-
❤️ “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” ❤️
✍️ 🌧️ পর্ব পনেরো: ( স্বপ্নের নতুন সীমানা )
শৈলীর পূর্বের সেই চিঠিটা পড়া শেষ করার পরও অনেকক্ষণ পাথরের মতো স্থির হয়ে বসে রইল রবিন। বাইরে তখন শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ। জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলের রেখাগুলো যেন রবিনকে বলছিল—এ শুধু বৃষ্টি নয়, এ তো তাদের মনের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।
রবিনের মনে বারবার দোলা দিয়ে যাচ্ছিল শৈলীর সেই অভিমান মেশানো মিষ্টি অভিযোগ—“আমাকে ভুলেই গিয়েছো মনে হচ্ছে…”। এই কয়েকটি শব্দ চোখের সামনে ভাসতেই রবিনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে সুখের হাসি ফুটে উঠল। সে তো জানে, এই কৃত্রিম রাগের আড়ালে কতটা তীব্র ব্যাকুলতা আর ভালোবাসা লুকিয়ে রেখেছে মেয়েটি!
তবে রবিনের হৃদয়ে সবচেয়ে বড় আনন্দের ঝড় তুলেছিল চিঠির শেষ লাইনটি—“তোমার কলেজেই ভর্তি হব…”। এই একটিমাত্র বাক্য যেন তার ধূসর কল্পনার আকাশে সাতরঙা আবির ছড়িয়ে দিল। এতদিন তাদের প্রেম বেঁচে ছিল শুধু ধোঁয়াটে চিঠিতে, একাকীত্বে আর যোজন যোজন দূরত্বের দীর্ঘশ্বাসে। কিন্তু এবার? এবার তবে দূরত্বের সেই কঠিন দেয়ালটা ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার সময় এসেছে! খুব জলদিই তবে একই আঙিনায়, একই বাতাসে দুজনের নিঃশ্বাস মিশবে!
সেই গভীর রাতেই রবিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, বুকে জমানো সবটুকু আবেগ ঢেলে সে উত্তর লিখতে বসল। কেরোসিন বাতির কাঁপা কাঁপা হলুদ আলোয়, সাদা কাগজের বুকে কলমের কালিতে যেন তার হৃদস্পন্দনগুলোই এক একটি শব্দ হয়ে ফুটে উঠতে লাগল:
“আমার আকাশের প্রথম তারা,
তোমাকে ভুলে যাব? এই বুকে স্পন্দন থাকা পর্যন্ত সেই ক্ষমতা বা ইচ্ছে কোনোটিই যে আমার নেই, শৈলী! পরীক্ষার ভীষণ চাপ ছিল, দম ফেলার ফুরসত ছিল না—তাই হয়তো মন চাঙ্গা করার মতো করে তোমার কাছে যাওয়া হয়নি। কিন্তু বিশ্বাস করো, প্রতিটি রাত জাগা প্রহরে, বইয়ের পাতার প্রতিটি লাইনে আমি শুধু তোমার মুখটাই দেখেছি। তোমার এই চিঠিটা যেন তপ্ত মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো আমার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে আছড়ে পড়েছে।তুমি সত্যিই আমাদের কলেজে আসবে? বিশ্বাস করো, এই খবরটা পাওয়ার পর থেকে আমার বুকটা খুশির চোটে কেমন যেন কাঁপছে! আমরা একই চত্বরে হাঁটব, ভাবতেই তর সইছে না। তবে তার আগে লক্ষ্মী মেয়ের মতো রেজাল্টটা কিন্তু অনেক ভালো করতে হবে। আমি জানি আমার শৈলী ঠিক পারবে।
আর আমার এইচ.এস.সি-র পর কোথায় যাব তা এখনও জানি না, তবে যেখানেই যাই না কেন—আমাদের অলিখিত চুক্তির সেই স্বপ্নের সীমানা ছুঁয়েই থাকব। নিজের খেয়াল রেখো, রাত জেগে বেশি ভেবো না।
ইতি—
চিরকাল শুধু তোমারই,
রবিন।”চিঠিটা পরম মমতায় ভাঁজ করে খামের ভেতর পুরে বুকের ওপর চেপে ধরল রবিন। তার মনে হলো, জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সে আগে কখনও এতটা আশাবাদী, এতটা রোমাঞ্চিত আর আনন্দে উদ্বেলিত বোধ করেনি।
এরপর কেটে গেল দীর্ঘ উন্মুখ প্রতীক্ষার আরও কয়েকটি সপ্তাহ। আকাশ থেকে কালো মেঘের আনাগোনা কমে আসছে, বর্ষা বিদায় নিয়ে এক চিলতে সোনালী রোদ উঁকি দিচ্ছে। ঠিক যেন রবিনের জীবনের মতোই!
