দেখেনি! কোনো প্রমাণ নেই!
কিন্তু তারপর? যদি এই টাকার মালিক ওর খোঁজ পায়? যদি ফেরত চায় টাকাগুলো? কী জবাব দেবে সে?
না। ধৈর্য ধরবে ও। কিছুতেই এই টাকায় হাত দেবে না শান্ত। মরে গেলেও না।
বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছিলো; হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই তড়াক করে উঠে বসলো শান্ত। ফোনটা বের করে মানামের নম্বরে কল দিলো। ভুলেই গেছে, এখন রাত ৩টা।
তিনবারের মাথায় মানামের সাড়া পাওয়া গেলো। ঘুমজড়ানো কণ্ঠে বললো, হ্যালো।
দোস্ত, আমি শান্ত।
হুম, দোস্ত… বল।
একটা আইডিয়া এসেছে মাথায়।
কী বিষয়ে?
মানিব্যাগ।
৩ সেকেন্ড পর শোনা গেলো মানামের গলা।
এখন কয়টা বাজে?
৩ টা।
দুপুর নাকি রাত।
ইয়ে… দোস্ত… মানে… সরি।
মানাম ঝাড়ি দিয়ে বললো, একটা দিবো … শালা। রাত ৩টায় ফোন দিয়া বলে আইডিয়া আসছে! মানে, আমি মনে হয় ওর আইডিয়া শুনার জন্য ভোর রাতে জেগে বসে আছি! শালা, বেকুব… ঘুমা।
চুপচাপ ফোন কেটে দিয়ে, বন্ধুর গালি হজম করে ঘুমিয়ে পড়লো শান্ত।১১.
পরের দিন। আজকে শান্তর টিউশনি নেই। মনু মিয়ার দোকানে শান্ত, সজিব বসে আছে। মানামের আসার অপেক্ষা করছে। মানামের অফিস বেশি দূরে না। এতক্ষণে ছুটিও হয়ে গেছে। সজিব ফোন দিয়েছিলো। মানাম ‘আসতেছি’ বলে কেটে দিয়েছে। ওর অফিস বেশি দূরে না। পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু ১ ঘন্টা হয়ে গেলো মানামের দেখা নেই। এদিকে সন্ধ্যে হতে চললো।সজিব বিরক্ত হয়ে বললো, শালা আজকে আসুক… এমন গাট্টা দিবো না!
কাকে গাট্টা দিবি তুই?
সজিবের পিছন থেকে বলে উঠলো মানাম। জিভ কেটে পিছন ফিরে বললো, আরে! দোস্ত… আসছিস? এত দেরি করলি কেন?
মানাম ভ্রু কুচকে বললো, তোর মতো আমার খানদানী ব্যাবসা নাই। যতক্ষণ ডিউটি শেষ না হবে, ততক্ষণ নো ছুটি। যাক, গাট্টা দিবি কাকে, সেটা বল।
তোকে না… তোকে না… শান্তকে।
শান্তর দিকে মানাম তাকিয়ে বললো, হুম, দেওয়া উচিত। তাহলে বেকুবটা রাত বিরাতে ফোন করে মানুষের আরামের ঘুম হারাম করবে না।
শান্ত বিনম্র কণ্ঠে বললো, রাগ করিস না দোস্ত। আসলে এতোটাই এক্সাইটমেন্টে ছিলাম যে, সময়ের দিকে খেয়ালই ছিলো না।
মানাম একটা টুলে বসে বললো, যাহ, মাফ করে দিলাম। এইবার বল… তোর আইডিয়াটা কী?
ভাবছি, পত্রিকায় একটা বিজ্ঞাপন দেয়া যেতে পারে। বিজ্ঞাপনটা পড়ে হয়তো সেই বুড়া লোকটা যোগাযোগ করতেও পারে।
মানাম বললো, যদি বুড়ার চোখে পড়ে, তাহলে। হুম… আইডিয়া খারাপ না। ওকে দোস্ত, দে বিজ্ঞাপন। তবে, সব পত্রিকায় দেয়ার দরকার নেই। যেই পত্রিকাগুলো বেশি চলে, সেইগুলোতে দিবো। ঠিক আছে?
ঠিক আছে।
সজিব জিজ্ঞেস করলো, বিজ্ঞাপনে কী লিখবি?শান্ত একটা কাগজ এগিয়ে দিলো সজিবের দিকে। বিজ্ঞপ্তিটা লিখে নিয়ে এসেছে ও। কাগজটা নিয়ে সজিব পড়তে লাগলো।
প্রাপ্তি সংবাদ
গত … ইং তারিখে রমনা পার্ক থেকে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাওয়া গেছে। এই মুহূর্তে মানিব্যাগটি বিজ্ঞপ্তিদাতার জিম্মায় রয়েছে। মানিব্যাগটি সাদা রঙের। উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে মানিব্যাগটির মালিককে ০১********* নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হলো।
পড়া শেষ করে সজিব তাকালো শান্তর দিকে।
ভালো হয়েছে দোস্ত। কিন্তু আমার মোবাইল নম্বর দিয়েছিস কেন?
