-
গাছকথা
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।প্রবেশ দ্বারের মুল গেইট সংলগ্ন হতে খানিকটা দূরে পায়ে হেটে চায়ের দোকান খোঁজের উদ্দেশ্যে আমি বের হয়েছি –
আশে পাশে তেমন কোন দোকান পাট নেই বললেই চলে। কিছুদুর এগুলেও চায়ের দোকানের কোন খোঁজ পেলাম না। রাস্তায় চলমান অটো রিক্সাওয়ালাকে বললাম নিকট দূরে কোথাও কি চায়ের দোকান আছে? অথবা কোন বাজার ঘাট?আছে বৈ কি! উঠেন আমার গাড়ীতে। তবে ভাড়া কিন্তু বিশ টাকা দেওউন লাগবো। আরে বাবা নিশ তুই বিশ টাকা, নিয়ে চলতো আগে..ওরে বাবা! দু’মিনিট পথ চলতে না চলতেই আমাকে ছোট্ট একটি চায়ের দোকানের সামনে এনে গাড়ী থামালো। এই সামান্য পথ এনেই তুমি বিশ টাকা চেয়ে বসলে ! আরে আঙ্কেল আপনাকে তো বলেই উঠাইছি.. তা অবশ্য ঠিক, তাই বলে এই ভাবে নিতে হবে..?
এক সাথে আমরা প্রায় পঁচিশ জন। এই বিস্তৃত খোলা উন্মুক্ত প্রোজেক্টে পিকনিকে এসেছি। প্রজেক্টিতে প্রবেশ করতেই এখানকার বড় বড় বেশ কয়েকটি গাছ স্বাগত স্বরূপ দাঁড়িয়ে আছে। গাছগুলোর ছায়ার নিচে মাথা হেলান দিয়ে বসে থাকার মত সারিবদ্ধভাবে বেশ কয়েকটি চেয়ার সাঁজিয়ে গুছিয়ে রাখা আছে।
বাস থেকে নেমে প্রথমেই খানিকটা জিড়িয়ে নেই এই গাছগুলোর ছায়ার নিচে, বাতাস সমূহ যেন গাছের দেহের সাথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গাছের নীচের দিকে নেমে আসছে। আর সেই তরঙ্গ ঢেউ বাতাস আমার দেহ মনকে যেন সেই হারানো যৌবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারী চাকুরীর সুবাদে খুব ভালো ভাবেই জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছি, আরাম আয়েশ – ভোগ বিলাস আর ঘুষ নীতিতে টাকা পয়সা অনেক কামিয়েছি..
দুই সন্তানের বাবা আমি।
দু’সন্তানই দেশের বাহিরে লেখা পড়া করে প্রায় সেটেল্ড সেখানে। বেতন বোনাস আর দূর্ণীতি করে যা কামিয়েছি তার পুরোটাই সন্তানদের পেছনে ব্যয় হয়ে গেছে। নিজের সহধর্মনী গত কয়েক বৎসর হলো পরলোক গমন করেছে, বলতে গেলে আমি এখন প্রায় একা একাকী। সে প্রায়ই বলতো – তাকে নিয়ে যেন আমি কোথাও ঘুরতে যাই এই জটিলময় শহর ছেড়ে প্রকৃতির খুব কাছা কাছিতে..আরে বোকা !
ছেলে মেয়ে দেশের বাহিরে পড়াশুনা করছে। ঢাকাতে অনন্তপক্ষে একটি ফ্ল্যাট তো থাকতে হবে অথবা একখানা পাঁচ কাঠা দশ কাঠার জমি তো অবশ্যই থাকতে হবে। যখন চাকুরী হতে অবসরে যাবো তখন কোথায় থাকবো আর কি ভাবেই বা চলবো, তার জন্য এখন থেকেই পয়সা কুড়ি জমিয়ে না রাখতে পারলে পরে যে পথে বসতে হবে..কি অবাক করা কান্ড! তাই না –
প্রিয় সহ-ধর্মনী আমাকে ছেড়ে দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছে, তাকে নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ঘুরতে হবে সে কথাটি আর কেউই বলে না। আমার দু’সন্তানেরা তারাও আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না বললেই চলে। আর জমানো টাকাগুলো? সেগুলোও যেন এখন উই পোকায় কুঁড়ে কুঁড়ে সব খেয়ে খাচ্ছে..মনটা চাইলেও ভালো কিছু খাওয়া হয় না।
ভালো কিছু পড়া অথবা আবার নতুন করে জীবনটা সহজ সুন্দর করে গড়ে তোলা অথবা সব কিছু ছেড়ে একদম সহজ সরল ভাবে কোনভাবে বেঁচে থাকলেই যেন আমার আত্মার পরিতৃপ্তি হয়।যেমনটা এই গাছগুলোর দিকে তাকালেই মনটা আমার প্রশান্তিতে ভরে পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এই গাছগুলোর যেন দুনিয়াবীর কোন চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই! মাটির নির্যাস রস, বৃষ্টি আর আলো বাতাসে পরম শান্তিতে নিজের সবটুকু উজাড় করে এই ধরনীতে বেঁচে আছে..
4 Comments
Friends
Md. Arifuzzaman
@md-arifuzzaman
JAKARIA SHEIKH
@jakariasheikh
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal
Rasel Kabir
@raselkabir
Jahangir Mohammad
@jahangirmohammad
পিপীলিকা
@abujubair
দেবাঞ্জলি সেন
@sendev
Taufiq al sadif
@483-taufiq-al-sadif-roll-483
sayed sajib
@sayedsajib



গাছের মতো নিস্পৃহ হওয়ার আকুতি ……🌳