এমনই এক আলোঝলমলে স্নিগ্ধ সকালে হঠাৎ সেই পরম কাঙ্ক্ষিত খবরটা এল—আজ এস.এস.সি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে!
খবরটা নিয়ে রিসা প্রায় এক নিঃশ্বাসে দৌড়ে এল রবিনের উঠোনে। খুশিতে তার চোখ-মুখ চকচক করছে, হাঁপাতে হাঁপাতে চিৎকার করে বলল,
— “রবিন ভাই! ও রবিন ভাই! মিষ্টি খাওয়ান! আমাদের শৈলী একদম ফাটিয়ে দিয়েছে! ও অনেক অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে!” 😃🎉খবরটা শোনা মাত্রই রবিনের মনে হলো তার চারপাশের পুরো পৃথিবীটা যেন আনন্দে থমকে গেছে। বুকের ভেতর আনন্দের এক তীব্র জোয়ার এসে আছড়ে পড়ল। মনে হলো, এ যেন শৈলীর নয়, রবিনের নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় কোনো যুদ্ধ জয়ের মহাসংবাদ! খুশিতে তার চোখ দুটো কেন জানি অকারণেই জলে ভিজে উঠল।
আহ্লাদের সেই ঘোর কাটতে না কাটতেই, সেদিন বিকেলে রিসা আবার এসে রবিনের হাতে একটা ছোট চিরকুট গুঁজে দিয়ে চোখে দুষ্টুমিভরা ইশারা করল। চিরকুটটা খুলতেই শৈলীর চেনা, ছটফটে হাতের লেখা রবিনের চোখে একরাশ আনন্দধারা এনে দিল। সেখানে শৈলী লিখেছে—
“রবিন!
আলহামদুলিল্লাহ, আমি পেরেছি! অনেক অনেক ভালো ফল করেছি। আজ সব ভয়ডর ভুলে, বুক ফুলিয়ে আম্মাকে বলেই ফেলেছি—আমি শুধু তোমাদের কলেজেই ভর্তি হতে চাই, অন্য কোথাও না! আম্মা মুচকি হেসেছেন, বকেননি। শেষ পর্যন্ত কী হবে জানি না রবিন, কিন্তু আমার মনটা আজ প্রজাপতির মতো ডানা মেলে আকাশে উড়ছে! মনে হচ্ছে আমাদের মিলনের নতুন একটা সিংহদুয়ার খুলতে যাচ্ছে। খুব জলদিই দেখা হচ্ছে আমাদের!— তোমার সেই চিরকালের দুষ্টু শৈলী” ❤️
চিরকুটটা বুকের সাথে মিশিয়ে রবিন একছুটে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়াল। পশ্চিম আকাশে ততক্ষণে সন্ধ্যার প্রথম তারাটি রূপালী আলো ছড়িয়ে ডানা মেলেছে।
রবিন অপলক চেয়ে রইল সেই তারাটার দিকে। আজ তার মনে হলো, জীবনের কিছু কিছু দীর্ঘ অপেক্ষা আসলে মোটেও বৃথা যায় না। এই দূরত্ব, এই অপেক্ষা মানুষকে ভেতর থেকে আরও পরিণত করে তোলে, ভালোবাসার গভীরতা বাড়িয়ে দেয়, আর একসাথে সারাজীবন পথ চলার এক অদম্য শক্তি আর সাহস জোগায়।
দূরত্ব পেরিয়ে, মেঘের সীমানা ডিঙিয়ে, এক চিলতে সন্ধ্যাতারার আলো ধরে রবিন আর শৈলীর এই অবুঝ রূপকথাটি যেন আজ এক পরম পূর্ণতা আর রঙিন উৎসবের দিকে পা বাড়াল।
✨💌🌟
(চলবে…)5 Comments -
Friends
মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস
@mdabusayeedbiswas
জিনাতুন নেছা
@zinatunnesa99
মোহাম্মদ তোফায়েল হাছান
@mohammedtofaylgmail-com
Smsadek__
@smsadek__
Hossain Muhammad Anwar
@hossainmuhammadanwar
Suranjit Master
@suranjitmaster
মিনহাজ লিমন
@minhaz-limon
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com


প্রেমের গল্প অনেক পড়েছি, কিন্তু এই গল্পের সরলতা আর আন্তরিকতা আলাদা করে স্পর্শ করে।