দুইটা কারণে। এক নম্বর কারণ, আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলে বা টিউশনি করাতে গেলে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখি। তাই, কেউ ফোন দিলে ধরতে পারবো না। দুই নাম্বার, মানামের অফিসে ব্যস্ততা কখন বেশি থাকবে তার ঠিক ঠিকানা নেই। তাই ওর নম্বরও দেওয়া যাবে না। একমাত্র তুই-ই আমাদের তিনজনের মধ্যে বেশি সময় ফ্রি থাকিস। তাই, তোরটা দিলাম।
মানে বুঝাতে চাচ্ছিস আমি…
মানাম বললো, হ্যাঁ, ঠিক। আমরা তোকে এই কাজের ভার দিয়ে বুঝাতে চাইলাম, এই কাজের জন্য তুই-ই একমাত্র যোগ্য। এখন যা, বেশি কথা না বলে সিগারেট নিয়ে আয়। আজকের বিল তুই দিবি।
মুখ বেজার করে উঠে দাঁড়ালো সজিব।১২.
ধানমন্ডি লেকের একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে শান্ত আর সাফা। ওয়েটার ছেলেটাকে দুটো চিকেন স্যুপের অর্ডার দেয়ার পর শান্তকে সাফা জিজ্ঞেস করলো, এনি আপডেট?
হতাশ ভঙিতে মাথা নেড়ে শান্ত বললো, নো আপডেট। কেউ এখনো ক্লেইম করেনি।
সাত দিন পার হয়ে গেলো, অথচ কোনো আপডেট নেই! কয়টা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলে?
পাঁচটা। ইংরেজি দুইটা বাংলা তিনটা।
সাফা শান্তর মুখের দিকে তাকালো। ওর চেহারায় বিমর্ষ ভাব দেখে একটু হেসে বললো, এত টেনশন করছো কেন? চাকরির জন্যেও তো তোমাকে এত টেনশন করতে দেখিনি। যার জিনিস, সে যদি ক্লেইম না করে, তাতে তোমার দোষ কোথায়? তুমি তো আর জিনিসটা চুরি বা ছিনতাই করোনি। বরং এখন জিনিসটা ফিরিয়ে দেবার সাধ্যমতো চেষ্টা করছো।
ওয়েটার স্যুপ নিয়ে আসলো। নীরবে কিছুক্ষণ খাওয়ার পর সাফা জিজ্ঞেস করলো, তাহলে এখন কী করবে?
ভাবছি।
আংকেলের সাথে কথা বলতে পারো। উনার বুদ্ধি তোমার থেকে বেশি।
সেটা ঠিক। কিন্তু বাবাকে আবার উটকো টেনশন দেবো? দেখি আর দুটো দিন। যদি কোনো গতি না হয়, তাহলে বাবাকে জিজ্ঞেস করা যাবে।
স্যুপের পর্ব শেষ করে সাফা দুটোর কফির অর্ডার দিলো।
ঠিক আছে, মানিব্যাগের চিন্তা আপাতত বাদ দাও। এখন বলো, তোমার চাকরির কী হলো? বাবাকে বলবো?
অধৈর্য হয়ো না। দেখি, কাল আরেকটা ইন্টারভিউ আছে।
সাফা মাথা নেড়ে হেসে বললো, অধৈর্য! উহু… আমার ধৈর্য অনেক বেশি। তা না হলে কবেই তোমাকে ছেড়ে আরেকজনের গলায় ঝুলে পড়তাম।
শান্ত মুচকি হেসে বললো, ঝুলে পড়া শব্দটা ভালো শোনায় না। আত্মসম্মানবোধে ঘাটতি আছে, এমন মানুষেরা এইভাবে বলে।
আচ্ছা! তাহলে কী বলা উচিত।
শান্ত একটু ভেবে বললো, বুঝতে পারছি না। আমি তো আর বাংলার প্রফেসর নই। তাই হুট করে এখনই বলা মুশকিল। একটা যুতসই কিছু ভাবতে হবে। উমম… গলায় ঝুলে পড়া না বলে অন্যের পাণি গ্রহণ করা বলা যেতে পারে। কী বলো?
হুম, ঠিক আছে স্যার। এখন উঠুন। ৯টা বাজে। বাসায় যেতে হবে।
সাফা একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলো। শান্তও আরেকটা রিক্সা ডেকে উঠে বসলো।(চলবে)
4 Comments
Friends
আরাফাত অভি
@arafatavi
Hafez Abdullah Abdullah
@hafezabdullahabdullah
Sanaullah Al-Mubin
@sanaullahal-mubin
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
হুসেন মোহাম্মদ সারোয়ার সাঈদ
@hm-saroar-saied
সেলিনা বিনতে কারীম
@selina15
রেহমান স্বাধীন
@rehmansadhin
MD IKRAMUL HASSAN
@md-ikramul-hassan
জামান বারভী
@zamanbarovi



গল্পের দ্বিতীয় পর্বটা আগের পর্বের মতোই নৈতিক দ্বন্দ্ব, বাস্তবতা আর মানবিক সিদ্ধান্তের চাপকে খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়েছে। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।